somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আত্মহত্যা কি? মানুষ কেন আত্মহত্যা করে? ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে আত্মহত্যার পরিনাম ও আত্মহত্যা থেকে মুক্তির উপায়।

১০ ই জুলাই, ২০১১ সকাল ১১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আত্মহত্যা কি?

আত্মহত্যা মানে নিজকে নিজে ধ্বংস করা। নিজ আত্মাকে চরম যন্ত্রণা ও কষ্ট দেয়া। নিজ হাতে নিজের জীবনের সকল কর্মকাণ্ডের পরিসমাপ্তি ঘটানো।

মানুষ কেন আত্মহত্যা করে?

মানুষ কেন আত্মহত্যা করে সে বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া যাক। আত্মহত্যার অনেক কারণ আছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ

১. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য, যৌতুকের কারনে ঝগড়া বিবাদ
২. পিতা-মাতা ও ছেলে-মেয়ের মধ্যে মনোমালিন্য,
৩. পরীক্ষায় ব্যর্থতা,
৪. দীর্ঘস্থায়ী রোগ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া,
৫. প্রেম-বিরহ, মিথ্যা অভিনয়ের ফাঁদে পড়ে
৬. ব্যবসায়ে বারে বারে ব্যর্থ হওয়া,
৭. শক্রর কাছে ধরা না দেয়া ইত্যাদি।

যখন জ্ঞান-বুদ্ধি-উপলব্ধি-অনুধাবন শক্তি লোপ পায়, নিজকে অসহায়-ভরসাহীন মনে হয়, তখনই মানুষ আত্মহত্যা করে বসে।

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে আত্মহত্যার পরিনাম

ইসলামী দৃষ্টিকোণে বিষয়টি আলোচনা করা যায়। আল্লাহ মানুষকে মরণশীল করে সৃষ্টি করেছেন। তিনিই মৃত্যু ঘটান। কিন্তু আত্মহত্যার ক্ষেত্রে বান্দা স্বাভাবিক মৃত্যুকে উপেক্ষা করে মৃত্যুকে নিজের হাতে নিয়ে নিজেই নিজকে হত্যা করে ফেলে। এ কারণে এটি একটি গর্হিত কাজ। তাই আলাহ তা মোটেই পছন্দ করেন না। এ কারণে যদিও শরিয়তে আত্মহত্যাকারীর জানাযা হয় তবু রাসূল (সাঃ) তা নিজে পড়াননি। সাহাবী দ্বারা তা পড়ানো হয়। এ সূত্র ধরে আমাদের সমাজেও উচ্চ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন আলেমের স্থলে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন আলেম দ্বারা আত্মহত্যা কারীর জানাযার নামায পড়ানো হয়।

কোরআনের বানীঃ

আত্মহত্যা মহাপাপ। এ কাজ থেকে বিরত থাকতে মহান আল্লাহ্‌ তা’আলা বিশেষভাবে নির্দেশ দান করেছেন এবং এর পরিনামের কথা ভাববার জন্য কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির বর্ণনা দিয়ে মহা পবিত্র আল কুরআনে আয়াত অবতীর্ণ করেছেন।

মহান আল্লাহ রাববুল আলামীন বলেন, “আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু। এবং যে কেউ জুলুম করে, অন্যায়ভাবে উহা (আত্মহত্যা) করবে, অবশ্য আমি তাকে অগ্নিদগ্ধ করবো, আল্লাহর পক্ষে উহা সহজসাধ্য।” (সূরা-নিসা-২৯-৩০)

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর বানীঃ

ক) সাহাবা আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ঐভাবে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে।

খ) যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে সেও জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ঐভাবে নিজ হাতে বিষপান করতে থাকবে।

গ) যে কোন ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করেছে তার কাছে জাহান্নামে সে ধারালো অস্ত্র থাকবে যার দ্বারা সে সর্বদা নিজের পেটকে ফুঁড়তে থাকবে।

ঘ) রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে সে দোজখে অনুরূপভাবে নিজ হাতে ফাঁসির শাস্তি ভোগ করতে থাকবে। আর যে বর্শা ইত্যাদির আঘাত দ্বারা আত্মহত্যা করে- দোজখেও সে সেভাবে নিজেকে শাস্তি দেবে।

ঙ) হযরত জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের পূর্বেকার এক লোক আহত হয়ে সে ব্যথা সহ্য করতে পারেনি। তাই সে একখানা চাকু দিয়ে নিজের হাত নিজেই কেটে ফেলে। এর পর রক্তক্ষরণে সে মারা যায়। আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা নিজেকে হত্যা করার ব্যাপারে বড় তাড়াহুড়া করে ফেলেছে। তাই আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।

আত্মহত্যা থেকে মুক্তির উপায়ঃ

১. পিতা-মাতার কাজ হবে ছেলে-মেয়েদের অযথা ধমক না দেয়া, ভৎসনা না করা।

২. এমন মানসিক কষ্ট না দেয়া যাতে তাদেরকে আত্মহত্যার মতো চরম পদক্ষেপ দিতে বাধ্য করে।

