আমার প্রিয় পোস্ট

কাঁদো, যখনি কাঁদতে ইচ্ছে করবে। কান্না শুদ্ধতম আবেগ প্রকাশের একমাত্র উতকৃষ্ট মাধ্যম। অতি সুখের সংবাদ এ মানুষ শুদ্ধতা খুজে পায়, অতি দু:খের সংবাদ এ মানুষ শুদ্ধতা খুজে পায়। কাজেই কাঁদো, কেঁদেই তোমার জীবনকে তুমি শুদ্ধতা দান করো। - তুর্কী মরমী কবি দাদায়েম ঈমাস

ইউক্রেন প্রতিভা সিমোনোভা এবং তার যুদ্ধবিরোধী চিত্রকর্ম

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:০৮

শেয়ারঃ
0 7 0



মাঝে মাঝে কোন ভিডিও দেখলে খুব বিহ্বল হয়ে পড়ি। আজ অফিস থেকে এসেই মেইল চেক করতে গিয়ে দেখলাম বড় আপা লিংকটা পাঠিয়েছে। সাথে সাথে দেখা শুরু করলাম। অত:পর অভিভূত হলাম।

ভিডিওতে দেখা যাবে ২৪ বছর বয়স্কা ইউক্রেনীয়ান সেনীয়া সিমোনোভা কে। বালির ক্যানভাসে একের পর এক অদ্ভুত সব চিত্রকর্ম করে যাচ্ছেন। বালির উপর এই চিত্রকর্মটি "Ukraine’s Got Talent" এ্যাওয়ার্ড ২০০৯ জিতে নিয়েছে এবং অর্জন করেছে প্রায় ৭৫০০০ হাজার পাউন্ড !!!

আমরা সবাই আর্ট পেপারে বা কাগজের ক্যানভাসে বিভিন্ন রঙের খেলা দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু বালির উপর হাতের মাধ্যমে এমন চিত্রকর্ম সত্যিই বিরল। প্রথমেই আমার যা মনে হলো চিত্রকর্মটির অনস্তিত্বতা। কাগজের উপর পেনসিল এবং পেইন্ট ব্রাশ দিয়ে যে সব চিত্রকর্ম রচিত হয়েছে তাদের অস্তিত্ব অনন্তকাল। আমরা সেই আদিকাল থেকেই মোনালিসার হাসি নিয়ে গবেষনা করে আসছি। ভবিষ্যতেও আরো অনেক অনেক গবেষনা করে যাবো। কিন্তু এই চিত্রকর্মটির কোন স্হায়ীত্ব নেই। ভিডিওতেই এর স্হায়ীত্ব। এটি অনেকটা স্টেজ প্রোগ্রামের মতো। আমরা কোনদিন ল্যুভর মিউজিয়ামের গ্র্যান্ড গ্যালারীতে সিমোনোভার এমন বালির খেলা দেখতে যাবোনা। সিমোনোভার চিত্রকর্ম দেখতে হলে আমাদের ইউটিউবের আশ্রয় নিতে হবে।

সিমোনোভার ধারাবাহিক চিত্রকর্মটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিকার উপর নির্মিত। প্রথমেই আমরা দেখতে পাই দু'জন নর-নারী হাত ধরাধরি করে রাস্তার পাশের বেন্চে বসে তারকা খচিত রাত্রীর রূপ সূধা উপভোগ করছে।

তারপরই আমরা যুদ্ধ বিমানের আগমন বার্তা টের পাই এবং বেলা ভূমিতে ভেসে ওঠে একজন ক্রন্দনরত নারীর মুখচ্ছবি। যুদ্ধ এবং কান্নার কি অপূর্ব সম্মিলন। প্রতিটি যুদ্ধই আমাদের জীবনে দু:খ, দুর্দশা, হতাশা ডেকে আনে। হোকনা তা রাজনৈতিক অস্হিরতা বা পারিবারিক অস্হিরতা?

তারপরই চিত্রে একটি শিশুর আভির্ভাব ঘটে এবং শিশুর পবিত্রতা যুদ্ধের সকল কালিমা মুছে ক্রন্দনরত নারীটির মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলে। সিমোনোভা তার অপূর্ব দক্ষতা দিয়ে তার চিত্রকর্মটি প্রদর্শন করে চলেন।

তারপরই চিত্রকর্মটিতে আবার যুদ্ধের দামামা বেজে উঠে। সিমোনাভা'র হাত কাজ করে চলে দূর্মর গতিতে। যুদ্ধ আবার সব ওলোট-পালোট করে দেয়। আমরা আবার যুদ্ধে পতিত হই এবং যুদ্ধের হট্টগোল থেকে আরেকটি তরুনীর মুখমন্ডল ভেসে ওঠে যা ক্রমশ: একজন বৃদ্ধায় পরিনত হয়। বৃদ্ধাকে খুবই দু:খী

সেই বৃদ্ধার মুখ থেকে আমরা পরিবর্তিত ভাবে একজন অচেনা মৃত সৈনিকের স্মৃতিস্তম্ভের উদ্ভাবন দেখি। স্মৃতিস্তম্ভটি আমাদের যুদ্ধের নি:শংসতার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। স্মৃতিস্তম্ভের দিকে মানুষের অসহায় দৃষ্টি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে ক্ষমতাবানদের কাছে আমরা কতো অসহায়, যুদ্ধের নিয়তি মেনে নিয়ে আমরা কত নিরুপায়।

শেষ দৃষ্যে দেখা যায় ঘরের ভেতর থেকে একজন মা এবং শিশু ঘরের বাইরে অপেক্ষারত একজন অচেনা মানুষের দিকে তাকিয়ে আছে যে জানালার কাচে হাত রেখে তাদের বিদায় সম্ভাষন জানাচ্ছে।

এখানেই সিমোনোভা তার চিত্রকর্মটির সমাপ্তি টানেন। চিত্রকর্মটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন দিক হচ্ছে দৃশ্যের পর দৃশ্যের পরিবর্তন। কি অপরিসীম দক্ষতায় সিমোনোভা একটির পর একটি দৃশ্যকে ফুটিয়ে তুলেন তার বালিময় ক্যানভাসে। যা এক কথায় অতুলনীয়। প্রথম দৃশ্য থেকে একেবারে শেষ দৃশ্য পর্যন্ত চিত্রকর্মটির অদ্ভুত, মায়াময় ট্রান্সিশান দর্শককে টেনে ধরে রাখবে এর শেষ দেখার জন্য।

ভিডিওটির আবহ সন্গীতের কাজও দুর্দান্ত মনে হয়েছে। দৃশ্যের সাথে সামন্জস্য রেখে আবহ সন্গীতের পরিবর্তনেও দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। প্রথম দৃশ্যের রোমান্টিক মিউজিক, যুদ্ধবিমানের আক্রমনে নেপথ্য কন্ঠের ধারাভাষ্য এবং সম্ভবত ইউক্রেনীয়ান (সঠিক জানিনা) ভাষা'র সন্গীত এবঙ পরপরই যুদ্ধের আবহ তৈরীতে নেপথ্য সন্গীত সম্মিলিতভাবে দারুন কাজ করেছে।

যুদ্ধবিরোধী নানা উপন্যাস এবং সিনেমার সাথে পরিচিত ছিলাম। সিমোনোভার চিত্রকর্মটি আমাদের আবার টেনে নিয়ে যায় ১৯৪১ সালে, জার্মান সৈন্যরা যখন সোভিয়েত আক্রমন করে সেই নাট্যমন্চে। Great Patriotic War নামক সেই যুদ্ধে প্রায় ১১ মিলিয়ন মানুষ নিহত হন। সিমোনোভা'র চিত্রকর্মটি এরিকমারিয়ার একেকটি উপন্যাসের গল্পকে চিত্রায়িত করে অথবা এঁকে দেয় হেমিংওয়ের উপন্যাসের বাস্তব প্রতিচ্ছবি।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:২৯
একরামুল হক শামীম বলেছেন: এই ভিডিওটা আগেই দেখেছিলাম।

আপনি খুব সুন্দর করে র্বণনা দিয়েছেন সামী ভাই।
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শামীম। আমি আগে দেখিনি। আজই প্রথম দেখলাম।

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩১

লেখক বলেছেন: এটি সত্যিই অসাধারণ। আমি অভিভূত।

৩. ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৩
না বলা কথা বলেছেন: আরেক বার দেখে ভালো লাগলো। বর্ণনা চমৎকার।
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। এটি বার বার দেখলেও ক্লান্তি লাগেনা।

৪. ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৫৪
মইন বলেছেন: দেখেছিলাম ভিডিওটা আগেই, শুধুমাত্র চিত্রকর্মে তার প্রতিভা দেখে চমতকৃত হয়েছিলাম, কিন্তু তার পেছনে যে এমন অসাধারণ এক কাহিনী লুকিয়ে আছে জানতাম না। অসাধারণ।
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৩

লেখক বলেছেন: কাহিনীটি যুদ্ধের। আর যুদ্ধের কাহিনী সবসময়ই নির্মম।

৫. ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০৭
_তানজীর_ বলেছেন: ডিটেইলস লেখার জন্য ধন্যবাদ। আমার প্রিয় শিল্পকর্মের মধ্যে একটি।
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। এটি আমারো প্রিয় হয়ে উঠলো।

৬. ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৪৯
নজরুল মিন্টো বলেছেন: ভিডিওটা আগে দেখেছি। অনেককে দেখতেও বলেছি। কিন্তু এর পেছনের কাহিনীটা জানা ছিল না। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি সুন্দর তথ্যটি দেয়ার জন্য।
২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৬

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ কষ্ট করে এটি পড়ার জন্য।

৭. ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:৪৫
সৃজন বলেছেন: কয়েক দিন আগে প্রথম দেখি...........অসাধারন ....... বার বার দেখার জন্য ডাউন লোড করে নিয়েছি..............

তুমি কেমন আছ , ভাইয়া
২৯ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:৫৬

লেখক বলেছেন: আমিও ডাউনলোড করে নিয়েছি। সত্যিই অসাধারন।

আমি ভাল আছি। আশা করি আপনারাও সকলে ভাল আছেন ভাইয়া।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০১২২ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমাকে বলা হয়েছে, তুমি যা ইচ্ছা তাই করো কিন্তু লিখতে পারবেনা। কিছু লিখতে গেলেই তোমার টুটি চেপে ধরা হবে, কিছু...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই