আমার প্রিয় পোস্ট
- বিবিসির অসাধারণ একটি ডকুমেন্টারিঃ সেরা সাই-ফাইও হার মানবে - বিডি আইডল
- উইকিপিডিয়াতে লেখা সাজাবার সহজ উপায়-(পর্ব-১) - সাদাচোখ
- প্রিয় খাবারের তালিকা, উগ্র রসনা বিলাস - সাঈফ শেরিফ
- ব্যক্তিগত কথা: শুদ্ধতা - জ্বিনের বাদশা
- প্রমিত বাংলা বানান রীতিঃ সচরাচর সমস্যা করে এমন শব্দের একটি সম্ভার! - ম্যাভেরিক
- আন্তর্জাতিক শেয়ার বাজারের পতন ও ফাইনান্সিয়ালাইজেশানের সংকট - দিনমজুর
- ০: একটি স্বর্গীয় পরিভ্রমণের গল্প (সম্পূর্ণ) - ম্যাভেরিক
- ইজরায়েলের জবানবন্দী:: তেলআবিবে বিপন্ন মানবতা আর আত্মরক্ষার অধিকার !! - মেহরাব শাহরিয়ার
- অগুনিত মেহেরের গল্প। - সৌম্য
- ট্রেকিং, ব্যাগ পেকিং আর হাইকিং, এডভেঞ্চারের সাথে মিশে যান প্রকৃতির সাথে - সৌম্য
- ভালো লাগা প্রিয় কবিতারা-৫০ (যা চেয়েছি, যা পাবো না --সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ) - আবদুর রাজ্জাক শিপন
- ব্লগারস ব্লাড ব্যাংকঃ ১২৯ ব্লগারের তথ্য (আপডেট পোস্ট) - ফিউজিটিভ
- যুক্তরাষ্ট্রে ফান্ডিং নিয়ে পড়তে আসুন -২ (GRE)। - কুম্ভকর্ণ
- হার-জিত - আশরাফ মাহমুদ
- একদিন এক বাদলা দিনে। - কোলাহল
- বৃষ্টিমুখর দিনরাত্রি - আহমাদ মোস্তফা কামাল
- ফিরে দেখা ইতিহাস : ভাষা আন্দোলনের দিনপন্জী (১৯৪৭-৫৬)। উৎসর্গ - সকল ভাষাশহীদকে - মিরাজ
- টানেলের শেষেও শুধু অন্ধকারের গান - সন্ধ্যাবাতি
- কখনও স্মৃতি পাহারা দেবার সময় আসে - মাহবুব মোর্শেদ
- সন্ধ্যা ৪ - মাহবুব মোর্শেদ
- সাংবাদিকতার গায়ে 'হলুদ' - ফয়সল
- আজ শ্রাবনের আমন্ত্রনে... - আস্তমেয়ে
- গুগল কথন - ৪ : ব্রিন আর পেইজের কথা - রাগিব
- হারিকেন - দ্য ডিভাইন উইন্ড (৩) - তানভীর
- ঢাকা, মৃতের শহর । । ঢাকা, সিটি অব দ্যা ডেড । । টাইম ম্যাগাজিন। সোমবার, মে ৩, ১৯৭১ - এহহামিদা
- ৭১ এর সকল বীর সেনানীর পক্ষ থেকে: ২০০৭ এর প্রজন্মের Xদফা দাবী - জ্বিনের বাদশা
- : আমাদের ক, খ, গ, ঘ, এবং ঙ : - নজমুল আলবাব
- জরুরি অবস্থার অগল্প - হিমু
স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কর্পোরেট ফাজলামি : শেষ কোথায়?
২৫ শে মার্চ, ২০০৯ রাত ২:০৯
ব্যাপারটা গ্রামীনফোন প্রথম শুরু করেছিলো নাকি বাংলালিংক ঠিক মনে নেই, যেকোনরকম ভণ্ডামির অগ্রপথিক প্রথম আলো তারো আগে টুকটাক চালাতো,তবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে এই দুই সেলফোন সার্ভিস প্রোভাইডার, কোন সন্দেহ নেই। "ব্যাপারটা" মানে হলো স্বাধীনতা দিবস, শহীদ দিবস, বিজয় দিবস এলেই আবেগী কিছু বিজ্ঞাপন দিয়ে জনগণের নাকের পানি চোখের পানি এক করে দেয়া এবং তার সাথে নিজেদের লোগো লাগিয়ে দেশদরদী প্রমাণ করার একটা চেষ্টা (নাকি অপচেষ্টা)। তা করতে থাকুক, আমাদের ধৈর্য বেশ ভালই,আবেগেরও কমতি নেই,এইসব বিজ্ঞাপন দেখে ২-৪টা লোকও যদি স্বাধীনতার মানে বোঝার চেষ্টা করে,মন্দ কি? তো,তাহলে এমন খেপেটেপে কীবোর্ড ধরার মানেটা কি? ধরা লাগতো না,কিন্তু মাঝে মাঝে নিরীহ বাঙ্গালিরও ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙ্গে,তখন একটু হইহল্লা করে রাগটা বের করে না দিলে আর চলে না,সেজন্য পয়সাও লাগে না।
এই মুহূর্তে গ্রামীনের ঐ বিজ্ঞাপনটার কথাই মনে পড়ছে বেশি,ঐ যে, মুক্তিযুদ্ধে ভাই হারানোর শোকে শোকার্ত এক বোন অনেক বছর পরে কেঁদেকেটে একাকার,দেখে তখন আমার চোখেও যে ২-১ ফোঁটা পানি আসেনি তা না। তবে ঠিক পরের মুহূর্তেই "ডিজুস দুনিয়ায় হারিয়ে যাও" ডায়ালগটা শুনে,আবেগটা মুহূর্তের মাঝেই বিবমিষায় পরিণত হয়ে গেলে কেউ অবাক হবেন না যেন। সারারাত ফ্রি তে কথা বলে,এর সাথে ওর সাথে এফএম বাংলায় ডিজুস আড্ডা মেরে শেষমেশ জটিল কিছু সম্পর্কের প্যাঁচ লাগিয়ে তারপরে মুক্তিযুদ্ধে ভাই হারানোর শোকের কথা তরুণ প্রজন্মের ঠিক মাথায় থাকে কিনা,যথেষ্ট সন্দেহ হয়,আমি আবার একটু সংশয়বাদী বটে।
তা গ্রামীফোন যা করবে বাংলালিংক তার পিছু ধাওয়া করবে না সেটা হতেই পারে না। কাজেই দৃশ্যপটে উদয় হলেন 'গুরু' আযম খান,সাথে ষাঁড়ের মত গলা নিয়ে আইয়ুব বাচ্চু। বন্দুকের সুর গীটারের সুর মিলিয়ে এক জটিল প্যারোডি বানিয়ে আবেগে মাখামাখি অবস্থা,তাও হজম করে নেয়া গেল। কিন্তু 'মুজিব' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা নির্মলেন্দু গুন আর 'মা' উপন্যাস লিখে শ্রদ্ধা কুড়ানো আনিসুল হক যখন ফুল নিয়ে কৃত্রিম আবেগে গদগদ চোখে শহীদ মিনারের দিকে তাকিয়ে থাকেন আর পরবর্তী শটে বাংলালিংকের অকৃত্রিম শ্রদ্ধাসম্বলিত স্লোগান ভেসে ওঠে,তখন ঠিক খেপে যাওয়ার ভাষাটাও পাই না,দেশপ্রেম আর আবেগের সংজ্ঞা নতুন করে শেখার চেষ্টা করি। টাকার অংকটা অবশ্য বিশাল এবং লোভনীয় ছিল,প্রথম আলোর সাথে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে গুণদা নিজেই স্বীকার করেছেন।
ইদানিং গ্রামীনফোনের সেই ভাই-বোন আবার নাক জাগিয়েছে, সাথে আবার নতুন একটা বিজ্ঞাপন,একাত্তরের চিঠি। খুবই ভাল উদ্যোগ, সন্দেহ নেই। প্রশংসা করতাম,যদি ঠিক এরপরেই কয়েকটা বহুতল বাড়ির ছাদে আর ট্রাকের উপর একপাল উদ্ভট পোশাকের ছেলেমেয়ে ততোধিক উদ্ভট বাংলা উচ্চারণে কি যেন একটা কিছুতে সাড়া দেবার জন্য ষাঁড়ের মত চেঁচাতে থাকতো। ঠিক তারপরেই নাক জাগাবে ভার্সিটি ফেরত এক তরুণী,এসেই ব্যাগটা কোনমতে ছুঁড়ে ফেলেই মোবাইলটা নিয়ে বসে যাবে,ডায়াল করবে একটা বিশেষ নাম্বারে, তারপরেই মুখোশ পরা অজানা একদল বন্ধুবান্ধব ডাকতে থাকবে, এসো হে বন্ধু,এসো এসো। একেকজনের একেক গুণ,কেউ গানবাজ,কেউ শাড়িতে পরমাসুন্দরী,কেউবা বলবে তার সুন্দরবনের ভ্রমণকাহিনী। তোমাকে শুধু সব কাজকর্ম বাদ দিয়ে দিনরাত বন্ধু,আড্ডা,গান চালিয়ে যেতে হবে,দীনদুনিয়ার আর কোন খবর রাখার দরকার নেই। সন্দেহ নেই,গুনদা'র বুড়ো আর আনিসুল হকের গুঁফো চেহারার চেয়ে তিন্নি আর মোনালিসার রঙিন নাচাগানাই তরুণ প্রজন্ম বেশি খাবে,ঠিক যেমন একাত্তরের চিঠি দেখেই ডিজুস বাংলার আহ্বানে মেতে গিয়ে ঐ চিঠির মর্ম উদ্ধারের আর সময় হবেনা কাঁধে ব্যাগ ঝুলানো জেনারেশন নেক্সটের।
কর্পোরেটরা ব্যাপারটাকে ঠিক কিভাবে ব্যাখ্যা করে? তাদের ভাষায় এইসব বিজ্ঞাপন অনেকটাই "কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি",আমি অবশ্য নিশ্চিত নই এ ব্যাপারে,তবে আপাতত সেরকমই দেখায়। দেশ,দশ ও জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই গ্রামীনফোন এদেশের জনগণ ও ইতিহাসের পাশে ছিল,আছে ও থাকবে এমন ২-১ টা বক্তব্য শুনেও থাকতে পারি কোথাও,বাংলালিংক তো একেবারে দিনবদলের সারথী। মেনে নিলাম,বেকুব বাঙ্গালিদের পকেট কেটে নিজের জেব ভারি করা ফোনওয়ালারা খানিকটা গরু মেরে জুতা দান করতে চাইছে,কিন্তু সন্দেহবাদী মনে আরেকটু কুতর্ক উঁকি দেয় মাঝে মাঝেই। এই যেমন,ক'দিন আগেই টিএসসিকে সাজিয়ে দেয়ার নাম করে পুরো টিএসসিকেই নিজেদের বিজ্ঞাপন বিলবোর্ড বানিয়ে ফেলতে চেয়েছিল গ্রামীনফোন,আহা,কত দরদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ব্যাপারটা মেনে নেবে এমন দুঃস্বপ্ন দেখার দিন এখনো আসেনি,কাজেই তাদের ধাওয়া খেয়ে গ্রামীন আর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উভয়েই পিছু হটেছে। বুয়েটের শিক্ষার্থীদের মনে হয় অত মাথা ঘামাবার সময় নেই,কাজেই একটা ল্যাবরেটরি সেটআপ করে দেয়ার নাম করে হুয়াই মোটামুটি আস্ত একটা ল্যাবই দখল করে ফেললো বুয়েটের। তড়িৎকৌশলের ছাত্রদের কতটা লাভ হয়েছে সেটা তারাই বলতে পারবে (তথ্যে ভুল থাকলে সংশোধন করে দেয়ার অনুরোধ থাকলো), তবে হুয়াই যে তাদের কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য বুয়েটের অবকাঠামো ব্যবহার করার একটা চমৎকার সুযোগ বুয়েটের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে করে নিলো,সেটা বোঝার মত বুদ্ধি বুয়েট কর্তৃপক্ষের ছিলই না,নাকি গুণদা'র মতই টাকার গুণ দেখে তারা মুগ্ধ হয়েছেন,বলা মুশকিল।
