somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অবশেষে তাকে ছাড়াই একটা ছাতা কিনে ফেললাম আজ

০৬ ই জুন, ২০১৩ রাত ১১:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তোমার মনে আছে কিনা জানি না, আমাদের পরিচয়ের প্রথম দিককার সময়টাতেও আমার বাসায় ভালো কোন ছাতা ছিলো না । আব্বা ছিলেন বিদেশ, আর মা বাসা থেকে বেরুতেন খুবই কম । কাজেই ওটা যোগাড় করলে আমারই করতে হতো, চাইলে সহজে পারতামও । তা না করে ওই সময়টাতে নিজেকে হিমু ভেবে মোটামুটি আনন্দের সাথে গ্রীষ্মের রোদে পুড়তে পুড়তে ঢাকা আসা যাওয়া করতাম আর বর্ষার বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বাড়ি ফিরে অসুখ বাঁধিয়ে সপ্তাহখানেকে জন্যে খুশী মনে বিছানায় শুয়ে পরতাম । নতুন একটা মোবাইল ফোন হয়েছিলো তখন । পকেট খরচ বাঁচিয়ে কাঁথা মুড়ি দিয়ে যেন একেবারে অন্ধকার গুহার ভেতরে ঢুকে তোমার সাথে দিন - রাত গুটুর গুটুর গল্পে সময় পার করাটা যেন নেশাই হয়ে দাড়িয়ে ছিলো ।

অবশ্য খু্ব বেশী গল্প তখন করা যেতো না, কারণ মোবাইল কোম্পানিগুলো ছিলো বড়ই বেরসিক । এদের অল্প আয়ের স্বল্পভাষী উঠতি বয়সের কোন যুবককে মন খুলে কথা বলতে বলতে বাচাল হয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার চেয়ে কলচার্জ বাড়িয়ে রাখাতেই আগ্রহ ছিলো বেশী । তারপরও অনেক মোবাইল কলের ঐ মূল্যবান সময়টুকুর বিরাট একটা অংশ তুমি খরচ করেছো ছাতা ছাতা করে । আমি প্রতিবারই খুব মনোযোগের ভাব নিয়ে শুনতাম, একটা ঝকঝকে নতুন ছাতা কেনা হিমুর নতুন বইটা কিনে আরেকটু হিমু হয়ে যাওয়ার থেকেও বেশী জরুরি এই ব্যাপারে পুরোপুরি একমত হতাম, কাল পরশুই একটা কিনে ফেলবো এমন অকাট্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফোন রাখার পর মিনিট খানেকের মধ্যেই সব ভুলেও যেতাম । অতঃপর কিছুদিন পর আবার রোদে পুড়ে ঘামের বা বৃষ্টিবিলাসের জ্বর এবং তোমার ঝগড়া । ঝগড়া তুমি বেশ ভালোই করতে পারতে আর আমার ছিলো ঝগড়া করার বিষয়ের নিরবিচ্ছিন্ন যোগান দিয়ে যাওয়ার অসাধারন ক্ষমতা । সেই সময়টাতে জীবনের জটিলতাগুলো তখন ছিলো অস্পষ্ট, চারপাশের সবকিছুই মনে হতো আনন্দে আত্নহারা হওয়ার একেবারে মোক্ষম কারণ । তাই আমাদের ঝগড়ার বিষয়গুলোও হতো জীবনের ভুল - ভ্রান্তি বা জটিলতা বিষয়ক অধ্যায়গুলোর বাইরের কোন কিছু, অদ্ভুততম এবং ক্ষেত্রবিশেষে অকল্পনীয় । যেমন একদিন কোন এক অখ্যাত চিড়িয়াখানায় সিংহ আর সিংহীকে দুই ভিন্ন খাঁচায় আলাদা রাখায় বেচারা দুইজনের মধ্যে কার মনটা বেশী খারাপ তা দেড়ঘণ্টা একটানা তুমুল ঝগড়া করেও আমরা একমত হতেই পারি নি । এখনকার চেহারা সর্বস্ব, বৈশিষ্ট্যহীন আধুনিকাদের মতো গতানুগতিক তুমি ছিলে না, তাই আমার মোবাইলের ইনবক্সে কলেজ লাইফের কোন বান্ধবীর পাঠানো বেফাঁস মেসেজের চেয়ে তোমার কাছে বেশী জরুরি ছিলো কেন আমি এখনো কোন ছাতা কিনছি না? ....... এসব যেন বহুদিন আগের কোন সময়ের অন্যকারো রুপকথা, পিছু ফিরে তাকালে এখন মনে হয় এমন সময় কখনো জীবনে আসেই নি ।

