আমার প্রিয় পোস্ট

মানুষের মহারাজা,তোমাকে অভিবাদন

১৪ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৭:০৯

শেয়ারঃ
0 58 0



[মহান বিপ্লবী আর্নেস্তো চে গুয়েভারার প্রতি,তাঁর জন্মদিনে]

মহারাজ কথাটা তাঁর নামের সাথে একেবারেই যায়না,অন্তত,আর্নেস্তো চে গুয়েভারা নামটার সাথে যায়না। ঔপনিবেশিক মহারাজদের প্রভুত্ব থেকে মুক্তি দিতেই পৃথিবীর এক মাথা থেকে আরেক মাথায় ছুটে বেড়িয়েছেন যিনি,তাঁর নামের সাথে বাড়তি কোন প্রভুত্বসূচক বিশেষণ জুড়ে দিলে তাঁকে অপমান করা হয় কিনা সে বিতর্কও আসতে পারে। তারপরেও কাউকে কাউকে আলাদা আসনে বসাতে হয়,বসে যায় কেউ কেউ নিজ থেকেই,বসতে না চাইলেও। চে গুয়েভারা কোথায় আলাদা হয়ে গেছেন,সেটা নিয়ে নতুন করে আলাপ না করলেও হবে,সবাই জানে,জানত তাঁর মিত্ররা,জানত শত্রুরাও,ভক্তরা তো জানবেই। শুধু এটুকু বলা যায়,নাম না বলে চে'র জীবনী কাউকে পড়ে শোনালে,হঠাৎ মনে হবে,রূপকথা শুনছি,এমন মানুষ থাকতে পারেনা,এমন জীবন কারো হয়না। রূপকথার রাজকুমারের মত পৃথিবীজুড়ে সাম্রাজ্যবাদী রাক্ষস বধ করে করে একসময় ক্লান্ত হয়ে থেমে গেছেন তিনি,তখনো মাথা উঁচু করে,রাজার মতই।

জন্ম আর্জেন্টিনায়,মৃত্যু বলিভিয়াতে,মাঝে চষে বেড়িয়েছেন সারা পৃথিবী,যেখানেই মানুষ ডাক দিয়েছে,সেখানেই ছুটে গেছেন লড়তে। পেশায় ডাক্তার,নেশায় বিপ্লবী বলাই মনে হয় ঠিক হবে। অন্তত আমরা বলতে পারি,কারণ চে গুয়েভারা নামটা বললেই যে ছবিটা চোখে ভাসে সেখানে দেখি জলপাই সবুজ সামরিক সাজে মাথায় সামরিক টুপিতে মুখে চাপদাড়িতে লম্বা এলোমেলো চুলের কাউকে,দৃষ্টি প্রসারিত অনেক অনেক দূরে কোথাও। চেহারা হয়তো প্রকৃতিদত্ত ব্যাপার কিন্তু সেক্ষেত্রেও চে কে বিপ্লবী তরুণের আইকনই বলতে হবে।ছোটবেলায় যখন প্রথম চে'র ছবি দেখতাম,মুগ্ধতায় মনে হত,এই মানুষটা তো নায়ক হতে পারত,বনে-বাদাড়ে ঘুরে জীবনটা কাটাল কেন? নায়ক হয়েছেন চে,সস্তা কোন সিনেমার নয়,মানুষের নায়ক,মহাকালের নায়ক। অদ্ভুত জীবন তাঁর। যৌবনে ঘুরেছেন পুরো দক্ষিন আমেরিকা,বর্ণনা পাওয়া যায় তাঁর 'মোটরসাইকেল ডায়েরি'তে। বিপ্লবীদের সাথে যোগ দিয়েছেন গুয়াতেমালা,মেক্সিকো,কিউবাতে। বাতিস্তা সরকারকে উৎখাত করেছেন বন্ধু ফিদেল ক্যাস্ট্রোর সাথে মিলে,কিন্তু কিউবা তাঁকে ধরে রাখতে পারেনি। ছুটেছেন কঙ্গো,বলিভিয়া সহ পৃথিবীর নানা কোণে। বিপ্লবের তত্ত্ব নিয়ে বসে না থেকে নিজেই হাতে অস্ত্র তুলে মাথাব্যথা হয়ে গেছেন দুনিয়ার তাবৎ সাম্রাজ্যবাদী আর তাদের তাঁবেদার সরকারের। তাঁর দেশ কোথায়,এর জবাবে বলেছেন,দুনিয়ার তাবৎ নিপীড়িত মানুষের দেশই তাঁর আবাস। কিউবার প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘের সাধারন অধিবেশনে সগর্বে ঘোষণা করেছেন--"যে সাম্রাজ্যবাদ আমাদের দুর্বল ভাবত,আজ তারাই আমাদের ভয়ে ভীত,ভীত তারা ২০০ মিলিয়ন দুর্বল ল্যাটিন আমেরিকানের ভয়ে,যাদের হাতে আজ একচ্ছত্র 'ইয়াংকি'
পুঁজিবাদের কবর খোঁড়া হবে।" বুক কাঁপানোর মত ঘোষণাই বটে,অন্তত,হাতে-কলমে যে একবার করে দেখিয়েছে,তাঁর কাছ থেকে এলে তো অবশ্যই।

