আমার প্রিয় পোস্ট

আমি ভালবাসি আশ্চর্য মেঘদল, ঐ উচুতে...ঐ উচুতে...বিশ্ময়কর মেঘেরা...

আমার নিরন্তর মুসলমান হয়ে ওঠা

২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১১:৫৬

                       

আমি একজন খাঁটি মুসলমান। আমি খুব ধীরে ধীরে একজন খাঁটি মুসলিমে পরিনত হয়েছি। জন্মের সময় আমি কি মুসলমান ছিলাম? সেই স্মৃতি আমার মনে নেই। কিন্তু আমি জানি জন্মের পরপরই আমাকে মুসলমান হয়ে উঠতে হয়েছিলো আমার বাবার কন্ঠে আজানের ধ্বনি শুনে। চোখ বুজলেই আমি কল্পনায় ভাসতে থাকি, দেখতে পাই একরাশ হাসিমুখ। শুনতে পাই চাচা-মামা-খালা-ফুপ্পিদের উল্লোসিত কন্ঠধ্বনি। বাবার কন্ঠে আজানও শুনতে পাই।

"আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার
আশহাদুআল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহ........."


সাথে সাথে আমি মুসলমান হয়ে উঠি। জন্মেই আমার কোন ধর্ম ছিলোনা। আমি অপবিত্র ছিলাম, অচ্ছুত ছিলাম, আমি নষ্ট ছিলাম, ভ্রষ্ট ছিলাম, আমি একজন মানুষ ছিলাম। তাই আজানের ধ্বনি আমাকে পবিত্রতা দিলো, স্নিগ্ধতা দিলো, মুগ্ধতা দিলো। আমাকে মুসলমান করে তুললো।

এটা ভেবে আমি ঈষত ভীত হই যে, আমার জন্মের সময় কোন শাখ বা উলুধ্বনি বেজে উঠেনি। তবে হয়তো আমি হয়ে উঠতাম একজন কট্টর হিন্দু। ভাগ্যিস!!! ধন্য পিতার কন্ঠের পবিত্র ধ্বনিমালা। আমি তোমাদের কাছে অশেষ কৃতজ্ঞ। তোমরা আমাকে মুসলমান করে তুলেছো বলে।

ক্রমে ক্রমে আমি মুসলমান হয়ে উঠতে থাকি। আমাকে মুসলমান করে গড়ে তুলতে সাহায্য করা হয়। আমার কানে কানে ফিসফিস করে বলা হয় আমি মুসলমান, মস্তিষ্কের আনাচে কানাচে, দেহের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জোরপূর্বক ঢুকিয়ে দেয়া হয় মুসলমানিত্ব। মুসলমান পরিবার, মুসলমান সমাজ, মুসলমান আত্মীয়, মুসলমান বন্ধু, মুসলমান টমি, মুসলমান খরগোশ, মুসলমান থালাবাটি, মুসলমান ভাত-রুটী-সবজী-মাংস সবই আমাকে মুসলমান করে তুলে। আমার কাছে মুসলমানিত্ব হয়ে উঠে এক ও অনন্য।

জীবনের প্রথম মুসলমানিত্ব আমার ভেতর অনুভূত হয়, যখন দাড়ীওয়ালা এক লোকের কাছে আমাকে নিয়ে গিয়ে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় আমার হুজুর বলে। আমার শিশুমনে সেই দাড়ীটুপি অনেকদিন ভর করে ছিলো। অনেককাল আমি কোন দাড়ীটুপি দেখলেই হুজুর বলে ভুল করতাম। আমাকের আরবী শিক্ষা দেবেন। অনেককাল রাস্তাঘাটট্রামবাসরিকসাফুটপাতনগরবন্দরগ্রামমাঠঘাটপ্রান্তরে কোন দাড়ীটুপি দেখলেই আমার তাদের সবাইকেই হুজুর বলে ভ্রম হতো। আমি তাদের হুজুর বলেই ডাকি। তাদের দেখলেই আমার নিজেকে চরম ভাবে মুসলমান ভাবতে ইচ্ছে হয়। তাদের চালচলন, কথাবার্তা, জ্ঞানগরিমা, প্রাজ্ঞতা-বিজ্ঞত দেখতে দেখতে আমার নিজেকে বারবার মুসলমান ভাবতে ইচ্ছে হয়। আমি মুসলমান হয়ে উঠি।

