somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দৈনিক আমাদের সময়ে নাইমুল ইসলাম খানের মন্তব্য কলাম পড়ে বুক ফাটা কান্না দমাতে পারছি না! :(( :(( :((

০৭ ই জুলাই, ২০১০ দুপুর ১:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সম্পাদকীয় সৃজনশীলতার অনন্য সাধারণ প্রতিভা, বংলাদেশের সংবাদপত্র জগতের কিংবদন্তী নায়ক, বিশিষ্ট মধ্যরাত্রিক নির্ঘুম রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং তিন সন্তানের গর্বিত জনক দৈনিক আমাদের সময়ের সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খানের আজকের মন্তব্য কলামটি পড়ে বুক ফাটা কান্না দমাতে পারছি না!

প্রথম পাতার এমন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদটির প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে লুকিয়ে আছে এই সময়ের বাংলাদেশের সবচেয়ে জটিল পরিস্থির ভয়াবহ বর্ণনা। পরামর্শ দেয়া হয়েছে এ থেকে উত্তরণের। সাধারণ আম জনতার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এমন সংবাদটি নি:সন্দেহে প্রশংসার খোরাক।


সংবাদের শুরুটা এভাবেই- ‘নিজের চোখে না দেখে, নিজে গিয়ে না থাকলে পত্রিকায় পড়ে কিংবা কারো মুখে শুনে বিশ্বাস করা কঠিন। চট্টগ্রাম শহরের কোলাহলের ভেতরেই ফয়’স লেকের এক প্রান্ত থেকে আপনি যখন বোটে চড়ে রিজর্টের দিকে রওনা হবেন, ১০ মিনিটের সেই নৌভ্রমণের এক মিনিটও না যেতেই বিস্ময় আর আনন্দের শিহরণ শুরু হবে।‘

তিনি দু:খ করে বলছেন, ‘কনকর্ড গ্রুপকে অনেক অনেক অভিনন্দন স্মরণীয় ছুটি কাটানোর ব্যবস্থা তৈরি করার জন্য। আমার ছোট ছোট তিন মেয়ে লাবিবা, যূলিকা, আডিভা অপরিসীম ও নির্মল আনন্দ উপভোগ করেছে যেমন সত্য, আমার স্ত্রী মন্টি ও আমিও কম আনন্দ পাইনি সেটাও সমান সত্য। মন্টি আর আমি এক বছরের আডিভাকে নিয়ে ওয়াটার ওয়ার্ল্ড-এর পুলে গোসলও করেছি। সেখানে স্পষ্ট বুঝলাম এতটুকুন আডিভাও বেজায় খুশি।‘ আহা বুক ফেটে কান্না আসছে। ব্যাথায় মনটি ভারাক্রান্ত হয়ে উঠছে। এমন সম্পাদকের পাছায় তেল দিয়েছেন যে যে কর্মচারীরা তাদের গুণগান শুনতে শুনতে।

‘আর একটি কথা উল্লেখ না করলে অন্যায় হবে যে রিজর্টের কর্মীরা খুবই অতিথিপরায়ণ ও বিশেষ করে শিশুবান্ধব। আমার মেয়েদের থাকাটা আনন্দময় করার জন্য ওয়াটার পার্কটুকুই যথেষ্ট হলেও (ওয়াটার পার্কে মজার কত কিছু আছে লিখলে, দৈনিক আমাদের সময়ের সীমিত পরিসরে স্থান সংকুলান হবে না) রিজর্ট কর্মীরা ওদের দেখভাল করেছে, আদর করে এগিয়ে দিয়েছে বাইসাইকেল। লাবিবা, যূলিকা সেই সাইকেলও চালিয়েছে মহা-আনন্দে।'


প্রিয় ব্লগার, আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এমন অনাবশ্যক ফালতু বিষয় নিয়ে সামু ব্লগের জায়গা নষ্ট করার কৃত অপরাধের জন্য।

খেয়াল করে দেখুন, একটা সময় ছিল যখন বইয়ের ফ্ল্যাপে লেখকের দেশ ভ্রমণের একটি বিস্তারিত বর্ণনা মিলত। সেটি অবশ্যই উড়োজাহাজ নয়, জলজাহাজ যুগের ঘটনা যখন বৈদেশ-ভ্রমণ ছিল একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। কিন্তু দৈনিক আমাদের সময়-এর পাঠকের জন্য সম্পাদকের বৈদেশ-ভ্রমণবিষয়ক গল্প অবশ্যপাঠ্য একটি বিষয়; যা পয়সা দিয়ে কিনে পড়তে হয়। কারণ তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে দেশের বাইরে যাওয়া মানে আমাদের সময়-এর অন্তত এক কলাম সংবাদের জন্ম দেওয়া। যদিও ‘সংবাদমূল্য’ হিসেবে এটি একটি মূল্যহীন সংবাদ কিন্তু পত্রিকার সম্পাদক বলে কথা!

শুধু তা-ই নয়, আমাদের সময় পত্রিকার বিজ্ঞাপন ভাটা যাচ্ছে, সরকারি বিজ্ঞাপনের জন্য মাননীয় তথ্যমন্ত্রী/প্রধানমন্ত্রী বরাবর আকুল আবেদনসম্পর্কিত ৩-৪ কলামের সংবাদ, কর্মরত সাংবাদিকদের দু-মাস বেতন দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশসূচক ৩-৪ কলামের একটি সংবাদ ইত্যাদি, ‘রক্ত ক্ষরণ থেকে রক্তপাত’ তো হরহামেশাই দেখা যায়।
পাঠক হিসেবে আমাদের জিজ্ঞাসা, যখন পত্রিকাটির রুজি-রোজগার ভালো থাকে তখন কি সেটি সংবাদ হিসেবে ঠাঁই পেতে পারে না? আর যদি পেয়েও যায় তবে পাঠকের কী-ই বা যায়-আসে তাতে?

পত্রিকাটি আসলে এক ধরনের প্রচারপত্র। ‘প্রচারেই প্রসার’ এ আপ্তবাক্য বহন করে পত্রিকাটি প্রতিনিয়ত যে সাংবাদিকতার চর্চা করে, তা হলো ‘প্রভোকেটিভ জার্নালিজম’ অথবা ‘রিউমার জার্নালিজম’। যদিও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত ১৪ মার্চ ২০১০ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী প্রচারসংখ্যার দিক থেকে পত্রিকাটির অবস্থান তিন নম্বরে। মোট প্রচারসংখ্যা ১,৬৫,২০০ কপি।

মাঝে মাঝেই মনে হয়, পত্রিকার অবস্থান ‘যেদিকে বৃষ্টি সেদিকে ছাতা’ ধরার মতো। ২০০৭-এ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পত্রিকাটি ছিল সেনাবাহিনীর এক রকম মুখপত্র, আবার কিছুদিন যেতে না-যেতেই হয়ে গেল প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির মুখপত্র। পরবর্তীকালে আবার সুর পাল্টে হয়ে গেল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের। কখনো আবার এ রকমও হয়, শুধু কোনো একজনের। বিতর্ক উঠতে পারে, পত্রিকাটি বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার জন্য কোনো সম্পাদকীয় মতামতে বিশ্বাসী নয়। হতেই পারে। তাতে কোনো আপত্তি নেই, আপত্তি হলো বস্তুনিষ্ঠতার নামে চরিত্রহীনতা বা নীতিহীনতার যে মচ্ছব চোখে পড়ে সেটি নিয়ে।

সমাজে চলমান সহস্র বিষয় নিয়ে পত্রিকাটির আর আনুষ্ঠানিক মতামত প্রকাশের দায়দায়িত্ব রইল না। দিকনির্দেশনা প্রদানের এই দায়দায়িত্বহীন অবস্থান পত্রিকাটিকে পিছু টান মুক্ত করলেও তার বাউণ্ডুলে চরিত্রকেও আড়াল করতে পারেনি। ফলে জাতির সংকটকালে দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকাটির সুর ও স্বর বোঝা রীতিমতো অসম্ভব হয়ে পড়ে। পত্রিকাটিও সে সুযোগের ষোলোআনা ব্যবহার করে ‘ঝোপ বুঝে কোপ মারা’র কাজে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। পত্রিকার এই সুযোগসন্ধানী সাংবাদিকতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে।

