[খেলা নিয়ে লিখবো বলেই ব্লগে এসেছিলাম,পরে কেন যেন আর ২-৩টার বেশি দেয়া হয়নি পোস্ট। ভাবছি ইউরো ২০০৮ এর কয়েকটা ম্যাচ নিয়ে কিছু লিখব,যেগুলো ভাল লাগবে। খেলাপ্রেমীদের স্বাগতম,যারা খেলা ভালবাসেন না তাদেরো আমন্ত্রণ,যদি লেখাগুলো পড়তে গিয়েও ২-১ টা খেলা দেখে ফেলেন এই আশায়
আজকের পর্তুগাল আর তুরস্কের ম্যাচ দেখার পরে প্রথমেই যা মনে হচ্ছে,ডেকো তার ক্লাব বার্সেলোনার ভয়াবহ বাজে ফর্ম নিয়েই ইউরোতে এসেছেন,আর তুরস্কের জন্য রেফারিদের বাড়তি কয়েকটা লাল-হলুদ কার্ড পকেটে রাখতে হবে। পুরো খেলাতে ডেকোকে মা-হারা বাছুরের মত এলোমেলো ঘুরতে দেখা ছাড়া তেমনকিছু চোখে পড়েনি,বলের ওপর নিয়ন্ত্রণও তেমন ছিলনা,ফলাফল হিসেবে ম্যাচের শেষদিকে তুলেই নেয়া হল তাকে। আর তুরস্কের এক ডিফেন্ডার শেষ মুহূর্তে ন্যানিকে যে উড়ন্ত ব্যাকট্যাকল করল,সেটা কেন সরাসরি লালকার্ড পেলনা তা একটা প্রশ্ন হতে পারে,যদিও পুরো ম্যাচেই তুরস্ক মোটামুটি গায়ের জোরেই খেলেছে।
প্রথম ম্যাচ বলেই কিনা,পর্তুগালও একটু এলোমেলো ছিল,ঠিক সেভাবে সমন্বয়টা ছিলনা কারো মাঝে। তুলনামূলক ভাল খেলেছে তারাই,২ বার বল পোস্ট আর বারেও লেগেছে,একবার রোনালদোর ফ্রি কিক,আরেকবার নুনো গোমেজের হেড। রোনালদো তার ম্যানচেস্টারের ফর্ম নিয়েই এসেছেন,তবে নিজে যতটা ভাল খেলেছেন,দলের সাথে তার সমন্বয়টা সেভাবে হয়নি,যত তাড়াতাড়ি সেটা হবে ততই পর্তুগালের জন্য ভাল। বেশ কিছু একক প্রচেষ্টা ছিল,কড়া মার্কিংয়ে থাকায় গোল হয়নি,তবে সময়ের সাথে অন্যদের জন্যেও বল বানিয়ে দিয়েছেন,ম্যাচের ইনজুরি টাইমে প্রায় মাঝমাঠ থেকে তেমনই ১টা বল টেনে নিয়ে অসাধারণ ১টা পাস হোয়াও মতিনহোর কাছে,দারুণ ১টা টার্নে ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে মতিনহো সেটা ফাঁকায় পাঠালেন মেইরা'র কাছে,শুধু এরপরে বলটাকে ঠেলে দেয়া জালে,ম্যাচও তখনি শেষ। চোখে লেগেছে অবশ্য ন্যাড়ামাথা পেপে'র খেলা,ডিফেন্ডার হলেও উপরে উঠে দারুণ খেলেছেন পুরো ম্যাচেই,প্রায় নিজে বানিয়ে নুনো গোমেজের সাথে ছোট্ট ১টা ওয়ান-টু-ওয়ানে দলের প্রথম গোলটাও তার,৬১ মিনিটে। গোমেজেরও উল্লেখযোগ্য অবদান ঐটুকুই,বাকি সময়ে খুব ১টা খুঁজে পাওয়া গেল না দলের অধিনায়ককে। পর্তুগালের রক্ষণভাগ বেশ এলোমেলো মনে হল,তুরস্কের আক্রমণভাগ ভাল হলে জালে ২-১ টা গোল ঢুকতেই পারত,বেশ কয়েকবারই সমন্বয়হীনতার কারণে পর্তুগালের রক্ষণের মাঝে বিশাল ফাঁক ধরা পড়েছে,কিন্তু তুরস্কের আক্রমণ তার চেয়েও ছন্নছাড়া লাগল। মোটের উপর মনে হচ্ছে,পর্তুগাল বেশ কিছুদূর যাবে,পরের ম্যাচগুলোতে দলটার আরো গুছিয়েই উঠার কথা,সেক্ষেত্রে ভয়ংকর হবে তারা অন্য দলগুলোর কাছে।একি সাথে,তুরস্কের খেলা দেখে খুব ১টা আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না,এরা ২য় রাউন্ড পার হলেই অবাক লাগবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



