somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভূত - ভৌতং কাহিনী...২

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
ভূত - ভৌতং কাহিনী...২



১ম পর্বের পর ১ম পর্ব এখানে...


বাসে উঠেই সবসময় আমি যা করি - সিট পাবো কি পাবো না - ভালোভাবে পুরো বাসটা দেখে নিই - যুৎসই দেখে খালি থাকলে বাম দিকের সিট নিয়ে বসে পড়ি - আজকেও তাই-ই করলাম - দেখি বাসে ৪/৫ জন মোটে যাত্রী। কিছুটা অবাক হলেও কোন কথা না বলে সিটে বসে পড়লাম। খালি সিটে বসতে বসতে কন্ডাক্টরকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম - মামা, মহিপাল না ফেনী? দুবার জিজ্ঞেস করেও কোন উত্তর পেলাম না - শুধু দেখলাম শেষবার সে ঘাড় না ঘুরিয়ে বিড়বিড় করে কী যেন বললো আর গাড়ীর দরজা বন্ধ করে দিলো - আমার কানে মাফলার জড়ানো থাকায় ভালো করে শুনতে পেলাম না। গাড়ী দ্রুতই চলছে - ভাবছি ঘন্টা দেড় কী দুই লাগবে ফেনী পৌঁছুতে। গাড়ীতে বসতে না বসতে ক্লান্তির কারনে আমার বেশ তন্দ্রামত পাচ্ছিল কেননা এর আগে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছি - দাঁড়িয়ে, দাঁড়িয়ে। হয়তো ১০ - ১৫ মিনিটও যায়নি, আমার ঘুম প্রায় এসেই গিয়েছিলো - এমন সময় পেছন থেকে এক যাত্রী বলল - নামাইয়া দাও , নামাইয়া দাও। গাড়ী কড়া ব্রেক করে থেমে গেল। দেখলাম, পেছনের যাত্রী যারা ছিলো, সবাই হুড়মুড় করে নেমে গেল - জায়গাটা তুলাতলীর বাজার বলেই মনে হলো - আসলে ঘন কুয়াশায় বাইরের কিছুই দেখা যাচ্ছিল না প্রায়।
কন্ডাক্টর নেমে দাঁড়িয়েছে, যাত্রীরাও নেমে গেল - দরজা খোলার আওয়াজ শুনে মনে হলো আমাদের বাসের ড্রাইভারও তার পাশের দরজা খুলে নামলো। দাঁড়িয়ে আছে বাস - আমি আবার একটা ঘুম দিব কিনা আর বাস কতদূর যাবে, ফেনীতে গেলে রিকশা পাবো কিনা
ইত্যকার সব ভাবতে ভাবতে দেখি কন্ডাক্টর বাসে উঠে দরজা লাগাচ্ছে আর ড্রাইভারও লাফ দিয়ে বাসে উঠে বসেছে। ড্রাইভার বাসে উঠেই গাড়ী ছেড়ে দিলো আর এবার বাসের গতি হলো দেখার মতো - উড়ন্ত এক ঘোড়া যেন! আমি কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম - এত জোরে আবার বাস চালাতে হয় নাকি? ভয় কাটানোর জন্যই মাফলারটা কান থেকে নামিয়ে প্রথমবারের মতোই কন্ডাক্টরকে জিজ্ঞেস করলাম - মামা, মহিপাল না ফেনী? নাহ, এবারো কোন উত্তর পেলাম না - শুধু দেখলাম সে ঘাড় ঘুরিয়ে একবার আমার দিকে তাকালো আর বিড়বিড় করে যেন কী বললো - তার চোখ দেখে আমার নিজেরই চোখ ছানাবড়া - চোখ তো নয় যেন জ্বলজ্বলে দুটো কয়লার টুকরো বসিয়ে দেয়া হয়েছে তার দুচোখে। শীতল একটা স্রোত যেন শিরশির করে মাথা থেকে পায়ের পাতা বেয়ে নেমে গেল - পেটের ভিতরটা কেমন যেন ফাঁপা ফাঁপা লাগছে - তারপরও সাহস নিয়ে আবারো কন্ডাক্টরের দিকে তাকালাম। সে এখন গাড়ীর দরজা ছেড়ে ড্রাইভারের পাশে একটা সিটে বসেছে - কী নিয়ে যেন তাদের কথা হচ্ছে - খুব নিচু স্বরে। কান খাড়া করেও কিছু শুনতে পাচ্ছি না - ভয়ে প্রচন্ড গরম আর অস্বস্তিবোধ করছি। এদিকে ড্রাইভারের সাথে কথা শেষ না করেই বিড়বিড় করতে করতে দেখছি কন্ডাক্টর আমার দিকেই আসছে - আমি প্রচন্ড ভয় পাচ্ছি, দিশেহারা মনে হচ্ছে নিজেকে তারপরও শক্ত হয়ে বসে আছি নিজ সিটে। ছোটবেলায় শেখা সব দোয়া-দরূদ মনে করার অাপ্রান চেস্টা করছি - কিন্তু কিছুতেই কিছু মনে পড়ছে না - প্রচন্ড পিপাসা অনুভব করলাম।