৩. মারাত্মক ও কষ্টদায়ক অসুখে পড়লে নামাযে দাঁড়িয়ে যাওয়া। দাঁড়াতে না পারলে বসে পড়া, তা না পারলে শুয়ে ইশারায় পড়া এবং সেজদায় এ দোওয়া করা। হে আমার রব। আমাকে রোগে কষ্ট দিচ্ছে। আপনি তো দয়ালুদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। আমাকে রোগ-মুক্ত করুন। আইয়ুব (আঃ) তাঁর ভীষণ অসুখে এ দোওয়া পড়েছিলেন (সূরা আম্বিয়া আয়াত ৮৩ “রাব্বি আন্নি মাস্যানিয়াত দুররু ও আনাতা আরহাদুর রাহেমিন”। এ দোওয়া পড়ে রোগমুক্ত হন।

৪. ব্যবসায় ক্রমাগত ক্ষতি হলে মাঝে মাঝে নফল নামাযে সেজদায় গিয়ে এ দোওয়া পড়াঃ আল্লাহুম্মার জুকনা রিযকান হাসানা। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবুকা মিনাল ফাকরি অলকিল্লাতি অজজিল্লা”। অর্থ হলোঃ হে আল্লাহ। আমাকে মঙ্গলকর জীবিকা দান করুন। আমি আপনার নিকট গরিবী স্বল্পতা ও হীনতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আপনিই তো একমাত্র রিজিকের মালিক এবং দাতা। আপনি সূরা জুমার ৫৩ আয়াতে বলেছেন “ আমার দয়া থেকে নিরাশ হয়ো না”। তাই আমার রুজি বাড়িয়ে দিন।

৫. পরীক্ষা এসে গেলে আগে থেকে ছাত্রদের মাঝে মাঝে নফল নামাযে সেজদায় গিয়ে এ দোওয়া করা। হে আল্লাহ। আপনিই তো জ্ঞান-প্রতিভা-মেধা ও ফল দেয়ার মালিক। এগুলো দিয়ে আমাকে অনুগ্রহ করুন যাতে আমি পরীক্ষায় ভাল ফল করতে পারি। কোরআনের ভাষায় এ দোওয়া হলো “রাব্বি জিদনি এলমা।” অর্থ হলো। হে প্রভু। আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করুন।

৬. আত্ম-হত্যার কথা মনে, আসলে এ বিপদ থেকে রক্ষাকল্পে নফল নামাযে দাঁড়িয়ে যাওয়া এবং সিজদায় গিয়ে বিনীতভাবে আল্লাহর আগ্রহ-দয়া-সাহায্য কামনা করা প্রয়োজন। প্রতি মুহূর্তে ধৈর্য ধারণ করতে হবে।

৭. এ ঘাত-সংঘাতময় জীবনে মাঝে মাঝে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হবে- এটা তো স্বাভাবিক। আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের পরিচ্ছদ। একে অপরের শান্তিদাতা ও শান্তিদাত্রী। দোষ-গুণ নিয়েই মানুষ। কারও মাঝে সব গুণের একত্র সমাহার বিরল। স্বামীর যেমন কিছু গুণ থাকে তেমনি কিছু দোষও থাকে। স্ত্রীর ব্যাপারেও একথা সমভাবে প্রযোজ্য। তাই উভয়কে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিতে হবে। নিজেদের মধ্যে সংলাপ-সহযোগিতা-সমঝোতা-সহমর্মিতা থাকতে হবে। উভয়কে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। আল্লাহ সূরা ফুরকান আয়াত ৭৪ এ ব্যাপারে দোওয়া শিখিয়ে দিয়েছেন যা হলো “রাব্বানা হাবলানা মিন আগওগানা ও জুর রিয়্যাতেনা কুররাতা আ’য়ুনু অজআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমাম।” অর্থ হলোঃ হে আমাদের প্রতিপালক। আমাদের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদেরকে নয়ন তৃপ্তিকর করে দিন এবং মোত্তাকীদের আমাদের জন্য আদর্শ স্বরূপ করে দিন।

পরিশেষেঃ.............................................

মোট কথা যখনই নিজেকে অসহায় ও আশাহত মনে হয় এবং আত্মহত্যার চিন্তা আসে তখনই মনে করতে হবে এখন শয়তান এসেছে। ইসলামে আত্মহত্যা নাজায়েয এবং তার পরিণতি জাহান্নাম। তাই এ থেকে দূরে থাকা ব্যাঞ্ছ্যনীয়। সাথে সাথে মনে করতে হবে আল্লাহই আমার সহায় এবং আশার আলো। তাই পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামায পড়ার সাথে নফল নামাযের মাধ্যমে আল্লাহর দয়া ও সাহায্য কামনা করতে হবে। প্রতি মুহূর্তে সবর অর্থাৎ ধৈর্য ধারণ করতে হবে। এতে ইনশাআল্লাহ মন ও হ্নদয় প্রশান্ত থাকবে এবং বিপদ দূরীভূত হবে।

হে মহান আল্লাহ। সকল স্তরের নর-নারী ও সন্তান-সন্তুতিকে আত্মহত্যার মত পাপ থেকে বেঁচে থাকার মত জ্ঞান বুদ্ধি ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মত সুচিন্তা ও চেতনা দান করুন। আমীন
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×