.সূত্র প্রথমআলো বিমানবাহিনীর আপত্তির কারণে বিজয় সরণির পরিবর্তে খামারবাড়ির সামনে দিয়ে মেট্রো রেলপথ নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়।বিমানবাহিনীর আপত্তির কারণে মেট্রোরেলের পথ নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় জাইকার অর্থায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সংস্থাটি ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মেট্রোরেলের পথ ঠিক করে তা জানানোর সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে। জাইকা বলেছিল, এ সময়ের মধ্যে পথ ঠিক করতে না পারলে এ অর্থবছরে ঋণ বরাদ্দ দেওয়া যাবে না।বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিকল্প পথে মেট্রোরেল হলে এর কিছু অংশ সংসদ ভবন এলাকায় পড়বে। এতে লুই আই কানের করা সংসদ ভবন এলাকার নকশা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। খামারবাড়ির অন্তত দুটি বহুতল ভবনও ভাঙা পড়তে পারে।এদিকে পরিবেশ আন্দোলনের নেতা ও নগর পরিকল্পনাবিদেরাও সংসদ ভবন এলাকা দিয়ে মেট্রোরেল করার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কেউ কেউ লুই কানের নকশা ক্ষতিগ্রস্ত করে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের জন্য বাড়ি করার সময় হওয়া মামলার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংসদ ভবনের জমি বাদ দিয়ে রাস্তার ওপর দিয়ে পথটি নেওয়ার চেষ্টা চলছে। আর খামারবাড়ির ভবন দু-একটা ভাঙা পড়তে পারে। তবে আমরা তা এড়ানোর চেষ্টা করছি।’ বিকল্প পথের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রকল্প, জনগণ ও দেশের স্বার্থে এ পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। পথ ঠিক করতে না পারলে জাইকার ঋণপ্রাপ্তি পিছিয়ে যেত।
বিকল্প পথের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জাইকার কাছে পাঠানো হয়েছে। এরপর জাইকার একটি দল এলাকা পরিদর্শনে আসবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী বছরের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে ঋণচুক্তি করা যাবে।
বিজয় সরণি দিয়ে মেট্রোরেল হলে তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দর ঝুঁকিতে পড়বে—এ আশঙ্কা করে আপত্তি জানায় বিমানবাহিনী। গত মাসে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল ও বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরেও এ বিষয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন, বিজয় সরণি দিয়ে মেট্রোরেল হলে তেজগাঁও বিমানবন্দরের জন্য বাড়তি কোনো ঝুঁকি হবে না। কারণ এ বিমানবন্দরে কোনো যাত্রীবাহী বিমান ওঠানামা করে না। বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান, কিছু হেলিকপ্টার ওঠানামা করে এখানে। কিন্তু বিমানবাহিনীর অনমনীয়তার কারণে প্রধানমন্ত্রী বিকল্প পথে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক শামসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারটি তেজগাঁও বিমানবন্দরের রানওয়ে বরাবর (ফানেল) নভোথিয়েটার যে উচ্চতায়, মেট্রোরেল তারও কম উচ্চতায় হবে। সে ক্ষেত্রে নভোথিয়েটার সমস্যা না হলে মেট্রোরেল সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এ ছাড়া তেজগাঁও বিমানবন্দরে যেসব বিমান ও হেলিকপ্টার ওঠানামা করে, সেগুলোর উড্ডয়নসীমা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মেট্রোরেল কোনো সমস্যা করবে না।
যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, বারবার পথ পরিবর্তনের কারণে মেট্রোরেলের ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। এ অঙ্ক অনেক বড় হতে পারে।
যোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিজয় সরণির বিকল্প পথে মেট্রোরেল হলে সংসদ ভবন এলাকার খোলা মাঠের ৫৫ মিটার পর্যন্ত জায়গা ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি খামারবাড়ির কোনায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ দুটি ১২ তলা ভবন ভাঙা পড়তে পারে। এ ছাড়া উত্তরা থেকে ফার্মগেট হয়ে সায়েদাবাদ পর্যন্ত প্রস্তাবিত উড়ালসড়কের নামার স্থান নিয়েও সমস্যা হবে। উড়ালসড়ক থেকে নামার জায়গা ফার্মগেট পার্কের কাছে রাখার কথা। সরকারি-বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগে ইতালি-থাই কোম্পানি উড়ালসড়ক নির্মাণের কাজ পেয়েছে।
আরও ভবন ভাঙতে হবে!: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিমানবাহিনী মেট্রোরেলের পথ নিয়ে আপত্তি দেওয়ায় তেজগাঁও বিমানবন্দরের আশপাশে অন্তত ২৬১টি বহুতল ভবন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান সংস্থার (আইকাও) নিয়মানুযায়ী, বিমানবন্দরের চারদিকে অন্তত চার কিলোমিটার এলাকায় ৪৫ মিটারের বেশি উঁচু স্থাপনা থাকতে পারবে না। সে হিসাবে এই ২৬১টি ভবনও প্রায় পরিত্যক্ত এ বিমানবন্দরের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। কিন্তু সেগুলো তো ভাঙা হচ্ছে না বা সম্ভবও নয়। কিন্তু তাতে এ বন্দরের চলমান কাজের তো ক্ষতি হচ্ছে না।
২০০৯ সালের জুলাই মাসে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), সার্ভে অব বাংলাদেশসহ সরকারি কয়েকটি সংস্থা সমীক্ষা করে ২৬১টি ভবনকে নির্ধারিত উড্ডয়নসীমার বেশি উচ্চতাসম্পন্ন বলে মত দেওয়া হয়। এর মধ্যে বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনীর স্থাপনাসহ বিভিন্ন বেসরকারি ভবন রয়েছে।
অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, ৪৫ মিটার উচ্চতাসীমা মানা হলে তেজগাঁও বিমানবন্দরের আশপাশে প্রায় সাড়ে ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ১৩-১৪ তলার বেশি উচ্চতার ভবন করা যাবে না। সে ক্ষেত্রে রাজধানী ঢাকার বেড়ে ওঠা স্থবির হয়ে যেতে পারে।
স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী, যত ফাঁকা জায়গা থাকবে, তত বেশি বহুতল ভবন করা যাবে। কিন্তু বিমানবন্দরের কারণে ফাঁকা জায়গা থাকা সত্ত্বেও বহুতল ভবন করা যাচ্ছে না। ফলে এক শহরে দুই ধরনের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এটা একটা সুষ্ঠু, সুন্দর নগর ব্যবস্থার অন্তরায়। এ বিমানবন্দরটি বিমানবাহিনীর নয়, বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের। এটা পরিত্যক্ত। বিমানবাহিনীকে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে। ঢাকাকে রাজধানী হিসেবে রাখতে হলে এ বিমানবন্দর সরিয়ে ৭০-৮০ কিলোমিটার দূরে নিয়ে যেতে হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আবদুল মতিন প্রথম আলোকে বলেন, বিকল্প যে পথের কথা বলা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীক সংসদ ভবনের এলাকার সৌন্দর্য নষ্ট হবে। ফার্মগেট পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই বিজয় সরণির পথটিই ঠিক ছিল।
