somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভোটার প্রকল্প ও কিছু কথা

২৫ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনেক প্রসংশনীয় উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে ছবিযুক্ত জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আই.ডি. কার্ড প্রকল্প । যেহেতু আমি এই প্রকল্পের একজন ছিলাম সেহেতু আমি এই প্রকল্পের অসঙ্গতি গুলো নিবিড় ভাবে প্রত্য করার সুযোগ পেয়েছি,এবং এই সকল অসঙ্গতি দুরিকরণের লে যথাযথ কর্তৃপরে দৃষ্টি আকর্ষনের উদ্দেশ্যেই আমার এই লেখা। প্রকল্পে কাজ করার সময় আমরা যে সকল সমস্যার সম্মুখিন হয়েছি তাকে দু’ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা,
১) যান্ত্রিক ও ২) মানবীয় অর্থাৎ ১)যন্ত্র সংক্রান্ত ও ২)মানব সৃষ্ট। প্রথমে তবে নজর দেয়া যাক যন্ত্র সংক্রান্ত সমস্যার প্রতি, যদিও ল্যাপটপ গুলো Dell ব্রান্ড এর Intel Douএবং এর র‌্যাম ছিল ১ গিগা তবুও ভোটার লিষ্ট প্রোগ্রাম টি চালু হতে বেশ কিছু সময় নষ্ট হত এবং প্রায়সই দেখা যেত যে মাউস বা কিবোর্ড কাজ করছেনাUSB পোর্ট বদল করার পর তা কাজ করতো। এরপর যে বিষয়টি তা হল ওয়েব ক্যাম অর্থাৎ এর কোয়ালিটি। ছবি তোলার এই ক্যামেরাটি ডিজিটাল হলেও এর মান বা রেজুলেশন ছিল খুবই কম' মাত্র ১.৩ মেগা পিক্সেল যা কিনা একটি সাধারন সস্তা দামের মোবাইল ফোন ক্যামেরার মানের সমান। এতে যে ছবির মান কি হয়! তা সবারই জানা। একজন মানুষকেও পেলাম না যে, তার তোলা ছবি নিয়ে সন্তষ্ট। যে ছবির জন্য এ প্রকল্প সেই ছবি তোলা যন্ত্রের ব্যাপারে কর্তৃপরে আরও দায়ীত্ববান হওয়া উচিৎ ছিল বলে মনে হয়। এবার তবে দৃষ্টি দেই ভোটার লিষ্ট সফটওয়্যার এর প্রতি, এর সবচেয়ে বড় অসঙ্গতি হল' উপজেলা বা থানার নামে ভুল অর্থাৎ বিকৃত । নোয়াখালীর একটি থানা বা উপজেলার নাম "চাটখিল" কিন্তু সফটওয়্যার-এ তা দেওয়া আছে "চটিখল" হিসাবে আবার, শরিয়তপুর জেলার একটি থানার নাম হল "জাজিরা" কিন্তু সফটওয়্যারের কল্যাণে তা বিকৃত হয়ে হয়েছে "জিঞ্জিরা"। আবার যে সকল উপজেলা নতুন গঠিত হয়েছে তাদের অধিকাংশের নামই তালিকায় নেই, ভোটারদের মত অনুযায়ী তাদের পূর্ববর্তী থানার নাম নির্বাচন করে তাদের ফর্ম পুরণ করা হত। এবারের বিষয়টি একটু ভিন্ন, আমাদের দেশে শিক্ষিতের হার মাত্র ৪৬% তাই সামান্য সারজ্ঞান সম্পন্ন হলেই তাকে শিক্ষিত হিসাবে গণ্য করা হয়। তার অর্থ এই নয় যে তারা ৫ম শ্রেণী সমপরিমান জ্ঞানের অধিকারী। যারা সারজ্ঞান সম্পন্ন তারা শুধু নিজের নামটাই লিখতে পারে এবং তা তারা বর্ণ হিসাবে লেখেনা, আঁকে ছবি হিসাবে। যখন তারা নাম লেখা শেখে তখনই তারা তাদের নামটিকে ইমেজ বা ছবি হিসাবে গণ্য করে পরবর্তীতে তাদেরকে যত বার তাদের নাম লেখতে বলা হয় তারা তাদের মনে সংরতি তাদের "নাম" নামের ছবিটি আঁকে। আসলে এক