কন্ডাক্টরকে দেখলাম আমাকে এড়িয়ে আরো দু/তিন সিট পর গিয়ে বসে পড়লো, বসে সে কিছু একটা টেনে বের করার চেস্টা করছে সিটের নীচ থেকে। অনেক কসরত করে সে সত্যি সত্যিই একটা সাদা কাপড়ে মোড়া লম্বাটে ধরনের জিনিস বের করে আনলো - এতো আবছায়ও অনেকটা স্পস্টই দেখা যাচ্ছে সাদা কাপড়টা। আমি একেবারে স্তব্দ হয়ে বসে আছি - আমার যে কিছু করতে হবে, কিছু করা উচিৎ তা মাথায় আসছে না - যেন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দেখে যাচ্ছি চলমান কোন সিনেমার অংশ। হয়তো চিৎকার করতে চাইছিলাম বা করেছিও কিন্তু আমার সে চিৎকার কার কানে পৌঁছাবে? - কে শুনবে আমার আকুতি? গাড়ী যে গতিতে ছুটছে তাতে বাইরের কেউ শুনলেও সাহায্যে করতে এগিয়ে আসতে পারবেনা - আমি নিশ্চিত। আমি শুধু মনে মনে দয়াময়ের কাছে প্রার্থনা করছিলাম - রক্ষা কর, খোদা - এ যাত্রায় আমাকে রক্ষা কর। এর মাঝেই দেখি কন্ডাক্টর সেই সাদা কাপড়ের বাঁধনগুলো খুলে ফেলছে একে একে। প্রথম দুটো বাঁধনের গিট হাল্কা ছিলো বলেই মনে হলো, কেননা অল্প চেস্টায় দেখলাম গিটগুলো খুলে গেল কিন্তু গোল বাঁধলো শেষের বাঁধন খোলা নিয়ে। কন্ডাক্টর চেস্টা করছে খুলতে আর বাসের কা্ঁপুনির কারনে বারবার পিছলে যাচ্ছে জিনিসটা - কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রন করতে পারছিলো না সে। এ সময়েই, বাসের গতির কারনে হোক অথবা অন্য কোন কারনে হোক হঠাৎ পেছনের একটা জানালা খুলে গেল। এক ঝলক দমকা বাতাস বয়ে গেল বাস জুড়ে আর সেই দমকা বাতাসের তোড়ে এক পাশ হয়ে পতপত করে উড়তে লাগলো সাদা কাপড়টি। হায় খোদা - হায় খোদা, আমি একি দেখছি - একটা বাচ্চা ছেলের লাশ। সে লাশের পাশ থেকে হাত বের হয়ে ঝুলে পড়লো একদিকে! ! !

(চলবে.......।)



১ম পর্ব এখানে...
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০৮
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে-১১০

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:০২



১। সারা পৃথিবী জুড়ে- সভা, সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক, অনশন, মানব বন্ধন অথবা কনফারেন্স করে কিছুই করা যাবে না। এগুলোতে অনেক আলোচনা হয়- কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হে মানব হিতৌষি রমনী, শুভ জন্মদিন একজন জনকের কথা

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:০৭



জানা আপু— আমাদের প্রিয়জন,
কোথায় আছো কেমন আছো?
তোমায় খোঁজে এ দু'নয়ন—এই কৌতুহলি মন।
হায়! দেখি—না ক তো দি ন!!!
আশা করি ভালোই আছো
অশ্বস্তি গেছে কেটে
... ...বাকিটুকু পড়ুন

ও ঠাম্মি কাঁদছো কেন

লিখেছেন সাহিনুর, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:২৫



ও ঠাম্মি কাঁদছো কেন
আগলে রেখে ঘরখানা?
সবাই এখন উল্লাসেতে
তোমার কথা ভাবছে না ।
রক্তে এখন ধম্ম সবার
মানবতার কথা শুনছে না ।
নিজের স্বাথে সিদ্ধি হওয়ায়
মানবতার খেয়াল রাখছে না... ...বাকিটুকু পড়ুন

আলো আঁধার

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:৪২


দূর দিগন্তে চেয়ে দেখি
বাঁশ বাগানের ছায়
জলপরীরা খেলা করে
আলোর মায়ায় ।।

নারকেলের পাতার ফাঁকে
শুক্ল পক্ষের চাঁদ
আলো ঝলমল সৌন্দর্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপরে উঠা

লিখেছেন সাইন বোর্ড, ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১৩


আমি সব সময়'ই উপরে উঠতে চেয়েছি, কিন্তু
চিলেকোঠাতে আমার বড্ড ভয়, তাই
রুবির মত স্কুল পড়ুয়া মেয়ে যেদিন আমাকে ছাদে ডেকেছিল
সেদিন রাতে আমি পবিত্রযানে চেঁপে দেবদূত হয়েছিলাম
মেঘ আর আকাশের মাঝে ভাসতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×