somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গোলাম আজমের বিচার শুরু হবে কবে?

০১ লা জুলাই, ২০১১ রাত ১২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
গোলাম আজমঃ
১।


২।


৩।


৪।


৫।


বাংলাদেশ দালাল (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭২ (রাষ্ট্রপতি আদেশ নং-৮) - এর অধীনে অভিযুক্তদের তালিকায় ১১৩ নং আসামী গোলাম আজম।
যার নামে হুলিয়া জারি হয় এইভাবে -
অধ্যাপক গোলাম আজম
পিতা- মওলানা গোলাম কবির
গ্রাম- বীরগাঁও, থানা- নবীনগর, জেলা- কুমিল্লা এবং
১১৯, এলিফেন্ট রোডয, থানা- রমনা, জেলা- ঢাকা
আদালত- মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট ব্রাহ্মণবাড়িয়া অথবা ঢাকা সদর (দক্ষিণ)
হাজিরার তারিখ- ২২ ফেব্রুয়ারী ১৯৭২


১৯৭১-এর সেই ভয়াবহ ২৬৬ দিনে জামাতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রসংঘের ব্যানারে গোলাম আজম স্বাধীনতাবিরোধী খুনিদের সুসংগঠিত করেছিল। ৭১-এর ঘাতক ও দালালরা কে কোথায় বইয়ে প্রকাশিত ৭১-এর সময়কার দৈনিক বাংলা, পূর্বদেশ ও সংগ্রাম থেকে গোলাম আজমের ভূমিকার কিছু দৃষ্টান্ত তুলে সংকলিত আকারে ধরা হলো এই পোস্টে ...



১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭১:
গোলাম আজম জামাতের শ্রম ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শফিকুল্লাহ ও তেজগাঁও থানা শান্তিকমিটির লিয়াজোঁ অফিসার মাহবুবুর রহমান গুরহা এবং রাজাকারবাহিনীর কমান্ডার ইন চীফ মোহাম্মদ ইউনুস সহ ঢাকার মোহাম্মদপুরে ফিজিক্যাল ট্রেনিং কলেজে আলবদর হেড কোয়ার্টার এবং রাজাকারবাহিনীর প্রশিক্ষণ শিবির পরিদর্শন করে। সেখানে রাজাকার ও আলবদরদের উদ্দেশ্যে ভাষণে গো.আ. বলে, ''রাজাকারবাহিনী কোনো দলের নয়, তারা পাকিস্তানে বিশ্বাসী সকল দলের সম্পদ।''

স্বাধীনতামনা বাঙ্গালিদের প্রসঙ্গে গো.আ. বলে, ''বাইরের শত্রুর চেয়ে ঘরের শত্রু বেশি ক্ষতিকর। এদের ব্যাপারে সেনাবাহিনী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং রাজাকাররা তাদের পেছনে এগিয়ে এসেছে।''

রাজাকারদের ভালোভাবে ট্রেনিং গ্রহণ করে যতোশীঘ্র সম্ভব গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ার আহবান জানিয়ে গো.আ. বলে, ''অভ্যন্তরীণ শত্রুকে তাড়াতাড়ি দমন করে সেনাবাহিনীকে শত্রুমুক্ত করার কাজে জলদি সহায়তা করতে হবে।''

এদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল আক্রমেণ পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর পরাজয়ের সংবাদ আসতে শুরু করে। সুযোগ বুঝে গো.আ. জামাতের সহকারী প্রধান মওলানা আবদুল রহিম এবং প্রাদেশিক রাজস্বমন্ত্রী এ কে এম ইউসুফকে নিয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যায়। এবং সেখান থেকেই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে যেতে থাকে।

২৩ নভেম্বর ১৯৭১

স্বাধীনতা সূর্য উদিত হওয়ার ঠিক এই সময়টায় লাহোরে সাংবাদিক সম্মেলনে গো.আ. রাজাকার, আলবদর ও আলশামস সদস্যদের উন্নতমানের ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র সরবরাহ করার জন্য পাকিস্তান সরকারের কাছে জোর দাবি জানায়।