কথায় বললে এরা নিররেরই সমতুল্য। কাকতালীয় ভাবে আমার অর্থাৎ আমার টিমের অধিকাংশ ভোটারের সংখ্যাই ছিল এই প্রকৃতির, তাদের যখন নাম সই করতে বলা হত তখন তারা অনেক বেশী সময় লাগাতো তাদের নাম সই করতে কেউ কেউতো নাম সই করতেই চাইতোনা, চাইতো টিপসই দিতে কিন্তু যখন বলা হতো যেহেতু ফর্মে সই আছে বিথায় সই অবশ্যই করতে হবে। তখন তারা ফর্মে দেয়া সই দেখে অনেক ধীরগতিতে অনুরূপ সই দিত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এইযে সফটওয়্যার বা নিবন্ধন ফর্ম উভয় ক্ষেত্রই শিক্ষাগত যোগ্যতার অপশনে নিরক্ষর এর পর দেয়া আছে ৫ম শ্রেণী। এবং আমাদের নিদের্শনাও ছিল এমনই যে নাম সই করতে পারলেই তাকে ৫ম শ্রেণী পাশ হিসাবে গন্য করতে হবে। কিন্তু একজন সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তি এবং একজন ৫ম শ্রেণী পাশ করা ব্যক্তির শিক্ষাগত যোগ্যতা কখনই এক হতে পারেনা। আমাদের দেশে কিন্তু এই সারজ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তির সংখ্যাই বেশী তাই অন্তত এই বৃহৎ জনগোষ্ঠির কথা চিন্তা করে সংশিষ্ট কতৃপক্ষের উচিৎ ছিল ফর্ম এবং সফটওয়্যার উভয় ক্ষেত্রেই সারজ্ঞান সম্পন্ন নামের একটি অপশন রাখা। সফটওয়্যারের অনেক গুলো অপশন আছে, সবগুলো অপশন ঠিক মত কাজ করলেও খুজুন অপশনের সম্পূর্ণ এবং অসম্পূর্ণ ফর্ম অপশন ছাড়া আর কোন অপশন ঠিক মতো কাজ করতোনা। সফটওয়্যারের এই সকল ত্রুটি সমাধান যোগ্য এবং তেমন সময়সাপেক্ষ ব্যাপারও নয়, এবং সফটওয়্যারের এই সকল সমস্যায় দেশের তেমন বড় কোন ক্ষতিও হচ্ছেনা।
২) এবার আসছি এই লেখার মূল বিষয় মানবিয় সমস্যা বা মানব সৃষ্ট সমস্যার কথায়, নির্বাচন কমিশন হতে একটি ফর্ম ছাপানো হয়েছে এবং এই ফর্মে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই জাতীয় পরিচয় পত্রের সকল তথ্য ডেটাবেজে আপডেট করা হতো। এখন ফর্মে প্রদত্ত তথ্য যদি সঠিক না হয় তবে সেই ভুল তথ্যই ডেটাবেজে লিপিবদ্ধ হবে। তাই সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহে তথ্যসংগ্রহকারীর গুরুত্ত্ব সর্বাধিক । আমার জানা মতে যারা তথ্যসংগ্রহকারীর দায়ীত্বে ছিলেন তারা সবাই কোন না কোন ভাবে শিকতা পেশার সাথে নিয়োজিত ছিলেন বা আছেন। তাদের এ কাজে নিয়োগ করার সম্ভবত কারণ যাতে এই কর্মযজ্ঞ সুষ্ট ও সুচারু রুপে সম্পন্ন হয়, কারণ শিকদের বলা হয় জাতির বিবেক। কিন্তু আমরা জাতি হিসাবে এতটাই কলুষিত হয়েছি যে আমাদের বিবেকও এ থেকে রক্ষা পায়নি,যেহেতু কাজটি পারস্পরিক আদান-প্রদানের অর্থাৎ তথ্যপূর্ণ ফর্মের বদলে টাকা তাই কিছু সংখ্যক তথ্যসংগ্রহকারী শিক্ষক "বেশীফর্ম" "বেশীটাকা" এই সূত্র অনুসরণ করে শুধু ফর্ম সংখ্যা বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করেছিলেন, ফর্মে কি লিখছেন তা মূখ্য বিষয় নয় তিনি একটি ফর্ম সংখ্যা বৃদ্ধি করছেন সেটিই