ব্যাপারটাকে আরেক দিক থেকে দেখা যাক একটু। স্বাধীনতা,ক্রিকেট আর ফুটবলের পাশে দাঁড়ানো,দিনবদল,এই জাতীয় বড় বড় কথা দিয়ে আমাদের ব্রেইন ওয়াশ করা হচ্ছে কি? মানে,এভাবে দেখা যাক,আমরা কি অবচেতনেই অনেকে এভাবেও ভেবে ফেলি না যে যারা স্বাধীনতা যুদ্ধ আর একাত্তরের চিঠি নিয়ে এতগুলো ভাল কথা বলে,যাদের হয়ে আনিসুল হকের মত দেশবরেণ্য লেখক আর গুণদা'র মত কবি জলে চোখ ভেজান শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে,হয়তো তাদের ডিজুসের তালে নেচে ওঠা আর কমলা রঙে মন রাঙিয়ে ভাল থাকার মানেই হলো এগিয়ে যাওয়া? শেষমেশ সামাজিক বা ৭১ এর বার্তাগুলো কিন্তু তরুণ মনে চাপ ফেলেনা,সানগ্লাস পরা চোখে অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে স্কিনটাইট জামা আর হাঁটু উঁচানো জিন্সের তরুনী গার্লফ্রেন্ডের স্বপ্ন, "করসো, খাইসো,দেখসো,হাউ ফানি,কুল ডুড" ধরণের এফএম বাংলার কাছে রবিঠাকুর আর নজরুলকে মনে হয় নিতান্তই ব্যাকডেটেড বুড়োদের মাল। স্বাধীনতার বার্তা সামনে দিয়ে তারা জায়েজ করে ফেলে একটা প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়ার সফল একটা মিশনকে, সারারাত টেলিকনফারেন্স আর ভয়েস চ্যাটে ব্যস্ত কিশোরীর সকাল কাটে ঘুমের ঘোরে,বিকাল কাটে এফএমের মূর্ছনায় আর সন্ধ্যায় তার আঙুল ব্যস্ত থাকে রাতের পরিচিত অতিথির পানে ফ্রি এসএমএস ছুঁড়ে দেয়ায়।
খুব বেশি ভুক্তভোগী না হলে অবশ্য আমাদের গলা বা কলম,কোনটাই ওঠে না,নিজেও যে তার ব্যতিক্রম তা না। নিজেদের আত্মীয়পরিজনের মাঝেই এক প্রজন্ম ব্যবধানের ছেলেমেয়ে আছে,মোটামুটি আতংকের সাথে গত ২-৩ বছরে তাদের মাঝে জাদুকরী পরিবর্তন খেয়াল করা যাচ্ছে। যে কাজিনটা আগে মাঝে মাঝে ভুল করে হলেও ২-১ টা গল্পউপন্যাসের বই নিয়ে ঘণ্টা পার করতে পারতো,এখন বইগুলোর দিকে ফিরেও তাকায় না। বড় ভাইবোনরা যখন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস না হোক অন্তত হুমায়ুন আহমেদের ব্যবচ্ছেদ করতে ব্যস্ত,তখন তাদের আলোচনার একমাত্র,আবারো বলছি,একমাত্র বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়ায় গ্রামীনের ফ্রি মিনিট আর বাংলালিংকের ফ্রি মিনিটের মাঝে কোনটা লাভজনক,অমুক কোম্পানির টেলিকনফারেন্স ভালো নাকি তমুকের ভয়েস চ্যাটে সুবিধা বেশি,ওমুকে তো নতুন একটা সেট কিনেছে সেটা অনেক সুন্দর,জানিস আমার সেট টায় এভাবে এভাবে এইসব করতে হয়,আরে ঐ নতুন ছেলেটা এত্ত কিউট করে কথা বলে,একদম ডিজে লিমনের মত,উহ ডিজে ফারিয়া কিভাবে যে অমন করে কথা বলে,যা হট লাগে শুনতে,ওর মত পারলে কিন্তু আজকেই ফোনে ছেলেটাকে পটিয়ে ফেলতাম বুঝলি! ওল্ড জেনারেশনের বেকুব আমি শুধু হাঁ করে শুনেই যাই,ভাবি একসময় এই আলোচনা শেষ হয়ে অন্য দিকে যাবে,কিন্তু শেষ আর হয়না। কিছু বলতে গেলে ধাতানি খাই,তোমরা কিচ্ছু বুঝোনা বুঝলা? মাথা নাড়ি, হয়তো আসলেই অচল হয়ে গেছি,অথবা খুব দারুণভাবে অচল করে দেয়া হচ্ছে,আমাদের,আমাদের স্বপ্ন বয়ে নিয়ে যাওয়া পরের প্রজন্মটাকেও। হয়তো খুব বেশি শংকিত হয়ে যাচ্ছি,কিন্তু এই ডিজুস জেনারেশন রুবাবা মতিন আর আসিফ ইকবালের মত কিছু নষ্ট মানুষের পাল্লায় পড়ে অনেক অনেক এগিয়ে যাওয়ার যে উন্মাদনায় নিজেদের ভাসিয়ে দিচ্ছে,তার শতভাগের একভাগ উন্মাদনাও কি স্বাধীনতা আর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এদের মাঝে আছে? এদের মাঝে কতজন শুনেছে অপারেশন সার্চলাইটের সেই কুখ্যাত অডিও টেপ? কতজন জানে মধুদা'র নাম? একুশের সকালে সাদাকালো'র বাহারি শাড়ি-পান্ঞ্জাবিতে যারা খিলখিলিয়ে ডেটিংয়ে বের হয়,তাদের ঠিক কতজন জানে সালাম-বরকত-রফিক-জব্বারের রক্তের দামে পাওয়া এই শহীদ দিবস আসলে শোক দিবস? একজন জীবনানন্দের রূপসী বাংলাকে কয়জন দেখেছে দিনবদলের বাংলালিংকের মাঝে? ঘুম নেই খাওয়া নেই,একটা সৃষ্টিশীল কাজ নেই,কবিতার লয় নেই,পৃথিবীর খবর নেই,যুদ্ধে কে কবে মরেছিল অত কিছু জানার সময় আছে নাকি? কুল ম্যান,এগিয়ে যাও,ওদের মত হতে হবে,একটা লেটেস্ট মোবাইল,হট কিছু বন্ধুবান্ধব,হালফ্যাশানের জামা,রাতভর ডিস্কো,ইয়াও ডুড,লাইফে আর কি চাই? এনজয় ম্যান,এনজয়!
তা ওরা এনজয় করছে বটে। আমাদের মত কিছু ব্যাকডেটেড লোকজন মাঝে মাঝে হতাশায় মাথা নেড়ে বলে বটে যে--"রুবাবা আর আসিফ ইকবালরে রাস্তায় নামায়া পিটানি দরকার"-- কিন্তু আদতে সেটা যে সম্ভব না আমরাও জানি। কাজেই আমরা আসলে হেরেই যাই,আমাদের সবকিছু নিয়ে এই মশকরা দেখে আমরাও নাচি বইকি। এই তো,আরেক দিন বদলের কারিগর,এক কালের বামপন্থী মতিউর রহমানের প্রথম আলো,তাদের তামাশা দেখেও আমোদ পাই বড়। মঙ্গলবারে 'নকশা' নামে একটা বেহুদা পাতা বের করে,রাজ্যের ফ্যাশান আর হেনোত্যানো কি কি যেন থাকে,এরা আবার ফেব্রুয়ারি,মার্চ আর ডিসেম্বরে বিশেষ সক্রিয়। লাল-সবুজ দিয়ে টিশার্ট,অমুক শিল্পীর আঁকা ক-খ-গ-ঘ-ঙ শাড়ি,সালোয়ার-কামিজে রবীন্দ্রনাথ। হায় গুরু!হায় গুরু!! এমন জানলে কি বুড়ো দাদু ঐসব কবিতা লিখতেন? কে জানে, হয়তো রবিবুড়োকেও দেখা যেত হাইহিল তরুণীর বগলদাবা হয়ে হাসিমুখে কবিতা আওড়াতে,তোমারো হিয়ার মাঝে লিখিনু পদ্য,ধন্য হইলো মম জীবন। শালার দুনিয়ার সুখ,ওনলি অন মাই ডিজুস, রবিঠাকুর কি আর সুখ চাইতেন না?
তা এ পর্যন্তও হজম হচ্ছিলো,কিন্তু আজ দেখি নকশার শেষ পাতায় দেয়া কতকগুলো খাবারের রেসিপি,শিরোনাম হলো--"লাল-সবুজে রাঙিয়ে তুলুন খাবার টেবিল" বা এমন কিছু একটা। খাবারগুলো কে লাল টমেটো আর সবুজ কাচামরিচ দিয়ে বোধকরি পতাকা বা এমন কিছুর অনুভব দেয়ার চেষ্টা,যার মস্তিষ্ক থেকে এসেছে সে-ই বলতে পারবে কিভাবে কি। দেখে শুরুতে চড়াক করে মাথায় রক্ত উঠে গেল,তারপর খানিক ঝিম মেরে থাকলাম, শেষে পত্রিকাটা ছুঁড়ে ফেলে উঠে পড়লাম। বলি স্বাধীনতা কি খেয়ে ফেলার জিনিস রে? বিজ্ঞাপন আর কাপড়চোপড়ে ঢুকিয়ে শান্তি হয়নি, কবে দেখা যাবে বাংলাদেশের পতাকা লাগানো আন্ডারওয়্যারের নকশাও দেখিয়ে ছাড়বেন মতি মিয়ার বাহিনী,কিন্তু খেয়ে ফেলাটা কি খুব জরুরী ছিল? হয়তো ছিল,ভেতরে ভেতরে তো খেয়ে দিচ্ছেই,নাহয় এবার থেকে সামনেই খাবে মূল্যবোধ,চেতনা নামের বড় বড় শব্দগুলোকে। হয়তো এই আমাদের নিয়তি,খুব সহজেই আমরা ভুলে যাই,বড় কম দামে আমরা বিক্রি হয়ে যাই,বুকের ভেতরে বাংলাদেশ না নিয়ে আমরা তো শাড়ির আঁচলেই নিয়ে ঘুরবো।
বেশ ২-৩ বছর আগে,কোন এক নেট বন্ধু প্রশ্ন করেছিল,আচ্ছা ঐ যে নতুন "আমরা বাংলাদেশী" লেখা রিস্ট ব্যান্ড বের হইসে,কিনসো নাকি? খুব বেশি অহংকারে মেসেন্ঞ্জারের জানালায় একটা রূঢ় জবাব ছুঁড়ে দিয়েছিলাম-- "আমার হৃদয়ে বাংলাদেশ,হাতের ব্যান্ড লাগে না।"
ভয় হয়,আমার সন্তানও কি একইভাবে কথাটা বলতে পারবে একই ঔদ্ধত্য নিয়ে?
সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): স্বাধীনতা দিবস ;
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০০৯ ভোর ৪:০১ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
আমড়া কাঠের ঢেকি বলেছেন:
চরম হইছে ভাইয়া লেখক বলেছেন: হুম,নকশাতে লাল-সবুজ রেসিপি দেইখা মেজাজটাও চরম খারাপ হইসিলো,শালারা পাইলো কি? ফাজলামির একটা সীমা থাকা দরকার।
+++++++++
যদিও এমন একটা ব্যান্ড পাইলে এই মুহূর্তে পড়তাম ~
আমি খুব ইন্টারেষ্ট নিয়া আছি .. এই সব পোলাপান আরেকটু বয়স হইলে কি করবে দেখার জন্য
লেখক বলেছেন: ব্যান্ড পরা নিয়া আপত্তি করসি তাও ঠিক না,স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে গেলে মাথায় আমিও একখান লাগাই,কিন্তু ভিতরটা খালি নিয়া বাইরে রং লাগাইলে কি হয় সেইটা মনে হয় মতি মিয়া আর রুবাবা ভাল কইতে পারবো। সিমেন্ট আর রডের বদলে বালু আর বাঁশ দিয়া হাইরাইজ বানাইলে সেইটা হুড়মুড় কইরা পইড়া যাওয়ার কথা,বয়স হইলে এই জেনারেশনের সেইরকম হইবো কিনা সেইটা কথা।
ক্লান্ত পথিকের গল্প বলেছেন:
সহমত। একেবারে সত্যি কথাটা বলেছেন। আরো আগেই আমাদের এ ব্যাপারে বলা উচিত ছিল। +
লেখক বলেছেন: বলে তো,অনেকেই বলে,কিন্তু কেউ শোনে কি? ![]()
লেখক বলেছেন: ঠিক কি কারণে পুরাটা পড়তে পারলেন না জানাইলে নিজেরে শুধরাইতে পারতাম।
জ্বি ম্যালা আগাইসে,আইসা দেইখা ডিজুসের তালে নাইচা যান।
আমড়া কাঠের ঢেকি বলেছেন:
সবার মাঝে এই বিকৃত মানসিকতা ঢুকিয়ে দিচ্ছে কর্পোরেট ডিজুস দুনিয়া।একুশে ফেব্রুয়ারী, ২৬শে মার্চ, ষোলই ডিসেম্বর। এইসব দিনগুলো হয়ে যাচ্ছে নতুন ফ্যসন ধরে উৎসব করার দিন। নতুন সাজে দেশপ্রেমিক-প্রেমিকার ব্যক্তিগত ডেটিং।
"কুশের সকালে সাদাকালো'র বাহারি শাড়ি-পান্ঞ্জাবিতে যারা খিলখিলিয়ে ডেটিংয়ে বের হয়,তাদের ঠিক কতজন জানে সালাম-বরকত-রফিক-জব্বারের রক্তের দামে পাওয়া এই শহীদ দিবস আসলে শোক দিবস?"
