আমার প্রিয় পোস্ট

কাঁদো, যখনি কাঁদতে ইচ্ছে করবে। কান্না শুদ্ধতম আবেগ প্রকাশের একমাত্র উতকৃষ্ট মাধ্যম। অতি সুখের সংবাদ এ মানুষ শুদ্ধতা খুজে পায়, অতি দু:খের সংবাদ এ মানুষ শুদ্ধতা খুজে পায়। কাজেই কাঁদো, কেঁদেই তোমার জীবনকে তুমি শুদ্ধতা দান করো। - তুর্কী মরমী কবি দাদায়েম ঈমাস

মসজিদের পবিত্রতা, মসজিদের অপবিত্রতা (উৎসর্গঃ জাতীয় মসজিদে যারা জুতাকে অস্ত্র বানিয়ে মারামারি করেন)

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:০৫

শেয়ারঃ
0 0 0

স্কুলবেলায় এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে রিকশা ভ্রমন করছিলাম। হঠাত একটি গীর্জার পাশ দিয়ে যাবার সময় বন্ধুটি বলে উঠলো,

“জানিস, গীর্জা আর মসজিদের মাঝে পার্থক্যটি কোথায়?”

আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কোথায়?”

“গীর্জা পবিত্রতা বোঝাতে তার আগে “পবিত্র” শব্দটি জোড়া দিতে হয়, কিন্তু মসজিদের আগে কোন “পবিত্র” শব্দ লিখতে হয়না। মসজিদ এমনিতেই পবিত্র। কিন্তু গীর্জার পবিত্রতা এমনিতে প্রকাশ পায়না। লিখে প্রকাশ করতে হয় যে তা পবিত্র। আমাদের মুসলমানদের অন্তর-মগজ সবকিছুতেই এটি ট্রেডমার্কড যে মসজিদ একটি পবিত্র স্হান, আল্লাহর ইবাদতের স্হান।”

মসজিদ ও গীর্জার তুলনামুলক নাতিদীর্ঘ বক্তৃতা শেষে বন্ধু চুপ করলো। আমিও চুপচাপ তার কথাগুলো নিয়ে মাথার ভেতর নাড়াচাড়া করছিলাম। মনে হলো, সত্যিই তো মসজিদ কতো পবিত্র! আমরা সেখানে নামাজ পড়ি, আল্লাহ’র ইবাদত করি, দোআ ভিক্ষা চাই, পাপের প্রায়শ্চিত্ত করি, স্বীয় অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করি। চারিদিকে শুধু আল্লাহ আর আল্লাহ, খোদার বিচরনে আমরা ভীত হই। মসজিদের পবিত্রতায় আমরা নুয়ে পড়ি।

পরবর্তীকালে অনেক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে “পবিত্র” শব্দটিকেই আমার কেন জানি ততো পবিত্র মনে হতো না। এখনও হয়না। এখন তো কোন কিছু পুত-পবিত্র শুনলেই মনে প্রশ্ন জাগে, “কেন পবিত্র? এটি কি শ্বাশত ভাবেই পবিত্র? নাকি শত আপেক্ষিকতার দায়ভারে এটি ন্যুজ। এটি কি সত্যি সত্যিই পবিত্রতার দাবীদার? যারা পবিত্র বলে দাবী করছেন তারা নিজেরা কতটুকু একে পবিত্র বলে মানছেন? নাকি এটি কোন চিরাচরিত ভন্ডামী?” এসব নানা হাবিজাবি প্রশ্ন মনে দানা বাধতে থাকে। “পবিত্র” শব্দটিই আজ অপবিত্রতার পরাকাষ্ঠাই বন্দী।

কোন কিছু যখন পবিত্র বলে দাবী করা হয়, দেখা যায় এটি কোন এক গোত্রের কাছে পবিত্র। মুসলমানের কাছে কোরান এবং মসজিদ পবিত্র, হিন্দুর কাছে গীতা এবং মন্দির পবিত্র, খ্রীষ্টানের কাছে বাইবেল এবং গীর্জা পবিত্র, বৌদ্ধের কাছে ত্রিপিটক এবং প্যাগোডা পবিত্র। এক গোত্র আরেক গোত্রের পবিত্রতাকে এক লহমায় নাকচ করে দিচ্ছেন। একজন মুসলমান কোরান পাঠের সময় অজু করে পাক-পবিত্র হয়ে যেমন সম্মান প্রদর্শন করেন, সেই একই মুসলমানের গীতা, বাইবেল অথবা ত্রিপিটক পাঠের সময় তেমন পাক-পবিত্র হতে হয়না, সম্মান প্রদর্শন করতে হয়না। হিন্দু, খ্রীষ্টান অথবা বৌদ্ধের বেলায়ও তেমনি একই কথা প্রযোজ্য।

বেশ আগে আমার এক বৃদ্ধা দাদী আমাদের বাসায় বেড়াতে এসে পড়ার টেবিলের উপর একই সাথে কোরান এবং বাইবেল রাখা দেখে আমার দিকে এমন ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকিয়েছিলেন যেন আমি জলজ্যান্ত শয়তান। আমিও বেশ অপ্রস্তুত বোধ করেছিলাম, দাদীর ধর্মানুভূতিতে নিদারুন এই আঘাত প্রাপ্তির কারনে। বেশীর ভাগ মুসলমানই হয়তো এভাবে ঘৃনার দৃষ্টিতেই আমার দিকে তাকাবেন। আর এভাবেই আমি অপ্রস্তুত হবো তাদের ধর্মের পবিত্রতা হননের জন্য।

আমার খুব কাছের কিছু বন্ধু হঠাত একবার তাবলীগের চিল্লায় যাবার বন্দোবস্ত করলো। অগ্রদূত আমাদের একজন স্কুল শিক্ষক, যিনি তাবলীগ আন্দোলনের সাথে দীর্ঘদিন থেকে জড়িত। আমাদের সাথেও উনার দীর্ঘদিন থেকে যোগাযোগ। উনি আমাকেও অনেক চাপাচাপি করেছিলেন, কিন্তু আমি যাইনি। কারন হিসেবে উনাকে বলতে পারতাম যে আমি মসজিদে ঘুমিয়ে মসজিদের পবিত্রতা হনন করার ঝুঁকিতে যেতে রাজি না। কিন্তু পাছে উনার ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে, সেই ভয়ে তাকে ও কথা বলা হয়নি।

উত্তর বন্গে ৪০ দিনের চিল্লা শেষে বন্ধুরা ফিরে এলে তাদের সাথে দেখা করতে গেলাম। অনেক মজার মজার অভিজ্ঞতার কথা তারা শেয়ার করলো। এক বন্ধু বললো সবচেয়ে মজার এবং সবচেয়ে করুন অভিজ্ঞতার কথা।

একরাতে যথারীতি সবাই ঘুমাতে গেল। মসজিদের ভেতরেই সবাই মেঝেতে তোষক বিছিয়ে শুয়ে আছে। ঘুমের ঘোরে সবাই কাতর। হঠাত আমার বন্ধুটির ঘুম ভেন্গে গেল। ঘুম ভাঙতেই সে দেখে যে তার পা’জামার বিশেষ এক স্হান ভেজা। লজ্জায় তার মাথা কাটা যাবার জোগাড়। সে বুঝতে পারলো, সে স্বপ্ন দেখেছে। আর তাতেই তার এই করুন অবস্হা। নিতান্তই গ্রীষ্মকাল ছিল। না হলে তার যে কি হতো? কেউ কিছু বুঝে উঠার আগেই সে গোসল করার উদ্দেশ্যে মসজিদের গোসলখানায় দৌড় দিল।
“তা স্বপ্নে কি দেখলি?” আমি আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করলাম। চোখ আমার চকচক করছে রগরগে একটি কাহিনী শোনার অপেক্ষায়। চোখের সামনে ভেসে উঠলো ঐশ্বরিয়া রাই অথবা প্রিয়াংকা চোপড়ার সাথে ক্রিয়ারত বন্ধুর শয্যা দৃশ্য। আমি আমার লিঙের উথ্থান টের পেলাম।

বন্ধুটি প্রথমে বলতে চায়না এহেন লজ্জার কথা। এমনিতেই স্বপ্নের কথা বলার পর তার বেশ অনুশোচনার ভাব টের পাওয়া যাচ্ছে। সবাই তাকে নিয়ে মুচকি মুচকি নি:শ্বব্দে হাসছে। কিন্তু মুখে কিছু বলছেনা, বন্ধুটির ক্ষেপে যাবার ভয়ে। তো অনেক চাপাচাপি, অনুরোধ, উপরোধের পর বন্ধু মন খারাপ করে বলতে শুরু করলো।

“আসলে ঐদিন আসরের নামাজের পর আমাদের আমীর সাহেব বেহেশতী হুরদের কথা আলোচনা করেছেন। হুরদের রূপ-সৌন্দর্য্য-আচার-ব্যবহার-তাদের গায়ের গন্ধের পবিত্রতা ইত্যাদি নানা বিষয়ে তিনি আলোকপাত করেছেন। উনার কথা শুনতে শুনতেই আমি বেহেশতী হুরকে কাছে পাবার এক তীব্র আকান্খা বোধ করলাম। মাগরিবের নামাজের সময় অতিরিক্ত দুই রাক’আত নফল নামাজ পড়ে মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে প্রার্থনা করলাম যেন তিনি আমার ইবাদত কবুল এবং মন্জুর ফরমান, যাতে আমি বেহেশতবাসী হয়ে হুরদের সান্যিধ্য পেতে পারি। মন ও শরীরের এই অবদমন হয়তো আমার অবচেতন মন মেনে নিতে পারেনি। তাই হয়তো এমন স্বপ্ন দেখেছি।“