মন্তব্যঃ লিথি যারনাজ বলেছেন
পৃথিবীর কোনো দেশের রাজধানী শহরের মাঝখানে বিশাল জায়গা নিয়ে সেনানিবাস বানানোর নজির নেই। এই সেনানিবাসের কারণে রাজধানীর সড়ক নেটওয়ার্ক একটা নিষ্ঠুর কৌতুকে পরিনত হয়েছে এবং প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষকে বিভীষিকাময় যানজটের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই সেনানিবাসকে রাজধানীর বাইরে স্থানান্তরিত করা এখন খুবই জরুরি।
রাজীব শাহরীয়ার বলেছেন
বিমান বাহিনীর আপত্তির কারন ঠিক ভাল লাগল না, কেন যেন মনে হচছে জোড় যার মুললুক তার টাইপের ভাবনা। মেট্রো রেলপথ দেশের নিরাপত্তার জন্য মতেও হুমকি নয়। বুয়েটের লোকজন নিারাপদ বলার পরেও "না' করার কোনো মানে হয় না। আর সংসদ ভবন তেজগাও বিমান বনদরের চেয়ে গুরুতপূরন।
MOHSIN MOMIN
বিমান বাহিনীর আশঙ্কা সম্পূর্ণ অমূলক, মেট্রোরেলের জন্য তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দর ঝুঁকিতে পড়ার কোন কারনই নেই। লন্ডনে দেখেছি ডি,এল,আর ট্রেন লন্ডন সিটি এয়ারপোর্টের নাকের ডগা দিয়ে চলাচল করতে। তারা (পশ্চিমারা) এতো নিরাপত্তার ঝুঁকিতে থাকার পরও বিমানবন্দরের পাশ দিয়ে ট্রেন পরিচালনা করতে পারলে আমরা পারব না কেন ?
M.J.A KHAN
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার দৌড়াত্ত সর্বজন বিধিত। তাই অবাক হচ্ছি না। কিন্তু রাজধানী শহরের ঠিক মাঝখানে জাতীয় নিরাপত্তার কয়েকটি কেন্দ্র সেনা সদর, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদর দপ্তর সহ এত বড় সেনানিবাসটি এখন আমাদেরকে অত্র বাহিনীর সদর দপ্তরের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য হলেও ঢাকার বাইরে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।
monir
ঢাকা শহর থেকে সুবিশাল ক্যান্টনমেন্ট, বিমান বাহিনীর সদর দপ্তর, তেজগাঁও বিমানবন্দর, বিডিআর সদর দপ্তর ও কেন্দ্রীয় জেলখানা ঢাকার বাহিরে স্হানান্তর করা উচিৎ। বাং লাদেশ-এ বিমান বাহিনি কতখানি জরুরি জানিনা কিন্তু Metro rail খুব-ই দরকার.
২০১১.১০.০৩ ১০:২০
গত বিএনপি’র সরকারের আমলেও জাপান সরকার এই মেট্রো রেল স্থাপন করার জন্য সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল, তৎকালীন বিএনপির সিদ্ধান্তহীনতায় জাপান সরকার তাদের এ টাকা কলকাতা মেট্রো রেল প্রকল্পে স্থান্ত করে, এখন কলকাতা বাসী মেট্রো রেলে যাতায়ত করে। আর আমরা যে তিমিরে আছি, সেই তিমিরেই। কেহ পরিবেশ বাচানোর আন্দোলন করছি, কেহ, সংসদ ভবন এলাকার খেজুর গাছ বাচানোর জন্য মামলা করব, কেহ পরিক্ত বিমান বন্দরের জন্য আপত্তি জানাব। বস্তত এদেশে ছোট ছোট শিশুকে বঙ্গু করে রাস্তায় ফেলে রাখা হয় এই সব পরিবেশ বাদিদের সামনে এরা ভিক্ষা দেয় পরকালের জন্য আখের যোগার করে।
MD.SHAFIUL AZAM
এক ঢাকা শহরে ৩ টা সেনানিবাস . ১০০ ভাগ এর ৯০ ভাগ সেনানিবাস বাকি টা আমরা সাধারন জনগন তাহলে ত যানজট হবেই। মেট্রো রেলপথ কি আর ফ্লাইওভার কি কোন কিসুতাই কিছু হবে না.....................।
বিমানবাহিনীর আপত্তিতে ঘুরছে মেট্রো রেলপথ -ভবিষ্যতে ক্যান্টনমেন্টের আপত্তিতে রাজধীনী নরসিংদীতে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