কে জানে কয়দিন পর হয়ত এসব দিনে ডিজে পার্টি করবে আজকের ডিজুস পোলাপান। তাদের পেছনে থাকবে কর্পোরেট দুনিয়া। যা কিছু ভালো তার সাথেই তো এরা!
লেখক বলেছেন: কে জানে কয়দিন পর হয়ত এসব দিনে ডিজে পার্টি করবে আজকের ডিজুস পোলাপান। তাদের পেছনে থাকবে কর্পোরেট দুনিয়া। যা কিছু
ভালো তার সাথেই তো এরা! নতুন সাজে দেশপ্রেমিক-প্রেমিকার ব্যক্তিগত ডেটিং।
হাসতেই আছি।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
আমড়া কাঠের ঢেকি বলেছেন:
স্টিকি করা উচিৎ।
লেখক বলেছেন: আমাদের ভেতরে বাংলাদেশটা কবে স্টিকি হবে?
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
আমড়া কাঠের ঢেকি বলেছেন: স্টিকি করা উচিৎ। স্টিকি হবে কিনা সন্দেহ...তবে অসাধারণ পোস্ট। শুধু একটা ব্যাপারে আমার দ্বিমত আছে। রিস্টব্যান্ড, খাবার... এমনি করে পতাকার সর্বক্ষেত্রে প্রয়োগের পক্ষে আমি, শুধু পতাকা আর দেশ বেঁচে কোনো বেনিয়া কোম্পানি ব্যবসা করবে ওইটা মানতে পারি না। দেশী কোম্পানীর মুখে দেশের কথা মানাতে পারে, কিন্তু বিদেশী বেনিয়া আমাদের শহীদের জন্য কুমীরের কান্না দেখাবে সেটা হতে পারে না।
লেখক বলেছেন: রিস্টব্যান্ড নিয়া আসলে আমার অ্যালার্জি নাই,অ্যালার্জিটা হলো শোঅফের ব্যাপারে। ভিতরে না নিয়ে স্বাধীনতা খেয়ে ফেললে যা দাঁড়াবে আরকি,মুখ দিয়ে খেয়ে পেছন দিয়ে বর্জ্য পদার্থের মত বের করে দেয়া,এটা যেন বন্ধ হয়।
ড়ৎশড় বলেছেন:
ফারহান ভাইয়া একটা দিকের কথা বলতে ভুলে গেছেন।আমাদের নতুন প্রজন্মের কিছু নাট্যকাররা যেসব অশ্লীল নাটক বানায় আর ডিজুস তারুণ্যের উৎসাহ জোগায় তাতে এই সব অপসংস্কৃতির রচয়িতাদেরকে কি করা উচিত বলেনতো!?কিছুদন আগে ফারুকীর ১৪ ফেব্রুয়ারীতে ফাস্ট ডেট নামে একটি নাটক যায়।কিছুটা দেখে আর রুচি হয়নি।ভাবি কোথায় যাচ্ছে দেশ?
নাটক-বিজ্ঞাপন সবখানে অবাধে ইভটিচিং,ছ্যাবলামী এইসবকে ভয়াবহ ভাবে প্রশ্রয় দেয়া শুরু হয়েছে।নির্বাক হয়ে থাকি আর চিন্তা করি কোথায় আমার সোনার বাংলা,কোথায় বটের মূলে বিছানো সেই স্বর্ণালী আঁচল।আমরা বড়ই অসহায়!কিচ্ছু করার নাই।
আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি,তবু এখনো অনেকে আছেন যারা রঙচঙ্গা ওইসব ডিজুস কালচার গ্রহণ করার থেকে বুকের মধ্যে লাল সবুজ রেখে সাদা কালো জামা পরিহিত খাঁটি বাঙ্গালী হতেই প্রানান্তকর প্রচেষ্টা চালায়!!!
লেখক বলেছেন: ফারুকীর ভাইবেরাদররে ধইরা রামঠ্যাঙ্গানি দেয়ার সময় হইসে। নাটকের নতুন একটা দিক দেখাইসে ভাল কথা,তারমানে এই না যে সবকিছু নিয়া ফাজলামি করবে। কবি সমুদ্রগুপ্তের জানাজাতে কবিদের সাক্ষাৎকার নিয়া সেইটা আবার নাটকে দেখাইসে এমন বজ্জাতিও এরা করসে,এরা নাকি আবার নতুন প্রজন্মের নাট্যকার,শালার কই যাই!
আরেফিন জিটি বলেছেন:
ভাই, একেবারে মনের কথাগুলা বলেছেন। এরা সবকিছু নিয়াই ব্যবসা শুরু করসে, একেবার too much.
লেখক বলেছেন: খুব বেশি । ব্যবসা করুক,কিন্তু ভিতরটাকে ধ্বংস করে দেয়ার কাউকে দেয়া হয় নাই,এটা ঠেকানো দরকার।
কিষান বলেছেন:
"একটা ল্যাবরেটরি সেটআপ করে দেয়ার নাম করে হুয়াই মোটামুটি আস্ত একটা ল্যাবই দখল করে ফেললো বুয়েটের। তড়িৎকৌশলের ছাত্রদের কতটা লাভ হয়েছে সেটা তারাই বলতে পারবে"এই কথা কি সত্য? তাহলে তো বিপদ :০
আমি তো আশাবাদী হইছিলাম। আপনার কথা শুনে নিরাশ লাগছে
আর জিপি এবং তার কর্পোরেট প্রসটিটিউটরা যা শুরু করসে তা নিয়া কিসু বলতে গেলে রাত কাবার হয়া যাবে
লেখক বলেছেন: চুক্তিটার প্রাথমিক শর্ত দেখে ভয় পাইসিলাম,একটা নির্দিষ্ট সময় বুয়েটের ছেলেমেয়েরা ল্যাবটা ব্যবহার করবে,বাকি সময় করবে তারা। কাজের মাঝে কাজ হলো,বুয়েটে নিজেদের লোকদের ট্রেনিং দেয়ার ভাল একটা জায়গা হলো,ল্যাবের বাড়তি কিছু সুবিধা পাওয়া গেল,আরো কি কি জানি ছিল,সব খেয়ালও নেই। শেষ পর্যন্ত তারা ল্যাবটা সেটআপ করেছে,যতদূর জানি,পুরানো চুক্তি মতই,তবে শেষমুহূর্তে কোন পরিবর্তন হয়েছে কিনা বা এখন কেমনভাবে ব্যবহার করে সেটা এখনকার ছাত্ররা বলতে পারবে। তবে এইটুকু জানি,এটা আমেরিকা বা ইউরোপ না,কর্পোরেটরা এখানে শুধুই শোষণ করতেই আসে,এদের কোন পাবলিক প্রতিষ্ঠানে ঢুকালে খাল কেটে কুমির না,একেবারে হাঙ্গর নিয়ে আসার অবস্থাই হয়,কখন কোনদিক থেকে আপনাকে কেটে দু'টুকরো করে খেয়ে চলে যাবে টেরও পাবেন না।
লেখক বলেছেন: মিডিয়াও তো কর্পোরেট,ব্যবসা বুঝে,কাজেই যারটা খাবে,তাদের নিয়া লাফাবে,কি আর করা! এখন আমরাই যদি লাফাই,দোষটা কার?
আরিফুল হোসেন তুহিন বলেছেন:
এক্কেবারে মনের কথাটা কইছেন।সেদিন এইটা নিয়া কথা হইতেছিল,আমাদের আগের কলোনীতে গিয়া দেখি ছুড পুলাপানরা খেলাধুলা করে না,মাঠ ফাকা।কিছু গ্রুপ দেখলাম, হাতের চেয়ে বেশী ওজনের ঘড়ি আর সামনের চুলগুলারে খাড়া করনের অতিজৈবিক চেষ্টা।
হায়রে হায়রে হায়রে,
পলাশীতে একদিন নাস্তা খাইতেছি হঠাত পেয়াজু দোকানের পাশে দেখি জিন্সের প্যান্ট পড়া এক মাইয়া চিকনা মোর সিগারেট লইয়া দাড়াইয়া আছে, বুয়েটে এগুলান দেখি নাই তাই কৌতুহলী হইলাম।
পাক্কা দুইমিনিটের মাঝে মেয়েটা একটা আণুবীক্ষনিক টান দিল। আমি মনে মনে কইলাম যদি সিগারেট খাইবার চাও খাও,কিন্তু খাইবা কারন সিগারেট খাইতে ভালোই মজা।
কিন্তু খাওয়ার জন্যে খাইলে লীফ না হোক বেন্সন খাও, ঠিক মত টান দাও ,ফুস্ফুসে ধুয়া নেও।
আর যদি এই রকম দেখাইন্না খাওয়া খাও,আর মনে কর দেখাইয়া উপ্রে উঠতাছ তাইলে কইলাম উপ্রে উঠতাছ ঠিক ই কিন্তু চাগলের পিঠে ,হে তোমারে লইয়া সামনে যাইবার পারব না।
আমরা ফাপা খোলসে পরিনত হচ্ছি দিনদিন।
লেখক বলেছেন: "কলোনীতে গিয়া দেখি ছুড পুলাপানরা খেলাধুলা করে না,মাঠ ফাকা। "
ভাল পয়েন্ট,বাদ পড়সিলো। পোলাপান মাঠে কিছু থাকে,তবে মাঠের মাঝ পিচে দৌড়ায় না,কোণাকান্ঞ্চিতে বইসা দেখবা মোবাইল টিপতাসে আর গুজুরগুজুর করতাসে,কেডা কয়জনরে বাগাইলো আর রাইতে কি কথা হইলো কয়জনের লগে। ডিজুস পোলাপানের লাইফস্টাইল আর ড্রেসআপ গেটআপ আলাদা পোস্টের দাবী রাখে,এদের আরো কাছাকাছি থাকে এমন কেউ দিলে আমরাও জানতে পারতাম,বুড়া হয়া গেসি তো,নিউ জেনারেশন বেশি কাছে ঘেঁষতে দেয়না।
সিগারেট খাওয়াটা কোন মাহাত্মের কাজ মনে হয় নাই কখনো,যে টানে সে ধোঁয়া টানার লাইগা টানলে টানুক,কিন্তু স্মার্টনেস মনে কইরা টানলে সেইটা একটা বড়দরের বেকুব আমি কমু। তবে বুয়েটের উন্নতি হইসে,তোমাগো বা পরের ব্যাচের একটা পোলারে দেখসিলাম বুয়েটে আসতো সাদা রঙের একটা ট্রাউজার টাইপ কিছু পইরা,সেইটাতে আবার হাজারখানেক হিজিবিজি লেখা,চুলের কাটিংও সেইরকম। ঠিক করসিলাম একদিন পিটামু সবাই মিল্যা,আফসুস,সেই দিন আসার আগেই পাশ কইরা গেলাম।
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন:
সাথে খোদার খাসীর মত শরীর নিয়ে আইয়ুব বাচ্চু। "খোদার খাসীর মত শরীর" বাক্যটি রম্য নয়, ব্যক্তিগত আক্রমণ বলা চলে। ঠিক করে দিয়েন। স্টিফেন হকিংকে কেউ লুলা বলে না।
---------------
চমৎকার লেখাটার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমি দূরদর্শন কিংবা পত্রিকা (বাংলা) পড়ি না, সুযোগ কম। এমন অবস্থা সত্যিই ন্যাক্কারজনক। এই জাতি একদিন বুঝবে নিজেকে নিজে সম্মান না দেয়ার পাপ কী জিনিস।
লেখক বলেছেন: আসলে বলা উচিত ছিল,ষাঁড়ের মত গলা নিয়ে
কাউকে পছন্দ করার পরে সেখানটায় আঘাত করলে ক্ষোভটা একটু বেশিই হয়,বাচ্চু,বা নির্মলেন্দু গুণ বা আনিসুল হকের বেলায় সেটাই চলে এসেছে সম্ভবত।
এরকম যখন শুরু হয়েছিল তখন সেটা খুব একটা পাত্তা দেয়ার মত ছিল না,কিন্তু এখন কেমন যেন মহামারীর মত হয়ে যাচ্ছে,নিজেদের ঘরের ছেলেমেয়েগুলো যখন ভাল একটা বইয়ের নাম জানে না কিন্তু মোবাইল কোম্পানির লেটেস্ট অফারটা মুখস্ত রাখে,বইমেলায় যাওয়ার উৎসাহ পায় না বই কিনতে কিন্তু না খেয়ে বা পায়ে হেঁটে বা বাপের পয়সা মেরে লেটেস্ট মডেলের মোবাইল সেট কেনে,তখন ভয় না পেয়ে পারি না। লোভ আর উপরে ওঠার নেশায় আমরা কোথায় যাচ্ছি?