“তা কি স্বপ্ন দেখলি বলে ফেলনা, এতো ফেনাচ্ছিস কেন?” আমি কিন্চিত ধমকে উঠলাম।

“স্বপ্নে দেখলাম যে বেহেশতের একটি বাগান। অতি সুন্দরী এক হুরের সাথে আমি ক্রিয়ারত। যৌনলীলায় মত্ত। এবং তারই ফলস্বরূপ একপর্যায়ে আমার ভেজা পা’জামা। হুরটির রূপের বর্ননা দেয়া অতি কষ্টকর, আমাকে জিজ্ঞেস করবিনা।“ বলেই সে বিড়বিড় করে কি যেন পড়তে লাগলো। চোখ-মুখ লজ্জায় লাল তার।

আমি একটু হেসে গম্ভীর কন্ঠে বললাম, “তাহলেতো দোস্ত এখন মসজিদের আগেও "পবিত্র" শব্দটি লাগাতে হয়। তুমিতো ওটাকে অপবিত্র করে এলে।“

বন্ধুটি চমকে উঠে জিজ্ঞেস করলো, “এতো আগের কথাটি তুই এখনও মনে রেখেছিস?”

 

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:০৮ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১৯

লেখক বলেছেন: আমিও হা হা প গে

ধন্যবাদ নাইম ভাই পড়ার জন্য।

৩. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১৪
'লেনিন' বলেছেন: “গীর্জা পবিত্রতা বোঝাতে তার আগে “পবিত্র” শব্দটি জোড়া দিতে হয়, কিন্তু মসজিদের আগে কোন “পবিত্র” শব্দ লিখতে হয়না। মসজিদ এমনিতেই পবিত্র। কিন্তু গীর্জার পবিত্রতা এমনিতে প্রকাশ পায়না। লিখে প্রকাশ করতে হয় যে তা পবিত্র। আমাদের মুসলমানদের অন্তর-মগজ সবকিছুতেই এটি ট্রেডমার্কড যে মসজিদ একটি পবিত্র স্হান, আল্লাহর ইবাদতের স্হান।”

স্কুলবেলাতেই আছেন?
২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২০

লেখক বলেছেন: স্কুল বেলার স্মৃতি বড়োই মধুর, কি যে বলবো? আমি আজীবন স্কুল বেলাতেই থাকতে চাই।

আমার স্কুলজীবন নিয়া কিছু একটা লিখবো ভাবছি।

ধন্যবাদ আপনাকে।

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শামীম।

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২২

লেখক বলেছেন: তোমার বুকলেট, লিফলেটের কি হইলো?

৫. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১৯
'লেনিন' বলেছেন: আর আপনাকে ঐ জুতাপ্রহারক হতে বলবো যখন জাতীয় মসজিদে নিজামী, সাঈদী বা মুজাহিদ-মান্নান এরা আসবে।
২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৩

লেখক বলেছেন: অবশ্যই, আশা করি আপনিও আমার পাশে থাকবেন। যদি আপনি দেশে থেকে থাকেন।

ধন্যবাদ আপনাকে।

৬. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:১৯
ক্যামেরাম্যান বলেছেন: হুম! আমাদের দেশে তো অন্য ধর্মালম্বীদের দ্বারা পবিত্র মসজিদ অপবিত্র হওয়ার কোন সূযোগ নাই :)
২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৪

লেখক বলেছেন: ঐটাই। আমাদের দেশে ধার্মিকেরাই সকল অধর্মের কাজ করেন। আর কিছু বললেই হয়ে যাই নাস্তিক মুর্তাদ।

তবে না হয় আমি নাস্তিকই হলাম।

৭. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২১
মদন বলেছেন: এতো সুন্দর করে কেমনে লেখে???
২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:২৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মদন। সবই আপনাদের জন্য

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১২:৪০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য

১০. ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:১০
কলুর বলদ বলেছেন: হা হা হা.....মজা পাইলাম শেষের ঘটনায় !
২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১:২০

লেখক বলেছেন: মজা পাবার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ

২০ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কামাল ভাই।

১২. ২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:৪০
মুনীর উদ্দীন শামীম বলেছেন: বাহ, ভালই লিখেছেন............................
২৪ শে জানুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১১:৪২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মুনীর ভাই....অনেকদিন পর দেখলাম...ভাল লাগলো আপনাকে দেখে।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৬১৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমাকে বলা হয়েছে, তুমি যা ইচ্ছা তাই করো কিন্তু লিখতে পারবেনা। কিছু লিখতে গেলেই তোমার টুটি চেপে ধরা হবে, কিছু...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই