somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইউরো রিভিউ: গ্রুপ অভ ডেথ (ফ্রান্স ০-রোমানিয়া ০,হল্যান্ড ৩- ইটালি ০)

১০ ই জুন, ২০০৮ রাত ৩:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফুটবল অঘটনের খেলা হলেও একটা অঘটন কখনো ঘটেনা কেন যেন,গ্রুপ অভ ডেথ কখনোই সোজা বা নিশ্চিত কিছু হয়না। এবারের ইউরোর গ্রুপ অভ ডেথেও ঘটনা জিলাপির প্যাঁচ খেয়ে গেছে,শুরুতে মোটামুটি মহা বিরক্তিকর খেলায় ফ্রান্স ড্র করলো গোলশূন্য রোমানিয়ার সাথে,একটা ব্যাপার বুঝিয়ে দিয়ে যে জিদানের জায়গাটা আরো কয়েকজন মিলেও পূরণ করা যাবেনা,আর ইটালি বেশ একটা ভূটানসুলভ (এখন বাংলাদেশসুলভও বলা যায়,দুঃখের সাথে) ফুটবল খেলে জিলাপির প্যাঁচটাকে বোম্বাই সাইজ করে দিল।

প্রথম ম্যাচটার কথায় যদি আসা যায়,নিশ্চিতভাবেই এটা নিয়ে কথা বলা সময় নষ্ট,এবারের ইউরোর সবচেয়ে ঘুমঘুম ম্যাচ বলা যায় এটাকে। হেনরি ছিল না ফ্রান্সের,কিন্তু নতুন সেনসেশন বলে রব ওঠা বেনজিমার খেলা দেখে মনে হল মাঝে মাঝেই মিডিয়া একটু ওভারএস্টিমেট করে ফেলে,দুর্বল কয়েকটা শট নেয়া ছাড়া আর তেমন কিছু তাকে করতে দেখা গেল না। রিবেরী বিশ্বকাপে যতটা ভাল খেলেছেন ইউরোতে শুরুটা তার কিছুই হয়নি,রোমানিয়াও আহামরি কিছু দেখাতে না পারায় ফলাফল মনে হয় গোলশূন্যটাই ঠিক আছে।

দ্বিতীয় ম্যাচটা দেখার মতই ছিল,যদি আপনি ইটালির সমর্থক না হয়ে থাকেন। শেষ কবে ইটালিকে এমন ছন্নছাড়া উদ্দেশ্যহীন ফুটবল খেলতে দেখেছি মনে করতে পারছি না। এমনকি যদি হল্যান্ডের প্রথম অফসাইড গোলটা বাদও দেয়া যায়,আজকে যা খেলেছে ইটালি,তাতে তাদের হার অলৌকিক কিছু না হলে নিশ্চিতই ছিল। ক্যানাভারো না থাকলেও ইটালির ডিফেন্স এতটা ফাঁকা হয়ে যাবার কথা নয় কিন্তু বাস্তবে তাই ঘটলো,হল্যান্ড বারবারই মাঝখান দিয়ে ঢুকে গেল। ৩টা গোল খাওয়া দেখলেও বোঝা যায় আজকে ইটালির রক্ষণ কেমন ছিল,সাথে যদি হল্যান্ডের মিস গুলো যোগ করা যায়,বলা লাগবে ডোনাডুনির আবার হিসাব কষতে হবে দল নিয়ে। আক্রমণভাগ খেলেছে তার চেয়েও খারাপ,সোজা বল নিয়ে হল্যান্ডের ডিফেন্স ফুঁড়ে বের হয়ে যাবার চেষ্টা করেছে তাদের ফরোয়ার্ডরা,ফলাফল হল মোটামুটি ভীতি জাগানোর মত একটাও আক্রমণ হয়নি। লুকা টনির কাছে বলই পৌঁছাতে দেয়নি হল্যান্ডের ডিফেন্ডাররা,শুরুতে নামানো ডি নাটালিও কি খেললেন সেটা তিনিই ভাল জানেন,সব মিলে ফন ডার সার আজকে বেশ আরামেই ছিলেন। হল্যান্ডের প্রশংসা অবশ্য মুক্তকণ্ঠে করতে হয়,পর্তুগাল আর গতকাল জার্মানির পর,আজ হল্যান্ডও দেখার মত ফুটবল খেলেছে। নিসলরয় আর স্নাইডার তাদের দারুণ ফর্মটাকে প্রথম ম্যাচেই প্রমাণ করেছেন,আক্রমণে গেছে দারুণ গোছালোভাবে,বিশেষ করে প্রচণ্ড গতিতে তিন ফরোয়ার্ড একসাথে কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে গিয়ে কোণাকুণি থ্রু থেকে দেয়া স্নাইডারের দ্বিতীয় গোলটাকে বলা যায় ইটালির ওষুধ ইটালিকেই খাওয়ানো। আরো কিছু মিসও হয়েছে,কিন্তু হল্যান্ডের প্রায় সবক'টা আক্রমণই ছিল ভীতি জাগানো,ইটালিয়ান ডিফেন্সকে অসহায়ই মনে হয়েছে,বড় রকমের অঘটন না হলে,গ্রুপ অভ ডেথ থেকে,হল্যান্ডের সবার আগে ওঠাটাই স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। ইটালির সমর্থকরাও অবশ্য আশা করতে পারেন,কারণ ইটালির ঐতিহ্যই হল অত্যন্ত জঘন্যভাবে কোন টুর্নামেন্ট শুরু করে শেষমেশ দারুণ কিছু করে ফেলা। আশা করে থাকবে ফ্রান্স আর রোমানিয়াও,কারণ তাদের ১টা পয়েন্ট তো আছে। সব মিলে,এই বোম্বাই জিলাপীর প্যাঁচ খুলতে গ্রুপ পর্বের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলেই মনে হয়,ততদিন,সংবাদ চ্যানেলগুলোর ভাষায় বলি,সাথে থাকুন,ফুটবল দেখুন।:)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৪:২৭
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×