না,সাম্রাজ্যবাদীরা এই হুমকিকে হালকাভাবে নেয়নি কখনোই,পাগলা কুকুরের মতই চে'কে খুঁজে বেড়িয়েছে দেশ থেকে দেশে। কিউবার আশ্রয়ে থাকেননি চে,মানুষের টানে আবার তিনি ঘর ছাড়েন,বন্ধু ক্যাস্ট্রোকে এক চিঠিতে তাঁর শুভকামনা এবং সমর্থন জানিয়ে। ব্যর্থ এক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন কঙ্গোতে। এরপর তানজানিয়া,প্রাগ হয়ে বলিভিয়া,জীবনের শেষ বিপ্লব,শেষ গন্তব্য। সিআইএ এজেন্টদের সহায়তায় বলিভিয়ার স্বৈরাচারী সরকারের হাতে আহত অবস্থায় ধরা পড়েন,কোন ঝুঁকিতে না গিয়ে,কাপুরুষরা চে'র মৃত্যুতেই তাদের রাস্তা নিষ্কন্টক করার উপায় খুঁজে নিল। মৃত্যুর আগেও মাথা উঁচু করেই বলেছিলেন--"গুলি কর কাপুরুষ,তোমরা শুধু একজন মানুষকেই তো মারতে পারবে।"

সময়টা ছিল ১৯৬৭ সাল,যখন চে'র মৃত্যু হয়। এরপর পৃথিবীতে অনেক জল গড়িয়ে গেছে,চে'র স্বপ্নের কম্যুনিস্ট দেশগুলোর অনেকেই পুঁজিবাদে নিজেদের মুক্তি খুঁজে নিয়েছে,টুকরো হয়ে গেছে সোভিয়েত ইউনিয়ন,পূর্ব ইউরোপেও কম্যুনিজম আজ মিউজিয়ামের বস্তু,মার্কিনি পা-চাটা শাসকরা জাঁকিয়ে বসেছে আরো অনেক দেশেই। কম্যুনিস্ট নেতাদের আদর্শচ্যুতি হতাশ করেছে মানুষকে দিনে দিনে,রাশিয়ার পলিটব্যুরোর সদস্য যখন নিজে ব্রিটিশ স্কচ হজম করে জনগণকে সাম্যবাদের মুলা ঝুলায় তখন সেটায় আস্থা রাখা একটু মুশকিল বৈকি। মানুষের মুখপাত্র ছিলেন চে,তাঁর লড়াই তো ছিল মানুষের হয়ে অমানুষের বিরুদ্ধে,তাঁর আদর্শের কথা বলেও কি কেউ মানুষের নেতা হতে পেরেছে? অমানুষ তো শুধুই সাম্রাজ্যবাদীরা নয়,কম্যুনিস্ট রাশিয়া যখন আফগানিস্তানে বা চেচনিয়াতে
হত্যাযজ্ঞ চালায় তারাও তো একি কাতারেই শামিল হয়,যখন আমাদের দেশের সমাজবাদী নেতা অর্থের লোভে বিক্রি হয়ে যায় বড় দলের কাছে তাদেরো আমি অমানুষই বলি। নেমেসিস কথাটা শুধু গল্পেই পাওয়া যায়,সেজন্যই চে'র হত্যাকারীর মাথায় বাজ পড়েনি,তাঁর পেছনে ছুটতে থাকা পাগলা কুকুররাও এখন পৃথিবীর সম্রাট হয়ে বসে আছে,নতুনযুগে নতুনভাবে উপনিবেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে লাভের হিসাব মেলাচ্ছে সাম্রাজ্যবাদীরা। চে এখন ব্যবসার সামগ্রী,তাঁকে নিয়ে লেখা হয় হাজার হাজার লেখা,তাঁর ছবি আঁকা টিশার্ট মগ পোস্টার বিক্রি করে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে তাঁরই হত্যাকারীরা,আধুনিক ফ্যাশনসচেতন
তরুণ বয়সের ট্রেন্ড হিসেবে বুকে চে'র ছবি আঁকা টিশার্ট পরে ঘুরে বেড়ায়,অবসরের বিলাসিতা হিসেবে সুদর্শন চে'র ছবি টানিয়ে রাখে ঘরের দেয়ালে,কিন্তু ক'জন তার হৃদয়ে টানিয়ে রাখে চে গুয়েভারার প্রতিকৃতি?