মুখ্য বিষয়। যদি তাই না হবে, তাহলে সাবালিকা না হয়েও একজন মানুষ কিভাবে ভোটার তালিকাভুক্ত হয়? রেজিস্ট্রেশন কেন্দ্রটি ছিল এফ. এম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ একজন মেয়ে এলো তার রেজিস্ট্রেশনের জন্য স্বভাবতই তার নাম এবং বয়স জিজ্ঞাসা করতেই সে সতস্ফুর্ত ভাবে তার নামটি বলল এবং বয়স বলল সাড়ে ষোল (১৬১/২ ) কিন্তু ফর্মে তার বয়স ঠিকই ১৮ লেখা আছে। আশ্চর্য হয়ে তাকে বললাম "কিন্তু ফর্মে তো আপনার বয়স ১৮ দেয়া আছে " মেয়েটি তখন উত্তর দিল যে, "আপা (তথ্যসংগ্রহকারী) নিজেই লেইখা দিছে " তাকে পুনরায় প্রশ্ন করলাম -"তিনি লেখলেন আর আপনি কিছু বললেন না? " তার উত্তর "পালায় বিয়া করছিতো তাই আপায় কইছে বিয়া যখন হইয়াই গেছে তাইলে তুমি ভোটার হইবানা ক্যান?" পাঠক এবার বুঝুন তথ্যসংগ্রহকারী তার নিজের আর্থিক লাভের জন্য একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ককে কাগজে কলমে প্রাপ্ত বয়স্ক ভোটার বানিয়েছে।
এভাবে গার্মেন্টসের প্রায় ৪৫%থেকে ৫০% যারা অপ্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক যাদের চেহারা দেখলেই বোঝা যায় যে তাদের বয়স ১৮ এর কম কারণ বেশীর ভাগ ছেলেরই গোঁফের রেখাই স্পষ্ট নয় কিন্তু কাগজে কলমে তারাও প্রাপ্ত বয়স্ক কারণ, আন্তর্জাতীক শ্রম আইনে ১৮ বছরের কম বয়সি শ্রমিক কল কারখানায় নিয়োগ দন্ডনীয় অপরাধ। তাই গার্মেন্টসের সকল শ্রমিকের বয়স সব সময়ই ১৮ বা তার বেশী হয় এবং এই কারনে অপ্রাপ্ত বয়স্ক হয়েও তারা ভোটার। এবার আসা যাক ভোটারদের ঠিকানার ব্যাপারে; অনেক তথ্যসগ্রহকারী মৌজা,মহল্লা বা গ্রাম/রাস্তার নাম এর অংশে অনেক সময় বাসা/হোল্ডিং নাম্বার লিখতেন, কোন কোন সময় তারা এই দুই অংশই ফাঁকা রাখতেন, এমনকি অনেকেতো ভোটার এলাকার নাম পর্যন্ত লিখতেননা, এবং সব সময়ই আমরা সে সকল ঐচ্ছিক ভুল গুলোকে সাধ্য মতো সংশোধন করে দিতাম। বর্তমান ঠিকানা ভুল থাকলে তেমন কোন সমস্যা হতোনা স্থানীয় কাউকে দিয়ে তা সংশোধন করে নেয়া যেত কিন্তু ভীষন সমস্যা হতো যখন কোন ভোটারের স্থায়ী ঠিকানা ভুল থাকতো।
বেশীর ভাগ সময় দেখা যেত যে, ভোটারের বিভাগ একটা কিন্তু জেলা আরেকটা,উপজেলা অন্য আরেকটা যেমন, দেখা যেত যে বিভাগ খুলনা কিন্তু জেলা ফরিদপুর এবং উপজেলা শিবচর। আসলে কিন্তু ফরিদপুর জেলা খুলনা বিভাগে নয় ঢাকা বিভাগে আর শিবচর উপজেলা মাদারীপুর জেলায়। আমাদের ২৩ নম্বর টিমের কাজের এলাকা ছিল মিরপুরের ৯ এবং ১০ নং ওয়ার্ডে মিরপুরে এ সকল অঞ্চলে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা খুবই কম এবং মূর্খ এবং অশিক্ষিত মানুষের সংখ্যাই বেশী তাই তারা তাদের জেলার নাম ভুল বলতেই পারে এবং অনেকেই তাদের নিজেদের বিভাগের নাম জানেনা কিন্তু তাই বলে তথ্য সংগ্রহকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা গণও