somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মসজিদ থেকে গ্রেফতার হতে চেয়েছিলেন নিজামী!

০১ লা জুলাই, ২০১০ রাত ১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দৈনিক জনকন্ঠঃ বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই ২০১০, ১৭ আষাঢ় ১৪১৭ গ্রেফতার হয়ে ফুলের মালা গলায় নিয়ে আদালত থেকে বের হতে চেয়েছিলেন জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও নায়েবে আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী। আর গ্রেফতারের আগে নাটক সাজিয়ে দুনিয়াজুড়ে হৈচৈ ফেলে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। সারা দুনিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করতে নিজামী মসজিদ থেকে গ্রেফতার হতে চেয়েছিলেন। মুক্তির পর আনুষ্ঠানিক সমাবেশ ডেকে বড় ধরনের শোডাউন দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আগাম পাকা বন্দোবসত্ম করে রাখা ছিল। মানুষের মধ্যে আলাদা সহানুভূতি জাগিয়ে সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপাতে নিজামী মসজিদ থেকে গ্রেফতার হতে চেয়েছিলেন। পরিকল্পিতভাবে গ্রেফতার নাটক সাজানোর বিষয়টি শেষ পর্যনত্ম ডিবি পুলিশের তৎপরতায় ভেসত্মে গেছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বড় ধরনের গ্রেফতার নাটক সাজিয়ে নিজামী, মুজাহিদ, সাঈদী ও রফিকুল ইসলাম একসঙ্গে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হতে চেয়েছিলেন। তাঁরা নিশ্চিত ছিলেন ওয়ারেন্টের কপি আসতে দেরি হবে। এ জন্য তিনজনই আগাম নানা নাটক সাজানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। এরমধ্যে রফিকুল ইসলাম তাঁর কথা রাখেননি। তিনি পালিয়ে গেছেন।
নিজামীর ইচ্ছে ছিল মসজিদ থেকে গ্রেফতার হওয়ার। আদালত ওয়ারেন্ট ইসু্যর পর নিজামী ইচ্ছে করেই প্রেসক্লাবে ছিলেন। যাতে নাটক সাজাতে সুবিধা হয় এজন্য কয়েক হাজার নেতাকর্মী জড়ো হতে নির্দেশ দেয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এজন্য তাঁরা গ্রেফতারকালে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা যায় এমন ফন্দি করেছিলেন। তারই অংশ হিসাবে নিজামী মসজিদ থেকে গ্রেফতার হতে চেয়েছিলেন। যাতে পরবর্তীতে মানুষকে বিভ্রানত্ম করা যায়। নিজামীর নির্দেশে জামায়াত-শিবিরের অনত্মত কয়েক হাজার নেতাকর্মী প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো করেছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নিজামী ন্যাশনাল ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশনের সমাবেশ থেকে বের হয়ে উচ্চ আদালত মসজিদের দিকে রওনা হতে চেয়েছিলেন। প্রেসক্লাবের সামনেই ডিবি পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর নিজামী ডিবি পুলিশের কাছে নামাজসহ জরম্নরী কাজের কথা বলে একবার আশপাশে যে কোন মসজিদে যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করেন। তিনি বার বার মসজিদে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। কিনত্মু ডিবি পুলিশের কাছে আগাম তথ্য ছিল নিজামী মসজিদে ঢুকে সহজে বের হবেন না। তিনি মসজিদে বসে থাকবেন। এতে বেকায়দায় পড়বে পুলিশ। কারণ মসজিদ থেকে গ্রেফতার হলে পরবর্তীতে ধর্মীয় অনুভূতি এনে সাধারণ মানুষের মনে সহজেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলানো সম্ভব। আর সরকারকে ধর্মবিরোধী হিসাবে আখ্যায়িত করে সহজেই মানুষের মনে সরকারবিরোধী মনোভাব চাঙ্গা করা যাবে। এমন পরিকল্পনা থেকেই মসজিদ থেকে গ্রেফতার হয়ে সারা দুনিয়ায় হৈচৈ ফেলে দিতে চেয়েছিলেন নিজামী। এজন্য বড় ধরনের গ্রেফতার নাটক সাজানোর চেষ্টাও হয়েছিল।
অন্যদিকে মুজাহিদ চেয়েছিলেন ফরিদপুর থেকে গ্রেফতার হতে। এজন্য মুজাহিদ ফরিদপুরে প্রায় ৫ হাজার জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের একত্রিত করেছিলেন। পরিকল্পনার অংশ হিসাবে মুজাহিদ ওইদিনই সপরিবারে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হন। মুজাহিদকে গ্রেফতারের পর দলীয় নেতাকর্মীদের রাসত্মা অবরোধ করে বিৰোভ সমাবেশ করার কথা ছিল। আর পুলিশের গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে ব্যাপক শোডাউন দেয়ার পরিকল্পনাও ছিল। যাতে মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলানো যায়।