তাহলে কি চে হেরেই গেলেন? যে বিপ্লবকে কখনো হত্যা করা যাবেনা বলেছিলেন,তার কবর কি খোঁড়া হয়ে গেছে? অতি আশাবাদী হয়ে অর্বাচীনের মতই বলি,না। জীবিত চে'র চাইতে নিহত চে অনেক বেশিই জিতে গেছেন।টিকে আছেন ফিদেল ক্যাস্ট্রো তাঁর কিউবা নিয়ে,ভেনেজুয়েলাতে তাঁরই ভাবশিষ্য হুগো শ্যাভেজ উঠে এসেছেন,যে বলিভিয়ার সরকার হত্যা করেছিল চে'কে সেখানেই আজ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অভিষেক হয়েছে আদিবাসী কৃষক নেতা ইভো মোরালেসের,এটা কাকতালীয়,নাকি এটাই হবার কথা ছিল? চে'কে কেউ ভুলে যায়নি,প্রতি মুহূর্তেই তাঁকে নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে হচ্ছে,ভাবাতে হচ্ছে। জীবিত চে'কে দেশে দেশে ছুটতে হতো সশরীরে তাঁর অস্ত্র নিয়ে,মৃত চে তাঁর আদর্শ নিয়ে ভেসে বেড়ান আরেক জগৎ থেকেও,ঠিক যেমনটি তিনি বলেছিলেন,তোমরা শুধু একজন মানুষকেই হত্যা করতে পারবে। নেলসন ম্যান্ডেলা যাঁকে বলেছেন প্রতিটি স্বাধীনতাকামী মানুষের অনুপ্রেরণা,জাঁ-পল সাঁর্ত্রের ভাষায় যিনি তাঁদের যুগের সবচেয়ে পরিপূর্ণ মানব,কিউবান শিশুরা প্রতিটা সকাল শুরু করে যাঁর নামে শপথ নিয়ে--"আমরা চে গুয়েভারা হবো"-ক'টা বুলেট দিয়ে তাঁকে মুছে ফেলবে সাধ্য কার? বলিভিয়াতে চে'র নাম সেইন্ট আর্নেস্ত,সন্তের মর্যাদা যে তাঁকে বেমানান,এমন তো বলতে পারি না।মানুষের জন্য জীবনপাত করা ক্ষমতার দিকে নির্লোভ মানুষটা সন্তের চেয়েও মোহমুক্ত ছিলেন,সেইন্ট আর্নেস্ট তো তাঁকেই বলা হবে। চে'র নাম এখনো সাম্রাজ্যবাদীদের ভুরু কুঁচকে দেয়,রাতের ঘুম নষ্ট করে ঔপনিবেশিকদের।বিপ্লব নেই,বিপ্লব করার মানুষগুলোও নেই,তারপরেও ঘোর অন্ধকারে একটুকরো আগুনের রেখা দেখায় আমাদের কাছে চে'র নাম,সাম্রাজ্যবাদীদের লোভ আর প্রভুত্বের অবিচারে বিধ্বস্ত হতাশ কোন ক্রুদ্ধ রাতজাগা তরুণ পৃথিবীর আনাচে কানাচে এখনো হাত মুঠো করে নিজের অজান্তেই বলে ওঠে--"আমি চে গুয়েভারা হবো।"

এখানেই চে আবারো জিতে গেছেন,চে গুয়েভারা ফিরে ফিরে এসেছেন,চে গুয়েভারা ফিরে ফিরে আসবেন,চে'র মৃত্যু নেই।

