কারন এদেশে কারাগারে হয়না এমন কোন কুকর্ম দুনিয়াতে নাই।দেশের কারাগারগুলোতে মানবাধিকারের কোন প্রশ্নতো দূরে থাক মানবাধীকারের প্রবেশেরই অনুমতি নাই।কারাগার হচ্ছে সাক্ষাৎ দোজখ ও শয়তানের পিতা ইবলিশ শয়তানদের বানিজ্য মেলা। তাই ...
... জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানকে আজ বৃহস্পতিবার সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করতে দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেই জানিয়ে তাঁকে কারাফটক থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এতে সাংবিধানিক আইনের লঙ্ঘন হয়েছে।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান গত বুধবার সিলেট যান। তিনি ওই দিন সিলেটের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিলেটের একটি সেফ হোম পরিদর্শন করেন। আজ সকালে মিজানুর রহমানের কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শন করে মাতৃসদন ও আরেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করার কথা ছিল।
সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মিজানুর রহমান কারাফটকে যান। তাঁর নিরাপত্তায় সঙ্গে থাকা পুলিশের সদস্যরা কারাফটকের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের বিষয়টি জানান। এ সময় তাঁদের প্রায় ঘণ্টাখানেক কারাফটকের সামনে অপেক্ষায় রাখা হয়। পরে যোগাযোগ করলে তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হয়, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কারা পরিদর্শনের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেই।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এ সময় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে চান। কিন্তু এ ব্যাপারেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে কারাফটক থেকে ফিরে যান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইজি প্রিজন জাতীয় সংসদে প্রণীত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে কারাগার পরিদর্শন করতে দেননি।’ তিনি জাতীয় সংসদে প্রণীত আইনকে তোয়াক্কা না করার কারণে আইজি প্রিজনের অপসারণ দাবি করেছেন। পরে তিনি সিলেটের মাতৃমঙ্গল হাসপাতাল ও সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় পরিদর্শন করে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে একটি ফ্লাইটে ঢাকা ফেরেন।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানকে কারা পরিদর্শনে না দেওয়া প্রসঙ্গে কারাগার সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গত বুধবার সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সেফ হোম পরিদর্শন করে সার্বিক অব্যবস্থাপনায় তাত্ক্ষণিক অসন্তোষ প্রকাশ করেন। গণমাধ্যমে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের প্রতিক্রিয়া ফলাও করে প্রচার করা হয়। কারা অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের অসন্তোষ একইভাবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হবে—এমন আশঙ্কায় তাঁকে কারাগারে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
তবে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ (জেলার) নেছার আলম মুকুল এ রকম কোনো বিষয় বা আশঙ্কার বিষয়টি সত্য নয় দাবি করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে কিছু করার ছিল না। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়, কারাবিধি অনুযায়ী বাইরের কোনো সংস্থা কারা অভ্যন্তরে প্রবেশে সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতির প্রয়োজন। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ হয়তো এ দিক বিবেচনা করে অনুমতি দেননি। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মহোদয়কে আমরা এ বিষয়টি বিনয়ের সঙ্গে অবহিত করলে তিনি চলে যান।’
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



