স্কুল জীবনে এইম ইন লাইফ, জীবনের লক্ষ্য রচনা পড়ে নাই এমন স্টুডেন্ট খুঁজে পাওয়া যাবেনা। আমার মনে আছে , জীবনের লক্ষ্য রচনায় একটা লাইন অবশ্যই থাকত "লক্ষ্যহীন জীবন,মাঝি হীন নৌকার মত" । আমার জীবনের লক্ষে আমি পৌঁছাতে পেরেছি। সেই স্কুলজীবনেই আমার স্কুলের ম্যাডামদের পড়ানো, আকর্ষনীয় বাচনভঙ্গী দেখে আমার মনে হত , আমিও একদিন টিচার হব, যেদিন আমাকে পড়তে হবে না কিন্তু আমি অন্যদের পড়াব।
আমার দিনের সব থেকে ভাল সময় কাটে স্কুলে, বিশেষ করে যখন ক্লাসে থাকি। মাঝে মাঝে পড়ানোর ফাঁকে এমন কিছু করার চেষ্টা করি যাতে ওদের কাছে ক্লাসটা একঘেয়েমি না হয়ে যায়। এরি ধারাবাহিকতায় একদিন আমার ছানাদের হঠাত্ করে বল্লাম সবাই খাতা কলম বের করে খুব সংক্ষেপে তোমারা বড় হয়ে কি হতে চাও এবং কেন হতে চাও লিখ।
সেদিন আমার ক্লাসে মোট ৬০ জন স্টুডেন্ট ছিল। লেখার পর সবার খাতা বাসায় নিয়ে আসি। প্রতিটা খাতা পড়ে খেয়াল করলাম আমার বেশীর ভাগ ছানা বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায় ,কারন তারা গরীব দুঃখীদের সেবা করতে চায়। বিনা চিকিৎসায় কেউ যাতে মারা না যায় তা নিশ্চিত করতে চায়। কয়েকজন পুলিশ অফিসার, দুজন RAB হতে চায়. চার জন টিচার হতে চায় ,একজন পাইলট আর আমার ফার্স্ট গার্ল মহাকাশ বিজ্ঞানী হতে চায়।
মহাকাশ বিজ্ঞানী আর পাইলটের লেখাটা খুব ভাল লেগেছে ,তাই দুটো লেখা কোন পরিবর্তন না করে , আমার ছানাদের লেখাটাই হুবুহু তুলে দিলাম। দোয়া করি আল্লাহ যেন তদের মনোস্কামনা পূরণ করেন।
১।মহাকাশ বিজ্ঞানী :
পৃথিবীতে কিছু উদ্দেশ্য সবার মনেই থাকে। কারো একটি কারো একাধিক। তেমনি আমি আনিকা রায় (হিয়া মনি)। আমার মনেও একটি জীবনের লক্ষ্য আছে। সেটি হলো মহাকাশ বিজ্ঞানী। আমার মহাকাশ ,সূর্য, তারা ,চাঁদ, গ্রহ ইত্যাদি বিষয়ে জানার খুব আগ্রহ। পৃথিবীর বয়স যত বাড়ছে মানুষের জীবনে মহাকাশের মূল রহস্য বের করার আগ্রহ তত বাড়ছে। আমি সবার থেকে আলাদা কিছু হব। তাই আমি মহাকাশ বিজ্ঞানী হব বলে জীবনের লক্ষ্যকে বেছে নিয়েছি।
২।পাইলট :
আমার নাম শ্রাবন তহুরা পায়েল । আমি আমার বাবা মার একটি সন্তান। যখন আকাশে প্লেন উড়ে যায় তখন আমার দেখতে খুব ভাল লাগে। প্লেনের শব্দ পেলে আমি ছুটে চলে যাই প্লেন দেখতে। আমারো ইচ্ছে করে পাখিদের মত উড়ে বেরাতে। তাই আমি বড় হয়ে পাইলট হব।
উৎসর্গ : রাজহাঁসের ছানাকে ..........
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ দুপুর ২:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