বহুকাল পর অবশেষে এই গ্রীষ্মে আজ কি মনে করে যেন একটা ছাতা আমি কিনেই ফেললাম । যার রং কেরানী গোছের কালো না, বেগুনির একেবারে চোখে পড়ার মতো সুন্দর একটা শেড । হাতলটা আবার কাঠের । আমি ঠিক করেছি সামনের সময়টুকুতে কেউ যদি আমার ছাতার নিচে আসতে চায় তাকেও ঠিক এমন কাঠের হাতলের সুন্দর ডিজাইনের একটা ছাতা কিনে দেবো যা সে আমি পাশে থাকলে ব্যাগের ভেতর ঢুকিয়ে রাখবে, বের করবে বিদায় নিয়ে একা বাড়ি ফেরার সময় । তার ছাতাটার রং হবে আকাশী । অতি লক্ষী আর আহ্লাদী গোছের মেয়েরা যেহেতু হাঁটে আস্তে আস্তে; পেছন থেকে ছাতা মাথায় করে তার ধীরে - সুস্থে হেঁটে চলে যাওয়াটা লম্বা সময় ধরে দেখতে দেখতে আমার মনে হবে একটুকরো আকাশের প্রতিবিম্বই যেন টুকটুক করে হেঁটে চলে যাচ্ছে চোখের সামনের রাস্তাটা দিয়ে । তার অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পর আমি নিশ্চয়ই মন খারাপের একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলবো, অপেক্ষা করবো আবার দেখা হওয়ার । কখনো যদি দেখি সেই মায়াবতীও ধীরে ধীরে অপমানুষের কাতারে যাওয়ার ফন্দি আঁটছে তাকে মনে করিয়ে দেবো আমার ছাতার হাতলটা কিন্তু কাঠের! কিংবা আমার মনও যদি উড়ু উড়ু হয় বা পুরানো অতি সন্ন্যাস রোগে আক্রান্ত হয়ে সবকিছু ছেড়ে - ছুঁড়ে হারিয়ে যাওয়ার মতলব করে সেও নিশ্চয়ই আমাকে সাবধান করে দেবে ঐ একই ভাবে ।

মজারই হবে ব্যাপারগুলো... তাই না, বলো?

লেখার শেষ বেলায় এসে হঠাৎ একটা কথা মনে হলো । দুইটা ছাতা বোধহয় আমার বহু আগের রুপকথার সেই বাস্তব সময়টাতেই কেনা উচিত ছিলো । একটা আমার জন্য, আরেকটা তোমার জন্য ।

____________________________________
( পরাবাস্তব )
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুন, ২০১৩ রাত ১১:৫৬
৮টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুতাপ (ছোট গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯

একনাগাড়ে ৪-৫ বছর কাজ করার পর রহিমের মনে হলো, নাহ! এবার আরেকটা চাকরি দেখি। লোকাল একটা কোম্পানিতে কাজ করত সে। কিন্তু কোনকিছু করার জন্য শুধু ভাবনাই যথেষ্ট নয়। সে চাকরির... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩


করোনার সময় নানান উত্থান পতন ছিল আমাদের, আব্বা মা ছোটবোন সহ আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় মরে যেতে যেতে বেঁচে গিয়েছিলাম শেষ মুহূর্তে, বেঁচে গিয়েছিল আমাদের ছোট্ট সোনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৩)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



সূরাঃ ১৩ রাদ, ১১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১। মানুষের জন্য তার সম্মুখে ও পশ্চাতে একের পর এক প্রহরী থাকে। উহারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। আর আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×