আমার প্রিয় পোস্ট
- বিবিসির অসাধারণ একটি ডকুমেন্টারিঃ সেরা সাই-ফাইও হার মানবে - বিডি আইডল
- উইকিপিডিয়াতে লেখা সাজাবার সহজ উপায়-(পর্ব-১) - সাদাচোখ
- প্রিয় খাবারের তালিকা, উগ্র রসনা বিলাস - সাঈফ শেরিফ
- ব্যক্তিগত কথা: শুদ্ধতা - জ্বিনের বাদশা
- প্রমিত বাংলা বানান রীতিঃ সচরাচর সমস্যা করে এমন শব্দের একটি সম্ভার! - ম্যাভেরিক
- আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারের পতন ও ফাইনান্সিয়ালাইজেশানের সংকট - দিনমজুর
- ০: একটি স্বর্গীয় পরিভ্রমণের গল্প (সম্পূর্ণ) - ম্যাভেরিক
- ইজরায়েলের জবানবন্দী:: তেলআবিবে বিপন্ন মানবতা আর আত্মরক্ষার অধিকার !! - মেহরাব শাহরিয়ার
- অগুনিত মেহেরের গল্প। - সৌম্য
- ট্রেকিং, ব্যাগ পেকিং আর হাইকিং, এডভেঞ্চারের সাথে মিশে যান প্রকৃতির সাথে - সৌম্য
- ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৫০ (যা চেয়েছি, যা পাবো না --সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ) - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- ব্লগারস ব্লাড ব্যাংকঃ ১২৯ ব্লগারের তথ্য (আপডেট পোস্ট) - ফিউজিটিভ
- যুক্তরাষ্ট্রে ফান্ডিং নিয়ে পড়তে আসুন -২ (GRE)। - কুম্ভকর্ণ
- হার-জিত - আশরাফ মাহমুদ
- একদিন এক বাদলা দিনে। - কোলাহল
- বৃষ্টিমুখর দিনরাত্রি - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- ফিরে দেখা ইতিহাস : ভাষা আন্দোলনের দিনপন্জী (১৯৪৭-৫৬)। উৎসর্গ - সকল ভাষাশহীদকে - মিরাজ
- টানেলের শেষেও শুধু অন্ধকারের গান - সন্ধ্যাবাতি
- কখনও স্মৃতি পাহারা দেবার সময় আসে - মাহবুব মোর্শেদ
- সন্ধ্যা ৪ - মাহবুব মোর্শেদ
- সাংবাদিকতার গায়ে 'হলুদ' - ফয়সল
- আজ শ্রাবনের আমন্ত্রনে... - আস্তমেয়ে
- গুগল কথন - ৪ : ব্রিন আর পেইজের কথা - রাগিব
- হারিকেন - দ্য ডিভাইন উইন্ড (৩) - তানভীর
- ঢাকা, মৃতের শহর । । ঢাকা, সিটি অব দ্যা ডেড । । টাইম ম্যাগাজিন। সোমবার, মে ৩, ১৯৭১ - এহহামিদা
- ৭১ এর সকল বীর সেনানীর পক্ষ থেকে: ২০০৭ এর প্রজন্মের Xদফা দাবী - জ্বিনের বাদশা
- : আমাদের ক, খ, গ, ঘ, এবং ঙ : - নজমুল আলবাব
- জরুরি অবস্থার অগল্প - হিমু
খিদে,অনেক খিদে
০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ৩:২৫
আজকাল আমার খুব খিদে পায়। কেন পায়? জবাব খুঁজি। যেখানে আমার কথা উঠলেই সবাই বলতো পাখির আহার,অথবা দুর্বল স্বাস্থ্যের জন্য একদম প্রায় অরুচির মত না খাওয়ার স্বভাবটাকে দায়ী করতো,তার এখন সারাদিন খাইখাই লাগে। সেদিনও এক বন্ধুকে যখন বললাম তুমি বেশি খাও,আমাকে বললো,তুমি তো দু'চামচ খাও,ঐভাবে দেখলে তো আমাকে পেটুক মনে হবেই। খুব পছন্দের খাবারটাও আমি অল্প খেতাম,সেই আমার কেন এখন সারাদিন পেটটা খালি মনে হয়? কেন খুব সাধারণ খাবার দেখলেও খিদেটা চাগাড় দিয়ে ওঠে,মনে হয় সারাদিনেও কিছু খাইনি? খাবার দিন দিন দামী আর দুষ্প্রাপ্য হয়ে যাচ্ছে বলেই কি,এমনকি মধ্যবিত্তের জন্যও?