প্রতিদিনই প্রবাসী কিছু (অ)সাংবাদিকতা বিষয়ক ম্যাটার নিয়ে ঢাউস কিছু গল্প ফাঁদেন। এগুলো পড়লে মনে হয় প্রত্যেক লেখকই সম্পাদকের বন্ধুস্থানীয় অথবা তাদের অন্য কোথাও লেখার জায়গা এখনো তৈরি হয়নি। আমাদের সময়ে লিখে আপাতত লেখার হাত তৈরি করে নিচ্ছে।

প্রায়ই দেখা যায় ভুল সংবাদ ছাপে আবার পরদিন ভুলের জন্য ক্ষমা চায়। শুধু ক্ষমা চাইলেই যে ভুলের প্রায়শ্চিত্ত হয় না, বিষয়টি কর্তৃপক্ষের বুঝে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ বুলেট থেকে গুলি বের হয়ে গেলে তা কোথাও না কোথাও লাগবে। সুতরাং গুলি কোথায় গিয়ে পড়ল, তা খুঁজতে যাওয়ার মানেটা কী? এইভাবে একটি সংবাদপত্রকে আশ্রয় করে এই পাগলামি বন্ধ হবে কবে??

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১০ রাত ১২:৪৪
২৩টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছাত্রজীবন রচনা ও একটি লৌকিক প্রেমের অকালমৃত্যু!!!

লিখেছেন আখেনাটেন, ২১ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:১৬





মনটা ভীষণ আঁকুপাঁকু করছে। কতক্ষণে বাড়ি পৌঁছাব। কখন খুলব। কি লেখা আছে ভিতরে? মারাত্মক অস্থিরতা পেয়ে বসেছে আমাকে। এখন মকবুল ডাক্তার আমার হার্টবিট মাপলে নিশ্চিত নিজেই হার্টফেল করবে।

ঘটনাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জল কড়চা

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ২১ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:২৭

-



রাজধানী শহর ঢাকাতে বসবাস করিলেন অথচ আজিকে সন্ধ্যার পরে নিজ নীড় হইতে বাহির হইলেন না, তাহারা ঘরকুনো তো বটেই আমি তো বলিব কাপুরুষও বটে! এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপেক্ষা

লিখেছেন বিক্রমাদিত্য মুশফিক, ২২ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ২:২১



কখনো অপেক্ষা করেছেন,
একজনের মুচকী হাসির?
আমি করেছিলাম ।

দুই জোড়া গাল একসাথে হওয়ার পর
দুজনে হেসেছি, মন খুলে
ভালোই তো এগুচ্ছিলাম আমরা ।

বৃষ্টি তে ভেজার অভ্যাস ছিলো না আগে,
এক জোড়া পায়ের ওপর
আরেক জোড়া পা
তখনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই যে শুনছেন সাধারণ মানুষের মতামত নেয়ার মত একটু সময় কি আপনাদের আছে ?

লিখেছেন :):):)(:(:(:হাসু মামা, ২২ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৩:৪৩


একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়নের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন যাদের ইমেজ ড্যামেজ হয়ে গেছে এবং ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে গেছে জনগণের কাছে যাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার চিন্তা চেতনা এবং একটি বৃষ্টির সকালে

লিখেছেন ইতি সামিয়া, ২২ শে অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ২:১৫


ছবিটি গুলশান দুই থেকে তোলা।

রাস্তাঘাটে নানান দুর্যোগ মোকাবেলা করে ইউনাইটেড হসপিটালের অতি নিকটবর্তী চেকপোষ্টে বৃষ্টির জন্য নতুন এবং শেষ বারের মতন যে সমস্যার সম্মুখীন হলাম তা হল রিক্সাওয়ালা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×