
সম্প্রতি উইকিলিকস এর মাধ্যমে ফাঁস হয়ে যাওয়া এক গোপন নথি প্রকাশ করেছে যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন ও
নির্দিষ্ট ছকে সাজানোর লক্ষ্যে ১/১১ সরকারের শেষের দিকে মার্কিন-বৃটিশ-ভারতীয় শক্তি এক সমঝোতায় পৌঁছেছিল। এ নথির মাধ্যমে মূলতঃ
এদেশের বিরুদ্ধে তাদের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র উম্মোচিত হয়েছে। গোপন এ নথি, ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের এক যুগ্ন-সচিব মোহন কুমার,
দিলি−তে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা টেড ওসিয়াস এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যালেক্্র হল-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত
এক বৈঠকের আলাপ-আলোচনা প্রকাশ করেছে, যেখানে এলেক্্র হল বলে,“যে কোন ভাবে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, আমাদের মধ্যে
পারস্পারিক সহযোগিতা বাংলাদেশের জনগণের কাছে অদৃশ্য থাকবে, যাতে করে আমাদের পরিকল্পনা বাংলাদেশের জনগণের কাছে কোন ধরনের
ষড়যন্ত্র বলে মনে না হয়”! নথি প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী এই তিনব্যক্তি আরও আলোচনা করেছিল যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে বহন করে নিয়ে
যাবার জন্য তাদের নিজ নিজ দেশকে ‘একটি মূল বক্তব্যে’ (ধ পড়ৎব সবংংধমব) ঐক্যমতে পৌঁছানো প্রয়োজন এবং সেইসাথে, নির্বাচনের জন্য
চাপ সৃষ্টি করা এবং সামরিকবাহিনী যেন রাজনীতির বাইরে থাকে এটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া, ভারতীয় যুগ্ন-সচিব মোহন কুমার
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বাজারকে ভারতের কাছে উন্মুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করতেও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সহায়তা কামনা করে।
আর, সামরিকবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা, ডিজিএফআই-এর হরকাতুল জিহাদ নামের একটি সংগঠনকে সমর্থন প্রদান করার অভিযোগের বিষয়টিকে
সত্যিকারের সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আমেরিকা কর্তৃক সমগ্র বিশ্বজুড়ে ইসলামের বিরুদ্ধে অন্যান্য ঘৃণ্য প্রপাগান্ডার সাথে তুলনা করা যায় এবং কোন সন্দেহ
নেই, আমরা এখন দেখবো যে, আমেরিকার এদেশীয় ধর্মনিরপেক্ষ দালালরা আমাদের মুসলিম সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি আরও ক্ষুন্ন করতে কিভাবে
এক টুকরো এ তথ্যকে ব্যবহার করতে দৌড়ঝাঁপ আরম্ভ করে। এছাড়া, প্রকাশিত অপর এক নথি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশী
কর্মকর্তাদের উপর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক গোয়েন্দাগিরি ও নজরদারী করার পরিকল্পনাও ফাঁস করেছে, যা কিনা এদেশের সামরিকবাহিনীর মুখে
সরাসরি চপেটাঘাত করা ছাড়া আর কিছুই নয়। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে তাদের হীন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শান্তিরক্ষা মিশনের ছদ্মাবরণে এদেশের
সামরিকবাহিনীকে ব্যবহার করছে; আর অপরদিকে, এ বাহিনীকে ধ্বংস করতে এর বিরুদ্ধে নমাগত ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে।
হে মুসলিমগণ! আপনারা লক্ষ্য করুন, একদিকে আপনাদের শত্র“রা কিভাবে দিলি−তে বসে আপনাদের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে;