মধ্যবিত্তকে বিলাসদ্রব্য বা বাড়ি-গাড়ি নিয়ে চিন্তিত দেখা গেলেও,দৈনন্দিন চাল-ডালের যোগানে টান পড়ার চিন্তা খুব বেশি যে করতে হতো,তা না,অন্তত আমি করিনি,সৌভাগ্য। বাড়িতে ভিক্ষুক বা না খাওয়া ১টা মানুষ এলে,তাকে ১ মুঠো চাল বা সকালের বেঁচে যাওয়া ভাত-তরকারি দিয়ে দিতেও প্রায় কারোরই দ্বিধা ছিলোনা,এমনকি গ্রামেও গৃহস্থের ঘরে ঘরে ঘুরলে না খাওয়া মানুষগুলো রান্নার চালটুকু নিয়ে ফিরতে পারতো বেশিরভাগ জায়গাতেই। এখন পারেনা,দ্বিধা ছাড়াই বলতে পারি। চালের কেজি ৪৫ টাকা,মোটা চালও ৪০ টাকার কম না,ডাল ৬০-৭০ টাকা(কোন ব্যাটা এখন বলবে এটা গরীবের আমিষ?),আটাও নাকি ৫০ টাকা,রুটি খেয়ে ডায়েটের শখ থাকলে এখন আটা কিনে বসে থাকলেই হবে,দুশ্চিন্তাতেই মেদ কমে যাবার কথা। মুষ্টিভিক্ষা দেয়াটাও এখন নিম্নমধ্যবিত্তের আয়ত্বের বাইরে চলে যাচ্ছে,মধ্যবিত্ত এখন চাইলে ২টা টাকা দিয়ে দেবে কিন্তু একমুঠো চাল দিতে দু'বার ভাববে।
তো,এসবের সাথে আমার খিদে পাবার যোগটা কোথায়? ভেবেছি। আর ভেবে,একটা সময়ের অপক্ক চিন্তার জন্য অনুতাপও করছি। বাড়িতে মাঝে মাঝে ভিক্ষুক এলে,ছোটবেলায় দেখতাম,ভাত চাইলে মা দিত,ভাতের সাথে হয়তো বেঁচে যাওয়া তরকারি বা একটু ডাল,তাই গোগ্রাসে গিলতো মানুষগুলি,আমার ছোটবেলা থেকে আদরে মানুষ হওয়া মনে আর চোখে যে সেটা খুব একটা ভালো ঠেকতোনা,বলাই বাহুল্য। মা'কে যখন বলতাম এরা এরকম হুম-হাম করে কেন খাচ্ছে,মা খালি বলতো,খিদের জ্বালা তো বুঝো না বাবা,বুঝলে খাওয়া নিয়ে এইরকম ঢং-আল্লাদ করতে না আর মুখে তুলে খাওয়ানোর জন্য তোমার পিছনে আমাকে দৌড়ানো লাগতো না,তোমার অনেক বড় কপাল। সেইসময় বুঝতাম না,আজকাল কি একটু বুঝি? যখন নিচু স্বরে বলা বাবার "তেলের প্যাকেট ৪৯০ টাকা হয়ে গেছে" শুনি আর কপালে হালকা দুশ্চিন্তার রেখা দেখি,তখন সামনে রাখা অপছন্দের ভাজিটাও অনেক বেশি দামী মনে হয়,চেটেপুটে শেষ করে দিই,তা-ও তো পাচ্ছি আমি,বাপের ঘাড়ে বসে বসে,দিন আনে দিন খায় মানুষগুলো কোথায় যাচ্ছে? পরের দিনের খাবারটার অনিশ্চয়তা থাকলেই বুঝি মানুষের রুচি এভাবে বেড়ে যায়! নাকি আমার খিদেটা ঐ পরিবারটাই বাড়িয়ে দিয়ে গেল,ঐযে,বরিশাল থেকে ঢাকাতে একটা আশ্রয়ের সন্ধানে এসে যে মহিলা ৩ বাচ্চাসহ রাস্তায় বসে তীব্র শীতে কাঁপছিলো আর কাঁদছিলো? শুধু রাতটার জন্য পাশের বাসার বারান্দাটায় থাকার ব্যবস্থা করে দেয়াতে আর একবেলা খাবার চাল-ডাল পেয়ে যে খুশি আর নিশ্চিন্তির ভাবটা মানুষগুলোর মুখে দেখলাম,এরপর থেকে ডাল রান্নার গন্ধেই মনে হচ্ছে পেট খালি হয়ে গেছে,এতদিন ডালের স্বাদ বুঝিনি কেন??
ফাস্টফুডের দোকানগুলোর দিকে আগে বিশেষ ফিরে তাকাতাম না,এখন সেখানে নাদুসনুদুস সুখী সুখী খাদকগুলোকে দেখলেই কেমন জানি এদের কেটেকুটে রান্না করে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে,রাস্তার যে ছেলেটা দোকানের বাইরে বসে আছে সে-ও কি আমার মতই ভাবছে নাকি,না আমার মধ্যবিত্ত মানসিকতা সামান্য অভাবের টানেই নরখাদক হয়ে গেলো? আগোরা'র ৯০০ টাকা কেজি নাশপাতিগুলো বেশি সুস্বাদু নাকি সেটা যাদের ঝোলায় ঢুকছে সেই ইংরেজি বলা আল্ট্রা মডার্ন ছেলেমেয়েগুলো,সেটাও ভাবি। রোজ ২৫০-৩০০ টাকার বার্গার সাঁটানো পাজেরো লেক্সাস হাঁকানো ২১০০ কোটি টাকা চুরি করা তিতাসের কাদের মোল্লার পরিবারবর্গকে গ্রিল করে আমাদের চাল-ডালের বিকল্প হিসেবে চালানো যায় কিনা তাও বিবেচনা থেকে বাদ যায়না। মাথাটাই গেছে মনে হয়,আবারো খাওয়ার চিন্তা। এই ফকিরি মানসিকতার জন্যই সারাজীবন খাইখাই করা লাগবে মনে হচ্ছে,রাস্তার পাশে বসে থাকা হাভাতে লোকগুলির জুলজুলে চাউনি দেখার চেয়ে ওদের পেটে লাথি মেরে নিত্যখাদ্য মজুদ করে বরং নিজের বৌ-ছেলেমেয়ের জন্য জমাও হে গর্দভ,তাহলে ওরাও পিজ্জা হাটে বসে ৫০০ টাকার ফ্যামিলি সাইজ সাঁটাবে,তোমার মত বাইরে থেকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকবেনা,নিজেকে বলি,মনে মনেই যদিও,কিন্তু বিড়বিড় করেও খানিকটা,মানুষজন একটু অবাকই হয় আজকাল এই স্বভাবটার জন্য।
শেষরাতে বসে যখন লেখাটা লিখছি,তখনো বেশ একটা জোর খিদে খিদে,খাইখাই ভাব। কি খাওয়া যায়? নাবিস্কোর বিস্কুটের প্যাকেটটা খুলি,এককালে অখাদ্য মনে হওয়া বিস্কুটটা আজকে খুবই লোভনীয় লাগে,খেয়ে ফেলি বরং ৩-৪টা। মুড়ি আছে বাসায়,৪৮ টাকা কেজি মনে হতেই খিদে আরো বেড়ে যায়,ঝটপট খানিকটা চালান করে দিই মুখে। সারাদিন না খাওয়া বাচ্চাগুলির মুখটা মনে পড়ে,কে জানে এখান থেকে তো চলে গেল,আজকে খাওয়া জুটলো কিনা? মুড়ি চিবানো বেড়ে যায় আমার,বুভুক্ষুর মত খেয়ে চলি,১০০ বছরের মজুদ একবেলাতেই পেটে ভরে নিতে চাই, এ'বেলা তো খেয়ে নেই,খাওয়া যখন জুটেই গেছে! যেমন ওদের চোখের ক্ষুধার্ত ভাষায় লেখা থাকে,বিড়বিড় করে উঠি,আপনমনে--"ভাত দে হারামজাদা,নইলে মানচিত্র খাবো,তোর লাল রঙের গাড়িটা খাবো,আর তোর নাদুসনুদুস মাখন খাওয়া কুকুরগুলোকেও খাবো।"
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): এলোমেলো ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
নির্বাসিত বলেছেন:
খুব ভাল লাগলো লেখাটা। খিদে পেলো আমারও।
লেখক বলেছেন: নির্বাসিত,আজকে সত্যিই ধন্য হলাম,প্রিয় ব্লগারকে দেখে। প্রার্থনা করি এমন খিদে যেন কারো না পায়।
নিবেদীতা বলেছেন:
ভাল লাগলো।
লেখক বলেছেন: নিবেদীতা অনেক কৃতজ্ঞতা।
অলস ছেলে বলেছেন:
লেখার থিমটা ভালো লাগলো।বন্ধুদের মধ্যে দেখেছি, যারা বেশী খেতে পারেনা তাদেরকে।
তবে আমি সবসময়ই বেশী খাওয়াদের দলে।
আর, যারা চেয়েও প্রয়োজনীয় খাওয়াটা পায়না, তাদের জন্য আপনার চিন্তা গুলো প্রশংসনীয়। আমাদের সবারই ভাবা উচিত বিষয়গুলো নিয়ে।
লেখক বলেছেন: অলস ছেলে,মাঝে মাঝে নিজের ভাবনাহীনতা দেখে খুব ভয় লাগে,এত স্বার্থপর আমি,কি পেলাম না এই ভেবেই জীবন শেষ,আরো কতজন আমার মতও পাচ্ছেনা ফিরেও দেখি না। পড়ার জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা।
মিরাজ বলেছেন:
খিদে দেখেছি অনেক কাছে থেকে, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর । ফারহান এই মানুষগুলি অধিকাংশ সময়ই নির্বাক হয়ে পৃথিবীর অবিচার দেখে, খিদের কথা বলতে বলতে নি:শব্দে চোখ থেকে পানি গড়িয়ে যেতে দেখেছি । তারপর বাসায় এসে ভরপেট খেতে অপরাধী লাগতো, ভাতের পাশে সারি সারি তরকারিকে মনে হতো অশ্লীল । ভালো লাগলো লেখাটি ।
লেখক বলেছেন: মিরাজ ভাই,সবচেয়ে বেশি অপরাধী লাগে যখন কিছুই না করে আবার নিজের ভাতের থালাটা আরামে শেষ করে ঢেঁকুর তুলে ওদের কথা ভুলে যাই,এভাবেই তো চালাচ্ছি। মাঝেমাঝে ২-১ কলম লেখা,কিছু করতে পারলাম তো না।
পুতুল বলেছেন:
"ফাস্টফুডের দোকানগুলোর দিকে আগে বিশেষ ফিরে তাকাতাম না,এখন সেখানে নাদুসনুদুস সুখী সুখী খাদকগুলোকে দেখলেই কেমন জানি এদের কেটেকুটে রান্না করে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে,রাস্তার যে ছেলেটা দোকানের বাইরে বসে আছে সে-ও কি আমার মতই ভাবছে নাকি,না আমার মধ্যবিত্ত মানসিকতা সামান্য অভাবের টানেই নরখাদক হয়ে গেলো? আগোরা'র ৯০০ টাকা কেজি নাশপাতিগুলো বেশি সুস্বাদু নাকি সেটা যাদের ঝোলায় ঢুকছে সেই ইংরেজি বলা আল্ট্রা মডার্ন ছেলেমেয়েগুলো,সেটাও ভাবি। রোজ ২৫০-৩০০ টাকার বার্গার সাঁটানো পাজেরো লেক্সাস হাঁকানো ২১০০ কোটি টাকা চুরি করা তিতাসের কাদের মোল্লার পরিবারবর্গকে গ্রিল করে আমাদের চাল-ডালের বিকল্প হিসেবে চালানো যায় কিনা তাও বিবেচনা থেকে বাদ যায়না। মাথাটাই গেছে মনে হয়,আবারো খাওয়ার চিন্তা।""এই ফকিরি মানসিকতার জন্যই সারাজীবন খাইখাই করা লাগবে মনে হচ্ছে,"
এই চিন্তাটা খুব মনে ধরেছে। তার মানে এই নয় যে গল্পের বাদবাকী মেনু পছন্দের তালিকায় নেই। খু.......ব ভাল লেখা এবং লেখার মেনু। অকুন্ঠচিত্তে যোগী হলাম।
লেখক বলেছেন: পুতুল আপা,মাঝে মাঝে রাগ হয়,ক্ষোভ জাগে,আবার পরক্ষণেই মিইয়ে গিয়ে অন্যের পাতে দায়িত্ব তুলে দিয়ে খালাস হয়ে যাই,কোন এক জায়গায় নিজেকে ভাঙা দরকার,পারি না। অকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতা পড়ার জন্য।
লেখক বলেছেন: না বলা কথা,ধন্যবাদ। ভাই আমরাই তো খাইলাম,রাক্ষসের মত খায়াই যাই,আর কত?