আমাকে উতকৃষ্ট মুসলমান করার লক্ষে হুজুরের কাছে আমাকে আরবী পড়তে পাঠানো হলো। আমি একটি ভাষার কোন কিছু না জেনেই কিছু ছড়ার মতো পংক্তি ভুতের ন্যায় মুখস্ত করতে লাগলাম। এ কাজে আমি কখনোই কোন আগ্রহ পাইনি আমার মনের ভেতর থেকে। আমার অন্তর বিদ্রোহ করতো, সমগ্র অস্তিত্ব প্রতিবাদী হয়ে উঠতে চাইতো। কিন্তু মুসলমানিত্ব হারানোর ভয়ে আমি কিছু্ই বলতাম না। আমাকে খাটি মুসলমান হয়ে উঠতে হবে। না হলে সমাজরাষ্ট্রসংসারধর্ম সব অবলীলায় ধ্বসে পড়তে পারে। আমি সূরা নামক কবিতার পংক্তিমালা অন্ধের মতো আরবীতে মুখস্ত করে যেতাম মাতৃভাষায় তার অর্থ-ব্যাখ্যা কিছু না জেনেই।
"আলিফ যবর আ, বে যবর বা, তে যবর তা, আলিফ পেশ উ, বে পেশ বু, তে পেশ তু" এই সকলে আমি কখনোই আগ্রহ পাইনি। এসব থেকে নজরুলের "আমি হবো সকাল বেলার পাখি" অথবা "ভোর হলো দোর খোল খুকুমনি ওঠোরে" অথবা রবিঠাকুরের "তালগাছ একপায়ে দাড়িয়ে, সবগাছ ছাড়িয়ে, উকি মারে আকাশে" অথবা "বীরপুরুষ" কবিতার পংক্তিমালা আমাকে বেশী কাছে টানতো। আমার কাছে আলিফ-বা-তা-সা কেন জানি অর্থহীন লাগতো। আরবীতে আমি কখনোই স্বাচ্ছন্দ বোধ করিনি। কিন্তু মুসলমান হবার লোভে আমি ভুতের মতো তা আউড়ে যেতাম নিরলস।

কিছুদিন পরই কায়দা, সিফারা, আমপারা নামক পুলসিরাত পেরিয়ে আমি উপস্হিত হলাম কোরআন নামক এক মহা পুলসিরাতের মুখোমুখি। আমার বেশ উত্তেজনা ছিলো। বাবার সাথে গিয়ে নতুন কোরআন শরীফ কিনে আনলাম। কিন্তু কিছুদিন পর আমার আগ্রহ উবে গেলো। আমার মনে হতে লাগলো, কি লাভ এইসব পড়ে? শুধুই বেহেস্তে যাবার জন্য? কোরআনের ঐসব বানী থেকে ঠাকুরমার ঝুলি, পন্চতন্ত্রের গল্প, ঈশপের গল্প অথবা চাচা চৌধুরী, টিনটিনের কমিকসই আমাকে বেশী কাছে টানতো। ওগুলো আমার রোমকূপ দিয়ে হাড়ের মজ্জায় গিয়ে পৌছতো। কোরআনের মহান বানী আমি এককান দিয়ে ঢুকিয়ে অন্য কান দিয়ে বের করে দিতাম। আমি আরবীতে কোরআন পড়ার কোন অর্থ খুজে পেতাম না। আজও পাইনা। "ফাবিয়্যাইয়ে আলা ওয়া রাব্বিকুমা তু কায্যিবান" থেকে "অত:পর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন অনুগ্রহকে অশ্বীকার করবে?" আমার কাছে বেশী আপন মনে হয়। তাই অনেকদিন যাবত আমি আরবীতে কোরআন পড়িনা। আমি আমার মাতৃভাষায় কোরআন পাঠ করি। মাতৃভাষাতেই আমি মুসলমান হয়ে উঠতে থাকি।

