.প্রাইমারী স্কুল লাইফে খুব মজা করতাম ওকে নিয়ে । কারনটা কিছু না । ওর খর্বাকৃতী । হাই স্কুলে উঠবার পর থেকে এই প্রবনতাটা অবশ্য আস্তে আস্তে দুর করে ফেলি । খারাপই লাগতো খেলার সময় ওর অসহায় মুখের দিকে চেয়ে । কি করবে ও ? প্রকৃতিই ওকে তেমন বাড়তে দিচ্ছিলো না । ফলাফল । সবসময়ই মনখারাপ করা চেহারা আর আমাদের দিকে আফসোস মার্কা দৃষ্টি তে তাকিয়ে থাকা । মাঝে মাঝে ক্ষেদ নিয়ে বলত একদিন আমিও দেখিয়ে দিবো সবাইকে ।
অবিশ্বাস্য ভাবে দেখিয়ে দিল এস এস সি র রেজাল্টে ঈর্ষনীয় নম্বর পেয়ে ।স্টার মার্কস । তবে আমাদের মত অল্প স্বল্প না রীতিমত স্ট্যান্ড করার মত নম্বর । আমরা তো ভীষন অবাক । এই প্রথম ওর আত্মবিশ্বাসের ফলাফল দেখে সবাই মিলে বাহবা দিলাম ।
সে যাক । কলেজ লাইফে প্রথম বিচ্ছন্ন হলাম আমরা । ও চলে গেল ঢাকা কলেজে আর আমি বিজ্ঞান কলেজে । তবে প্রায়ই একজন আরেকজনের কলেজে মাঝে মাঝে হিজরত করতে ভুলতাম না ।
ইন্টারের টেস্ট পরীক্ষার আগ দিয়ে দীর্ঘ্যদিনের রোগে ভুগে মারা যান আমার দাদী । এর পর পরই আকস্মিক ভাবে মারা যান আমার বাবা । দুই দুইটা মৃত্যু আমার লেখাপড়ার মাঝে ভাল ধরনের একটা ধাক্কা দিয়ে যায় । এ সময় ও সহ আরও বন্ধুরা সাহস এবং শান্তনা সহযোগে নানান নোটস দিয়ে প্রচন্ড উপকার করে ।
ফলাফল বের হলো । আবারও একই রকম ইতিহাস রচনা করলো বন্ধুটি । এবার পুরাতন স্কুলের সবাই মিলে ওর বাসায় গিয়ে সেলিব্রেট করলাম । আর তখনই ধরতে পারলাম বন্ধুটির দুঃখের কারন । ওর বাবা মা দুজনই অস্বাভাবিক খাটো । যার ফলস্রুতি আমাদের বন্ধুও বয়ে বেরাচ্ছে ।
এরপরের ঘটনা খুব সহজ । ও ভর্তি হলো বুয়েটে । যন্ত্রপ্রকৌশলে । তবে মনে হলো ওর ঠিক পছন্দ হয়নি । এনিওয়ে সময় কাটছে । নিজেও ব্যস্ত হয়ে পরলাম । অর্থনৈতিক কারনে পড়াশুনার পাশাপাশি ছোটখাট ব্যবসায়ে জড়ালাম । বেশ কয়েকটা বছর ছাত্ররাজনীতিতেও রাখলাম নিজেকে ব্যস্ত ।পুর্ব পরিচিত মহল আস্তে আস্তে অচেনা হতে লাগলো।
এরই মাঝে হঠাৎ করেই একদিন শুনি ও নাকি সুইডেনে চলে গেছে । স্কলারশিপ নিয়ে ।একটু কষ্ট লেগেছিল যদিও এভাবে না বলে চলে যাওয়ায়, তারপরও ভেবে খুশী হলাম যাক ওর স্বপ্নগুলি তাহলে এভাবেই পুরণ হচ্ছে একের পর এক ।
লম্বা গ্যাপ । নেই । একটুও যোগাযোগ নেই । দ্বায়ী আমি এবং আমার পরিবর্তিত টি এন্ড টি নাম্বর । কেউই আমাকে পায় না । আর তখন ফেসবুক দুরের কথা ইন্টার্নেটও তেমন একটা চালু হয়নি । মাঝে মাঝে পুরোনো বন্ধুদের সাথে স্কুলের রিইউনিয়নে দেখা হলেই জানতে চাই ও সহ আরও বন্ধুদের কথা । তেমন কেউ বলতে পারে না ।
ফেসবুক চালুর পর খুঁজতাম প্রায়ই । স্কুলের নাম, কলেজের নাম, ব্যাচ কত কি সার্চ অপশন। নাহ । নেই । কোথাও নেই কোন সুত্র । হতাশ হয়ে একরকম হাল ছেড়েই দিয়েছিলাম ।
কদিন আগে ফেসবুক মারফত জানতে পারলাম স্কুলের এক্স স্টুডেন্টদের জন্য তৈরি করা ওয়েব সাইটার মানউন্নয়ন কাজ শেষ । দেখতে গেলাম । ব্যাচ সার্চ দিতেই চমকে উঠলাম । আরে এ কে । আমাদের নাটা দেখি
বন্ধু আমার জয় করেছে সবকিছু । নিজে না ছুঁতে পারলেও ওর কোম্পানীর তৈরি প্লেন আকাশ স্পর্শ করছে প্রতিটি সেকেন্ডে সমগ্র বিশ্বব্যাপি । ওর সাথে কথা হবে হয়তো সহসাই । প্ল্যান করে রেখেছি প্রথমেই জিজ্ঞাসা করবোঃ
" বন্ধু তোর স্বপ্নগুলি কি এখন আকাশকে ছাড়াতে পেরেছে ?"
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১২:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