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
আগোরা'র ৯০০ টাকা কেজি নাশপাতিগুলো বেশি সুস্বাদু নাকি সেটা যাদের ঝোলায় ঢুকছে সেই ইংরেজি বলা আল্ট্রা মডার্ন ছেলেমেয়েগুলো,সেটাও ভাবি। রোজ ২৫০-৩০০ টাকার বার্গার সাঁটানো পাজেরো লেক্সাস হাঁকানো ২১০০ কোটি টাকা চুরি করা তিতাসের কাদের মোল্লার পরিবারবর্গকে গ্রিল করে আমাদের চাল-ডালের বিকল্প হিসেবে চালানো যায় কিনা তাও বিবেচনা থেকে বাদ যায়না।তীব্র এবং ভীষণ ধারালো ক্ষোভের প্রকাশ ।
তিতাসের কাদের মোল্লাদের মত মনুষ্য অবয়বধারী জানোয়ারদের গ্রিল করে আমাদের চাল-ডালের বিকল্প হিসাবে চালিয়ে দিতে পারলে জাতীর বিরাট উপকার হতো ! বৈপ্লবিক পরিবর্তন হতো সন্দেহ নেই ।
মুশকিল হলো,এইসব জানোয়ারদের গ্রিল করে খাওয়াও যাবে না ! ধর্মে জানোয়ার খাওয়া হারাম !
লেখক বলেছেন: "মুশকিল হলো,এইসব জানোয়ারদের গ্রিল করে খাওয়াও যাবে না ! ধর্মে জানোয়ার খাওয়া হারাম !"
শিপন ভাই,দুঃখের মাঝেও আপনার কমেন্ট টা দেইখা হাসতে হাসতে চেয়ার থেকে পইড়া গেসি প্রায়। আমিই আপনারে + দিলাম।
লেখক বলেছেন: তাইলে বলতে হয় নাশপাতির দাম দেইখা বেশুকর হয়া গেসি![]()
পুতুল বলেছেন:
এই ক্ষোভ, রাগ, মিইয়ে যাওয়া এবং তার পরে নিজেকে ভাঙা-র চেতনাটাই প্রয়োজন। এখান থেকেই সব কিছুর শুরু। অভ্যস্ত পথে চলতে আমরা সবাই কম বেশী পারদর্শী। অজানা নতুন পথের সন্ধানের আগে, অভ্যস্ত পথটাকে অন্তত একমাত্র পথ মনে না করলে, নতুন পথের সন্ধান কে করে?আর এই ক্ষোভ, রাগ, মিইয়ে যাওয়া এবং তার পরে নিজেকে ভাঙা-র চেতনাই ধীরে ধীরে অন্তত নতুন পথের সন্ধানী করবে।
পা না বাড়ালে পথ পাওয়া যায়না। বাড়ালে পাওয়া যাবে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। তবে আমাদের সমাজের প্রেক্ষীতে নতুন পথের সন্ধান এখনই করা জরুরী। আপনার চিন্তা নিয়ে আপনি আসুন, আমার মনে হয় এখানে অনেক সহযাত্রী পাবেন। আপনার লেখনীটিও তার পক্ষে যথেষ্ট উপযোগী।
লেখক বলেছেন: তাহলে প্রার্থনা করুন বারবার যেন আমরা মিইয়ে না যাই,বেঁচে থাকতে কখনো যেন শুরু করার দাগটা রেখে যেতে পারি।
ৃৃমম বলেছেন:
ফারহান, লেখাটা ভালো লাগলো। খাদ্যের দাম কম বলে যে মার্কিন দেশের একদা পরিচিতি ছিলো সেখানেও খাবারের দাম বেড়েছে গত কয়েক মাসে ২০% ভাগ(সেই সাথে সবার আয় যে ২০% বাড়েনি তা নিজের পকেটের দিকে তাকিয়েই বলতে পারি)। আমার হয়েছে ফুটণ্ত কড়াই বনাম জ্বলন্ত চুলার দশা। প্রাতিষ্ঠাণিক পড়ালেখার এই আখেরি পাট চুকলে একটাকে তো বেছে নিতেই হবে। এ মুহুর্তে বুঝতেছি না কোনটা কড়াই আর কোনটা চুলা হবে আমার জন্য। তাই বলি এই বছরটা আমার জীবনেও জটিল।
লেখক বলেছেন: ৃৃমম ভাই,আর যা ছাড়াই চলুক,খাবার ছাড়া কিভাবে বাঁচে মানুষ বলেন? এখন এই গরিব দেশের মানুষের মৌলিক জায়গাটায় হাত পড়েছে,এতদিন শুধু নিম্নবিত্তরা বুঝতো,এখন অন্যদেরো ঠেলা সামলানো লাগে,আর যাদের আগেই অভাব ছিল তাদেরটা ভাবতেও ভয় লাগে। আসলে,কোন দেশেই কি না-খাওয়া মানুষের কষ্ট নিয়ে কেউ ভাবে? মার্কিন দেশেও তো কত বুভুক্ষু লোক আছে শুনি।
চুলা পর্যন্ত যখন চলেই গেছেন,উপরওয়ালার নাম নিয়ে ১টায় লাফ দিয়ে পড়ুন,পুড়ে মরা আর সেদ্ধ হয়ে মরাতে বিশেষ তফাৎ আছে বলে মনে হয়না![]()
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
বরিশাল থেকে ঢাকাতে একটা আশ্রয়ের সন্ধানে এসে যে মহিলা ৩ বাচ্চাসহ রাস্তায় বসে তীব্র শীতে কাঁপছিলো আর কাঁদছিলো......ভাইয়া এত সুন্দর লিখেছেন....জলে চোখ ভিজে গেলো মনের অজান্তে.....। ধন্যবাদ এত সুন্দর লেখার জন্য এবং আপনার সুন্দর মন-মানসিকতার জন্য.....আপনার সাথে একমত।
লেখক বলেছেন: ভাই মাঝে মাঝে নিজের পলায়নপর মনোভাব দেখে নিজের হাত কামড়াতে ইচ্ছা করে। এই যে লিখলাম,কালকেই আবার ভুলে যাবো হয়তো। যারা পড়লো তাদের ২-১ জনও যদি মানুষগুলোর কথা মনে করে,এই আশাতেই লেখা।
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
প্রিয়'তে রাখলাম।
লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞ হলাম।
লেখক বলেছেন: কোলাহল,আমরা না খেলেও আর কেউ খাবে কোনদিন আমাদেরটা,জবাব দিতে হবে,যাবো কোথায়?
মদনবাবু বলেছেন:
ভালো লিখেছেন ।+
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মদনবাবু।
লেখক বলেছেন: লজ্জা দিয়েন না বস্,ঐখানে বিগ বসদের লেখা,আমি হইলাম পোলাপান। পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা।
লেখক বলেছেন: মেহরাব,অনুবাদ করো। তবে পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
নিবেদীতা বলেছেন:
প্রিয়তে রেখে দিলাম
লেখক বলেছেন: নিবেদীতা,কৃতজ্ঞ এবং সম্মানিত হলাম।
খোলাচিঠি বলেছেন:
কিছু গুরুত্তপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি খুব মজা করে লিখে ফেললেন। ভাল লাগলো লেখা পড়ে।। মা গুলো মনে হয় একি মতন হয়। আমিও কতবার শুনেছি কপাল গুনে আমি এখন বসে বসে খেয়ে যাচ্ছি , কত মানুষ আছে ক্ষিদে নিয়ে বসে থাকে কিন্তু কপালে ভাত জুটেনা। আপনার লেখাটা পড়ে আমি এখন লজ্জা পাচ্ছি। খাওয়া দাওয়া আমার কাছে একটু ঝামেলা মনে হয়। কিন্তু এর মানে এটা মোটেও নয় আমি খাবারের মর্যাদা বুঝিনা। আমার আরো বেশি লজ্জা লাগে যখন আমি চিন্তা করি আমি এখোনো বাপের হোটেলে ফ্রি খেয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এই কথা মা কে বুঝানো যায় না।আচ্ছা, ২৫০-৩০০ টাকা দিয়ে বার্গার খাওয়ার কোন মানে হয়?
লেখক বলেছেন: মানে হয়না কিন্তু সেটা খাইতে না পারলে মনে হয় জাতে উঠা যায়না,যত দামী বার্গার খাওয়া যাবে তত হাইক্লাস। একবার একজনরে বলছিলাম আমি ঢাকার নামী কোন ফাস্টফুডের দোকান চিনিনা,এমন ভাব করলো মনে হইলো আমারে জেলে দেয়া দরকার এখনি। (আমার আঙ্গুর ফল টক,অত দামী দোকানে যাওয়ার টাকা নাই,কাজেই চিনতেও যাইনা) ![]()
খোলাচিঠি বলেছেন:
হা হাশুধু বার্গার খাওয়াই নয় কিছু ফ্যাশ্নেবল ইংলিশ খাবারের নামও জানতে হবে জাতে উঠতে হলে। যত্তসব আজিরা চিন্তাবাভনায় আজকের পোলাপানের মস্তিষ্ক ভরে গেছে। @ জাতের পাবলিক
কিন্তু একটা কথা ভাবেন, শুধু সামর্থ আছে বলেই কি এত বিলাশিতা দেখাতে হবে?
লেখক বলেছেন: উচিত-অনুচিত ভেবে যদি চলতাম সবাই তাহলে আজকে এই লেখাই লেখার দরকার হতোনা
জাতে উঠার সামর্থ্যও ছিলোনা কখনো,হলেও মনে হয় উঠতে পারবো না,ঐযে,ফকিরি মানসিকতা
সবাই শুধু একবার হলেও ভাবুক আমরা কোথায় যাচ্ছি,একবার হলেও।
নরাধম বলেছেন:
আপনার "ওদের জ্ঞান দাও প্রভু, ওদের ক্ষমা কর" লেখাটা এখনও আমার শোকেসে শোভা পাচ্ছে। অসাধারন লিখেন আপনি। ক্ষিধের জ্বালা আমি জানি। যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রথম দুইদিনই না খেয়ে ছিলাম। কোক আর চিপস খেয়েছিলাম। তাছাড়া প্রতিদিনই একবেলা ভাত খাচ্ছি অনেকদিন থেকে। খিদের কষ্টের মত আর কিছুই নেই।আপনার লেখাটা মন ছুয়ে গেল।
লেখক বলেছেন: একবার হলেও যদি ভাবেন,তাহলেও আমি ধন্য। উপরওয়ালার কাছে কৃতজ্ঞ যে কখনো এই কষ্ট করতে হয়নি,কিন্তু এরচেয়ে বড় কষ্ট যে নেই সেটা একবেলা না খেলেও বুঝি,অন্তত ভাবি যে বুঝি,হয়তো সত্যিকারের কষ্ট সে বোঝে যার পরের বেলার খাবার নিশ্চয়তা নেই। অনেক ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
ফারজানা মাহবুবা বলেছেন:
কঠিন বাস্তব লিখেছেন!আমার খুব কাছের একজন মানুষের দশ বছরের ছেলেকে এখনো মুখে তুলে খাওয়ায়ে দেয় ওর মা।তাও ছেলের কত আল্লাদ! এই খাবো না, ঐ খাবোনা! কার্টূন দেখতে দেখতে বালিশে ঠেস দিয়ে খাবে, কত আল্লাদ!
পাশে পানির গ্লাস নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সমবয়সী কাজের ছেলে। একদিন কাজের ছেলেটা আনমনে কার্টূন দেখতে দেখতে পানির গ্লাস আগায়ে দিতে দেরী হয়ে গিয়েছিল, সপাটে থাপ্পড়!
