একটা বাস্তব ঘটনা দিয়েই শুরু করা যাক । আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তিন চার দিন আগে এক বয়স্ক ব্যাক্তির সাথে আলাপ কালে জানলাম তিনি হাজী সাহেব এবং তার একটি ছেলে মাস খানেক হয় নতুন চাকুরি পেয়েছে । সরকারী চাকুরি.. স্বাভাবতই বেশ খুশি । আরও খুশির খবর সমবায় মন্ত্রনালয়ের এই পদে উপরি পাওয়ার উজ্জল সম্ভবনা আছে । সে উজ্জলতায় বৃদ্ধের সুন্নতী দাড়িযুক্ত নূরানী চেহারা এবং লম্বা পাঞ্জাবী পরিহিতো গতর খানি উজ্জলতর হয়ে আছে । প্রথম মাসে-ই নাকি বেতনের টাকা ছাড়াই নয় হাজার টাকা বাড়তি আয় হয়েছে । এই সুংবাদে আমার কতটা আনন্দিত হওয়া উচিত বুঝতে না পারলেও বেটাকে যে বিদায় করা দরকার সেটা বুঝতে সময় লাগেনি । এশার নামাজের কথা মনে করিয়ে দিতেই তিনি উঠলেন তবে উপদেশ দিয়ে গেলেন নিয়মিত নামাজটা যেনো ওয়াক্ত মতো জারি থাকে । চমৎকার সুন্নতি চেহারার সাথে উপদেশটা ভালো মানিয়েছে স্বিকার করলাম ।
আমার খুব ঘনিষ্ট বন্ধুর আপন খালু যার সাথে প্রায়ই দেখা হয় এবং আশ্চর্য হয়ে দেখি বাসে ঝুলে সচিবালয়ের দিকে যান । কারন সেখানেই তার কর্ম সংস্হান ।দু মেয়ে এক ছেলের ছাপোসা সংসার নিয়ে ভাড়া থাকেন আট হাজার টাকার এক ফ্লাটে ।গ্রামের বাড়ি থেকে চাল ডালের আর সরিসার তেলের সরবরাহ টা আছে বলেই ছেলে মেয়ে গুলোকে কোন রকমে কলেজের গন্ডিটা পারকরে এনেছেন । কিন্তু আত্নীয় মহলে বেচারা অপদার্থ অপবাদটাও মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন । পারতো পক্ষে সামাজিক অনুষ্ঠান গুলোতে তিনি বা তার পরিবার যান না যদিও খালা বংশগতো ভাবেই বেশ বড় পরিবারের । কিন্তু খালুসাহেব আজও এক খন্ড জমিতো দূরের কথা মাথা গোজার নিজস্ব ছাদটুকুও জোগার করতে পারেন নি । নিজ সন্তানের কাছে তিরি হয়তো হিরো কিন্তু সমাজে আত্নিয় মহলে বিশেষ বোকা বলেই সুপরিচিত।
শেষ করা যাক আরেক হুজুরের গল্পদিয়েই .. রিকশায় করে ভার্সটি যাচ্ছিলাম সাথে সহযাত্রি হিসাবে বয়স্ত এক বৃদ্ধ কে নিয়ে নিলাম । বুজুর্গ ইসলামপুরের ছোটখাটো পাইকারি ব্যাবসায়ী । লেখক জগন্নাথের ছাত্র শুনে তাকে খুব খুশি মনে হলো কারন টা আর কিছুইনা তার এক ছেলেই নাকি আমার ডিপার্টমেন্টের দুব্যচ আগের বড়ভাই যিনি গতবছর মাস্টার্স দিয়েছে । নাম শুনে বুঝলাম তিনি সেই মাহীভাই , যার কাছে আমারা নোটের জন্য দৌড়ুতাম । এবং অবধারিতো ভাবে ফাস্টক্লাস পাওয়া ছাত্র ।এখন কি করছে জানতে চাওয়ার বিপরিতে যা জানলাম তা হচ্ছে দশটা টু আট টা বাবার ব্যাবসা দেখছে । সরকারি ভালো চাকুরির চেস্টা কি করছেনা ! জানতে চাইলাম... বৃদ্ধ এমন ভাবে আমার তদিকে তাকালেন যেনো আমি তার ছেলেকে খুন করার প্রস্তাব দিলাম ।
তিনি জবাবে বল্লেন, এতো কষ্ট করে ছেলেকে পড়ালাম কি চোর বানানর জন্য ? সরকারী/ বেসরকারি চাকুরির যে বেতন আর ঘুসের এতো সুযোগ ছেলোতো বিখ্যাতো চোর হবে !! বিপরীতে অনেক কথাই বলতে পারতাম কিন্তু থমকে গেলাম । ভাবলাম মানুষে মানুষে কতো ফারাক।
যতবার কোন কাজে কোন সরকারী অফিসে যাই ঘুস না দিয়ে কোন কাজ পাইনি । তাহলে উচুপদে ভালো চাকুরি করা কি, পড়া লেখা করে চোর হওয়া ? নাকি অচল সততার বুলি আওরে অপদার্থ হওয়া ।
মাগনা পেলে নাকী আলকাত্রাও নেওয়ারমতো মানুষে অভাব হয়না। কিন্তু বিনামূলে পাওয়া নীতি কথা শিক্ষা যে গুলো আমরা ছাত্রাবস্হার শুরুতে শিখেছিলাম, সেগুলো কি বিনামূলের শিক্ষা মনে করে ফেলে দিবো.?... বিনামূল্যের আলকাত্রাও তো মানুষ নেয়, নীতিতো অনেকেই নিতে চাচ্ছেনা তাহলে নীতিকথা কি আলকাত্রারও অধম?
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০১১ রাত ৩:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