বেশ কিছুদিন আগে বাংলা কোরআন পাঠকালে বাবা এসে বললেন, বাংলায় কোরআন পাঠে কোন ফজীলত নেই। আরবীতে কোরআন পাঠে যে সওয়াব মেলে তা অন্য কোন ভাষাতে মেলেনা। আমি কোন তর্কে যাইনি, শুধু বলেছি, “আরবী আমি বুঝিনা, তাই বাংলাতে পড়ি। আমি যা বুঝিনা তা পড়িনা।“ বাবা কোন কিছু বলেননি অত:পর। নিশ্চুপ চলে গিয়েছিলেন। বেশ আগে মনে পড়ে নানাবাড়ীতে কোরআন পাঠ নিয়ে খুব উত্তেজনা বিরাজিত হচ্ছিলো। আমার এক কাজিন তিনবার না চারবার কোরআন খতম দিয়েছে। তাকে নিয়ে বেশ হুলুস্তুল। তার মুখ দেখলেই যেন সবাই জান্নাতবাসী হবে এমন অবস্হা। আমি দিয়েছি সর্বসাকুল্যে একবার। তাও মহা ঝুটঝামেলা করে। কোরআন খতম দিতে গিয়ে আমি বিদ্রোহ করেছিলাম। পরে পরিবারের সবাই মিলে জোর করে আমাকে রাজি করিয়েছিলো। আমার মুখ তাই খুব একটা পবিত্র নয়। কোরআন মাত্র একবার খতম দিয়েছি, এ লজ্জায় আমার মায়ের পায়ের নীচে কোন মাটি নেই। শুধুই থৈ থৈ জল। তিনি লজ্জায় ডুবে যান। আমার কাজিনের বেশ গর্ব। তার বুকের ছাতি ৬ ইন্চি চওড়া। খালার মুখেও অন্যরকম জান্নাতী আভা। আমি কাচুমাচু অবস্হায় ঘুরে বেড়াই। তখন আমি একবার কোরআন খতম দিয়ে চর্চার অভাবে তা আবার মোটামোটি ভুলতে বসেছি। মামী তা শুনে চমকে উঠলেন। আমার মাকে রীতিমতো উপদেশ দিলেন এই বলে যে, আরবী শিখে কেউ যদি ভুলে যায় সে সরাসরি দোজখ বাসী হয়। শুনে আমার চমকে উঠার পালা। আমার বালক মন দোজখের ভয়ে কুকড়ে গিয়েছিলো। আমি প্রকটভাবে মুসলমান হয়ে উঠেছিলাম। কিন্তু তারপরও কেন জানি আরবীতে কোরআন পড়ার কোন আগ্রহ আমি বোধ করিনি। আরবী থেকে মাতৃভাষা বাংলাই আমার প্রানের ভাষা।

মসজিদ আমাকে মুসলমান করে তুলে নিদারুন ভাবে। আমাদের বাসার উল্টো দিকেই ছিলো পাড়ার মসজিদ। রাতদিনসকালবিকালদুপুর সন্ধ্যা আমি মুসলমান হয়ে উঠছিলাম এই মসজিদের কারনে। আমার এক দাদা, তাবলীগের মহান আমীর, আমাকে বলেন, “যে ব্যাক্তি সবার আগে জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যায়, তার সওয়াব সবচেয়ে বেশী।“ আমি বেশী সওয়াবের আশায় সবার আগে মসজিদে যাতায়াত শুরু করলাম। আর বারবার মুসলমান হয়ে উঠতে লাগলাম।