আপনার লেখাটা পড়ে সেদিনের কথাটা মনে পড়ে গেল। থাপ্পড় খাওয়া কাজের ছেলেটার চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম অনেক্ষন… ওর চোখের কোনের টলটলে পানি, মুখের ঘৃনার ভাব লুকিয়ে ফেলার আপ্রান চেষ্টা……
নরাধমের মত আমারো অভিজ্ঞতা আছে।
জবের টাকা পাইনা, টিউশন ফি দিয়ে হাত খালি…… দেশে আব্বাম্মাকেও বলতে পারিনা কারন চ্যালেঞ্জ দিয়ে গিয়েছি নিজের পড়ালেখার খরচ নিজেই চালাবো …
এ জন্যেই যখন এই পিচ্চি ছেলেটা বালিশে ঠেস দিয়ে কার্টূন দেখতে দেখতে মায়ের হাতের নলা খায়, আর কাজের ছেলেটা পানির গ্লাস আগায়ে দিতে দেরী করে বলে চিতকার করে বলে ‘ওকে আরো একটা মারো আম্মু!’………… সবকিছু এত বেশী অমানুষিক লাগে!
লেখক বলেছেন: কি আর বলবো,এখন আপনাদের কথা শুনে আমারই মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আবার এইটুকু সান্ত্বনা পাচ্ছি,না,অনেকে ভাবে,সবাই আমার মত হাত-পা গুটিয়ে বসে নেই।
লেখক বলেছেন: বিহংগ,অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা ভাবার জন্য,পড়ার জন্য।
আপনার এই ব্যাপারগুলা খুব ভাল লাগে।নিজের কথা বলতে বলতে চারপাশের মানুষগুলোর জীবনও কেমন সুন্দর করে জড়িয়ে ফেলেন।
আপনার লিখতে চাওয়ার ক্ষুধা আরো বাড়ুক।এক মাসে একটা,দুইটা মাত্র লিখা।ক্ষিদা লাগেনা??
লেখক বলেছেন: নারে ভাই,আমার লেখা জোর করে খাওয়ার মত,ক্ষমতা কম থাকলে যা হয়,তার চেয়ে পড়া কত আরাম,সবাই লেখে,আমি ফ্রিতে পড়ি,২০০ টাকা কেজি দিয়া কেনা লাগেনা
লেখক বলেছেন: হরিসূধন,অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ,আমরা রাস্তায়ও নামতে পারিনা,এই হইলো জ্বালা। ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
আইন একটি দেশের সাধারণ মানুষের জন্য, তাদের রক্ষার জন্য, তাদের মৌলিক চাহিদাগুলোর নিরাপত্তাবিধানের জন্য। সরকার তাই যদি না পারে তাহলে কিসের সরকার? কিসের সমাজ?
আমাদের দেশের মানুষগুলো এত ঠান্ডা বলেই এখানে কিছু মানুষ এত অন্যায় করে পার পেয়ে যায়।
কিন্তু আমি জানি, আমার যদি কখনো ক্ষিধে লাগে, তাহলে আমি হানা দিয়ে আমার খাবার জোগাড় করবো। এখন যারা না খেয়ে থাকে তাদের সবারই তা করা উচিৎ। তাহলে যদি সরকারের টনক নড়ে!
লেখক বলেছেন: আমাদের দেশের মানুষের ধৈর্য্যটা অনেক বেশি,একদম দেয়ালে পিঠ না ঠেকলে কিছু করেনা,কিন্তু নিরীহ মানুষ বিস্ফোরিত হলে পরিণতি খুব খারাপই হয়। এখনি কিছু করা দরকার,বিস্ফোরণের আগেই।
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
যখন নিচু স্বরে বলা বাবার "তেলের প্যাকেট ৪৯০ টাকা হয়ে গেছে" শুনি আর কপালে হালকা দুশ্চিন্তার রেখা দেখি,তখন সামনে রাখা অপছন্দের ভাজিটাও অনেক বেশি দামী মনে হয়,চেটেপুটে শেষ করে দিই,তা-ও তো পাচ্ছি আমি,বাপের ঘাড়ে বসে বসে,দিন আনে দিন খায় মানুষগুলো কোথায় যাচ্ছে? পরের দিনের খাবারটার অনিশ্চয়তা থাকলেই বুঝি মানুষের রুচি এভাবে বেড়ে যায়! ভালো লাগার.. মন ছোঁয়ার মতন কিছু গোপন বেদনার কথা বলেছেন... + প্রিয় ।
লেখক বলেছেন: নিজেদের খাওয়াতে টান না পড়া পর্যন্ত আসলে বুঝা যায় না রে ভাই,এখন পড়লো কিনা,তাই হয়তো বেশি বুঝি। অনেক কৃতজ্ঞতা পড়ার জন্য।
নিলা বলেছেন:
মধ্যবত্তি পরিবারে বড় হয়েছি, তবুও আদর আর আহ্লাদের কমতি ছিলো না। খাবার জিনিসটা সব সময় আমার অপছন্দের ছিলো। এটা ভালো লাগে না, ওটা খাবো না.....এটা পচা খাবার....আরো হাবিজাবি কথা।
আমাদের চার ভাই বোনদের খাওয়ানোর জন্য মা সারাক্ষন বসে থাকতেন, কে কোনটা খাবে, কে কোনটা পছন্দ করবে.....এই নিয়ে মার ভাবনার শেষ নেই। ক্ষিদে জিনিসটা কখনো টের পাইনি। ছোট বেলায় মাকে বলতাম "আম্মু ক্ষিদে পায় কিভাবে?"
হাস্যকর!
আমার আশেপাশে অনেকে আছে যারা আমার মত খাবার নিয়ে অন্যায় আবদার করবে না.....যাই পাবে তাই তারা তৃপ্তি নিয়ে খেলে ফেলবে।
ওদের ত তিন বেলা খাবার জোগাড় করাই কষ্টকর!