কি তাদের মত মূর্খ! যে কোন বিভাগে কোন জেলা তা তারা জানেনা? এ অজ্ঞতা বড় বিষ্ময়কর! বাগবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একদিন আমি খুবই আশ্চর্য হয়েছি একজন ভোটার যে পেশায় কাজের বুয়া এবং তার বাড়ী নড়াইল জেলায় তার বিভাগে লেখা আছে যশোর তাকে কৌতুহল বসত জিজ্ঞাসা করলাম যে নড়াইল জেলা কোন বিভাগে আপনি জানেন? সে শান্ত ভাবে জবাব দিল "কেন্ নড়াইল জিলা তো খুলনা বিভাগের মোধ্যি", তাহলে আপনার বিভাগ যশোর লেখা কেন আমি কৌতুহলী হলাম! অতঃপর সে উত্তর দিল 'আমি আপারে বলিছিলাম যে "আমাদের নড়াইল জেলা খুলনা বিভাগের মোধ্যি কিন্তু আপা আমারে গরম দিয়ে বলল যে খুলনা কোন বিভাগ নাই যশোর বিভাগ"। এখন বুঝুন পাঠক এই যদি হয় অবস্থা একজন ৫ম শ্রেণী পাশ কাজের বুয়া যদি একজন তথ্যসংগ্রহকারী অপো দেশের ভৌগলিক অবস্থা সর্ম্পকে বেশী জ্ঞান রাখে তবে কার না মেজাজ খিঁচড়ে যায়? তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েই বা কার না মনে সন্দেহ হয়। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সবচেয়ে বেশী সন্দেহ হতো তাদের ইংরাজি নামের বানান জ্ঞান দেখে 'গাবতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন তথ্যসংগ্রহকারী যার নাম উল্যেখ না করে পারলাম না' তিনি হলেন সালমা মরিয়ম তিনি একজন মহিলা ভোটারের নাম বাংলায় লিখেছেন "খাদিজা" কিন্তু ইংরাজিতে লিখেছেন "Chidaga" পাঠক আপনিই বলুন এটা কি আদৌ "খাদিজা" নামের শুদ্ধ বানান? বানানটাকি "Khadija/Khadiza" এমন হওয়াই উচিৎ ছিল না? আর একজন তথ্যসংগ্রহকারী ছিলেন বাগবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে তার নাম ছিল আলতাফ উদ্দিন তিনিও একই ভাবে একটি কমন এবং অতি সাধারন নাম "জুয়েল"কে "Jewel" না লেখে লেখেছেন "Guial" একজন শিক্ষিত মানুষের পক্ষে অবলীলায় এরকম ভুল কিভাবে সম্ভব! এ বানানে তারা "খাদিজা" বা "জুয়েল" কি ভাবে উচ্চারণ করবেন বোধগম্য হয়নি আজও। শুধু ইংরাজি নামই নয় তিনি মজিদ প্রামানীক নামের একজন ভোটারের নাম বিকৃত করে বানিয়ে দিয়েছেন "মজিদ করম আলী", পুনঃবার তার নাম জিজ্ঞাসা করে তা সংশোধন করি। জনাবা সালমা মরিয়ম বা জনাব আলতাফ উদ্দিন এদের কারওই বাহ্যিক চাকচিক্যের কমতি ছিলনা একজন আসতেন দামী শাড়ী এবং পর্যাপ্ত গহনা পরে আর একজন আসতেন জিন্স প্যান্ট কোট হাতে ব্রেসলেট গলায় চেইন দিয়ে। আসলে তাঁরা রঙিন মলাট যুক্ত সুন্দর কিন্তু পাতা ছেঁড়া ধ্বংস প্রাপ্ত বই, যে বই এর দ্বারা শুধু আলমারী বা শেলফের সৌন্দর্য বাড়ে বৈকি জ্ঞান অর্জনের মত মহৎ কাজ হয় না। যে শিকের নিজের জ্ঞানের স্বল্পতা আছে সে কিভাবে অন্যজনকে জ্ঞানে সমৃদ্ধ করবে তা অবশ্যই চিন্তার বিষয় নয়কি? অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে এই প্রকারের শিক্ষকের প্রায় ৬০ ভাগই