মসজিদের ছিলেন দুইজন মাওলানা, আমার ভাষ্যে হুজুর। একজন ইমাম, অন্যজন মুয়াজ্জিন। আমরা ইমামকে ডাকতাম বড়ো হুজুর, মুয়াজ্জিনকে ডাকতাম ছোটহুজুর বলে। সেই ছোটহুজুর মসজিদ কম্পাউন্ডের ভেতরেই একটি রুমে থাকতেন। আমার তার সাথে বেশ ভাব হয়ে গেলো। নামাজের বেশ আগে মসজিদে গেলে তার সাথে বেশ আড্ডা জমে উঠতো। তিনি বেশ মজার মজার গল্প করতেন। এভাবে বেশ কিছুদিন চললো। মাঝে মাঝেই তার রুমে গেলে পাড়ার আরেকটি ছেলেকে পাওয়া যেত। তাদের সাথে আড্ডা দিতে বেশ ভালই লাগতো। একদিন মুয়াজ্জিন সাহেব আমাকে জোহরের পরে তার রুমে আসতে বললেন। নামাজ পড়ে আমি তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। মুসল্লিরা চলে যাবার পর তিনি আসলেন। আমাকে নিয়ে তার রুমে বসালেন। তাকে বেশ অস্হির অস্হির লাগছিলো। আমি তার বিছানায় বসা ছিলাম। দরজা লাগানো। জানালায় পর্দা। তিনি আমার পাশে এসে বসলেন। টুকটাক কথার ফাকে ফাকে তিনি তার বা হাতখানা আমার উরুতে ঘসতে লাগলেন। প্রথমে আমি পাত্তা দিলাম না। আসলে কিছুই বুঝতে পারিনি আমি তার হাত ঘষাঘষির তাৎপর্য। তিনি এই-সেই নানা কথা বলতে বলতে আমার পেন্টের বেল্ট নিয়ে টানাটানি শুরু করে দিলেন। আমি বুঝতে পারলাম তিনি কি চাচ্ছেন। আমি লাফ দিয়ে উঠে, কিছু না বলেই, দরজা খুলে দৌড়ে বাসায় চলে এলাম। আমার মন ঘিনঘিন করে উঠলো। এরপর আমি আর কখনো ঐ মসজিদে নামাজে যাইনি। আমার পাড়াতো বন্ধুবান্ধবেরা জিজ্ঞেস করতো আমার কি হয়েছে? আমি নিরুত্তর থাকতাম। আমি ঐ মসজিদে নামাজে যেতাম না। প্রতিওয়াক্ত জামাতের সময় আমি বারবার মুসলমান হয়ে উঠতাম।

মসজিদের ইমামের সাথেও আমার বেশ ভাব ছিলো। তার সাথে বেশী কথা হতো নামাজের পর। তিনি মসজিদের বাইরে দাড়িয়ে আমাদের মতো ছেলেপেলেদের নিয়ে ইসলামের নানা দিক নিয়ে কিছু বলার অপচেষ্টা করতেন। নামেই তিনি ইসলাম ইসলাম করতেন। আসলে ইসলামের নামে জিহাদকে কেন্দ্র করেই তার আলোচনা চলতো। অবোধ আমরা মুগ্ধ হয়ে তার কথা শুনতাম। বুকে জিহাদী জোশ পয়দা হতো আমাদের। কথায় কথায় তিনি মেয়েদের গোষ্ঠী উদ্ধার করতেন। যেন মেয়েরাই সকল নষ্টের গোড়া। জুমআর খোতবার বেশীর ভাগ অংশ জুড়েই থাকতো দেশের নারীদের দুর্দশার কথা। পর্দা না করতে করতে আমাদের দেশের নারীদের গন্তব্য কোথায় এ নিয়ে বড়ো হুজুরের চিন্তার অবদি ছিলোনা। "নারীর জন্য ঘর, পুরুষের জন্য বাহির"; "স্বামীর পদতলে স্ত্রীর জান্নাত"; এইসব কথায় তার বক্তৃতা শুধু নারীদের প্রতি বিদ্ধেষই ছড়াতো। একবার খোতবায় আওয়ামী বিরোধী প্রপাগান্ডা চালানোয় বড়োহুজুরকে বেশ বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছিলো। প্রতিবার জুমআর খোতবার সময় আমার নিজেকে প্রচন্ডরকম মুলমান ভাবতে ইচ্ছে করতো। আমি মুসলমান হয়ে উঠতাম।