আপনার লেখাটা পড়ে, নিজেকে অনেক ক্ষানি অপরাধী লাগছে।
ভালো লাগলো খুব, খুব, খুব
লেখক বলেছেন: খাওয়া নিয়ে ঝামেলা করেছি ছোট থেকেই,এখন করিনা। আগে এতটা চোখে পড়তো না,ইদানিং খাবারের দাম বেড়ে গিয়ে পুরো দেশের গরিবি হালটা ভয়ংকরভাবে বের হয়ে গেছে আমাদের ব্যাঙ্গ করার জন্যই হয়তো। হাত কামড়ানো ছাড়া তেমন কিছুই করতে পারিনা,কিছু ১টা করা দরকার। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
ইয়াহইয়া ফজল বলেছেন:
দীর্ঘ পোস্ট। তবে ভালো লেগেছে।
লেখক বলেছেন: অনেক কৃতজ্ঞতা এত লম্বা লেখাটা পড়ার জন্য।
প্রণব আচার্য্য বলেছেন:
ভালো লাগল+
লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ।
দেবদারু বলেছেন:
অসম্ভব সুন্দর আবেগী এই পোস্টটির জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই................. ++ এর চাইতে অনেক বেশি কিছু.........
লেখক বলেছেন: দেবদারু ভাই,কৃতজ্ঞতা আমারি,পড়ার জন্য,বোঝার জন্য।
লেখক বলেছেন: সোনার বাংলা অনেক অনেক ধন্যবাদ।
কথা ঠিক,সবার মন্তব্যগুলি আমি আবার পড়ি,অনেকগুলিই আলাদা করে পোস্ট দেয়ার মত,ভাবানোর মত।
আবূসামীহা বলেছেন:
আমি খেতে বসে অনেক সময় চোখের নোনা পানির স্বাদ গ্রহন করি, যখন এদের কথা ভাবি।অসাধারণ হয়েছে।
লেখক বলেছেন: আবূসামীহা,অনেক ধন্যবাদ।
মুনিয়া বলেছেন:
খুব ভাল লিখেছেন। আপনার দৃষ্টি তো অন্তর্ভেদী...
তবে না খাওয়াদের খিদে বাড়াটার সাথে আবহাওয়ার যোগ আছে কিনা ভাবছি। আমার যে দোস্তটা খাওয়ার চেহারা দেখলেই বিরক্ত হয়, আজকাল তারও নাকি খিদে লাগে। কিছুটা মোটাও হয়েছে খেয়ে খেয়ে!
আর আমি কি বলব... অটোক্যাড এ প্ল্যান আঁকছি আর ৫ নম্বর ক্যাডবেরি টা সাবাড় করে আপনার লেখাটা পড়লাম। টনক নড়ার পর প্যাকেট রেখে এসেছি।
আসলে নিজের কাছেও অপরাধী লাগে অনেকসময়। এজন্য চিন্তাগুলো চাপা দিয়ে রাখি। ডিজুস দোস্তদের সাথে আড্ডা অথবা আর্কিটেকচারের আঁতলামোর ফাঁকে চার পাঁচ বয়সী অভুক্ত শিশুগুলোর মরিয়া হয়ে ভিক্ষা আদায়ের চেষ্টা নিয়ে হাসি-ঠাট্টাও হয়ে যায়।
আপনার লেখাটা পড়ে একটা বড় ধাক্কা খেলাম। অনেকদিন এসব নিয়ে ভাবি না....
প্রিয় পোস্টে নিলাম।
লেখক বলেছেন: অপরাধী নিজেরো লাগে,যখন লজেন্স বেচা বাচ্চাগুলোর মরিয়া চেষ্টা দেখে যা ভাগ বলে ১টা ধমক লাগাই। মানসিকতার সমস্যাই হবে আমার,না পারি রাখতে না পারি ফেলতে,মাঝখানে ঝুলে আছি।পড়ার জন্য,বুঝার জন্য কৃতজ্ঞতা।
বাঙাল যুবক বলেছেন:
বাসের জানালার পাশে ১০ বছরের ছেলেটা দাঁড়িয়ে। টাকা চাচ্ছে খুব কাকুতি-মিনতি করে।কিছুক্ষণ আগে পঙ্গু ভিক্ষুকটাকে দিয়েছি। ছেলেটাকে বলতেও পারছিনা পকেটে টাকা নাই, ভাংতি নাই। বাজারে সব খেয়ে ফেলেছে। অন্যদিকে তাকিয়ে থাকি।
আর এভাবে অন্যদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে আমাদের ক্ষুধা আরো বেড়ে গেছে।
লেখাটা খুব শক্তিশালী।
লেখক বলেছেন: "কিছুক্ষণ আগে পঙ্গু ভিক্ষুকটাকে দিয়েছি। ছেলেটাকে বলতেও পারছিনা পকেটে টাকা নাই, ভাংতি নাই। বাজারে সব খেয়ে ফেলেছে। অন্যদিকে তাকিয়ে থাকি।
আর এভাবে অন্যদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে আমাদের ক্ষুধা আরো বেড়ে গেছে।"
না বলা কথাটাও বলে দিলেন রে ভাই।
হৃদছায়া বলেছেন:
সুন্দর লেখা, লেখাটার উপলব্ধি কষ্টেরআসলে আমরা খুব স্বার্থপর, দেখি, শুনি, বুঝি..কিন্তু কিছু করিনা। যাদের করার মত সামর্থ্য আছে, তারাও কিছু করেনা। কেউ একজন এসে সব ঠিকঠাক করে দেবে ভেবে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকি।এই যে, আপনার লেখাটা পড়লাম, বুঝলাম, খারাপ লাগলো, কিন্তু কি করছি...কিছুই না.......
লেখক বলেছেন: দশবার মনে পড়ে একবারো যদি করি কেউ,তাও তো ১ জনের হয়। নিজেদের আত্মার জন্য প্রার্থনা করি চলুন।
লেখক বলেছেন: এভাবেই চলছে,চলবে,তাও মাঝে মাঝে বোধের উদয় হওয়ার দরকার হয়।
রুকনুজ্জামান বলেছেন:
amar pc te ajob karone bangla astese na.phonetic use korar poreu, tai english okhor babohar kolamlekha tor oshadhoron hoese.kintu chaileu j tui khaite parbi na ta to janos(karonta koilam na).
tor lekha porte gia amar khida laiga gese.dekhi kisu ase kina.