অপরদিকে নায়েবে আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীও আগাম প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তিনি পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। এজন্য মায়ের সঙ্গে দেখা করতে রাজধানীর ৯১৪ নম্বর শহীদবাগের বাসায় যান। শহীদবাগের বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশর্্ববর্তী মসজিদে আশ্রয় নেয়ার কথা ছিল। যে মসজিদে সাঈদীর আত্মগোপন করার কথা ছিল সেই মসজিদে সাঈদীর অনুসারীরা অপেৰা করছিল। কিন্তু বেরসিক গোয়েন্দা পুলিশ তার সে পরিকল্পনা বানচাল করে দিয়েছে। মসজিদে পেঁৗছার আগেই বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এজন্য ৰোভে সাঈদীর ব্যক্তিগত সচিব আবুল কালাম আজাদ ডিবি অফিসের সামনে মসজিদে অপেৰমাণ অনুসারীদের উদ্দেশে বলেন, মোনাজাতে এমন দোয়া দে, যাতে পুরো প্যানেলসহ পুড়ে ছারখার হয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ মার্চ মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্র শিবিরের এক সভায় নিজামীকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:) এর সঙ্গে তুলনা করে বক্তৃতা দেয়ার অভিযোগে ২১ মার্চ বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরম্নদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ১ এপ্রিল মামলায় অভিযুক্তদের বিরম্নদ্ধে আদালতে হাজির হওয়ার সমন জারি করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৭ মার্চ মগবাজার আল ফালাহ মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক সভায় জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীকে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক হযরত মোহাম্মদ মোসত্মফা সালস্নালস্নাহু আলাইহে ওয়াসালস্নামের সঙ্গে তুলনা করে বক্তব্য রাখেন দলটির নায়েবে আমির দেলোয়ার হোসেন সাঈদী এবং ঢাকা মহানগর শাখার আমির রফিকুল ইসলাম খান। সভায় উপস্থিত জামায়াতের আমির নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদ তাদের এ বক্তব্যকে হাততালি দিয়ে সমর্থন করেন। বাদী আরও অভিযোগ করেন, আলস্নাহর নবীগণ নিষ্পাপ। আমাদের মহানবী (স:) সকল নবীগণের সর্দার। তাঁর সঙ্গে কারও তুলনা করা যায় না। সেই মহানবী (স:) এর সঙ্গে মতিউর রহমান নিজামীকে তুলনা করে আসামিরা সারাবিশ্বের সব মুসলমানের ধমর্ীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। বিষয়টি সারাবিশ্বে মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচিত হয়। ২৯ জুন আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল। আদালতে হাজির না হওয়ায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মেহেদী হাসান তালুকদার আসামিদের বিরম্নদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন। মামলার আসামি ঢাকা মহানগর দৰিণ ছাত্রশিবিরের সভাপতি আসম ইয়াহিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে। বাকিদের বিরম্নদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে। পরে গ্রেফতারী পরোয়ানা বলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মঙ্গলবার নিজামীকে প্রেসক্লাব থেকে, মুজাহিদকে সাভারের আশুলিয়া থেকে এবং সাঈদীকে শহীদবাগের বাসা থেকে গ্রেফতার করে। জামায়াতের নায়েবে আমির রফিকুল ইসলাম খান জামায়াত অফিসের ঢাকা মহানগর কার্যালয় থেকে পিছন দরজা দিয়ে পালিয়ে যান। তাঁকে গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দৰিণ জোনের ডিসি মনিরম্নল ইসলাম জানান, একই মামলায় এক আসামি জামিন পেয়েছেন। বাকি আসামিরা জামিন পাবেন এমন ধারণা করাই স্বাভাবিক। সে ধারণা থেকেই তারা আদালতে হাজির হননি। এতে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হবে। তাঁরা গ্রেফতার হওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন। কিনত্ম সারা দুনিয়ায় হৈচৈ ফেলে দিতে নানা নাটক সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন। যাতে সহজেই ধর্মের বিষয়ে সরকারের বিরম্নদ্ধে দোষারোপ করা সহজ হয়। মুক্তির পর বড় ধরনের শোডাউন করার পরিকল্পনাও ছিল গ্রেফতারকৃতদের।
void(1);
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×