বড়ো হুজুরের সাথে আড্ডা দিতে দাড়ালেই আমি বেশ মনোযোগ দিয়ে তাকে লক্ষ্য করতাম। রাস্তা দিয়ে রিকসাতে কোন মেয়ে গেলেই তিনি আমাদের সাথে কথা বলতে বলতেই আড়চোখে তাদের দিকে তাকাতেন। তখন তার চোখে আমি কোন ঘৃনা বা ক্ষোভ দেখতে পাইনি। বরং তার চোখে খেলা করতো এক অদ্ভুত লালসা। এসব দেখতে দেখতে আমি বারবার মুসলমান হয়ে উঠতাম, আমি মসজিদে যেতাম না। আজও যাইনা।

মসজিদে পাড়ার প্রভাবশালীরা বেশ হম্বিতম্বি করতেন। মসজিদকে আমি আল্লাহর ঘর হিসেবেই জানি। কিন্তু তাদের প্রতিপত্তিতে মসজিদকে আমার আল্লাহর ঘর বলে কখনোই মনে হয়নি। ঐ সকল পার্থিব ক্ষমতাধরদের অশ্লীল গালিগালাজের আখড়া বলে মনে হয়েছে সবসময়। প্রায় প্রতিদিন কেউ না মসজিদে এসে গন্ডগোল করতো। বেশী বিতন্ডা হতো জুমআ’র দিনে। কমিটির মধ্যে বেশ গন্ডগোল ছিলো। নানা মুনীর নানা মত। এক প্রভাবশালীতো প্রায় শুক্রবারেই গালির বন্যা ছোটাতেন। তিনি রাতেই মাতাল হয়ে যেতেন, তার মতো আরও অনেকেই রাতেই মাতাল হয়ে যেতেন। দিনে মসজিদে এসে সুফী সাজার অপচেষ্টা করতেন। মসজিদের ভেতর মাতালদের গালিগালাজ আমাকে মুসলমান করে তুলতো। গালিগুলো শ্রুতিকটু হলেও তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে মুসলমান করে তুলেছিলো।

আমাকে সবচেয়ে বেশী মুসলমান হতে যিনি সাহায্য করেছেন তিনি আমার এক দাদা, আমার মেঝ ফুপির শ্বশুর। তিনি তাবলীগের আমীর। নানা জনের তিনি শ্রদ্ধার পাত্র। কিন্তু আমার কাছে তিনি ভন্ড ব্যতীত কিছুই নন। কোন এক সন্ধ্যায় আমার বোনের (ভন্ডের নাতনী) সাথে আমি বসে টিভি দেখছিলাম তাদের বাসায়। ফুপি বাসায় নেই। ফুপাতো ভাইটি পাশের ঘরে পড়ছে। হঠাত দাদা (মহান ভন্ড) এসে হাজির হলেন। খুব ভদ্র ভাবে এসে হাদিসের নামে কি এক অশ্লীল ইন্গিত তিনি দিয়ে গেলেন। হাদিসের পুরো বক্তব্য আমার মাথায় ঢুকেনি। আমি আপ্রান চেষ্টা করছিলাম যেন তা আমার ভেতরে না ঢুকে। কিন্তু আমার কান আমার সাথে বিদ্রোহ করলো। তার ভাষ্য যতটুকু আমার ভেতরে ঢুকলো তাই যথেষ্ট। নিজেকে ধর্ষিত মনে হলো। ঐ সন্ধ্যায় আমি একটি হাদিস দ্বারা ধর্ষিত হয়েছিলাম। তার হাদিসের মূল বক্তব্য ছিলো এই, "কোন নারী-পুরুষ একসাথে কোন ঘরে থাকলে সেখানে এসে শয়তান হানা দেয়। নারী-পুরুষের সম্পর্ক যদি মা-ছেলেরও হয় তাতেও নাকি রেহাই নেই।" শয়তান এসে কি করে তা আর বলতে চাইনা। রুচীতে বাধছে। যাই হোক, হাদিস সম্পর্কে তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়েই আমাকে হতভম্ব করে তিনি চলে গেলেন। হতভম্ব আমি ফেলফেল করে আমার বোনের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে নিষ্ঠুরভাবে নিজেকে মুসলমান হিসেবে গন্য করলাম। আমি আবারো মুসলমান হয়ে উঠলাম। আমার মনে আছে, সেই রাতে মুসলমান হয়ে উঠতে উঠতে নিজের কান্নাটুকুকে আমি সামলাতে পারিনি। কোন আল্লাহ, খোদা, ঈশ্বর, ভগবান, গড, যীশু, মুহম্মদ আমার কান্না থামাতে পারেনি।

