somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টু দ্য স্যান্ডস অব ডি (পঁচিশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে একটা ডায়েরিমূলক লেখা)।

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গত দুদিন ধরে আমার বুকের ভারটা নামছে না। যখন প্রথম শুনেছিলাম বিডিআর সদরদফতরে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে, আর যখন শুনলাম বিডিআর সপ্তাহের অনুষ্ঠান চলাকালেই শুরু হয়েছে এ সংঘর্ষ, তখন থেকেই মনটা ভয়ংকর পরিণতির চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে উঠছিল। কিন্তু সেটা যে এতোটা ভয়াবহ হবে তা ভাবতে পারিনি।
গত কয়েকদিন ধরে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয় আমার। কেমন যেন সাফোকেটিং একটা অবস্থা অনুভব করি থেকে থেকে। যখন প্রথম শুনেছিলাম ভীত সন্ত্রস্ত সেনাকর্মকর্তাদের কেউ কেউ ম্যানহোল দিয়ে বের হবার চেষ্টা করেছে- জীবন রক্ষার্থে, তখন থেকেই এ অবস্থা। আমার। কেবল বারবার মনে হচ্ছিল তারা হয়তো কোথাও গিয়ে আটকে গেছে। নর্দমার থকথকে পানিতে নিঃশ্বাস নিতে পারছেনা। কোন দিক যাবে তাও বোঝার উপায় নেই পাতালপুরির অন্ধকারে। দুশ্চিন্তা আর অবসন্নতা তাদের ক্রমশ গ্রাস করে ভয়ানক যন্ত্রনাকর মৃত্যুর দিকে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।
গত কয়েকদিন আমি থেকে থেকে অশ্রুসজল হয়ে উঠছি। যখন প্রথম শুনেছিলাম আমাদের দেশেরই এতোগুলো প্রশিক্ষিত মানুষকে হত্যা করার পর তাদের লাশের উপরও চলেছে নির্দয় নির্যাতন। যদিও তাতে তাদের কিছুই যায় আসেনা। মৃতের কাছে অত্যাচারের দাম কি। কিন্তু বেঁ‍চে আছি বলেই বারবার এসব দুর্ভাগা মানুষের মৃত্যুযন্ত্রনা অনুভব করে আতঙ্কিত হয়ে উঠি।
গত কয়েকদিন ধরেই আমি মৃত্যুর চেয়ে ভয়ংকর যন্ত্রনায় আঁতকে উঠি। যখন প্রথম শুনেছিলাম মৃত অফিসারদের বাসায় বাসায় হামলা করে তাদের পরিবারের ওপরও হয়েছে নির্বাধ নির্যাতন। তাদের অবুঝ শিশু, তাদের সদ্য কিশোরী কন্যা, তাদের অসহায় স্ত্রীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা চিন্তা করতে চাইনা। চিন্তা করার প্রয়োজন্ও নেই। কারণ আমার কাছে তাদের নির্যাতন যন্ত্রনাকে মৃতূর চেয়েও ভয়ংকর মনে হয়।
কিন্তু তুমি বুঝোনি। ভেবেছিলে এই তো..এমন গোলাগুলি বাংলাদেশে হতেই পারে। অথবা ভেবেছিলে কী আর হবে। একটু পরেই হয়তো থেমে যাবে। সবকিছু নরমাল হয়ে যাবে। আগের মতো।
হ্যা, সবকিছু সত্যিই নরমাল হয়ে যাবে আগের মতো। কেবল দেড়শ পরিবার কোন কারণ ছাড়াই তাদের অভিভাবকশুন্য হয়ে পড়ল। দেড়শ স্ত্রী তাদের জীবনের মধ্যবসন্তেই বিধবা হয়ে গেল। অসংখ্য শিশু, কিশোর- কিশোরী তাদের পিতা হারিয়ে দুঃস্বপ্নের চেয়েও ভয়ংকর স্মৃতি নিয়ে বেঁচে রইল।
আমি সেনাবাহিনীর ভক্ত নেই। পৃথিবীর সকল সৈনিকের চরিত্র এক। সে সুযোগ পেলেই হত্যা করে, ধর্ষন করে। এবং এর জন্য তার অনুতাপের অবকাশ নেই। সে গড়েই ওঠে এভাবে।
তারপরও মেনে নিতে পারিনা। আপন ভাইয়ের ওপর, তার স্ত্রী সন্তানের ওপর এ পৈশাচিক আক্রমন মেনে নিতে পারিনা।

কাকে জিজ্ঞেস করবো? একটা জাতিকে অপমান করার এর চেয়ে ভয়ংকর পন্থা আর কী হতে পারে? দেশের ভেতরে একটা সুরক্ষিত জায়গায় দেশের নিরাপত্তার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের নির্বিঘ্নে হত্যা করে, তাদের মৃতদেহকে চরম অসম্মান করে, তাদের পরিবারকে অপমানিত করে গেল তারা? এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে? ভাবি আর ধিক্কার দেই নিজেকে। এমন একটা দেশে জন্ম নিয়েছি যেখানে ষড়যন্ত্রকারীরা রাষ্ট্রক্ষমতায় যায়, ষড়যন্ত্রের হোতারাই আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হয়। এখন আর এসব নিয়ে ভাবিনা, আমার কষ্টের জায়গাও নয় ওটা।
আমি শুধু শিহরিত হই দুই দিনব্যাপী নারকীয় হত্যাকান্ডের খবরও নাকি রাষ্ট্রযন্ত্র পায় নি একথা ভেবে। কেন এতগুলো জীবন আর পরিবারকে এতবড় মূল্য দিতে হলো? জানতে পারবো কোনদিন। এটাই আক্ষেপ।
বাংলাদেশে বলেই হয়তো এতবড় ঘটনাও মিথ্যার আবরণে ঢাকা পড়ে যাবে। যেমনটি পড়ে আছে অতীতের আরো মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের ঘটনা। আহ!কী কষ্ট!!
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×