প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যে বিদ্যালয় গুলোতে জ্ঞানের প্রথম পাঠ নেয় আমাদের দেশের ভবিশ্ব্যত প্রজন্ম। আমাদের সবারই জানা যে ভিত্তি যদি মজবুত না হয় তাহলে কোন কিছুই স্থায়ী হয়না' কিন্তু দেশের ভবিশ্ব্যত ভিত্তি যদি এই সকল অন্তঃসার শূণ্য শিক্ষকের হাতে রচিত হয় যাদের কাছে কোন বিষয়ে জানতে চাওয়া বা কোন বিষয়ে কৌতুহল নিবারনের জন্য প্রশ্ন করা চরম বেয়াদবি এবং শাস্তি যোগ্য অপরাধ কারণ বিষয়টি হয়তো তার জ্ঞান সীমার বাইরে। তবে দেশের পরবর্তী অবস্থা যে কি হবে তা সহজেই অনুমেয়। এ সকল নামধারী শিক্ষক গণ যে সঠিক পথে নিয়োগ পাননি তা মানুষ মাত্রই বুঝতে পারবে। কোন কোন শিক্ষক আবার এদের চেয়ে এক কাঠি উপরে তাঁরা তথ্যসংগ্রহে নিজেরা ভোটারদের বাড়ী বাড়ী যাননি পাঠিয়েছেন তাদের অনুচরদের অর্থাৎ কেউ পাঠিয়েছেন তাদের ছোট ভাই বা বোন আবার কেউ পাঠিয়েছেন তাদের অধীনস্ত ছাত্রছাত্রীদের' এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কাজে। এ বিষয়টা আমরা বুঝতে পারলাম কয়েকটি ঘটনার পর এবার যারা ভোটার হয়েছেন তারা জানেন ভোটার ফর্মের পিছনে নাম স্বারের অংশে সই বা স্বার দিতে হতো স্ব স্ব ভোটারকে আবার সেই স্বার দিতে হতো ছবি তোলার সময়; আমাদের নির্দেশনা দেয়া ছিল যে ভোটার ফর্মের সই বা স্বাক্ষর এবং স্বাক্ষরের ছবি এক রকম হতে হবে। কিন্তু একজন ভোটারের ফর্মের সই এবং ছবি তোলার জন্য দেয়া সই এক না হওয়ায় তাকে প্রশ্ন করলাম যে "এই সই আপনার?" সে নির্দ্বিধায় উত্তর দিল "না, আমি বাসায় ছিলাম না তাই আমার ছোট ভাই সই দিয়ে দিছে", ফর্ম উল্টে দেখলাম তথ্যসংগ্রহকারী একজন মহিলা, এবার তাকে বললাম "আপনার সই আপনার ছোট ভাই দিল আর ঐ আপা তাকে মানা করলেননা!" তার প্রতিউত্তর "কই কোন আপা তো আমাদের বাসায় আসে নাই!" বাসায় ফিরে শুনছি একজন লোক এসে ভোটার ফর্ম পুরণ করে নিয়ে গেছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল যে সত্যিই ম্যাডাম না গিয়ে তার ভাইকে তার কাজে পাঠিয়েছিলেন তার ব্যক্তিগত ব্যস্ততার জন্য। পরে ফর্মের সই কেটে নতুন করে আবার তার সই নিয়ে তার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয়।
এমনও অনেক ফর্ম পেতাম যেখানে ভোটার মূর্খ হলেও ফর্মে ঠিকই তার সই থাকতো, ছবি তোলার জন্য যখন আবার তাকে সই করতে বলতাম তখন তারা বলতো যে তারা লেখা পড়া জানেনা। আশ্চর্য হয়ে যখন জিজ্ঞাসা করতাম "তাহলে ফর্মে সই কিভাবে দিলেন!" অধীকাংশের বক্তব্য ছিল "এই সই আমার না আপনারা যাদের পাঠাইছেন (তথ্যসংগ্রহকারী )তারা নিজেরাই ফর্মে আমার নাম লেখে দিছে, আমি কিছুই করি নাই"। আবার এমনও অনেক ফর্ম পেতাম যেখানে পেশার কোন উল্যেখই থাকতো না। আবার যদিও বা থাকতো' তা থাকতো ভুল। ফর্মে পেশার অংশে খুব অল্প পেশার নাম ছিল টিক চিহ্ন দেয়ার জন্য। যার মধ্যে ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক,গৃহিনী, শ্রমিক, ইত্যাদি ছিল অন্যান্য নামে একটি অংশ ছিল পেশা সুনির্দিষ্ট ভাবে লেখে দেয়ার জন্য কিন্তু অধিকাংশ তথ্যসংগ্রহকারীই পেশা সুনির্দিষ্ট ভাবে না লেখে নিম্ন পেশার যেমন, মুচি, নাপিত, ধোপা,রিক্সাওয়ালা,ভিক্ষুক এদের সবাইকে সময় বাঁচানোর জন্য গণহারে শ্রমিক বানিয়েছে শ্রমিক অংশে টিক দিয়ে। ভোটার কে তার পেশার কথা জিজ্ঞাসা করলেই পেশার অমিল গুলো ধরা পড়তো। তখন ড্রপডাউন লিস্ট থেকে তার সঠিক পেশা সিলেক্ট করে তার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতাম। এক ফর্মেতো একাধীক পেশা, সরকারীচাকুরী/বেসরকারীচাকুরী/গৃহিনী সবগুলোতে টিক পেয়েছিলাম যদিও তিনি ছিলেন একজন পুরুষ। পরে অবশ্য জেনেছিলাম তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। আসল ব্যপার হল অধীকাংশ তথ্যসংগ্রহকারী স্বল্প সময়ে বেশী ফর্ম পুরোনের ল্েয নাম ও ঠিকানা ছাড়া আর কোন অংশই মনে হয়না ভোটারের সামনে পুরণ করেছে, তারা হয়তো ফর্মের বাকী অংশ পরে বাড়ীতে সুবিধাজনক সময়ে বসে নিজের ইচ্ছামত তথ্যদিয়ে পুরণকরেছে। তা না হলে, জন্মতারিখেও এত পার্থক্য হয় কিভাবে? কোন কোন সময়তো জন্মতারিখের ঘর ফাঁকাও থাকতো, প্রায়ই দেখা যেত যে ভোটারের বয়স হয়তো ২৫/২৬ কিন্তু ফর্মে তার বয়স ৩৫/৪০, আবার কেউ কেউতো এই বিষয়ে আরও এগিয়ে ছিলেন তারা ২৩ বছরের তরুনীর জন্মসালকেও ১৯২৩ বানিয়ে দিতেন। তাদের এসকল ভুলই বলে দেয় যে তারা তাদের কাজের প্রতি কত দ্বায়ীত্বশীল ছিলেন! তাদের এই সকল ভুল সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের খোঁজে গেলে অধীকাংশ সময়ই দেখা যেতো যে তারা কেন্দ্রে আসেননি অর্থাৎ অনুপস্থিত। তারা হয়তো আগেই অনুমান করতেন যে তারা তাদের ভুল গুলোর ব্যপারে প্রশ্নের সম্মুখিন হতে পারেন' তাই নিরাপদ থাকার জন্যই হয়তো উক্ত দিনে কেন্দ্রে অনুপস্থিত থাকতেন। এবার আসা যাক এ কাজের সবচেয়ে বিরক্তিকর অংশ ভোটারের সনাক্তকরণ চিহ্নের বিষয়ে। অনেক তথ্যসংগ্রহকারী মনে করেছেন যে ফর্মের এ অংশটি নাম ঠিকানার মতোই অবশ্যপুরণীয় একটি অংশ তাই যে ভাবেই হোক এটাকে পুরণকরেছে। সাধারনত সনাক্তকারী চিহ্ন বলতে আমরা কারও শরীরে দৃশ্যমান স্থায়ী চিহ্নকেই বুঝে থাকি। একজন বৃদ্ধ পরুষ মানুষের মুখে সাদা দাড়ী থাকা অত্যন্ত সাধারন একটা ব্যাপার কিন্তু, সেই সাদা দাড়ী যে কিভাবে তার সনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য হয় তা বোধগম্য নয়। কারণ, দাড়ী কোন স্থায়ী চিহ্ন নয় দাড়ী কেটে ফেললে বা শেভ করলেই তা আর থাকছেনা। আরও আশ্চর্যের বিষয় এইযে একজন তথ্যসংগ্রহকারী একজন ভোটারের একচোঁখ নষ্ট তা তার সনাক্তকারী বৈশিষ্টে উল্যেখ না করে লিখেছেন থুতনিতে কালো তিল আছে। কেউ কেউ অবাঞ্ছিত সনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য