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন:
দুর্দান্ত একটা লেখা , এমন সব বিষয় গুলা, যা নিয়ে আমিও সব সময় ভাবি। কিন্তু লিখতে পারিনা। কারনঃ আমি লিখতে পারিনা। ফারহান ভাইয়াঃ আই রিপিট "লেখাটা অনেক দুর্দান্ত "
লেখক বলেছেন: কেউ না কেউ জনতার হয়ে বলে ফেলে, আজকে হয়তো আমি, গতকালকে আর কেউ ছিল,কালকে হয়তো আপনি ,নষ্ট করার মানুষ যেমন ছিল,থাকবে,বলার লোকও থাকবে,আমাদের মত খুব সাধারণ মানুষরাই বলবে,সেই আশাতেই থাকি।
আমাদের শুভবোধ জেগে থাকুক।
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন:
"স্বাধীনতা,ক্রিকেট আর ফুটবলের পাশে দাঁড়ানো,দিনবদল,এই জাতীয় বড় বড় কথা দিয়ে আমাদের ব্রেইন ওয়াশ করা হচ্ছে কি ?"দিনবদলের গান... ব্রেইন ওয়াশের কি আর কিছু বাকি আছে? :-)
লেখক বলেছেন: সেইটা মতি মিয়ারে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন, বদলে দিতে গিয়ে উনি নিজেই বদলে গেছেন সবচেয়ে বেশি,খুব অবাক লাগে মানুষগুলোকে বদলে যেতে দেখে। তবে এই নিয়েও মনে হয় আমরা ভাল আছি,বাংলালিংকের তিন্নি আর মোনালিসা তাই বলে না? ![]()
লেখক বলেছেন: এইভাবে গলা ফাটিয়ে আসলে কি হয় জানিনা,শেষপর্যন্ত সবই নষ্টদের অধিকারে যায়,এই বচনটা আজকাল প্রায় বিশ্বাস করে ফেলেছি।
পজিটিভ২৯ বলেছেন:
যাই বলেন, অবদান ও কম না....হঠাৎ করে এ্যাডগুলা দেখলে দু-এক মিনিটের মধ্যে গায়ের লোম খাড়া হয়ে ওঠে। এত সহজে আবেগাপ্লুত করতে চোখের সামনে আর কাউকে তো দেখিনা। নাকি কখনও দেখেছি? ভন্ডামী আছে অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্ত যা পাচ্ছি তা আর কে দিচ্ছে?
চাকরী খুজতে গেলে কর্পোরেট সীল দেখলেই লালা ঝরে।
এত এত রাজস্ব তার সিংহভাগ আসছে তো ওদের থেকেই। হ্যা অনেক বেশী নিয়ে যাচ্ছে। তাতে আমাদেরই হাত আছে।
তাদের টাকা আছে , আছে ক্ষমতা, ভালো খারাপ যে কোন কিছু তারাই সহজে করতে পারে।
লেখক বলেছেন: অবদান কথাটা অস্বীকার করলাম,পুরোপুরি। ওটা তাদের ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি,ঐ অনেকটা টিএসসিকে সাজিয়ে দেয়ার মত বা বুয়েটের ল্যাবটা দখল করে ফেলার মত। আর চাকরি? এটাও পুরানো স্ট্র্যাটেজি,কয়েকটা লোককে হাত করে নাও উঁচু পদ আর সম্পদের লোভ দেখিয়ে,মীরজাফরের দেশে মায়ের গলা কাটার লোক সবসময়ই পাওয়া যাবে। রাজস্ব ওরা দিচ্ছে,মারছে তার চেয়ে অনেক বেশি,এদের ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে পরিমাণটা কয়েকগুণ বেশিও হতে পারতো,লাভের ভাগ এই রাষ্ট্রের মানুষও পেতে পারতো।
"তাদের টাকা আছে , আছে ক্ষমতা, ভালো খারাপ যে কোন কিছু তারাই সহজে করতে পারে।"--- তাহলে তো বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়াটাও একটা অলৌকিক ব্যাপারই ছিল,তাই না? শক্তিমানের কথা বা কাজের প্রতিবাদ করা যাবে না,এইরকম ধারণা নিয়ে বসে থাকাটা কতটা যুক্তিযুক্ত,বুঝলাম না ঠিক।
রুবাইয়াত ইসলাম সাদাত বলেছেন:
অসাধারণ লেগেছে। একেবারে মনের কথাটি বলেছেন ফারহান ভাই। বুয়েটের ব্যাপারটি সত্যি মনে হচ্ছে। যদিও আমরা বের হবার পরের ঘটনা এটি। তবে যতটুকু জেনেছি এতে বুয়েটের ছেলেদের কোনই লাভ হচ্ছেনা। মনের সবচাইতে কোমল, স্পর্শকাতর জায়গাটিতে, (যেমন মা, স্বাধীনতা) যখন ব্যবসা নামের বিষ ঢুকে পড়ে, তার চাইতে ভয়ংকর আর কিছু হতে পারেনা। আর এসব দিনগুলোতে ডিজে পার্টির কথা বলেছেন, এগুলো এখন শুরু হয়ে গেছে ফারহান ভাই। এখনকার কয়টা ছেলে মেয়ে বলতে পারবে যে আমাদের স্বাধীনতা দিবস কবে, বুদ্ধিজীবী দিবস কবে, বিজয় দিবস কবে, আমার ঘোরতর সন্দেহ আছে, আমাদের ইতিহাসের কথা বাদ ই দিলাম। সাথে যুক্ত হয়েছে তথাকথিত ডিজুস ভাষায় সংলাপ সমৃদ্ধ ভাই-বেরাদরের নাটক গুলো। চোখের সামনে দেখলাম মানুষের মধ্যে একটা বিশাল পরিবর্তন শুধু এই ডিজুস এর কারণে। জীবনটাকে মিথ্যে আর জটিলতার আবরণে একেবারে পেঁচিয়ে ফেলেছে এই ডিজুস সংস্কৃতি। এসব কথা বলে কি লাভ বলুন? আবারও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর মতন এক নিরব সাম্রাজ্যবাদের সম্মুখীন আমরা। সেই একই পন্থা সব সাম্রাজ্যবাদীর। প্রথমে ব্যবসা, তারপর সেই সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিষ ঢেলে দেয়া।
লেখক বলেছেন: আমরা যখন মাত্র বের হয়েছি তখন এই ল্যাব সেটআপ নিয়ে কেউ কেউ দেখেছিলাম টুকটাক কথা বলেছিল,এরপরে ব্যাপারটা ধামাচাপা পড়ে,আজকে এক বন্ধুর কাছে শুনলাম সেটা হয়েই গেছে। এখনকার কেউ থাকলে বলতে পারতো ব্যাপারটা কিভাবে কি হচ্ছে,বাইরে থেকে মন্তব্য করতে চাইনা,শুধু ধারণার কথা বলতে পারি।
গৌরবের দিন গুলো এখন পার্টি ডে হয়ে যাচ্ছে,তা হোক,কিন্তু ইতিহাসটা জেনে পার্টিটা করলে কাজে লাগতো,মুশকিল হলো,এদের শতকরা ১ জনও সেটা জানে বলে মনে হয়না। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বন্দুকের মুখে ব্যবসা করেছিল,এদের তাও চেনা গেছে,এখনকার বেনিয়ারা ভেতরে ঢুকে খেয়ে ফেলছে,একদম গোড়া থেকে কেটে দিচ্ছে,আর তাতে রসদ যোগান দিচ্ছি আমরাই।
সোহায়লা রিদওয়ান বলেছেন:
"তবে এই নিয়েও মনে হয় আমরা ভাল আছি,বাংলালিংকের তিন্নি আর মোনালিসা তাই বলে না? "-"আমরা ভাল আছি" এইটা অনেকটা গোয়েবলসীয় কায়দায় ভালো আছি।দেশের মানুষ যেমনই থাকিনা কেন , দশবার যদি বলা হয় আমরা ভাল আছি , আর কয়েকটা চ্যানেলে গেয়ে নেচে যদি বলা হয় "আমরা খুব ভালো আছি" , তিন চারটা পত্রিকায় যদি লেখা যায় দিনের পর দিন "আমরা খুব খুউব ভালো আছি" ,কিছু ভাড়াটে বুদ্ধিজীবি রাখা যায় যারা নিয়মিত বিবৃতি দিয়ে যাবে "আমরা অবশ্যই ভালো আছি" ...
তাইলে আমরা নিশ্চই ভালো আছি!!!
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ,দেশে বিদ্যুৎ না থাকুক,পেটে ভাত না থাকুক,জ্যামে বসে দিনের অর্ধেক নষ্ট হয়ে যাক,পানির অভাবে কারবালা হয়ে যাক,কোথাও কোন সমস্যা নেই,হাতে একখান মোবাইল আর ডিজুসের সিম থাকলেই হবে,বন্ধু-আড্ডা-গান এখানেই। মজার দেশ যা হোক,আরো মজার আমরা!
পজিটিভ২৯ বলেছেন:
সবই হচ্ছে বিজনেস। যে করতে পারবে সেই জিতবে। আমারা পারছি না তাই ঠকছি। অথবা বলতে পারেন আমরা দুর্নীতিবাজ তাই ঠকছি। তারা আমাদের দেশে এসে বিজনেস করছে , আমরা ঠকছি। আবার আমরা তাদের দেশে গেলে তারা বিজনেস করে আমরা ঠকি।আমাদের আম ও যায় ছালা ও যায়। আমাদের শিখতে হবে কিভাবে লাঠি অক্ষত রেখে সাপ মারা যায়। দোষটা শুধু তাদের দিলে চলবে কিভাবে? আমাদের দু্র্বলতা যতদিন আমরা স্বীকার না করে গলাবাজি করবো কিন্তু আসল কাজ করবো না ততদিন আমরা এভাবেই হারতে থাকবো। আমরা নিজে এককোটি টাকা পেলে অজ্ঞান হয়ে যাই। দেখিনা দেশের হাজার কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে।
লেখক বলেছেন: আসল পয়েন্টে এসে গেছেন,এটাই বলতে চাইছিলাম। আমাদের নিজেদের পরিচয়টা ঠিক করতে হবে,একটা দ্বিধান্বিত(কনফিউজড এর সঠিক বাংলা হলো কি?) জাতি হয়ে থাকবো নাকি নিজেদের পরিচয়টা ঠিক করে নেব,সেটা আমাদেরই ঠিক করতে হবে। একটা পাজেরো গাড়ি ঘুষ পেলে যে দেশের মন্ত্রী হাজার কোটি টাকার চুক্তি দিয়ে দেয় বিদেশি কোম্পনিকে,সেখানে কাজটা কঠিনই,কিন্তু অন্তত আমরা বলি,আমাদের জানা থাকুক,দেখবেন,একদিন আমরাও--
পজিটিভ২৯ বলেছেন:
এইজন্যে আমি তাদের (যাদের আপনি কর্পোরেট বলছেন) দোষ বেশি একটা দেখি না। আমরা তাদের যায়গায় হলে একই কাজ করতাম। যা হচ্ছে তাতে আমাদের দোষ ই বেশি।
লেখক বলেছেন: দ্বিমত করলাম। চেঙ্গিস খান মানুষ মারসে বইলা তার দোষ নাই এইটা কোন কথা না। তারা হয়তো সুযোগ নিচ্ছে,তারমানে এই না যে তাদের দোষ কম। ইউরোপিয়ান বেনিয়ারা সারা দুনিয়ারে জ্বালায়া খাইসে,এখনো খায়,আফ্রিকার দেশগুলি ভুক্তভোগী,যদি আমরা সুযোগ না দিতাম,বাহুবলে হইলেও আদায় করতে চাইত,ইরাক একটা ভাল উদাহরণ।
লেখক বলেছেন: ওরা নাচায়,আমরাও নাচি,নিজেদের নাচ আগে বন্ধ করতে হবে।
পজিটিভ২৯ বলেছেন:
আপনি চেঙ্গীস খান হইলে মানুষ মারার সম্ভাবনাই আপনার বেশী থাকতো। বাংলাদেশ আমেরিকার মত শক্তিশালী হইলে হয়তো বাংলাদেশ ইরাকের মতো কোন দেশ এ আক্রমন করতো। ক্ষমতা থাকলে তার সহজাত গুন হয়ে যায় শোষন করা। আমার তাদের উপর রাগ দেখাবো তো অবশ্যই কিন্তু মীরজাফরগুলাকে বাদ দিবো কেন?