আর, অন্যদিকে আপনাদের বর্তমান শাসকেরা কিভাবে সেই ষড়যন্ত্রের ‘মুল বক্তব্য’ পূঙ্খানুপূঙ্খ মেনে চলে। আপনারা লক্ষ্য করুন, কিভাবে শেখ
হাসিনা এদেশের স্থল ও সমুদ্রবন্দর থেকে আরম্ভ করে টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্র পর্যন্ত সমস্ত কিছু ভারতের কাছে উম্মুক্ত করে এদেশের পুরো
অর্থনীতি, বাজার, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত স্থাপনা একে একে মুশরিক শত্র“রাষ্ট্রের হাতে তুলে দিয়েছে। প্রকৃতঅর্থে, আওয়ামী লীগ, বিএনপি সহ
এদেশের সমগ্র শাসকগোষ্ঠী তাদের সাম্রাজ্যবাদী প্রভুদের একনিষ্ঠ গোলাম এবং তাদেরই হুকুমের দাস। সুতরাং, আপনাদের ঘোরতর শত্র“দের
বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়াবার শক্তি বা সাহস কোনটিই তাদের নেই। এ দেশ ও দেশের মানুষকে সাম্রাজ্যবাদীদের দাসত্বের শৃঙ্খল ও তাদের ভৃত্যসুলভ
দালাল শাসকদের হাত থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে আপনাদের, এই পবিত্র মহররম মাসে ইমাম হোসেন (রা.) এর শিক্ষাকে গ্রহণ
করে, এ দেশের মাটিতে খিলাফত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করা দরকার
হে ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তিবর্গ! সাম্রাজ্যবাদীরা পারস্পারিক সাহায্য ও সহযোগিতার নামে আপনাদের কাছে যা অঙ্গীকার করে বাস্তবে তারা
তাতে কখনও বিশ্বাস করে না। তারা যদি আফ্রিকাতে এত ব্যাপক ভাবে আপনাদের উপর গোয়েন্দাগিরি করে থাকে, তবে ভেবে দেখুন তাদের
ঘৃণ্য এ পরিকল্পনা কতদূর বিস্তৃত হতে পারে যখন তারা বাংলাদেশে সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত করে আপনাদেরকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করে!
বস্তুতঃ সাম্রাজ্যবাদীদের এক এবং একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে, আপনাদের উপর এবং এদেশ ও দেশের ১৫ কোটি মুসলিমদের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রন ও
কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করা। আর, আপনাদের শান্তিমিশনে পাঠিয়ে এবং তাদের সাথে সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ করার নির্দেশ প্রদান করে দালাল এ
শাসকগোষ্ঠী এ বিষয়টিকেই নিশ্চিত করছে।
আপনাদেরকে এ সকল দালাল শাসকদের অপসারিত করে এদেশে খিলাফত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করা দরকার , যা এদেশের মানুষকে মুশরিক ও কুফর রাষ্ট্রগুলোর দাসত্বের কঠিন শৃঙ্খল থেকে চিরতরে মুক্ত
করবে। একমাত্র খিলাফত রাষ্ট্রই নুসেডার আমেরিকার রক্তপিপাসু সেনাবাহিনীকে এদেশের মাটিতে প্রবেশ করে আপনাদের উপর গোয়েন্দাগিরি
করার হীন পরিকল্পনাকে দৃঢ়তার সাথে প্রতিহত করবে। সেইসাথে, খিলাফত রাষ্ট্র আপনাদের অস্ত্রভান্ডার ও শক্তিসামর্থকে ব্যাপক ভাবে সমৃদ্ধ করে
মুসলিম সেনাবাহিনীর গৌরবমন্ডিত অবস্থানকে পুণরুদ্ধার করবে; যে বাহিনী বর্তমান সময়ের মতো আমেরিকা ও সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর
স্বার্থরক্ষায় শান্তিরক্ষার মিথ্যা নাটকে অবতীর্ণ না হয়ে, এ বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের কাছে ইসলামের সুমহান ও আলোকিত হেদায়েত
সম্বলিত বাণী পৌঁছে দেবার মহান দায়িত্ব পালন করবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