আমার এক দাদীও আমাকে মুসলমান করে তুলেন প্রতিনিয়ত। তিনি বেশ পহরেজগার, পর্দানশীন। আমার সামনেও তিনি বের হন না। পর্দার আড়াল থেকে কথা বলেন। তাকে আমি দেখতে পারিনা, শুধু কন্ঠ শুনি। কিন্তু তিনি প্রতি বছরই আমেরিকা-কানাডায় তার ছেলেদের কাছে বেড়াতে যান। ইমিগ্রেশনের যন্ত্রনা পুড়িয়ে তিনি দেশান্তরে বেড়াতে যান, কিন্তু পর্দার আড়ালে আমাকে মুখ দেখালেই তার ধর্ম লুটিয়ে পড়ে। তিনি আগপাশতলা কালো কাপড়ে নিজেকে ঢেকে চলাফেরা করেন। তাকে আমি দাদী ডাকিনা, ডাকি মহিলা ভন্ড। তিনিও আমাকে মুসলমান করতে বেশ সাহায্য করছেন। তিনি আলবত জান্নাতবাসিনী হবেন। তার মতো সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ যে তারা আমাকে মুসলমান হতে সাহায্য করছেন।

আমি জীবনে এমন অনেকবার মুসলমান হয়ে উঠেছি। আগামীতেও আমি লক্ষ-কোটি-শতবার এমন মুসলমান হয়ে উঠবো। আমাকে মুসলমান করে তোলা হবে। দেশকালরাজনীতিসমাজসংসারব্যক্তিবুদ্ধিজীবি সবাই আমাকে মুসলমান করে তুলতে সাহায্য করেছে, আগমীতেও করবে। ঘুম থেকে উঠে রাতে ঘুমানোর পুর্ব পর্যন্ত আমি প্রতিনিয়ত মুসলমান হচ্ছি। একজন মানুষকে জীবনের প্রতিমূহুর্তে মুসলমান হতে হয়। মুসলমানিত্ব আমার ভেতরে গলগল করে অবারিত ধারায় ঢুকতে থাকে। আমি বারবার মুসলমান হয়ে উঠতে থাকি। প্রতিনিয়ত-নিরন্তর-ক্লান্তিহীন.........



ছবির কৃতজ্ঞতা: দুরন্তের একটি ব্লগ (ভুলে গিয়েছি কোনটা)

 

 

  • ১৪৪ টি মন্তব্য
  • ৯৭৩বার পঠিত
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৩৭ জনের ভাল লেগেছে, ৫ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:০১
comment by: দূরন্ত বলেছেন: দূর ছবি কৃতজ্ঞতার কিছু নাই :) :)
ধন্যবাদ।
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:১১

লেখক বলেছেন: ঠিক আছে....আপনাকেও ধন্যবাদ

২. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:০১
comment by: কৌশিক বলেছেন: ক্লাসিকাল
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:১২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইজান

ব্লগও আমাকে মুসলমান করে তুলছে প্রতিনিয়ত। ওটা নিয়ে একটা দেবো দেখি

৩. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:১২
comment by: দূরন্ত বলেছেন: লেখাটা পড়লাম......খুব ভাল লাগলো........ বুঝাই যায়, অনেক সময় নিয়ে চিন্তাভাবনা করে লিখেছেন।
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:১৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

