"কবিতা লিখে চেষ্টা করেন,পটে যেতেও পারে।'-- সিহাবের পরামর্শ।
আমার হতাশাবাদী উত্তর--
'আমি কাঠখোট্টা মানুষ,কবিতা আসেনা,রসকষ নাই,রোমান্টিসিজমও নাই।'
-'আরে মিয়া খালি রোমান্টিসিজম থাকলেই কবিতা হয় নাকি,তাইলে রফিক আজাদ কেমনে লিখতো--"ভাত দে হারামজাদা নইলে মানচিত্র খাবো"?
-'তা ঐটা লিখলো,আবার এটাও তো ঐ ষণ্ডারই লেখা--
"ভালোবাসা মানে জীবনের ঝুঁকি নেয়া
বিরহ-বালুতে খালি পায়ে হাঁটাহাঁটি।"
অথবা--
"স্পর্শের ভাষায়
লেখা হতে পারে শুধু
সম্পূর্ণ নিখুঁত এক প্রণয় সংহিতা।"
'ভিতরে কবি থাকতে হয় মিয়াভাই,আমার ভিতরে তো নাই।'
-'আরে সবার ভিতরে আছে,আমি শোনাই তো,নিজের লেখা কবিতা,কোন একজনকে।'
-'নিয়ম জানিনা।'
-'নাম করতে নিয়ম লাগে,নিজের জন্য লাগেনা,শোনাবেন তো নিজের জনকে।'
-'তা তুমি পারো,আমি পারিনা। আমি লিখলে কেমন হবে শোন--
''দুঃস্বপ্নের মাঝে দেখি কংকালের হাড়,গোরস্তানের শূন্য করোটিতে তোমার হাসিমুখ।"
-'এইটা কি?'
-'ক্যান কবিতা বানাইতে বললা,বানাইলাম মাত্র এইটা।'
-'এটা শুনলে তো ভয় পাবে রে ভাই,কবিতা মনে না হয়ে ডেথমেটাল গান মনে হচ্ছে।'
-'সেটা হলেও খারাপ না,ছ্যাঁকা খেলে মধুমালতী বের হয়না,ডেথমেটালই আসে,ভাবছি এইটাকে একটা গান বানাই,শিরোনাম দিব 'হাইড্রার হাসি',হেহেহে।'
-'আমি গায়ক হবো তাইলে।'
-'কর্কশ গলা লাগবে,বাজাতে জানা লাগবে,আমি জানি না।'
-'আমিও জানিনা।'
-'তাইলে এই প্রোজেক্ট বাদ।'
-'হুম,এভাবে না,এভাবে ঠিক হয়না।'
-'নদীর বুকে বৃষ্টি পড়ে,পাহাড় তাকে সয়না,ঠিক?'
-হ্যাঁ,এভাবে না,এভাবে ঠিক হয়না।
'তারচেয়ে, আপনাকে আমি লিখে দেই,আপনি শোনাবেন,কি বলেন?'
-'কাজ হবে নাকি? নাহলে কিন্তু খবর আছে তোমার।'
-'আরে,আমি মাঝে মাঝে নিজেরটায় নিজেই মুগ্ধ,কবি না হলে কাজ হতেও পারে।'
-'শুনি দেখি।'
-'জ্বি শোনেন--
"তখন চলছিল আমার সপ্তম সেমিস্টার,তোমার নাইটড্রেসে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ।"
-'খাইসে! ঐ মিয়া তুমি জীবনানন্দের অন্ধ,আর আমাকে দাও গুরুজীর কবিতার প্যারোডি? ফাজলামি? মারা পড়বো তো!'
-'ক্যান চলবে না?'
-'যে একটু আগে পড়লো--"শিয়রের কাছে নীল মৃত্যু উজাগড়",তার কাছ থেকে চলবে না।"
-'হুম,সিরিয়াস হয়ে গেলেন। দাঁড়ান ভাবি আরেকটা,এইটা যখন চললো না।
-'ভাবো।'
-'পেলাম একটা,মাথায়,শুনে দেখেন।'
-'শোনাও।'
-'শোনেন---
"তোমার ঐ নিথর ঠোঁটে
হাজার ভোল্টের একটা ক্লোরোমিন্ট চুমু এঁকে দেব;
বিস্ময়ে তুমি ভেসে গিয়ে ভাবছো
জনারণ্যে একি করছে ছেলেটা?
আমি বিকেলের অস্থিরতায় রাত্রির নিস্তব্ধতা এনে
সবাইকে অদৃশ্য করে দেব;
আর বলবো,চোখ বন্ধ কর,
তোমার-আমার মাঝে বিশ্বসংসার অনন্তে মিলিয়ে যাবে।'
-'বাকিটুকু আমিই বলি,কি বলো?--
"ধার চেয়ে এনেছি পথিকের থেকে এই পংক্তিমালা
শুধু তোমার জন্য,
ফিরিয়ে দিলে,
সমুদ্রে ছুঁড়ে ফেলে দেব
নিজের অস্তিত্বের সাথে কবিতার শব্দগুলোও।"
চলবে?'
-'জগিং করবে।'
-'তবে চলুক।'
[বন্ধু সিহাবের সাথে কথোপকথন,মজা লেগেছিল,তাই ধরে রাখলাম।]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

