somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দরে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে ৭৪ গুণ বেশি কাজ হবে ।। জাপানী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্মকর্তার অভিমত

২০ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দরে বর্তমান চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে ৭৪ গুণ বেশি কাজ হবে। এ দাবি করেছেন গভীর সমুদ্র বন্দরের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপিত হলে ২০২০ সাল নাগাদ বছরে ৭ কোটি ৪১ লাখ টন কনটেইনার ওঠানামা করা যাবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন কনটেইনার ওঠানামা হয়। জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক কনসালটেন্টস ইন্টারন্যাশনালের সমন্বয়ক কে এম আহমেদ বুধবার বিডিনিউজকে এ কথা বলেন। সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দরের মূল পরিকল্পনা অনুসারে, ২০৫৫ সাল নাগাদ এ বন্দরে ৩২ কোটি ৫২ লাখ মেট্রিক টন কনটেইনার ওঠানামা করা যাবে। চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিয়কায়ন করলেও বছরে মাত্র ২০ লাখ মেট্রিক টন কনটেইনার ওঠানামা করা যাবে বলে মনে করেন কে এম আহমেদ। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে বিশ্বের মাত্র ১৮ ভাগ জাহাজ ঢুকতে পারে। কারণ কর্ণফুলী নদীর গভীরতা তেমন বেশি নয়। তবে সোনাদিয়ায় বিশ্বের ৮০ থেকে ৯০ ভাগ জাহাজই ভিড়তে পারবে। কারণ এখানে গভীরতা কোনও সমস্যা নয়। সোনাদিয়া বন্দর নির্মাণ সম্পন্ন হলে পণ্য আমদানি-রপ্তানির খরচও কমে আসবে দাবি করে কে এম আহমেদ বলেন, বর্তমানে আমাদের সিঙ্গাপুর, কলম্বো ও মালয়েশিয়ার পোর্ট কালাং ব্যবহার করতে হয়। সেখান থেকে ফিডার ভ্যাসেলে করে পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে আনতে বা পাঠাতে হয়। এ কারণে পোশাক শিল্পের ৪০ শতাংশ পণ্য বিমানে পাঠানো হয়। এতে রপ্তানি ব্যয়ও বেড়ে যায়।

গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপনের জন্য সোনাদিয়া দ্বীপকে বেছে নেওয়ার কারণ সম্পর্কে কে আহমেদ বলেন, প্রথমে আটটি স্থানের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি কারণে সোনাদিয়াকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পানির গভীরতা। এখানকার ৮০ ভাগ জমি খাস। মাত্র ৫৫টি বাড়ি স্থানান্তর করতে হবে, জনবসতি কম। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের তেমন ক্ষতি হবে না। সমুদ্র বন্দর স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোনাদিয়ায় ২২ হেক্টর জমিতে এ বন্দর নির্মাণ করা হবে। মোট তিনটি মেয়াদে নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে। ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রথম মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যায়ে পাঁচটি আন্তর্জাতিক ও চারটি সাধারণ কার্গো জেটি নির্মাণ করে বন্দরে কনটেইনার ওঠানামার কাজ শুরু হয়ে যাবে। দ্বিতীয় মেয়াদে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত ৯টি আন্তর্জাতিক ও ৬টি সাধারণ কার্গো জেটি নির্মাণ করা হবে। ভবিষ্য চাহিদা বিবেচনা করে মূল পরিকল্পনা অনুসারে ২০৫৫ সাল নাগাদ আরও জেটি নির্মাণ করা হবে। ২০৫৫ সাল পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শেষ করতে মোট ব্যয় হয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা। প্রথম পর্যায়ে ব্যয় করা হবে ১৩ হাজার কোটি। দ্বিতীয় পর্যায়ে ব্যয় হবে ২৬ হাজার কোটি টাকা। এ বন্দরে ১৪ থেকে ১৬ মিটার ড্রাফটের জাহাজ প্রবেশ করতে পারবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বোস্ত ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ঢুকতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ৪০ কিলোমিটার সড়কপথ ও ৪০ কিলোমিটার রেল পথ স্থাপন করতে হবে। এ জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ২ কোটি ডলার ব্যয়ে আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা হবে। এ বন্দরের বিদ্যুতের চাহিদা হবে ১০০ মেগাওয়াট। এ জন্য বিদ্যু কেন্দ্র স্থ্পনে ব্যয় হবে ১৬ কোটি ডলার। সোনাদিয়া ছাড়াও বাগেরহাটের পশুর নদীর আকরাম পয়েন্ট, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, কক্সবাজারের এলিফ্যান্ট পয়েন্ট, মহেশখালী চ্যানেল, কুতুবদিয়া চ্যানেল, কুতুবদিয়া পয়েন্ট ও চট্টগ্রামের মিডল দ্বীপে সমুদ্রবন্দর স্থাপনের বিবেচনা করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোনাদিয়ায় সমুদ্র বন্দর স্থাপন করা হলে এটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গেটওয়ে হিসাবে কাজ করবে। বন্দর স্থাপনে পরিবেশের ওপর প্রভাব সম্পর্কে বলা হয়েছে সমুদ্রের পানি ছাড়া ভৌত সম্পদের তেমন ক্ষতি হবে না। মাছ ও পাখি আশপাশের এলাকায় চলে যাবে। অন্য স্থানে বনায়ন করে ম্যানগ্রোভ বনের ক্ষতি মিটিয়ে নেওয়া হবে।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×