৪. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:১৭
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: অনবদ্য লেখনী। বরাবরের মতোই সুন্দর, সাবলীল, হৃদয়গ্রাহী।
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:১৯

লেখক বলেছেন: বরাবরের মতোই হৃদয়গ্রাহী মন্তব্য

ধন্যবাদ কালপুরুষদা

৫. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:১৭
comment by: যীশূ বলেছেন: ভালো...................
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:২০

লেখক বলেছেন: ধন্যবা যীশূদা

৬. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:২০
comment by: বহুরূপী মহাজন বলেছেন: আমার কখনো আরবি শেখার ঝামেলায় পড়তে হয় নাই, এখন মাঝে মাঝে বাংলা কোরআন পড়ি। কোন তাবলীগ - টাবলীগের সান্নিধ্যে পড়ি নাই, আরবিতে কোরআন খতম দেই নাই একবারও।

আমি তো তাইলে মুসলমান হইতো পারলাম না।

+
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:২৪

লেখক বলেছেন: আপনার তো দুনিয়া আখেরাত সব বর্বাদ হইয়া গেলো??? বর্বাদ লাইফ নিয়া বাইচা থাইকা আর কি হইবো?

আপনার জন্য বিলাইয়ের জীবন

৭. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:২৩
comment by: ফরিদুল ইসলাম শাওন বলেছেন: অসাধারন লেখা
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:২৫

লেখক বলেছেন: ঠিক আছে, ধন্যবাদ আপনাকে

৮. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:২৫
comment by: নতুন বলেছেন: you speak your mind...

its great..
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৩১

লেখক বলেছেন: হুমমম....ধন্যবাদ

৯. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:২৯
comment by: চিকনমিয়া বলেছেন: সাইম্যা ভালা লেকচস
তয় কিচু ব্যাপারে দ্বিমত আচে
তয় ভালা লেকা

পেলাচ
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৩

লেখক বলেছেন: দ্বিমত গুলা জানাইয়া দেও না? দ্বিমত জানাটা প্রয়োজন

১০. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৪
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: খুবই ভালো ........
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া

১১. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৬
comment by: স্বাক্ষর শতাব্দ বলেছেন: ভালো লিখেছেন+++
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ

১২. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৪১
comment by: রাজামশাই বলেছেন: ওহে সামী মিয়াদাদ লেখার সময় তোর উপর শয়তান ভর করছিল এবং সে তোকে দিয়া এই সব লেখাইছে। তার সাথে যোগ হইছে তোর অনবদ্য লেখনশৈলী।

কিন্তু সবটাই যে ইসলামের বিরুদ্ধে গেল। আমি অস্বীকার করতেছি না মুসলমানদের মধ্যে এই ধরনের লোক নাই। আত্মীয়স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী সবার মধ্যেই কি এই ধরনের লোকই খুজিয়া পাইলা।

ভাললোকের সন্ধান কর হে বৎস

আশা করি ভবিষ্যতে ইসলামের পক্ষেও কিছু লিখবা।

২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৫

লেখক বলেছেন: কি কইলা মহারাজ? আমি ইসলামের বিরুদ্ধে কই কইলাম?

বুঝলাম না? খোলাসা করেন তো?

পড়ে মন্তব্য করার জন্য ইউর এক্সেলেন্সিকে ধন্যবাদ

১৩. ২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৪
comment by: পুষ্প বলেছেন: লেখাটা ভাল হয়েছে।
তবে আপনার মুসলমান হয়ে উঠার ঘটনাগুলোতে শুধু নেতিবাচক ব্যাপারগুলো লক্ষ্য করলাম এর মাঝে ইতিবাচক ব্যাপারগুলো কী আপনার দৃষ্টিতে আসেনি,যদি আসে তবে তা দিয়ে আশা করছি ভবিষ্যতে একটি পোস্ট করবেন।
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৬

লেখক বলেছেন: লেখাটা বুঝেন নাই