উট-পাল শুভ্র'র মত অতি তেলবাজদের চরম তেলানোর ফলাফল আজকের খেলায় ভালভাবেই দেখা যাচ্ছে। গত ২ ম্যাচ আশরা-ফুল অফ ফর্মে ছিলেন, কাজেই ২টা ৫০ করে ফেলেছেন ভুলে। আজকে তিনি আবার ফর্মে ফিরেছেন, অসাধারণ আত্মবিশ্বাস(!) নিয়ে ড্যারেন সামির প্রথম বলটাই প্যাডেল স্কুপ মারতে গিয়ে আউট, গোল্ডেন ডাক। এমন এক সময়ে এই শট, যখন ১২ রানেই দলের প্রথম উইকেট নেই। সাকিবের শটটাও মোটামুটি দায়িত্বজ্ঞানহীন। চরম হাস্যকর হয়েছে নাইমের রানআউট টাও, শট খেলার পরে বল পেছনে যাওয়ার পরে কোনদিকে না তাকিয়েই যেভাবে দৌড় দিলেন মনে হলো পাগলা কুকুর তাড়া করেছে। আর মুশফিকুর রহিমের রানআউটটা দেখলে যে কেউ বলবে, সকালবেলায় বিনা পয়সায় আস্ত খাসির বারবিকিউ খেয়ে পেট ভারি হয়ে গেছে, ফিল্ডারের কাছে বল রেখেই যেভাবে ঢিলেঢালাভাবে ব্যাট প্লেস না করে রান নিতে গেল, ওটা রানআউট না হলেই অবাক হতাম।
এই পরিণতি আশংকা করা যাচ্ছিল, এই দলের বিপক্ষে জেতার পরেই প্রতিক্রিয়া দেখেই। "এ এক অন্য বাংলাদেশ", "অসাধারণ পেশাদার খেলা", "বদলে গেছে খেলোয়ারদের দেহভাষা", "একদা পরাশক্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইট ওয়াশ করলো বাংলা বাঘেরা"-- এ ধরণের সব শিরোনাম আর তেলবাণীতে ভেসে যাচ্ছিলো খেলোয়াররা। দেড় কোটি টাকা বোনাস, মিষ্টি বিলানোর ধুম, এসব করে ক্রীড়া পরিষদও এই ছাগলামিতে যোগ দিয়েছে। আর "অ্যাশ খেললে দেশ জেতে", "আশরাফুল ফর্মে ফিরবেই, দেখিয়ে দিল" এ জাতীয় কথাবার্তায় আশরাফুলের পশ্চাদ্দেশ ভারি করার জন্য উটুরা তো ছিলই। গত ২টা ওয়ানডে দেখেই মনে হয়েছে এমন একটা দলের সাথে বাংলাদেশ খেলছে যাদের পেশা আসলে মাছ মারা, অবসর সময়ে মাঝে মাঝে ক্রিকেট খেলে থাকে। ২ দলই প্রাণপণে অপর দলকে জেতানোর চেষ্টা করছিল, যাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফল। আজকে এই মেছুরেদেরও মনে হয়েছে একটু খেলা দরকার, আর আমাদের ব্যাঘ্র নন্দনদের মনে হয়েছে ওরাই বিশ্বের এক নম্বর দল, না খেললেও জিতে যাবে। ফলাফল ১০ ওভারে ৬ উইকেটে ৬২ রান। আরো বলা যেত, কিন্তু আমাদের এই "মাথায় তোলা" সংস্কৃতি আর এর কুফল নিয়ে এত বলা হয়েছে আর তারপরেও আমরা এতই যেমনকে তেমন রয়ে গেছি যে বেশি কথা বলা নিষ্প্রয়োজন।
তবে একটা কথা লিখে দিতে পারি, উট-পাল হারামজাদার মত হাম্বাদিকগুলোকে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুম এবং স্টেডিয়ামের সীমানার এক মাইলের মাঝে আইপিসহ ব্যান করা উচিত।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

