উপরে এতক্ষণ ত্বকের ভুমিকা নিয়ে যা কিছু লিখলাম এ সকল বিষয় আমরা কমবেশী সবাই জানি । কিন্তু এ ছাড়াও ত্বকের আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলী রয়েছে যা সচরাচর আলোচনায় না আসার কারণে আমাদের কাছে অজানা রয়ে যায় । তাহলে চলুন ত্বকের অজানা কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলী নিয়ে আজ আলোচনা করা যাক ।
১. পৃথিবীতে কী সর্বপ্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের আগমন ঘটেছিল ?
তথ্য প্রমান অনুযায়ী পৃথিবীতে সর্বপ্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের আগমন ঘটেছিল। পৃথিবীতে শ্বেতাঙ্গ মানুষের অস্তিত্বের প্রমান পাওয়া যায় আজ থেকে ৫০ হাজার বছর পূর্বে যথন কৃষ্ণাঙ্গরা শীতপ্রধান দেশগুলোতে স্থানান্তরিত হতে থাকে । শীত প্রধান দেশের ঠান্ডা আবহওয়ার কারণে তাদের শরীর থেকে প্রচুর মেলানিন ক্ষয় হতে থাকলে ধীরে ধীরে তারা শ্বেতাঙ্গ জাতিতে পরিনত হয় ।
২. শরীরের ঘাম নিয়ে ছোট তথ্য।
প্রচন্ড গরমে শরীর যথেষ্ট ঘামায় । এমনই প্রচন্ড গরমে সারা দিনে একজন মানুষের শরীর থেকে ১১ গ্যালন ঘাম বের হতে পারে । শরীরের যে অংশ বা স্থান ঘামায় না সেটি হচ্ছে নখের নিম্নাঞ্চল, ঠোটের প্রান্তদেশ এবং পুং-জননেন্দ্রিয় আবরক ত্বক।
৩. আঙুলের ছাপ একক এবং পুনরাবৃত্তিযোগ্য।
সাধারণত গর্ভাবস্থায় ভ্রুন গর্ভস্থ সন্তানের বয়স তিন মাস না হওয়া পর্যন্ত আঙুলের ছাপের লক্ষণ প্রকাশ বা সম্পূর্ণ হয়ে উঠে না । প্রত্যেক মানুষের অঙ্গুলাঙ্ক একক এবং অ-পুনরুচ্চার্য সেটি জমজ সন্তানদের ক্ষেত্রেও একই এবং অনুরূপ ।
৪. মানুষের চামড়া দিয়ে বাঁধানো বই ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লেভল্যান্ড পাবলিক লাইব্রেরি, দি হাভার্ড ল স্কুল এবং ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কিছুসংখ্যক বই রয়েছে যেগুলো ছিন্নমূল দরিদ্র ব্যাক্তির মৃত্যুর পর ও দুর্ধষ অপরাধীদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পর তাদের দেহ থেকে খুলে নেয়া চামড়া দিয়ে বাঁধানো ।
৫. মুক্ত বাতাসে মৃত চামড়া থেকে কী পরিমান কোষ বাতাসে ছড়াতে পারে ?
পৃথিবীর সকল মানুষের মৃত চামড়া যদি খোলা বাতাসে রাখা হয় তাহলে সেই চামড়া থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন টন ধুলিকণা উৎপন্ন হয়ে গোটা পৃথিবীর বায়ুমন্ডলকে গ্রাস করবে। একজন মৃত মানুষের চামড়া থেকে প্রতিমিনিটে ৫০ হাজার কোষ মুক্ত হয় ।
6.আঙুলির ছাপ বা অঙ্গুলাঙ্ক এর কাজ ।
অঙ্গুলাঙ্ক এর প্রধান কাজ হচ্ছে ঘর্ষণ বাড়ানো ও কোনো বস্তুকে খামচে ধরা বা দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে সাহায্য করা । কিছু কিছু বানরের লেজের তলদেশে এমন অঙ্গুলাঙ্ক দেখা যায় যার সাহায্যে তারা গাছের ডালপালাকে শক্তভাবে ধরে হেলেদুলে এক বৃক্ষশাখা থেকে অন্য বৃক্ষশাখায় চলাচল করে ।
৭. চিপস
বিশ্বে ২ হাজার বা তার উপরে লোক আছে যাদের ত্বকের অভ্যন্তরে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন ( আর এফ ) বসানো আছে। এই চিপস বহনকারীরা চিপস এর সাহায্যে চিকিৎসা বিষয়ক তথ্য আদান প্রদান, কম্পিউটারে একসেস এবং গাড়ির দরজা খোলার কাজে সুবিধাদি নিয়ে থাকে ।
৮. ত্বক কী চক্ষুর কাজ করে ?
অন্ধ ও স্বল্পদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যাক্তি শব্দ ও স্পর্শের সাহায্যে মস্তিষ্কের বোধশক্তিকে জাগ্রত করার মাধ্যমে কল্পনায় দৃশ্য ধারণ করে ।
৯. শরীরের ঘাম ।
মানুষের শরীরের ঘাম, মেদবহুল দেহের ঘর্ম-নিঃসারক গ্রন্থি থেকে রসক্ষরণ ঘটানোর প্রক্রিয়ার সাহায্যে উৎপত্তি হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এই গ্রন্থিকে বলা হয় অপোক্রাইন গ্যান্ড। গরমে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মানুষের জননতন্ত্র এলাকা এবং বাহুমূল থেকে ঘাম নির্গত হয় ।
১০. ত্বক একটি অতি সংবেদী যন্ত্র ।
একটি গবেষনায় প্রতিয়মান হয়েছে যে দেহের ম্যাসনার মৌলিক কোষ ( যে কোষ প্রচুর পরিমানে হাতে , ঠোট, জিহ্বা , স্তনবৃন্ত ও ভগাঙ্কুর এ পাওয়া যায় ) এতই সংবেদনশীল যে, মাত্র ২০ মিলিগ্রাম ওজনের বা একটি মশার ওজনের চাপেও প্রভাবান্বিত হয় ।
১১.কী ভাবে ঘামে গন্ধ উৎপত্তি হয়?
ত্বকে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো যখন ঘর্ম-নিঃসারক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস, চর্বি গ্রহণ এবং পরিপাক করে।
১২. কোনো কোনো লোক আছে যাদের আঙুলের ছাপ কখনই প্রকাশিত হয় না।
বংশানু বা জীন-ঘটিত অস্বাভাবিকতার কারণে যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় নেয়গেলি সিনড্রম ও ডারমাটোপ্যাথি পিগম্যান্টতোসা রেটিকুলারিস এই দুটি অসুখের কারণে হাতের আঙুলে শৈলশিরা ও হলরেখা গঠনে বাধাগ্রস্থ হয় ফলে তাদের হতে আঙুলের ছাপ কখনই প্রকাশ পায় না ।
১৩. ত্বকের ৫টি কার্যকারী সংবেদী যন্ত্র রয়েছে।
ত্বকের যে ৪টি সংবেদী যন্ত্র আছে সেগুলো (ক) প্রেষ (খ) স্পর্শ করা (গ) শিরশিরে ভাব এবং (ঘ) ব্যাথায় সাড়া দেওয়া ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ৮:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