২৭ নভেম্বর ১৯৭১

রাওয়ালপিন্ডিতে এক সমাবেশে গো.আ. বলে, ''দুশমনদের (মুক্তিযোদ্ধা) এখন আক্রমণই সর্বোত্তম পন্থা। আর নয় আত্মরক্ষা।''

৭১-এ বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশায় জড়িত ছিল গো.আ.। ১৯৮১ সালের ১৭ এপ্রিল ততকালীন বিচিত্রায় '৭১-এ ভুল করিনি - গোলাম আজম ও জামাতের রাজনীতি' শীর্ষক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ''সেপ্টেম্বরে রাও ফরমান আলীর সঙ্গে এক বৈঠকে গো.আ. বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা পেশ করে। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে আবদুল মালেক, ব্যারিস্টার কোরবান আলী, অধ্যাপক ইউসুফ আলী, আব্বাস আলী খান সহ প্রমুখ জামাত নেতারা জড়িত ছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী উদ্ধারকৃত দলিলে প্রমাণ মেলে এই ষড়যন্ত্রের। বিভিন্ন দলিলপত্রে স্পষ্ট নির্দেশ দেয়া ছিল যে, ''পূর্ব পাকিস্তান যেহেতু টিকবে না, তাই এখানকার বুদ্ধিজীবী, ইঞ্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী, ডাক্তারকে চিরতরে শেষ করে দিতে হবে যেন পূর্ব পাকিস্তান কখনো দেশ চালাতে না পারে।''
বিভিন্ন লিস্ট করে, সেই মোতাবেক বুদ্ধিজীবীদের ধরে এনে হত্যা, কাউকে পাওয়া না গেলে স্বজনদের গ্রেফতার ও অত্যাচারের মাধ্যমে সেই ব্যক্তির খোঁজ বের করা সহ বিভিন্ন নির্দেশনামা আরবী ও বাংলাতে সেইসব দলিলপত্রে খুঁজে পাওয়া গেছে। এখানে আরো উল্লেখ্য যে, বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা প্রণয়ন সম্পর্কে বিচিত্রায় প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের কোনো জবাব তখন জামাতে ইসলামী নেতারা দেয়নি।

নভেম্বর মাসেই জামাতে ইসলামীর এক নেতা আলবদরের সমাবেশে বলে, ''পাকিস্তান টিকিয়ে রাখার জন্য এ যুদ্ধ নয় - এ যুদ্ধ ইসলামের। নমরুদদের হাত থেকে পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখার জন্য জামাতের আমীর গোলাম আজমের নির্দেশ পালন করুন।''

বুদ্ধিজীবী হত্যা কার্যকর করার জন্য উপযুক্ত রাজাকার ও আলবদর বাছাইয়ের জন্য গো.আ. ডিসেম্বরের প্রথম দিকে মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং কলেজের ইসলামী ছাত্রসংঘের পরিচালিত আলবদর ও রাজাকার প্রশিক্ষণ শিবির পরিদর্শন করে।

২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১

ঢাকার শেরাটন হোটেলে জামাতের দেয়া সংবর্ধনায় গো.আ. বলে, ''জামাতে ইসলামী পাকিস্তান ও ইসলামকে এক ও অভিন্ন মনে করে। পাকিস্তান সারা বিশ্বের জন্য মুসলিমদের ঘর। পাকিস্তান না থাকলে কোনো জামাত কর্মীর বেঁচে থাকার কোনো অর্থ নেই।''

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের কুখ্যাত নাম - যাকে প্রধান যুদ্ধাপরাদী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে সকল মহল থেকে - তার অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচার শুরুর দাবী করছি।




সিপিজি প্রোডাকশন হোম
৩৮টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×