লেখক বলেছেন: বাদ দিতে তো বলি নাই,দেশি কর্পোরেটের দালালগুলারেই তো আগে ধরতে বললাম,নিজেরা নাচ না থামাইলে কি আর ওরা সুতা ছাড়বে?
সাঈফ শেরিফ বলেছেন:
আমি ধার্মিক তাই ধর্মের আল-খাল্লা পরতে হবে, আমি দেশ প্রেমিক তাই লাল-সবুজ গায়ে চাপাতে হবে এ ধরনের লোক দেখানো আবেগ ও প্রকাশ ভঙ্গির মাঝে সততা খুজতে গেলে বিশেষ মহলের গাত্র দাহ হওয়া শুরু করে। "সুশীলের" তকমাটা গায়ে লাগাটা এখন খুব স্বাভাবিক ব্যাপার, তোমার ব্যাপারে তার ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হচ্ছেনা।
লেখক বলেছেন: ঐ তকমা অনেক আগে লেগে গেছে,যা পারে করুক। শোঅফ টা আজকাল বড় ব্যাপার,না দেখালে মনে হয় কিছুই হয়না,কাজেই দেশপ্রেমিক হলেও সেইটা কয়দিন পরে মনে হয় পিঠে বড় করে লিখে রাখা লাগবে।
শাহ্ আসাদুজ্জামান বলেছেন:
চমৎকার একটা লেখা পড়লাম। পুঁজিপতি যতই সোশ্যাল বিজনেস আর কর্পোরেট সোশ্যাল রেস্পন্সিবিলিটির কথা বলুক, তার আসল উদ্দেশ্য সব সময়েই মুনাফা।
সেখানে ঐ সব সোশাল-টোশাল একটা বিজ্ঞাপনের বাহানা মাত্র।
বিজ্ঞাপনের জন্য মুসলমানী হালাল সাবান বা ব্যাংকিং হউক, বর্ণবাদী ফেয়ার এন্ড লাভলী হউক, আর "গ্লোরিয়াস" মুক্তিযুদ্ধ হউক, সবকিছুর মূল্যই তার একই পাল্লায় মাপা।
"আচ্ছা ঐ যে নতুন "আমরা বাংলাদেশী" লেখা রিস্ট ব্যান্ড বের হইসে,কিনসো নাকি?"
এই রিস্ট-ব্যান্ড প্রজন্মই তাহাদের অর্জন।
"স্বাধীনতার বার্তা সামনে দিয়ে তারা জায়েজ করে ফেলে একটা প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়ার সফল একটা মিশনকে, সারারাত টেলিকনফারেন্স আর ভয়েস চ্যাটে ব্যস্ত কিশোরীর সকাল কাটে ঘুমের ঘোরে,বিকাল কাটে এফএমের মূর্ছনায় আর সন্ধ্যায় তার আঙুল ব্যস্ত থাকে রাতের পরিচিত অতিথির পানে ফ্রি এসএমএস ছুঁড়ে দেয়ায়।"
যতই এইরকম ভোগ-মগ্ন প্রজন্ম তৈরি করা যায়, ছাগল ক্রেতার পাল ততই বড় হয়, মুনাফার আমদানি স্রোতস্বিনী হয়।
তবে প্রজন্মের প্রতি আমার আক্রোশ নাই। তারা তো ঐ মুনাফাস্রোতের শিকার মাত্র।
বুয়েটের ব্যাপারটা জানতাম না। জেনে বড় ব্যাথা পেলাম।
বাজারের যখন জয়জয়কার তখন বাজারীদের এইরকম দখলদারি লোভ থাকবেই, কিন্তু এই লোভের শরবতে এত ধারালো মেধাগুলোও গুলে গেলে তো সমস্যা।
বুয়েট কি কেবল ধরাজ্ঞানহীন দর্শনহীন একপাল টেক-প্রেমী ভোগমগ্ন টেকি-এক্সপার্টই তৈরি করে?
(বুয়েটের ল্যাবের ব্যাপারটা আরেকটু তথ্যসহ আলাদা পোস্টে বলতে পারেন।)
লেখক বলেছেন: "যতই এইরকম ভোগ-মগ্ন প্রজন্ম তৈরি করা যায়, ছাগল ক্রেতার পাল ততই বড় হয়, মুনাফার আমদানি স্রোতস্বিনী হয়। "
ঠিক ঠিক পয়েন্ট। যত বেশি কেনায় মগ্ন থাকবে,চিন্তা করার ক্ষমতা ততই কমবে,শুধু চাই আর চাই,দেয়ার বেলায় নাই,অনেকটা নেশাখোরদের মতই,মাস্ অ্যাডিকশন বলতে পারেন।
বুয়েটের ল্যাবের ঐটা প্রাথমিক পর্যায়ে ২-১ জন একটু হইচই করেছিল,যেহেতু এটা অন্য ডিপার্টমেন্টের ব্যাপার,তেমন বেশি কিছু জানি না। জানতে পারলে লেখার চেষ্টা করবো (ল্যাব সেটআপ হয়ে গেছে,ছাত্রদের প্রতিক্রিয়াটা কেমন সেটা জানতে হবে,এখনকার তড়িৎকৌশলের কেউ থাকলে ভালো বলতে পারবে)।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
শাহ্ আসাদুজ্জামান বলেছেন:
"ওরা নাচায়,আমরাও নাচি,নিজেদের নাচ আগে বন্ধ করতে হবে।"হ। ইহাই বাচিয়া থাকিবার একমাত্র পথ।
"বাজারে ব্যবসায়ী ব্যবসা করিতেই আসে" -- তাহাদের মুনাফার সুতার টানে নাচিয়া চলা প্রজন্মকে এই সরল সত্য জানানোই আমাদের একটা বড় কাজ। চালাইয়া যান।
লেখক বলেছেন: এইরকম কিন্তু আরো অনেক উদাহরণ আছে,হালাল সাবান,ইসলামি ব্যাংকিং,ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি,এগুলো আপনিই বললেন। তারপরে ধরেন লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার টাইপ কিছু জিনিসপত্র,বললে বিশাল তালিকা হয়ে যায়। সেদিন দেখি এক বিজ্ঞাপনে দেখাচ্ছে রোদে পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া এক মেয়েকে একটা সুদর্শন ছেলে চিনতেই পারছে না,মনের দুঃখে সেই মেয়ে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি মেখে ফর্সা হবার পরে বাসে অপরিচিত লোকও যেচে কথা বলছে। মানুষের যোগ্যতার প্রতি কতটা অবমাননা হতে পারে এই বিজ্ঞাপন,সেটা আপনারাই ভেবে নিন। বিচিত্র কি যে এখনকার ছেলেরাও পার্লারে গিয়ে বসে থাকে!
আমি কর্পোরেট দুনিয়ার অংশ নই এটা বলতে পারি এরা বাণিজ্যের অংশ হিসেবে করলে ও বিজ্ঞাপনগুলোতে অসাধারণ ভঙ্গিতে দেশ এর কথাই তো বলেছে, এই বিজ্ঞাপনগুলো বানিয়েছে বাংলাদেশেরই মানুষ........যাদের হৃদয়ে বাংলাদেশ আছে। চিন্তা করে দেখুন, এই বিজ্ঞাপনগুলো না করলে ও বর্তমান প্রজন্ম ঠিকই ডিজুস বলুন আর বাংলালিংক দেশ নিয়ে মাতামাতি করত। বদলোক ও নানান ধান্দায় কিছু ভাল কাজ করে ফেলে.........................কি আর করা।
এক ভাই ফারুকীর 'ফার্স্ট ডেট' নাটকটার কথা বলেছেন...................নাটকের নামে এটা কোন কিসিমের ফাজলামি সেটা ফারুকীই ভাল জানে.........................তবে এটা যদি নতুন প্রজন্মের চেহারা হয় আমি আতংকিত......................................
লেখক বলেছেন: "এই বিজ্ঞাপনগুলো বানিয়েছে বাংলাদেশেরই মানুষ........যাদের হৃদয়ে বাংলাদেশ আছে। " মানলাম না। আমরা তাদের কাছ থেকেই বাংলাদেশের কথা শুনতে চাই যারা দেশটাকে নষ্ট করতে চায় না। একটা প্রজন্মকে ভুল পথে চালিয়ে তাদের দিনরাত মেধামনন সব কিছু নষ্ট করে দিচ্ছে যারা,তাদের কাছ থেকে দেশের কথা শুনতে হবে,যোগ্য মানুষের এতটা অভাব মনে হয় এই দেশে এখনো পড়েনি। আর আপত্তিটা আরো বড় জায়গায়,এমন ২-১টা বিজ্ঞাপন দিয়ে তারা তাদের আগ্রাসী বিজ্ঞাপন গুলোকেও হালাল করে ফেলছে,সেটা কিভাবে মেনে নেই?
নাফিস ইফতেখার বলেছেন:
ঠিক আমার মনের কথাগুলো আপনার লেখায় যেন দেখতে পাচ্ছি তবে অনেক বেশি সপ্রভিত ভাষায়..........খুব খুব ভালো লেগেছে.........এই ভান্ডামির অবসান চাই..........
লেখক বলেছেন: "এই ভন্ডামির অবসান চাই.........."
আপনার চিৎকার ভালো লাগলো
লেখক বলেছেন: বস,এইখানে কথা আছে। ৭১ এ দেশ স্বাধীন হইসিলো এইটা কিন্তু সবাই জানে,কিন্তু কিসের দামে হইসিলো এইটা জানে না অনেকেই। এখন ধরেন গিয়া স্বাধীনতা দিবসে সবাই মিল্যা ডিজে পার্টি কইরা বিয়ার আর ড্রিংক আর ইয়াবা খায়া যুদ্ধ শুরু দিলাম,বা ধরেন যে বাংলা ভাষার জন্য ২১শে ফেব্রুয়ারিতে সালাম-বরকতরা গুলিটারে নিজের খুলিতে নিসিলেন সেইদিন প্রেমিকারে অ্যরিস্টোক্র্যাটে লান্ঞ্চে গিয়া ডিজুস বাংলায় কইলাম আউ ডারলিন,তোমাকে সাদাকালো ফতুয়া-জিন্সে সো কিউট লুকিং,জিনিসটা একটু কেমন কেমন হয়া যায় না?
লেখক বলেছেন: এমনকি কর্পোরেটদের মাঝেও কিছু মানুষ আছেন যারা কথা বলতে চান,দেশটাকে মানুষরাই টিকিয়ে রাখবে। আমাদের বোধবুদ্ধি যেন মরে না যায়।
নুশেরা বলেছেন:
গতকালের প্রথম আলো দেখেই মনে হচ্ছিল এই কথাগুলো। আমরা তো পুরনো বাতিল প্রজন্ম; এসব নিয়ে কথা বলা মানায়না। ফারহানের মতো কেউ যখন লেখে তখন আশা হারাতে পারিনা। এমন লেখনী আরো সবল হোক, দীর্ঘজীবি হোক।চাইনা দেশটার নামের আগে অমুকফোন বা তমুকলিংক যুক্ত হবার মতো আশঙ্কা তৈরি হোক; চাইনা বুটিক ব্যবসায়র প্রসারের হাতিয়ার হোক প্রিয় পবিত্র পতাকা, চাইনা নিছক কালার স্কিমের নামে কুর্দনরত তিশমার পায়ের তলার ফাইবার গ্লাসের মঞ্চের রঙ হয়ে যাক লালঘেরা সবুজ।
Click This Link
লেখক বলেছেন: তিশমারটা মিস করসিলাম,হেহেহে![]()
ব্যবসা করুক,করতেই তো এসেছে,কিন্তু ব্যবসার নামে কেন একটা দেশকে নষ্ট করবে? দুর্ভাগ্য এখানেই যে আমাদেরই একটা অংশকে কাজে লাগিয়ে এই নষ্টামির প্রসার হচ্ছে,আমরা না জেনেই বিষ তুলে দিচ্ছি।
সুলতানা শিরীন সাজি বলেছেন:
কি যে ভালো লেখো ফারহান..........।
তোমার মত করে দেখে সবাই............কিন্তু লিখতে পারা এভাবে?তোমার দ্বারাই সম্ভব.........
