সেখানে জনারণ্য ছিল, সেখানে হাহাকার ছিল, ছিল কিছু স্বপ্নাহত মানুষের আবাস। আমি প্রতিবার হেঁটে হেঁটে নদী অবধি যেতাম, কিন্তু বুকের মধ্যে এলোপাথাড়ি নিঃসঙ্গতা নিয়ে আর এগুনোর সাহস করিনি কোনদিন।
তোমার বাসার সাথেই লাগোয়া ছিল একখণ্ড আকাশ, পূর্ণিমার জোছনা গোগ্রাসে গিলে ফেলতো তোমার উঠোন। তোমার হৃৎপিণ্ডের পাশে আলগোছে শুয়ে থাকতো একটা ছোট্ট নীলকণ্ঠ পাখি।
মধ্যরাতে তুমি প্রায়ই কি এক অজানা কুহকের টানে ছুটে যেতে নদীটার পাশে, কিন্তু কখনো জলে পা ভেজাতে না। ঝড়ের শব্দ ছিল তোমার কাছে শুদ্ধতম সংগীত। মেঘের আর্তনাদে শিউড়ে উঠলেও অসহিষ্ণু হওনি কখনো। কিন্তু কি অদ্ভুত, একটা বারের জন্যেও তোমাকে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখিনি আজ অবধি।
আমি তোমাকে বুঝে উঠতে পারিনি। বাবার মৃত্যুতে তোমার চোখ ভেজেনি একবারের জন্যেও। সবাই প্রশ্ন করেছে, মা, বন্ধুরা, এমনকি আমিও তোমাকে কম জ্বালাইনি জীবনে ছোট্ট সেই প্রশ্নটা নিয়ে।
আজ এত বছর পর তোমার ড্রয়ার ঘাঁটতে গিয়ে একটুকরো বিবর্ণ কাগজে চোখ আট্কে গেলো হঠাৎ। কাকে উদ্দেশ্য করে যেন লেখা ছোট্ট একটা লাইন, "বুকের মধ্যে আগুন জ্বলতেছে বন্ধু, আজ পর্যন্ত নিভতে দেইনাই। পারলে জ্বালাইয়া রাইখো হে......"

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