যেমন, কুঁচকিতে তিল বা মহিলাদের বুকে বা পেটে তিল ইত্যাদি উল্যেখ করেছেন। সনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য হিসাবে যা ভোটার এবং আমাদের উভয়ের জন্য ছিল সমান লজ্জাস্কর ব্যাপার। আমার মনে হয় বাংলাদেশে এমন লোক খুব কমই আছে যার শরীরে কোন টিকার দাগ নাই। কিন্তু এমন ফর্ম অনেক পেয়েছি যেখানে সনাক্তকারী চিহ্ন হলো "হাতে টিকার দাগ আছে"। এরকম সনাক্তকারী চিহ্ন শুধু হাস্যকরই নয় চরম বিরক্তিকরও বটে। এরকম নুন্যতম সাধারন জ্ঞানহীন তথ্যসংগ্রহকারী কমবেশী সব কেন্দ্রেই ছিল যাদের হাতের লেখা প্রায় দলীল লেখকদের মতো এবং পাঠোদ্ধারে সময় এবং অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন হতো। তবে,সবাই অবশ্য একরকম নয় যারা যথাযথ, সুন্দর এবং নির্ভুল ভাবে ফর্ম গুলো পুরণকরেছে কিন্তু, তাদের সংখ্যা ছিল অতি নগণ্য। শিকরা হলেন মানুষ গড়ার কারিগর। কেবল মাত্র সুশিায় এবং সঠিক শিায় শিতি শিকরাই পারেন দেশের জন্য একটি সুন্দর এবং সচেতন ভবিষ্যত প্রজন্ম উপহার দিতে। কারণ, আজকের এই কমলমতি শিশুই হলো আগামীদিনে আমাদের দেশের কান্ডারী তাই, এই কান্ডারীদের কারিগরদের হতে হবে জ্ঞানে গুণে বর্তমান বিশ্বপোযোগী। কিন্তু আমাদের রাজধানী ঢাকার মিরপুর অঞ্চলের শিকদের যে শিাগত দুরবস্থা! দেশের অন্য অঞ্চলের কথা না হয় বাদই দিলাম। সাধারন সুত্র বলে, "ভাল কারিগর ভাল জিনিস"। তবে, এ ধরনের শিক তথা করিগরের তৈরী জিনিস অর্থাৎ শিার্থীদের মান যে কি হবে! তা বলাই বাহুল্য। সরকার বর্তমানে শিক নিয়োগের েেত্র একটি পরীা ব্যাবস্থা প্রণয়ন করেছে যারা সে পরীায় উত্তীর্ণ হবে শুধু তারাই শিা প্রতিষ্ঠান গুলোতে নিয়োগ পাবে। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ পরীার মান নিয়ন্ত্রনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপকে সর্বদা আরও সচেতন থাকা প্রয়োজন। আর এই পদ্ধতির আগে যারা শিা প্রতিষ্ঠান গুলোতে নিয়োগ পেয়েছেন’ আমার মনে হয় কর্তৃপরে উচিৎ তাদের সকলের যোগ্যতার আর এক বার বিচার করা। না হলে এই চরম গুরুত্বপূর্ণ েেত্র অবহেলার জন্য পরবর্তী প্রজন্ম তথা দেশকে চরম মুল্য দিতে হবে। কারণ সামনে অপো করছে তথ্যপ্রযুক্তি এবং প্রতিযোগীতা পূর্ণ কঠিন এক নির্মম পৃথিবী । এই প্রতিযোগীতায় সম্মান ও গৌরবের সাথে সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে শিক এবং শিার মান উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই।
সুপ্রিয় পাঠক, আমি পেশাদার লেখক নই তাই, লেখায় ভুলত্রুটি থাকা অস্বাভাবিক নয়, লেখার ভুলত্রুটি গুলো মা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন এই প্রত্যাশা করছি।
পরিশেষে সবার জন্য রইল অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:০২
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×