তোমার এমন দেখতে পারাকে বুঝতে পারি......
কিন্তু কারো কি যায় আসে ফারহান.......?
কিভাবে যায় আসে ?
শুভাশীষ তোমার জন্য।
ভালো থেকো...যেমন খুশী।
লেখক বলেছেন: আসলে সবাই ভাবে ১টা বছর,১০টা বছর,শুধু নিজে যে ক'টা বছর বাঁচবে ঐ কয়টা বছর,আমি না থাকলে দেশ আর দুনিয়া জাহান্নামে যাক। নিজেকে ছাড়া আর কাউকে দোষ দিতে পারি না।
বিপ্র বলেছেন:
ফারহান,একদম মনের কথাগুলো লিখেছো। গতকাল নকশার পাতায় খাবারে লাল-সবুজ দেখে হাসবো না কাঁদবো বুঝছিলাম না। এইসব উদ্ভট চিন্তাধারা কার মাথা থেকে আসছে কে জানে।
আসলে মনের মাঝে 'বাংলাদেশ' শব্দটা স্টিকি হয়েছে কিনা সেইটাই আসল। নাহলে টি- শার্টে এসব লোকদেখানো দেশপ্রেম ঝুলিয়ে রেখে কোন লাভ নেই...
লেখাটিকে প্রিয়তে তুলে রাখলাম...
লেখক বলেছেন: হেহে,আরো ২-১ তা উদাহরণ দেই। আজকে বাংলালিংকের বিজ্ঞাপন--"স্বাধীনতার গান "ডেডিকেট" করুন প্রিয়জনকে।" 'ডেডিকেট' কেন,এইটার বাংলা 'উৎসর্গ' না কেন? এইভাবে না বললে স্মার্টি হবে না সেইজন্য? সবকিছুই পণ্য,এইটাই বা বাদ যাবে কেন? আর একাত্তরের চিঠির লেজে গ্রামীনের লোগোটা দেখতে বিরক্ত লাগে,সাথে এখন আসছে আরেক ভণ্ড প্রথম আলো।
লেখক বলেছেন: এখনি মনে হয় না? জেনারেশন গ্যাপ থাকবেই,কিন্তু এটা তাও না,মনে হয় হাতে ধরে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।
নীল লাল সবুজ বলেছেন:
গ্রামীনের ঐ বিজ্ঞাপনটার কথাই মনে পড়ছে বেশি,ঐ যে, মুক্তিযুদ্ধে ভাই হারানোর শোকে শোকার্ত এক বোন অনেক বছর পরে কেঁদেকেটে একাকা---এটা কি গ্রামীনের বিজ্ঞাপন? না বাংলালিংকের? স্বাধীনতা দিবস, শহীদ দিবস, বিজয় দিবস এলেই আবেগী কিছু বিজ্ঞাপন দিয়ে জনগণের নাকের পানি চোখের পানি এক করে দেয়া ...১০০ % ঠিক।
কিন্তু 'মুজিব' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা নির্মলেন্দু গুন আর 'মা' উপন্যাস লিখে শ্রদ্ধা কুড়ানো আনিসুল হক যখন ফুল নিয়ে কৃত্রিম আবেগে গদগদ চোখে শহীদ মিনারের দিকে তাকিয়ে থাকেন আর পরবর্তী শটে বাংলালিংকের অকৃত্রিম শ্রদ্ধাসম্বলিত স্লোগান ভেসে ওঠে,তখন ঠিক খেপে যাওয়ার ভাষাটাও পাই না-----চমৎকার !
তোমাকে শুধু সব কাজকর্ম বাদ দিয়ে দিনরাত বন্ধু,আড্ডা,গান চালিয়ে যেতে হবে,দীনদুনিয়ার আর কোন খবর রাখার দরকার নেই। সন্দেহ নেই,গুনদা'র বুড়ো আর আনিসুল হকের গুঁফো চেহারার চেয়ে তিন্নি আর মোনালিসার রঙিন নাচাগানাই তরুণ প্রজন্ম বেশি খাবে,ঠিক যেমন একাত্তরের চিঠি দেখেই ডিজুস বাংলার আহ্বানে মেতে গিয়ে ঐ চিঠির মর্ম উদ্ধারের আর সময় হবেনা কাঁধে ব্যাগ ঝুলানো জেনারেশন নেক্সটের।-----হা হা হা
বড় ভাইবোনরা যখন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস না হোক অন্তত হুমায়ুন আহমেদের ব্যবচ্ছেদ করতে ব্যস্ত,তখন তাদের আলোচনার একমাত্র,আবারো বলছি,একমাত্র বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়ায় গ্রামীনের ফ্রি মিনিট আর বাংলালিংকের ফ্রি মিনিটের মাঝে কোনটা লাভজনক,অমুক কোম্পানির টেলিকনফারেন্স ভালো নাকি তমুকের ভয়েস চ্যাটে সুবিধা বেশি,ওমুকে তো নতুন একটা সেট কিনেছে সেটা অনেক সুন্দর--------
পুরো জেনারেশনটা গোল্লায় যাচ্ছে ...মতি আর সাগর রা ব্যকুল এ্যাডের জন্য !
কবে দেখা যাবে বাংলাদেশের পতাকা লাগানো আন্ডারওয়্যারের নকশাও দেখিয়ে ছাড়বেন মতি মিয়ার বাহিনী------আমেরিকান পতাকা আলা আন্ডারওয়্যারের সেখানে বেশ চাহিদা। মতির ওখানে ভাল যাতায়াত। তো একটা পরে পেপারে ছবি দিক। আমরাও আমাদেরটার ব্যবহারে অনুপ্রানিত হবো!
"আমার হৃদয়ে বাংলাদেশ,হাতের ব্যান্ড লাগে না।"
লেখক বলেছেন: একটা পত্রিকার অর্ধেক হইলো বিজ্ঞাপন,আমরা ১০ টাকা দিয়া জিনিসটা কিনি কেন আসলে? তাও মানলাম,কিন্তু সবকিছু নিয়ে ব্যবসা করার অধিকার তাদের কে দিল? অনেকটা ফুলের তোড়ার মাঝে টাইম বোমার মত আস্তে আস্তে মেরে ফেলছে এরা ভেতরটাকে,এর শাস্তি কি হওয়া উচিত?
লেখক বলেছেন: ![]()
অলস ছেলে বলেছেন:
মনের কথা। বেশির ভাগের মনের কথাই হয়তো এমন। কিন্তু কেন জানি বাস্তব টা অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
লেখক বলেছেন: আমরা যা চাই বাস্তব কখনোই তা হয় না,এটাই বেঁচে থাকার সমস্যা।
মুক্তিযুদ্ধ০০৭ বলেছেন:
স্টিকি করা হউক, সামু কর্তৃপক্ষ কোথায় আপনারা???????????.......সিমেন্ট আর রডের বদলে বালু আর বাঁশ দিয়া হাইরাইজ বানাইলে সেইটা হুড়মুড় কইরা পইড়া যাওয়ার কথা,বয়স হইলে এই জেনারেশনের সেইরকম হইবো কিনা সেইটা কথা।...........
সময়োপযোগী, বিশ্লেষণধর্মী, শিক্ষামুলক সব উপাদানের চমৎকার মিল।
+
লেখক বলেছেন: সবাই পড়ছেন এবং ভাবছেন,এটাই যথেষ্ট। অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: পড়েছেন,তাই তো যথেষ্ট,স্টিকি হলেও তো তাই হতো। অনেক ধন্যবাদ।
শামায়েল বলেছেন:
আমাদের সবার চিন্তাধারাগুলো ক্রমেই বৈশয়িক হয়ে যাচ্ছে। এটাই মুল কারন বলে আমার মনে হয়। কর্পোরেটগুলো এইটারই ফায়দা নিচ্ছে।অসাধারন লাগলো আপনার বিশ্লেষনগুলো। অসংখ্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: যেকোন উপায়ে উঁচুতে ওঠার নেশাটা পেয়ে বসেছে আমাদের,অন্য সবার চেয়ে স্মার্ট হতে হবে,এগিয়ে থাকতে হবে,আমাদের সামনে সেই টোপটাই ফেলা হচ্ছে।
লেখক বলেছেন: ভেতরটাকেই তো আস্তে আস্তে খেয়ে নিচ্ছে,নিয়েছে,স্বাধীনতা আর বাদ যাবে কিভাবে?
সুফিয়ান ডট কম বলেছেন:
ভাই মনের কথাগুলো বলছেন...শুধু কি মুক্তিযুদ্ধ ??? আজ বাংলাদেশে বৈশাখ আসে গ্রামীন ফোনের হাত ধরে আর ফাগুন আসে বাংলা লিংকের হাত ধরে.....
লেখক বলেছেন: হ্যাঁ,সবকিছুই ডিজুস দুনিয়ার রঙে রঙিন,যেটা সাদাকালো হবার কথা সেটাও রঙিন,কেমন জানি রঙিন পানির নেশার কথাই মনে আসে।
আকাশনীল বলেছেন:
ভাইয়া অসাধারন লেখা। প্রিয়তে নিলাম। স্টিকি করা উচিত ছিল। মনের কথাগুলো চমৎকার ভাবে উঠে এসেছে।
লেখক বলেছেন: তাহলে বলতেই হবে,ব্যাকডেটেড মানুষ আরো অনেক আছে।
অন্যরকম বলেছেন:
পোস্টটা ২ ডিজুসের ভাল লাগে নি....!!!+ এবং হলুদ তারা!
ফারহান ভাই,
আমাদের আকাশ আজ মুক্ত, স্বাধীন। যে কেউ অবাধে প্রবেশ করতে পারে এখানে, যার যা খুশি দেখাতে পারে, প্রচার করতে পারে, প্রকাশ করতে পারে; সেটা আমারদের সংস্ক্রিতি বা মূল্যবোধের সাথে মিলাুক আর নাই মিলুক! আমাদের আকাশ বা ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ন্ত্রনের কোন নীতিমালা নেই, যার হেডাম আছে তাকেই বরাদ্দ দেয়া হচ্চে এই অমূল্য সম্পদ! এবং এটটা বরাদ্দ নিয়া যে যা খুশি সেটাই প্রচার করছে..... যেটার রেজাল্ট হচ্ছে এই আপনার এই পোস্ট, পোস্টের ইনগ্রিডিয়েন্টস!
এসব নিয়ন্ত্রনের সময় এসে গেছে। তা না হলে এ প্রজন্ম ধ্বংস হতে খুব বেশী সময় লাগবে না।
লেখক বলেছেন: নাহ,যে ২টার ভাল্লাগে নাই তারা ডিজুস না,আইজুদ্দি এবং তার এক চামচা,বাদ দেন।
খালি যে বাইরের সংস্কৃতিকে ঢুকতে দিচ্ছে তা না,নিজেরাও অনুসরণ করছে। কেন আমাদের ছেলেমেয়েদের পশ্চিমকে অনুসরণ করেই বেড়ে উঠতে হবে? বা যদি করলোই,কেন তাদের ভাল দিকটা না নিয়ে উদ্দামতাকেই নিতে হবে?
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ দাদা।
জনৈক আরাফাত বলেছেন:
লেখাটি ভালো হয়েছে ফারহান। প্রিয়তে নিলাম। মাঝে মাঝেই আমরা এভাবে খেপে উঠি। কিন্তু আর সামনে এগুতে পারিনা। বলুনতো কেন? এটি নিয়েই লিখুননা?
অফটপিকঃ জিআরই স্কোর কেমন হয়েছে?
লেখক বলেছেন: খেপে গেলেও লিখি না,লিখলেও আসলে কিছু হয়না,সবাই ঠাণ্ডা হয়ে যায়,দু'দিন আগে আর পরে।
জিআরই দেই নাই,ভাল্লাগে না কিছু।
দুরের কণ্ঠস্বর বলেছেন:
অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ,যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই - প্রীতি নেই - করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামশর্র্ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি,
...