মানুষের মহারাজা,তোমাকে অভিবাদন।

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): চে গুয়েভারা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১:১৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৭:১৯
অদ্ভুত আঁধার এক বলেছেন: মানুষের মহারাজা,তোমাকে অভিবাদন

প্রাচ্যনাট্যের চের সাইকেল নাটকটার কথা মনে পড়ল।দেখেছেন? মামুনুর রশীদ নির্দেশিত।
আপনার লেখাটার মুল ভাবেই নাটক টা করা হয়েছে। অসাধারন।

আপনার লেখাটা ভাল লাগল।
ধন্যবাদ।
১৪ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৭:২২

লেখক বলেছেন: না,নাটকটা দেখা হয়নি,কখনো সময় করে দেখতে হবে,বেঁচে থাকলে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

২. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৭:২০
ফারহান দাউদ বলেছেন: বদ্যি,তোমার পরিচয় আজকে টের পাইলাম,আইজু রাজাকার না? যে কিনা আবার মোসাদ এবং আমেরিকার দালাল? কি আর করা,আম্রিকারে কিয়া কিসু কইলেই আবার তোমার গায়ে মরিচ পড়ে কিনা,আপাতত তোমার মন্তব্যটা মুছে দিলাম,আমি চাইনা চে'কে নিয়ে লেখায় কোন মোসাদের দালাল মন্তব্য করুক।
৩. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৭:৩২
ক্ষ্যাপা বলেছেন: লেখাটা ভালৈছে ।
তবে চে'র জন্ম তো মনে হয় ১৪ মে
উইকি তে তাই লেখা
http://en.wikipedia.org/wiki/Che_Guevara
১৪ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১:১৮

লেখক বলেছেন: অনেক জায়গায় ১৪ জুনও আছে,আপাতত ঐটাকেই ধরে নিলাম।

১৪ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১:২৪

লেখক বলেছেন: অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ চমৎকার লিংকটার জন্য,ডাউনলোড করে নিলাম।

৫. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৮:২৬
দরদী নজরুল বলেছেন: কমিউনিজমে আমি বিশ্বাস করিনা, তবা প্রতিটি স্বাধীনতাকামী মানুষের অনুপ্রেরণা চে গুয়েভারাকে স্যালুট।
১৪ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১:২১

লেখক বলেছেন: চে'কে আমি এখন আর ঠিক কম্যুনিস্টদের নেতা ভাবিনা,যেখানেই নিপীড়িত মানুষ দেখেছেন সেখানেই ছুটে গেছেন তিনি,মানুষের নেতা হিসেবেই তাঁকে আমার অভিবাদন।

৬. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৮:৩১
চিটি (হামিদা রহমান) বলেছেন: মানুষের মহারাজা,তোমাকে অভিবাদন..........
মহারাজা চে এর কথাগুলো কোথায় পড়েছিলাম ভালো করে মনে নেই।

আপনার পোষ্টে বিস্তারিত পড়লাম
ধন্যবাদ ভালো একটা পোষ্টের জন্য

ভালো থাকুন
শুভেচ্ছা থাকলো...।
১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:৪২

লেখক বলেছেন: একটা পোস্টে আর কতই লেখা যায়? শুধু নিজের অনুভূতি নিয়ে লিখলাম,সাধ্য কোথায় দুর্বল হাতে এমন কিছু তোলার? পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

৭. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৮:৩৮
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন: মহান বিপ্লবী আর্নেস্তো চে গুয়েভারার প্রতি,তাঁর জন্মদিনে...............সশ্রদ্ধা।
এমন বিপ্লবী মানুষকে এভাবে মনে করে ,এই বিশেষ দিনে লেখাটা খুব ভালো লাগলো।
শুভেচ্ছা ফারহান...........।অনেক শুভকামনা।
১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৪

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ আপু।

৮. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সকাল ৯:১৪
আসাদ রহমান কিশোর বলেছেন:
আমি কমিউনিজম এ বিশ্বাস করি না..... নষ্ট কমিউনিষ্ট নেতারা আমার বিশ্বাস হারিয়েছে......।

তবু জানাই...
বিপ্বব তোমায় লাল সালাম ....
চে তোমায় লাল সালাম...।
১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৪

লেখক বলেছেন: নেতাদের দোষে যদি আদর্শের অপপ্রয়োগ হয়,সেটা তো আর আদর্শের দোষ নয়।
অপেক্ষায় থাকবো আমরা আর কোন চে'র।

