ইদানিং দেখছি আমাদের প্রেমের জগতে একটা বিরাট বিবর্তন এসেছে। সেটা অবশ্য বিবর্তন বিজ্ঞানের অধুনা আবিষ্কারকে সমর্থন করেই। বিজ্ঞানীরা বিবর্তনের ব্যাপারে নতুন যে তথ্য দিচ্ছেন তা হচ্ছে- আগে যেমনটি ভাবা হতো যে বিবর্তন একটি ধীর প্রক্রিয়া তা মোটেই ঠিক নয়। বরং কখনো কখনো বিবর্তন খুব দ্রুত হয়
প্রেমের জগতের বিবর্তনটিও ঠিক তাই। খুব দ্রুত আমাদের সমাজে এ পরিবর্তনটি আসলো। তাতে ভূমিকা আছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার। আছে স্টার মুভিজ, এইচ বিও কিংবা ইন্ডিয়ার অমর সিরিয়ারগুলোর।
এতোক্ষণে অনেকেই ন্শ্চিয় হাপিয়ে উঠেছ কি এই মহা পরিবর্তন যা বলতে গিয়ে আমি এতোক্ষণ ধরে শিবের গীত গেয়েই চলছি। সে পরিবর্তনটি আর কিছুই নয়- এর নাম অভিভাবক অনুমোদিত প্রেম।এটা আসল প্রেমের একটা মারাত্নক অপভ্রংশ। এর পরিণতিটা যথারীতি বিকৃতিতে শেষ হবে। সেটা আমি পরে আলাপ করছি। তার আগে এই প্রেমের স্বরূপটা একটু জেনে নিই এবং এটা যে আসলে সত্যিকার প্রেম নয় তারও প্রমাণ দিয়ে নিই।
ইদানিং কালের এই অভিভাবক অনুমোদিত প্রেমটি করা হয় দুই পক্ষের অভিভাবকদের যথাআজ্ঞা অনুমতি নিয়ে। এবং এই প্রেমের সূচনায় আবেগের চেয়ে পরষ্পরের স্ট্যাটাস অনেক বেশী গুরুত্ব পায়। ছেলেটি এবং মেয়েটি দুজনেই পরষ্পরের যোগ্যতা মাপে। তারপর হিসেবে করে দেখে বাবা মায়ের কাছে তারা গ্রহণযোগ্য হবে কিনা। যদি মনে হয় ইয়েস- তখন তারা সময় বুঝে অনুমতিটা নিয়ে নেয়। তারপর শুরু হয় প্রেম। এটা কিন্তু বিয়ের পরের প্রেমের কাছাকাছি একটা বিষয়। কারণ দুজনেই তারা জানে যে তারা বিয়ে করতে যাচ্ছে। আজ কাল কিঙবা পরশু।
কিন্তু দুটো কারণ এই প্রেম আসল প্রেম নয়। প্রথমত যে প্রেমিক বোধবুদ্ধির পরিচয় সে আসলে প্রেমিকই নয়। প্রেমিককে হতে হবে অবিবেচক। কিন্তু উপরে আলোচিত প্রেমটি একেবারে পরিমাপ করে করা। চূড়ান্ত বিচার বিবেচনা শেষে তারপর শুরু হয় প্রেম। কিন্তু সত্যিকার প্রেম শুরু হয় আগে, বিবেচনা পরে আসে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- যে প্রেমে বাধা নেই সে প্রেম নিরানন্দ। প্রেম কখনো নিশ্চিত কোন বিষয় নিয়ে হতে পারেনা। যেখানে নিশ্চয়তা থাকবে সেখানে ভোগ আসবে, কিন্তু প্রেম হচ্ছে উপভোগের বিষয়। তাই নিশ্চয়তা থাকলে সেটা প্রেম হতে পারেনা। যেখানে অভিভাবকদের কাছে থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার ভয় নেই, সেখানে প্রেমের কোন মজাই থাকার কথা নয়। শুধু হাতে হাত, কাধে কাধে ঘোরাঘুরি কিংবা আরেকটু অবৈধ সাহস ও সুযোগ নেবার নাম প্রেম হতে পারে না।
তৃতীয় কারণটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যে প্রেম অভিভাবক দ্বারা অনুমোদিত তা অপবিত্র হওয়া সহজ। কারণ এখানে পরষ্পর বর্জিত হবার ভয় কম। মেয়েটি জানে ছেলেটি তাকে পরিত্যাগ করতে পারবে না। তাই সহজেই সে ছেলেটির শরীরের দাবিটি মেনে নিতে পারে। আবার ছেলেটি জানে এ মেয়েটিই তার ভবিতব্য। তাই বিয়ের পরের কাজটি আগেই করে ফেললেও খুব একটা ক্ষতি নেই। বয়স তো হয়েছে।
সুতরাং ইদানিং কালের এই প্রেমটি সব দিক থেকেই সত্যিকার প্রেমের অবনত রূপ।
এবার এর পরিণতিটা জানিয়ে দিচ্ছি। বিবর্তনের পরের ধাপেই সেটা আমাদের সমাজে দেখা যাবে। এবং তার মূলে থাকবে আমি একটু আগে যে তৃতীয় কারণটি বললাম তার মাঝে। ……………..
খাক আপাতত…আর বেশী লেখা ঠিক হবে না। কাধের ব্যাথাটা পুরোপুরি সারুক। তারপর দেখা যাবে।
ক্লিন
৩০.০৭.০৯
রাত ১২.৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