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।
(জীবনানন্দ)
লেখক বলেছেন: ভদ্রলোক অনেক দূরে দেখে ফেলেছিলেন।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
ফেরারী পাখি বলেছেন:
তোমার লেখাটা পড়লাম। মন্তব্য এখনও করতে পারছি না। দুই বাচ্চা সমানে লাফাচ্ছে, কম্পিউটারে গেম খেলবে। ওরা এই জেনারেশন। ডিজুস দুনিয়ার।আমরা ব্যাকডেটেড। পরে মন্তব্র করবো।
সরাসরি প্রিয়তে।
লেখক বলেছেন: জেনারেশন গ্যাপটা থাকুক,নাহলে তো কিছু আগাবে না,কিন্তু তারমানে এই না যে এই গ্যাপটা ব্যবহার করে কেউ আমাদের পরবর্তী জেনারেশনটাকেই চিন্তাহীন পদার্থে পরিণত করবে।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।
রাফা বলেছেন:
ওরা সব কিছুতেই ব্যাবসা খুজে এটাইতো স্বাভাবিক।এতে ক্ষিপ্ত হওয়ার মত কিছু নেই।তবু তো স্বাধীনতার কথা বলে , বিজয়ের কথা বলে , একুশের স্বৃতিচারণ করে।আপনার আমার প্রতিবাদ গুলো হওয়া উচিত ডিজুস মার্কা বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে।সব কিছুকে ঢালাও ভাবে দোষ দিয়ে লাভ নেই।নতুন সব কিছুই সবার ভাল লাগবে এমন কথা জানা নেই।ধন্যবাদ
লেখক বলেছেন: পয়েন্ট টা ধরতে পারছেন কিনা জানি না,নতুন কোন কিছুর বিরুদ্ধেই অভিযোগ করছি না। কিন্তু স্বাধীনতাকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে ব্যবসা করা বা সেটাকে খেলো করে দেয় এমন যে কোন কিছুকে ঘৃণা করি,করবো,আর একুশের কথা যখন উদ্ভট বাংলাতে বলে ততোধিক উদ্ভট একটা সংস্কৃতি ঢুকিয়ে দিতে চায়,তখন সেটাকে বড় কোন ষড়যন্ত্রের চেয়েও খারাপ কিছু মনে হয়,নিজের পরিচয়টা নষ্ট হয়ে গেলে আর কি বাকি থাকে বলতে পারেন?
আরিফুল হোসেন তুহিন বলেছেন:
ফারহান ভাই,অদ্ভুত আধার এক কোন ভদ্রলোক না,বেচারা আবেগী মানুষ,আমাগো ব্যাচের ,
লেখক বলেছেন: হুম,এই যুগে আইলে তাইলে বেচারা রেগুলার পরীক্ষায় ল্যাগ খাইবো![]()
সুফিয়ান ডট কম বলেছেন:
ভাই, ব্রান্ডিং এমন জায়গায় পৌছে যাচ্ছে.... মনে হয় ক'দিন পর লিখতে হবে... "গনপ্রজাতণ্ত্রী গ্রামীনফোন বাংলাদেশ"........
লেখক বলেছেন: হেহে,গণ আর প্রজা নিয়া আর টানেন ক্যান,এখন রাজাদের কারবার,লেখেন গ্রামীনতন্ত্রী বাংলালিংক দেশ।
আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন:
খুব ভালো লাগলো লেখাটা। যদিও, লেখালেখি করে আদৌ কিছু হয় কী না, আদৌ কিছু করা যায় কী না-- এইসব প্রশ্ন আজকাল মনে জাগতে শুরু করেছে, তবু আপনার লেখাটি পড়ে মনে হলো-- এই যে দুদণ্ড ভাববার অবকাশ করে দিলেন, এটাই লেখার শক্তি ও প্রাসঙ্গিকতা।
লেখক বলেছেন: যাদের করার কথা তারা মনে হয় চোখ আর কান বন্ধ করেই সব করাকে না করাতে রূপান্তরের প্রতিজ্ঞা নিয়ে নামে,সেইজন্যই খালি মনে হয় লিখে,বলে,চিৎকার করে কিছুই হবে না,আমরা সবাই বোকার স্বর্গে বাস করছি আর তারা আনন্দে বগল বাজাচ্ছে। তবে বোকারা আশাবাদী হয়ে থাকে,কাজেই আশা নিয়ে আবারো গলা ফাটাই,এই আরকি।
নাজনীন খলিল বলেছেন:
++++++++++++++++++++
লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: ধান্দাবাজি বন্ধ করনের উপায় কি?
লেখক বলেছেন: হেহেহে,অনেক ধন্যবাদ![]()
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ![]()
লেখা ভালো লাগছে..........আছেন ক্যামন?
লেখক বলেছেন: বন্ধ করা সম্ভব না পুরোপুরি,উচিতও না। তবে কোনটা নিয়ে ব্যবসা করা যাবে আর কোনটা নিয়ে করা যাবে না,সেটা বোঝা উচিত,আর না বুঝলে ঘাড়ে ধরে বুঝানো উচিত।
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
তা এ পর্যন্তও হজম হচ্ছিলো,কিন্তু আজ দেখি নকশার শেষ পাতায় দেয়া কতকগুলো খাবারের রেসিপি,শিরোনাম হলো--"লাল-সবুজে রাঙিয়ে তুলুন খাবার টেবিল" বা এমন কিছু একটা। খাবারগুলো কে লাল টমেটো আর সবুজ কাচামরিচ দিয়ে বোধকরি পতাকা বা এমন কিছুর অনুভব দেয়ার চেষ্টা,যার মস্তিষ্ক থেকে এসেছে সে-ই বলতে পারবে কিভাবে কি। দেখে শুরুতে চড়াক করে মাথায় রক্ত উঠে গেল,তারপর খানিক ঝিম মেরে থাকলাম, শেষে পত্রিকাটা ছুঁড়ে ফেলে উঠে পড়লাম। বলি স্বাধীনতা কি খেয়ে ফেলার জিনিস রে?
ঠিক...দেখে খুব বিরক্ত হইছি।
পোস্টটা ভালো লেগেছে।
লেখক বলেছেন: ৩০ লাখ লোক মরলো আর ঐটা নিয়া ব্যবসা কইরা কতজন গাড়িবাড়ি হাঁকায়া দিলো। শালার দেশ।
না বলা কথা বলেছেন:
সাবাশ ,ফারহান সাবাশ।
লেখক বলেছেন: মেজাজটাই খারাপ হয়া গেসে রে ভাই,আর মার্চ আসলে শালাদের অত্যাচারে আর কিছু করার উপায় থাকে না।
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
অসাধারণ, অসাধারণ এবং অসাধারণ লেখা। খুব খুব ভালো লাগল লেখাটি। ঠিক নিজের কথাগুলোকে তুমি লিখে দিয়েছো। তোমার সাথে চিন্তাধারার কোন অমিল নেই। কথাগুলো আমার মাথায়ও ঘুরে। পার্থক্যটা হলো তুমি লিখতে পেরেছে আমি পারছি না। আমাকে দিয়ে লেখা হয় না। সাবাশ ফারহান।প্রিয়তে না নিয়ে পারা গেল না।
লেখক বলেছেন: লেখার চেয়েও ভাবাটা জরুরী ইমন ভাই,তারচেয়েও জরুরী কাজে সেটা দেখানো। লিখে আসলে মনে হয় কিছু হয় না,এইসব টাকার কুমীর রা জানে আমরা তাদের টিকিটাও ধরতে পারবো না,খুব হতাশ লাগে মাঝে মাঝে।
লেখক বলেছেন: দৌড়ের উপর ছিলাম,বাকিটা আলসেমি। ধন্যবাদ।
সীমান্ত আহমেদ বলেছেন:
লেখার চেয়েও ভাবাটা জরুরী,তারচেয়েও জরুরী কাজে সেটা দেখানো। লিখে আসলে মনে হয় কিছু হয় না,এইব টাকার কুমীর রা জানে আমরা তাদের টিকিটাও ধরতে পারবো না,খুব হতাশ লাগে মাঝে মাঝে। পুরাপুরি একমত। এটাই আসলে শেষ কথা।
লেখক বলেছেন: ঠিকই বলছি,তাই না? আসলেই কিছুতেই কিছু হয়না। হওয়ার জন্য সবাইকে হয়ে ওঠা লাগে,সবার চাওয়া লাগে,আমরা চাইও না। কালকে পত্রিকায় দেখলাম,ইউনিলিভারের সন্ঞ্জীব মেহতা বলছে,--"দু'টি একই রকম পণ্যের মাঝে গুণগত তফাৎ তেমন থাকেনা,ভোক্তার আবেগকে যে স্পর্শ করতে পারে তারই বিক্রি বেশি হবে। আমাদের ভোক্তার আবেগকে স্পর্শ করার দিকে জোর দিতে হবে।" কি দারুণ কথা,না? আমাদের সব আবেগ এখন এইসব কর্পোরেট ক্রিমিনালদের পণ্য,কিসের মুক্তিযুদ্ধ কিসের কি,ব্যবসাই ধর্ম।
লেখক বলেছেন: যে পাতাতেই থাক,পড়েছেন যে এটাই বেশি। অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: অর্থ কামাক,কিন্তু তাই বলে আমাদের অর্জন নিয়ে ব্যবসা করার অধিকার কারো নেই,আমাদের একটা প্রজন্মকে ভুল পথে চালানোর অধিকারও কাউকে দেয়া হয়নি।
কিরণময়ী বলেছেন:
ভালোই লিখসেন। উচিত কথা।
লেখক বলেছেন: উচিত কথার ভাত নাই ![]()
সুফিয়ান ডট কম বলেছেন:
পথিক বলেছেন: আসলে ব্যবসায়ী ঐ গুলার মাথায় ব্যবসা ছাড়া আর কিছু নাই ........আমার মনে একটা প্রশ্ন প্রায়ই ওঠে, আমাদের (বিশেষ করে তরুন প্রজন্মের) মাঝে একটা আদর্শিক অধঃপতন প্রবলভাবে দেখা যাচ্ছে, এর জন্য কি দায়ী কি শুধু ঐ ব্যবসায়ীরাই? তরুন প্রজন্ম কি এতটাই মেরুদন্ডহীন যে একদল সুবিধাবাদী লোক যে ভাবে নাচাবে সে ভাবেই নাচবে?
লেখক বলেছেন: তরুণদের নাচানো সহজ,তাদেরকে যদি অনাদর্শকেই আদর্শ হিসেবে ধরিয়ে দেয়া যায়।
আহসান হাবিব শিমুল বলেছেন:
আগেই দেখেছিলাম।একটু দেরিতে হলেও সবগুলো মন্তব্য সহ পড়লাম।
কি বলবো আজকাল খুব হতাশ লাগে!
কোনদিক না তাকিয়ে কোন রকমে পাশ কেটে যাওয়াতেই এখন ছাপোষাদের যত মনোযোগ।আমিও ঐ গোত্রে।
যাহোক, ধন্যবাদ সময়োপযোগী লেখার জন্য।
লেখক বলেছেন: হতাশ হওয়াটাই একমাত্র সমাধান,এদের গায়ে ফুলের টোকা দেয়াটাও মনে হয় সম্ভব না।
আলী আরাফাত শান্ত বলেছেন:
আফসোস লাগলো যে এতো ভালো পোস্ট টা এতো পরে পড়লাম!আমার মনের ভাবনা গুলো আপনার পো্স্টে এটা ভেবেই দারুন লাগছে.....
প্রিয়তে রাখলাম
লেখাটা এতই অসাধারন যে একই লেখা তিনবার পড়লাম!
লেখক বলেছেন: ধৈর্য্য আছে বলা লাগবে,হেহেহে। অন্তত খারাপ টারে খারাপ জানা থাকা ভালো,কিছু করতে পারি আর না পারি।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
প্রণব আচার্য্য বলেছেন:
কী, দাউদ, কেমন আছেন?
লেখক বলেছেন: বেঁচে আছি
আপনি কেমন?
লেখক বলেছেন: সবাই যেইভাবে লিখে।
কৃতিত্ব পাঠকের।
লেখক বলেছেন: জুবাঈর,তোমার মেইলটা আগেও পড়েছিলাম,খুঁজে পাচ্ছিলাম না,এখানে লিংক দেয়ার জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা। পুরো মেইলটাই তুলে দিলাম,সুবিধার জন্য।
The news says Huawei Technologies Ltd. is going to donate(!) the wireless-lab equipments. But there are some conditions which are not exposed publicly. The deed(I'm not mentioning the source for particular reasons) says that the lab will be available to the department for 12hrs/week only. Mainly Huawei will use it as a training centre for their professionals using BUET infrustructure and they will control the activities. There will also be some training programs from which teachers might be benifitted(technically as well as financially
. Nothing special for the students. 180 UG + PG students sharing the lab in 12hrs a week - ja hok nai-mamar cheye kana mama valo ![]()
AND "Corporate Responsibility" seems nothing but an intelligent way of corporate agression. What makes me write this one is that even the department/BUET authority nowhere mentioned the limitations/conditions. Rather they announced this in the voice of corporates.
the good thing is we are learning corporate culture (!)
ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ,আপনার মতামতের অপেক্ষায় থাকলাম।
'স্বাধীনতার বার্তা সামনে দিয়ে তারা জায়েজ করে ফেলে একটা প্রজন্মকে ধ্বংস করে দেয়ার সফল একটা মিশনকে, সারারাত টেলিকনফারেন্স আর ভয়েস চ্যাটে ব্যস্ত কিশোরীর সকাল কাটে ঘুমের ঘোরে,বিকাল কাটে এফএমের মূর্ছনায় আর সন্ধ্যায় তার আঙুল ব্যস্ত থাকে রাতের পরিচিত অতিথির পানে ফ্রি এসএমএস ছুঁড়ে দেয়ায়' ...
আপনার এ পর্যবেক্ষণের সাথে সুর মিলিয়ে বলি....আমার কাছে মনে হয়, আমি বিশ্বাস করি, আজকের তারুন্যের মধ্যে মূলত: তৈরি করা হচ্ছে বিচ্ছিন্নতাবোধ। এসব বিজ্ঞাপন দেখলে আপাতত মনে হতে পারে এটি বোধহয় সম্পর্কের নেটওয়ার্ক। আসলে তা না। একটি ভোগের সংস্কৃতি দিয়ে কেবলই তৈরি করা হচ্ছে বিচ্ছিন্নতাবোধ। এতে লাভ বেশি.................পন্যের চাহিদা তৈরি হবে। অপ্রযোজনীয় পন্যের। মুনাফা আসবে। বিচ্ছিন্নবোধ থেকে নষ্ট হবে আমাদের সামাজিক পুঁজি....................যা আমাদের সংস্কৃতিতে ইনবিল্ট ছিল। তারুণ্যকে যতবেশি সমাজ-ঐতিহ্য থেকে আলাদা করা যায় কর্পোরেটের বিরুদ্ধে কথা বলার মানুষ ততই কমবে। এ প্রক্রিয়ায় আবার ঐতিহ্যিক ইস্যুগুলো ব্যবহার করলে সুবিধাটা একটু বেশি পাওয়া যায়.......................।
আপনার বিশ্লেষণ ভাল লেগেছে।
ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: মোটামুটি একই ধারায় চিন্তা করেছেন,আরো একটু ভালোভাবে। কর্পোরেটদের মুনাফার মূল সূত্রই এটা,অপ্রয়োজনীয় ভোগ বাড়িয়ে দাও। একটা উদাহরণ আছে ভালো,আমাদের দেশে এখনো কম,সেটা হলো ক্রেডিট কার্ড। ধার করে ঘি খাওয়া কাকে বলে,সেটা ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার দেখলে বোঝা যায়,দরকার থাকুক না থাকুক কিনতে থাকো,তারপরে সারাবছর ধারের বোঝা টানো। সেটা অবশ্য অন্য প্রসঙ্গ। আর বিচ্ছিন্নতাবোধটা এমন,ঘনিষ্ঠভাবে কাউকে চেনা লাগবে না,ভয়েস চ্যাটে আজকে একজন,কাল আরেকজন,পরশু আরো একজন,বদলাও আর চালাও,হাল ফ্যাশানের জামার মত,ছোটো আর দৌড়াও,স্থির হয়ে ভাবার অবকাশ কোথায়? আর যে গুটিকয় স্রোতের বাইরে থাকবে,তারা তো ক্ষ্যাত,তাদের কথায় কান দেবার সময় কোথায়? আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ,মনোযোগ দিয়ে পুরোটা পড়ার জন্য,ভাবার জন্য।
নাহিন বলেছেন:
অর্ধেক কমেন্ট পড়ার পরে আর ধৈর্যে কুলালো না... তাই প্রশ্নটা করেই ফেললাম,আপনি সিরিয়াসলি জানেন না যে এই ২৬শে মার্চ না, গত বছর এবং তার আগের বছরও ডিজে পার্টি হয়েছে???
আপনার পরিবারে ডিজুস প্রজন্মের কথা শুনে নিজের কথা মনে হলো।
আমার সমবয়সী এবং দু'চার বছরের ছোট কিছু ডিজুস পাবলিক আমারে ডিজুস সিম ব্যবহারের অযোগ্য বলে ঘোষনা দিয়েছে। আমি অবশ্য কারণ ঘাটার চেষ্টা করিনি, শ্রমের অপব্যবহার মনে করে।
কিন্তু পারিবারিক আড্ডায় বসলে যখন দেখি যে সমবয়সীদের ছেড়ে বড়দের মাঝে বসে আছি, তখন নিজের কাছেই নিজেকে অপাঙক্তেয় মনে হয়।
ভাবছি সিমটা পাল্টেই ফেলবো।
লেখক বলেছেন: নারে ভাই আমি আসলেই জানি না,যা জানি তাতেই মাথা একটু গরম। যাই হোক,অযোগ্য হইলে তাই সই,ঐ ডিজুস কালচারের আমি খেতা পুড়ি। আপাতত যার মাথা থেকে ঐ পার্টির আইডিয়া আসছে ঐটারে পতাকার বাঁশের মাথায় লটকায়া স্মৃতিসৌধে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করলে ভালো হইতো,টাকাও আসতো জনগণও বান্দর দেখে মজা পাইতো।
লেখক বলেছেন: ![]()
হামোম প্রমোদ বলেছেন:
তাইতো আমরা কোথায় যাচ্ছি,
লেখক বলেছেন: মনে হয় আমরা জানি না।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ পড়ার জন্য।
মাঝে মাঝে চিন্তা করি নতুন এই প্রজন্ম কি বাংলায় কথা বলবে? নাকি অন্য কোন ভাষা?
মাকি সুরে ভুতের মত চন্দ্রবিন্দু না লাগিয়ে কথা না বললে নাকি মুখ দিয়ে আওয়াজ বের হয় না। ছোট বেলা থেকে শুনেছি , নাকি গলায় কথা বলে ভুতেরা... এ কারনেই এ প্রজন্মের কোন মেয়ের সাথে খাতির হল না.. ভুতের সাথে তো আর কথা বলা যায় না।
লেখক বলেছেন: কালকে এই ফাজলামির আরেক রূপ দেখা যাবে,জিপি আর বাংলালিংকের সৌজন্যে ডিজুস পয়লা বৈশাখের ডিজে পার্টি আর দিনে পান্তা খায়া রাতে ডিসকো নাচের মজা দেখাযাবে আশা করা যায়।
কুতুব্ বলেছেন:
এই কথাগুলান আমিও ভাবি। মাগার গুছাইআ কইবার পারি না। আফনে কইসেন, জববোর কইসেন। পিলাস, আহা কেনো ১ টার বেশি দেওয়া যায় না?
লেখক বলেছেন: পড়সেন তো,তাতেই সার্থক![]()
লেখক বলেছেন: ![]()
অদ্রোহ বলেছেন:
একটু দেরিতে কমেন্টাইলাম,কারণ তথাকথিত ডিঝ্যুস প্রজন্মের সমসাময়িক হওয়ায় মন্তব্য করার লোভ সামলাইতে পারলামনা।ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেইখেনলেখক বলেছেন: হুম,বুয়েটের নিউ জেনারেশান আসলে "খ্যাত" উপাধি সহ্য করতে না পাইরা মনে হয় এই লাইন ধরসে। ০৫ এর এক মাইয়ারে একদিন সিভিল বিল্ডিংয়ের সামনে খাড়ায়া হাসতে হাসতে এমন কথা কইতে শুনছিলাম, ডরে নিজেই সইরা পড়সি(ব্লগে কইলে ব্যান খামু,কাজেই উহ্য রাখলাম।) কিন্তু এইসব পোলাপানরে বুঝাইবো কেডা ১০টা ক্রস কানেকশান করলে আর পলাশীর মোড়ে খাড়ায়া পোলামাইয়া একলগে ধোঁয়া টানলেই ইস্মার্ট হয়না
অথবা হয়তো হয়,আমরাই বুঝি না,যাউকগা।
সাধু সাধু............
প্লাস।
লেখক বলেছেন: বুঝলেন,গত ২ বছর হইলো পয়লা বৈশাখে আর "মেলায় যাইরে" গানটাও শুনা যায়না,বদলে শুনা যায় মিলার বাবুরাম সাপুড়ে আর যাত্রাবালা,দিন আসলেই বদলায়া যাইতাসে।
লালসালু বলেছেন:
সামুতে আমার পড়া সেরা পোষ্ট।
লেখক বলেছেন: লজ্জা দিলেন ভাই। পড়ছেন, এইটাই অনেক।
রিয়াজরানা বলেছেন:
+++++++++++লেখক বলেছেন, "ভয় হয়,আমার সন্তানও কি একইভাবে কথাটা বলতে পারবে একই ঔদ্ধত্য নিয়ে?"
লেখক বলেছেন: নতুন প্রজন্ম এটাকেই যদি আদর্শ হিসেবে নিতে চায়, আমরা কিভাবে ঠেকাবো?
লেখক বলেছেন: ব্যবসাটা ইদানীং বাড়াবাড়িতে ঠেকে গেছে সামী ভাই। প্রথম আলোর নকশা পাতাটা খুললে যে কারো মেজাজ খারাপ হয়ে যাবে, জোর করে উদ্ভট সব ফ্যাশন চালুর চেষ্টা, আর দেখা গেল গুলশানের কোন নতুন দোকান যেটায় একটা বার্গারের দাম ২০০ টাকা সেটার পরিবেশের বর্ণনা দিয়ে নির্লজ্জ বিজ্ঞাপন রিপোর্টিং নাইলে এইরকমই হাবিজাবি কিছু ব্র্যান্ডের মাহাত্মবর্ণন, একেকসময় ইচ্ছা করে এইগুলারে বাঁশের আগায় ঝুলায়া কাওরানবাজারের মোড়ে লটকায়া রাখি।
জাতি জানতে চায় বলেছেন:
গুনদাদের তাও একটু গুন আছে, সরল স্বীকারোক্তি করতে পারে! কিন্তু অন্যদের তো বুদ্ধি-কৌশলের জোর এত বেশি যে স্বীকারই করতে হয় না, মাটি-মাটি কইরা জিভ বাইর কইরা ফেললেও কয়েকটা সিমেন্টের ফ্ল্যাটের লোভ যায় না! পোলাপানদের থেকে হেগো বাপ-মাদের দোষ বেশি! জেনারেশনের পর জেনারেশন ধইরা ব্রিটিশ দালালীর মানসিকতা বহন করতাছে!! কর্পোরেটরে দোষ দিয়া আর কি করবেন, হেরা পাবলিক বুইঝা দেশও বিক্রি কইরা দিতে পারব!! ভাগ্য খারাপ, নেতা গুলাও একই রকমের!!! কাজের থেকে প্রকাশ বেশি!!
লেখক বলেছেন: কথা ঠিক। পোলাপানরে আগামীর তারকা বানানির লাইগা সং সাজায়া তো বাপ-মা রাই নিয়া যায়, একেকটা বাচ্চা আণ্ডা থাইকা ফুটার আগেই ভাবা শুরু করে সবাইরে ল্যাং দিয়া ক্যামনে স্টার হওয়া যায়। কোনদিকে যাচ্ছি আমরা?
জাগ্রত চৌরঙ্গী বলেছেন:
চমৎকার লেখা । কর্পোরেট সেক্টরের এই ফালতু আবেগ গ্রহণযোগ্য নয় । যারা ওই সব বিজ্ঞাপন চিত্রে অভিনয় করেন, তাদের একটু ভাবা দরকার যে শুধু কিছু টাকার জন্য স্বত্বা বিসর্জনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ বাহুল্য ছাড়া আর কিছু নয় । ধন্যবাদ লেখক কে............
লেখক বলেছেন: টাকা হলো দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ইশ্বর, কথাটা মনে হয় একেবারে ভুল না। এইজন্যই নয়া দিগন্তে কলাম লেখেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বুদ্ধিজীবি আর শিবিরের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার হয় স্বাধীনতার পক্ষের দলের এমপি। সবই টাকার খেলা!
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...