৯. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সকাল ১০:৩০
লাল দরজা বলেছেন:
চে তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়...
কবিতা: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়


মানুষের মুক্তি মানুষই মানুষকে এনে দেবে এক দিন। জয় মানুষের হবেই। পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ ফারহান দাউদ আপনাকে।
গত বছর মহান চে'র মৃত্যু দিবসে এই ভিডিওটা দিয়ে একটা পোষ্ট দিয়ে ছিলাম জানি না দেখে ছিলেন কিনা। আপনার এই পোষ্টে রেখে গেলাম। শুভেচ্ছা।
১৪ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১:২৯

লেখক বলেছেন: না,ভিডিওটা দেখিনি তখন,এখন দেখে নিলাম,আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
মানুষের জয় হবে,হবেই।

১০. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সকাল ১১:০৬
সুজনবাঙালী বলেছেন: ধন্যবাদ এবং প্লাস।
---------------------
১৪ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১:২৬

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

১১. ১৪ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১২:০২
চে বলেছেন: প্রিয় পোস্টে।

আপনাকে ধন্যবাদ।
১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৫

লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ।

১২. ১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:০৮
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন: লেখককে তো বটেই ধন্যবাদ লাল দরজাকে ও । লাল দরজার দেয়া ক্লিপটা দেখে আবারো হৃদয় স্পন্দন অল্প সময়ের জন্য হলেও থমকে দাড়ালো।
-----------
ডেস্কটপে মৌসুমী ভৌমিক এর 'স্ব্প্ন দেখবো বলে' শুনতে শুনতে লিখছি।
মানুষের মহারাজা, মহাবীর ই শুধু নয় বরং চে'র পরিচয় তো আসলে ''কর্মবীর'' হিসেবে। তিনি 'বামপন্থী আন্দোলনের সমস্যা' টাইপের বইটই লিখে, বুদ্ধিজীবী হয়ে সাম্যবাদের ফ্যান্টাসীতে মেতে থাকেন নি।

বরং নেমে গেছেন অস্ত্র হাতে , দুঃশাসনের কবল থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে। যেমন নেমেছিলেন হাল আমলের প্রচন্দ। যেমন হাজার বছর আগে নেমেছিলেন মুহাম্মদ।

মুহাম্মদ, লেনিন, মাও দে জং, চে, খোমেনী আর প্রচন্দ'রাই আসলে প্রকৃত কর্মবীর, মানুষের মহারাজা।
১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:১১

লেখক বলেছেন: চে'র পরিচয় তো আসলে ''কর্মবীর'' হিসেবে। তিনি 'বামপন্থী আন্দোলনের সমস্যা' টাইপের বইটই লিখে, বুদ্ধিজীবী হয়ে সাম্যবাদের ফ্যান্টাসীতে মেতে থাকেন নি। বরং নেমে গেছেন অস্ত্র হাতে , দুঃশাসনের কবল থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে।
ঠিক তাই,এখানেই চে আলাদা,সবার চেয়ে।

১৩. ১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৯
কৌশিক বলেছেন: আরজু ভাইয়ের মন্তব্যে পৃথিবীতে কোন সমস্যাই দেখছি না। সব ভাই ভাই।
১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:১৫

লেখক বলেছেন: আরে কৌশিকদা,সমস্যা ভাবলেই সমস্যা,যত ভাববেন ততই মাথার চুল পড়বে আর "সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের তাত্ত্বিক রূপরেখা: অতীত ও ভবিষ্যত" টাইপের দাঁতভাঙ্গা বই বের হবে। তারচেয়ে চিন্তাভাবনা বাদ দেন,আসেন ভাই ভাই কোলাকুলি করি:)

১৪. ১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:০৩
নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী বলেছেন: খুবই চমৎকার লেখা। যখন পড়ছিলাম, কেমন যেন একটা মোহের ভেতরে ছিলাম। মন বলছিল লেখাটা যেন আরও বড় হয়, চলতেই থাকে। সব কিছুরই শেষ আছে, এ লেখাটারও। তবে চে'র যেমন মৃত্ত্বু নেই, তার স্বাধীনতাকামী আদর্শেরও শেষ নেই। চে আলোচনায় আসবে, আসতে বাধ্য করবে। সেটা শুধু সমাজতন্ত্রই নয়, সাম্রাজ্যবাদি আগ্রাসন যখন, যেখানে হানা দিবে, যুগে যুগে সেখানেই জন্ম নিবে অসংখ্য বীর, চে'র আদর্শে।