লেখক বলেছেন: হুম,সবাই খাইতে আসেনা,কেউ কেউ খালি দেখেই যায়,কি আর করা,ব্যালেন্স তো করা লাগবে।
খোলাচিঠি বলেছেন:
কুশল-বিনিময় করতে আসলাম। ভাল আছেন?
দেবদারু বলেছেন:
@ফারহান ভাই, একটা অনুরোধ (পুনঃঅনুরোধ বলাই বোধহয় ঠিক হবে) নিয়ে আপনার এই পোস্টটিতে ঢুকলাম। মননভূমি থেকে আমি অব্যহতি চেয়েছিলাম এবং আপনিও তা কার্যকর করার আশ্বাস আমায় দিয়েছিলেন। হয়তো আপনি ব্যস্ত বলে এই বিষয়টা নিয়ে আর মনোসংযোগ দিতে পারেন নি। আমি চাইছি না মননভূমির সদস্য লিস্টে দেবদারু নামটি দেখাক, কিংবা দেবদারু ব্লগে আমার গ্রুপসমূহ লিস্টে মননভূমি নামটি দেখাক। কষ্ট করে সমস্যাটির সমাধান করে দিলে আমি কৃতজ্ঞ থাকবো.........আমি লেখা কম পড়ি- ব্লগে কবিতার দিকেই ঝোঁক বেশি আমার। আপনার লেখা তো ভালো হয়-ই, তবু আপনার কবিতার পানেই চোখ পেতে রাখি। অচিরেই পাবো নিশ্চয়.........
লেখক বলেছেন: দেবদারু ভাই,আপনার অনুরোধ রাখা হল।
আপনার লেখা কোথায়? ব্যস্ত কি?
ফেরারী ফেরদৌস বলেছেন:
ভাল লিখেছেন - সে তো অনেকেই বললো।খাই খাই স্বভাবের আমাদের রাজনীতিবিদদের মত হয়ে না গেলেই বেঁচে যাই। ক্ষুধা যেন পরিমিত থাকে।
লেখক বলেছেন: না খেতে না খেতে না জানি কবে মানচিত্র খাওয়া শুরু করে দেই!
ফেরারী ফেরদৌস বলেছেন:
জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে মানচিত্রটাও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেলে বিস্মিত হবো না! হাহাহা।
লেখক বলেছেন: কথা ঠিক,কাগজেরও অনেক দাম।
লেখক বলেছেন: অনেক পুরানো কথাটা আমাদের বেলায় বারবার খাটে,যে যত পায় সে তত চায়,আমাদের যাদের আছে আমরা শুধুই চাই আরো বেশি। পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
তানজু রাহমান বলেছেন:
দারুন পোস্ট দিসেন ভাই। আজকে দেখলাম।
লেখক বলেছেন: কোন সমস্যা নাই,দেখলেই আমি সার্থক,অনেক ধন্যবাদ।
|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন:
ফারহান, আপনার লেখাটা পড়েই লগইন করলাম। কি আর বলবো, নিজে খাটুনি দিয়ে পরিশ্রম করে ও পেটপুরে খেয়ে ভয়ংকর লজ্জাবোধ হয়।গত সপ্তাহে উত্তরার একটা সাইটে গেলাম, প্রায় পঁচিশজনের মতো শ্রমিক আমাদের মিলিয়ন ইউরো'র ইক্যুইপমেন্ট লোকেট করছিলো। প্রথম দিন , দুপুর এগারোটা বাজে - তাই নিজের টাকাতেই কিছু নাস্তা আনালাম , সবাই বসে খাবো। তেমন কিছু না - একটা সন্দেশ , একটা সমুচা , একটা সিঙ্গারা।
ওদের খাবার ভংগি দেখেই সন্দেহ হলো, বুড়োমত একজনকে চাচা ডেকে টেকে যা শুনলাম তাতে আমার হাতের সিঙ্গারা হাতেই থেকে গেলো।
অধিকাংশ শ্রমিক এখন সকালে দুই-তিনটা বিস্কিট আর পানি খেয়ে বের হয়, চাচা ওইদিন সকালে তাও খান নাই।
এতো কিছু লিখার মানে হচ্ছে, কাল থেকে তো ওই সাইটে যাবো আবার আগামী এক সপ্তাহ, নাস্তা করেই যাবো নিশ্চয়ই ; ঐ মুখ গুলোর সামনে দাঁড়াবো কীভাবে, যারা একদিনে যে শারীরিক পরিশ্রম করছে যা করলে আমি দশদিনে লাশ হয়ে যেতাম?
লেখক বলেছেন: অলস ছেলে,মাঝে মাঝে নিজের ভাবনাহীনতা দেখে খুব ভয় লাগে,এত স্বার্থপর আমি,কি পেলাম না এই ভেবেই জীবন শেষ,আরো কতজন আমার মতও পাচ্ছেনা ফিরেও দেখি না।
লেখক বলেছেন: লেখাটা লেখার পেছনে একটা বড় ফ্যাক্টর ছিল আমার সাইটের শ্রমিকরা,বেকার হবার আগে ৪ মাস কাজ করেছিলাম। পাইলিং করার রিগগুলো যখন টানতো,মাঝে মাঝে আমার আতংকিত লাগত,কিভাবে সম্ভব,কিছু না খেয়ে,এমন কাঠফাটা রোদে,যেখানে আমি দাঁড়িয়ে থেকে মাথা ঘুরায়?
জনৈক আরাফাত বলেছেন:
শুধুমাত্র আবেগের চালাচালি থেকে আমরা কবে বের হতে পারবো, ফারহান?অফটপিকঃ লেখাকে খারাপ বলার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছি না।
লেখক বলেছেন: সম্ভবত পারবো না, যারা কাজ করে তারা ব্লগ লেখে কম।
অদ্ভুতুড়ে বলেছেন:
এ জগতে হায়, সেই বেশি চায়, যার আছে ভুরিভুরি;রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙ্গালের ধন চুরি ...
ভাল লেখা
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
টংকেশ্বরী বলেছেন:
সত্যি খুব ভালো লেখা
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...




















