somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে, রয়েছ নয়নে নয়নে

১৯ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাসায় ফিরছিলাম । আমার শহরের হিসেবে রাত মোটামুটি গভীরই হয়ে গেছে বলা যায়, ১২ টার কাছাকাছি । ক্লান্তিকর জ্যাম পেরোনোর পর ফাঁকা রাস্তা পেয়ে বাস মোটামুটি উড়ে চলছে । খোলা জানলা দিয়ে ঠাণ্ডা বাতাস, কানের হেড ফোন হালকা সাউন্ডে বাজতে থাকা গান ..... সুন্দর পরিবেশ । সিটে হেলান দিয়ে বেশ ভালো ঝিমুনির মতো চলে আসছিলো, পকেটে রাখা মোবাইলটার ভাইব্রেশনে তা কেটে গেলো । ঘুম ঘুম অবস্থায় থাকার পরও ওপাশ থেকে ভেসে আসা কণ্ঠে যা শুনলাম তা প্রথমবারেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম । তবুও অবিশ্বাসের কণ্ঠে দ্বিতীয় বার জিজ্ঞেস করলাম

-- কি বললে ?
- - খালিদ , হুমায়ূন আহমেদ মারা গেছেন ।

কি অবিশ্বাস্য একটা কথা! প্রিয় মানুষ গুলোর চলে যাওয়া এতই সহজ ? ফোনটা কানে ধরে রেখেই আকাশের দিকে চোখ চলে গেলো । নাহ , আকাশে সেদিন শুক্লপক্ষের কোন চাঁদ আমার চোখে পড়ে নি , আমি কেবল অন্ধকারই দেখলাম । হঠাৎ করে মনে হলো বাসটা খুব আস্তে আস্তে চলছে , আমি যেন কানের পাশ দিয়ে কেটে যাওয়া বাতাসের প্রতিটা শীষের শব্দে অন্য কিছু শুনতে পারছি । পাশে বসা বন্ধুটাকে আলতো করে ধাক্কা দিয়ে ঘুম ভাঙ্গালাম । সে একটু অবাক হয়ে জানতে চায় চলে এসেছি কিনা ? তিনবারের চেষ্টায় বলতে পারলাম হুমায়ূন আহমেদ মারা গেছেন । এই চারটা শব্দ উচ্চারণ করতে আমার বুকটা ভেতরটা কে এক সীমাহীন শূন্যতায় ভরে গেলো তা যদি আমি কোন দিন কাউকে বলে বুঝাতে পারতাম ? .......... চারপাশটা কেমন যেন অদ্ভুত ফাঁকা ফাঁকা লাগছিলো । আমি জানলা দিয়ে আরও একবার আকুল হয়ে মাথা বের করে আকাশের সব কোনে চাঁদকে খুঁজি । সে আজ নেই । অথচ মানুষটা কতো চাঁদের জন্য পাগল ছিল ! কি এমন ক্ষতি ছিল তার আজ আদিগন্ত ফিনিক ফোঁটা রুপালি জোছনায় ভাসিয়ে দিয়ে আকাশ আলো করে রাখলে ? কি এমন ক্ষতি ছিলো ?

বাসের আবছা অন্ধকারে দেখলাম আমার বন্ধুর গাল চিকচিক করছে । মানুষ কার জন্য কাঁদে ? খুব আপন জনদের জন্যেই । আর ২২ – ২৩ বছরের ছেলেদের কান্না খুব বড় ব্যাপার । কারণ এরা সহজে কাঁদে না, কষ্টে বুক ভেঙ্গে গেলেও বাইরে স্বাভাবিক থাকার গুন এদের মধ্যে দেখা যায় যা অন্য বয়সীদের মধ্যে হয়তো অতটা নেই । এবং ছেলেরা কখনো সমবয়সী ছেলেদের সামনে কাঁদে না । কিন্তু আমার বন্ধু সে দিন নিজেকে ধরে রাখতে পারে নি ....... হুমায়ূন আহমেদ স্যার, আপনাকে কখনো চোখের সামনে দেখি নি, আপনি আমাদের রক্তের সম্পর্কেরও কেউ নন । তবুও আপনি আমাদের কাছে সেই মানুষ যার জন্য আবছা অন্ধকারে বসে দু’ফোঁটা চোখের পানি ফেলা যায় । আপনি সেই মানুষ যে আর পৃথিবীতে নেই শুনলে বুকের ভেতরটা সীমাহীন শূন্যতায় হাহাকার করে উঠে । আমি কেন যেন কাঁদতে পারলাম না, চোখে পানি আসলো না । অথচ খুব ইচ্ছা করছিলো নিজের ভিতরের বোঝাটা কেঁদে একটু হালকা করি । আমি পারি নি । আমি ছোটবেলা থেকেই কিছুটা আবেগশূন্য মানুষ , তবু সে রাতে আমারও ইচ্ছা করেছিলো চিৎকার করে কাঁদি ।

বই মেলায় গেলাম । ইচ্ছা ছিল না । আপনি নেই , কার জন্য যাবো , কেন যাবো? তবুও হয়তো আপনার স্মৃতির কথা ভেবেই গিয়েছিলাম । হাঁটতে হাঁটতে এক সময় চোখে পড়লো বিশাল বড় এক ব্যানারে আপনার ছবি । সেখানে লেখা –

“ নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে,
রয়েছ নয়নে নয়নে। “

সেদিন আর নিজের ভেতরের বাঁধটা টিকলো না । দুচোখ ভিজে উঠলো অশ্রু বিন্দুতে । সে অশ্রু আমি হাজারো মানুষের সামনে থেকেও মুছি নি । কেন মুছবো ? আমি কেঁদেছি আমার খুব প্রিয় একটা মানুষের জন্য , যে আমাকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে, যে ভাবতে শিখিয়েছে পৃথিবীটা আসলে কেবল হতাশারই জায়গা না; এখানে আজও স্বপ্ন দেখা যায়, ভালবাসা যায় ।

আপনি চিরদিনই আমাদের মাঝে রয়ে যাবেন । .... যেখানেই থাকুন না কেন , ভালো থাকুন । আমিন ।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০১৩ রাত ১:২৩
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সুস্থধারায় ফিরছে রাজনীতি; আম্লিগের ফেরার পথ আরো ধূসর হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১০


গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে একে অপরের মধ্যে কোথাও কোথাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশে টেকসই পরিবর্তন আনতে এই 'প্ল্যান'-গুলো আমাদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর লিস্টে আছে কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



আসসালামু আলাইকুম।
দেশে টেকসই পরিবর্তন আনতে নিচের বিষয়গুলোর উপর নজর দেওয়া জরুরী মনে করছি।

প্ল্যান - ১
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রত্যেকটিতে গবেষণার জন্যে ফান্ড দেওয়া দরকার। দেশ - বিদেশ থেকে ফান্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছায়া মন্ত্রীসভা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৮

ছায়া মন্ত্রীসভা : বাংলাদেশ প্রেক্ষিত !



বাংলাদেশে নূতন ভাবে এই প্রসঙ্গটি আসতে শুরু করছে ।
আমাদের আইনে এই ব্যাপারে নির্দিষ্ট কিছু আছে কিনা জানা নেই । তবে বিরোধী দল সংসদে
তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

পবিত্র হজ্জ্ব- ২০২৫ এর মায়াময় স্মৃতি….(৮)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

আমরা ০৯ জিলহজ্জ্ব/০৫ জুন রাত সাড়ে দশটার দিকে মুযদালিফায় পৌঁছলাম। বাস থেকে নেমেই অযু করে একসাথে দুই ইকামায় মাগরিব ও এশার নামায পড়ে নিলাম। নামাযে ইমামতি করেছিলেন আমাদের দলেরই একজন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যাসিবাদের নতুন ধরন - জুলাই মাসে কই ছিলেন?

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬

১।

জুলাই মাসে কই ছিলেন – গত দেড় বছর ধরে অনলাইনে এই এক প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি বহুবার। এই প্যাটার্নের প্রশ্ন, অভাগা দেশে বারবার ফিরে আসে। শেষমেশ এই ধরনের প্রশ্নগুলোই নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×