প্রিয়তে সাজিয়ে রাখার মত একটা লেখা। দুঃখ, কেবল একটাই প্লাস দিতে পারছি। পারলে ১০০ দিতাম, তবুও ভালোলাগার অনুভুতি সম্ভবত পুরোপুরি প্রকাশ পেত না।
১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৬

লেখক বলেছেন: এই ক্ষুদ্র হাতে কিভাবে চে'র মত কারো কথা লিখি? যতই লিখব শেষ হবেনা। চে ফিরে ফিরে আসবেন,বারবার,প্রতিদিন। পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

১৫. ১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:২৮
মুনিয়া বলেছেন: প্রিয়তে নিলাম...
চে' সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না। একজন স্যারের মুখে প্রথম শুনি। কিন্তু তাঁর সম্পর্কে জানা বলতে তরুণদের টি-শার্টের চে'কেই চেনা ছিল।

পোস্টটা খুব ভাল লাগল।
এরকম আরও দিন। আসলে তারুণ্যের মনই হয়তো এমন। আমারও ইচ্ছা হয় নির্যাতিত মানুষের জন্য কিছু করতে। একটা আমূল পরিবর্তন- ভালর জন্য...
ইচ্ছাটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষমতা বা তার জন্য সাহস, কোনটাই নেই হয়তো। তবে যাঁদের আছে, তাদের শ্রদ্ধা জানাই অন্তরের গভীর থেকে।
১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৭

লেখক বলেছেন: আমাদের নেই,আমাদের নেতাদেরও নেই,অনেকেরই নেই,কিন্তু কারো কারো আছে,কারো কারো থাকবে ভবিষ্যতেও,টিশার্টের চে ছাড়াও কারো বুকের মাঝেও তো চে গুয়েভারা আছে,থাকতেই হবে।

১৬. ১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:৫০
প্রণব আচার্য্য বলেছেন: ভালো লাগলো...
ধন্যবাদ দাউদ ভাই এরকম একটি পোষ্ট দেওয়ার জন্য


মানুষের মহারাজা,তোমাকে অভিবাদন..........

কিন্তু, মহারাজা থেকে বিপ্লবী শব্দটা আমার কাছে অধিক গ্রহনযোগ্য মনে হয়। এটা অবশ্য আমার নিজস্বর মতামত। মহারাজা শব্দটা বেমানান লাগে কেনজানি... মহারাজা মানেই শোষক মনে হয়।
১৫ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ২:৩২

লেখক বলেছেন: আমাদের মনটাকেই তিনি অধিকার করে আছেন,কি আর করব বলুন?

১৭. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০০
মানুষ বলেছেন: এক কথায় দূর্দান্ত লিখছেন। হয়তো চে'র গল্প জন্যই লেখাটা আরও বেশি ভাল লাগলো।
১৫ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ২:৩৪

লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ মানুষ।

১৮. ১৬ ই জুন, ২০০৮ রাত ২:১৯
জিহাদ বলেছেন: চের একটা কথা আমার খুব খুব প্রিয়...

"আমি পরাজয় বরণ করেছি, তার মানে এই নয় যে বিজয় অসম্ভব..."
১৬ ই জুন, ২০০৮ সকাল ১০:০৬

লেখক বলেছেন: বিজয় সম্ভব,আজ অথবা কাল।

১৯. ১৬ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:০২
আন্দালীব বলেছেন: তুমুল পোস্ট। প্রিয়তে।

ফারহান, চে নিয়ে কোন লেখা পড়লেই রোমহর্ষ হয়।
আপনার লেখাটিও চমৎকার হয়েছে; বলা বাহুল্য হবে, তবুও বলা। অতিমাত্রার কিছু নেই লেখনীতে। কঙ্গো-তে তার মুভমেন্টের কথা অনেক লেখাতেই দেখেছি বাদ পড়ে যেতে। আপনি বিষয়টি উল্লেখ করেছেন দেখে ভালো লাগলো।

গত পনের বছরে চে'র পোস্টার কখনো আমার দেয়াল থেকে নামেনাই।
বুক থেকে নামবেনা কখনো।

স্যালুট ! চে।
আপনাকে ধন্যবাদ
১৭ ই জুন, ২০০৮ সকাল ১১:৫৭

লেখক বলেছেন: আরো অনেক কিছুই বাদ পড়ে গেছে,চে'র রেড স্কোয়ার যাত্রা,মাওয়ের সাথে সাক্ষাৎ,সর্বোপরি তাঁর দক্ষিণ আমেরিকা চষে বেড়ানোর গল্প,কিন্তু এইটুকুর মাঝে আর কি বলতে পারি? অনেক ধন্যবাদ আপনাকে,বুকের মাঝে চে'র পোস্টার নিয়ে বেঁচে থাকুন অনেক কাল।

২০. ১৭ ই জুন, ২০০৮ দুপুর ১:৩৫
স্বাক্ষর শতাব্দ বলেছেন: "বুর্জোয়া টি-শার্টে বন্দী চে" আমার বন্ধু তানিমের কবিতার লাইন এটি, আমার মনে হয় এখন আন্ডারয়্যার/বিকিনিতেও চের ছবি পাওয়া যায়।

এক কমিউনিস্ট পার্টির নেতার মেয়ে একবার জিজ্ঞেস করেছিলো "মার্ক্স কে?"

হা হা হা হা

আপনাকে ধন্যবাদ
১৮ ই জুন, ২০০৮ রাত ১:৫৮

লেখক বলেছেন: বাস্তব অবস্থা ভাইজান,দেখেন না দেশের কথা বইলা গলা ফাটানো নেতারা সব ঈদের শপিং করে বিদেশে গিয়া:) চে তো মরা মানুষ,চামে কিসু ব্যবসা হয় আরকি:(

২১. ১৮ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৬
শফিউল আলম ইমন বলেছেন: এক অসাধারন মানুষকে নিয়ে চমৎকার লিখেছো।
'চে' যখন থেকে জেনেছি সেদিন থেকেই বুকে ধারণ করেছি। পৃথিবীতে এরকম মানুষ দুইটা পাওয়া যাবেনা যারা নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যায়।

তার প্রতি শ্রদ্ধা রইল।
১৮ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:০৮

লেখক বলেছেন: নিজেকে তেমন কিছু লিখতে হয়না,এমনিতেই তাঁর জীবনটা অসাধারণ।

২২. ১৮ ই জুন, ২০০৮ রাত ৮:৩৭
তৌফিক বিষাদ বলেছেন: চে আপনার মনের জমিনে যে রেখা তৈরি করেছে তা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

ভালো লেগেছে।
১৮ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:১৩

লেখক বলেছেন: রেখাটা যে আপনাকেও ছুঁয়েছে জেনে সার্থক বোধ করছি।

২৩. ১৮ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:৩৮
ইমরান খান ইমু বলেছেন: ভালো একটা পোস্ট ...পড়লাম...

ধন্যবাদ
১৯ শে জুন, ২০০৮ রাত ১২:৪৪

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

২৪. ২৬ শে জুন, ২০০৮ সকাল ১০:৫২
ফয়সল নোই বলেছেন: +,ভাল লেগেছে।ধন্যবাদ।
২৬ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:১৫

লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ।

২৫. ০১ লা জুলাই, ২০০৮ রাত ৯:৩৩
উত্তরাধিকার বলেছেন:
মানুষের মহারাজা,তোমাকে অভিবাদন।
০২ রা জুলাই, ২০০৮ রাত ২:৩৭

লেখক বলেছেন: অভিবাদন তাঁর প্রাপ্য।

২৬. ৩১ শে জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৪:২৪
ত্রিভুজ বলেছেন: ওহ.. পোস্টটা মিস হয়ে গিয়েছিল... +


নতুন পোস্ট কোথায় ফারহান?
৩১ শে জুলাই, ২০০৮ রাত ১০:৩৮

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ। সামনে পরীক্ষা,চাকরি নাই,সব মিলায়া মাথা গরম:(

২৭. ১৪ ই জুন, ২০১১ রাত ১:১৬
নষ্টছেলে বলেছেন: বিপ্লবীর মৃত্যু নেই।চে কে জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা।
১৭ ই জুলাই, ২০১১ রাত ২:১৬

লেখক বলেছেন: সব বিপ্লবীর জয় হোক।

১৯ শে আগস্ট, ২০১১ ভোর ৫:২৯

লেখক বলেছেন: কৃতজ্ঞতা। :)

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৬২০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
খুব সাধারণ মানুষ ..এখনো বেকার,পড়ছি পুরকৌশল এ। মাথা একটু গরম,একটু বোকাও,তবে মানুষটা মনে হয় আমি খারাপ না।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