ব্লগের কচি-কাঁচা এবং বুইড়া-ভাম নাস্তিকগন গ্রুপ বাঁধিয়া নান রকম যুক্তি-তর্ক-আত্মজীবনি দ্বারা সবাইকে নাস্তিকতার সবক দান করিতেছেন। তাদের সাথে ধর্মের জায়গীরধারী জামাতিরা তর্কে না পারিয়া ক্ষান্ত দিলেও, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারীদের সাথে নাস্তিকদের এখন অযৌক্তিক সংঘর্ষ ঘটিতেছে।
এইসব সংঘর্ষ হইতে একটা বিষয় পরিষ্কার, ব্লগে নাস্তিকেরা একটি সংখ্যালঘু গোষ্ঠী হইতে পারে, কিন্তু ধর্ম-বিধর্ম বিষয়ে তাদের অগাধ জ্ঞানের নিকট আস্তিকেরা বড়ই লজ্জাজনকভাবে পরাজিত হইতেছে। মৌলবাদীরা আবার তাহাদের সাথে বুলি কপচাইয়া অনেক আগেই চুপ হইয়া গিয়াছে, ছাগীয় শক্তির অপচয় করিয়া এইসব কাফির-মুরতাদের সাথে তর্ক করা তাহারা সমীচিন মনে করে না।
বীর ধর্মনিরপেক্ষ মধ্যপন্থী বাংলাভাষীগন কি তবে হারিয়া কেলে ভূত হইয়া যাইবে? আমরা কি তবে নাস্তিক আর মৌলবাদী হুজুরদের গালাগালি এবং রণহুংকারের মাঝে কপাল চাপরাইব? আমাদের উপায় কি? আমরা মধ্যপন্থীরা একদিকে কাফির বলিয়া গালি খাইতেছি, এবং অন্যদিকে কাঠমুল্লা উপাধি পাইয়াছি। কেন আজ বাংলার ব্লগের আকাশে বাতাসে ধর্মহীনতা ও মৌলবাদী কুপমুন্ডকতার গুতাগুতি, কোথায় মোদের ধর্মনিরপেক্ষতা?
এত কিছু ভাবিয়া ভাবিয়া আমার প্রবাসের ডলার-সমৃদ্ধ সুখী জীবন অসুখী হইয়া গেল। তাই ভাবিলাম আস্তিক ধর্মনিরপেক্ষ মধ্যপন্থীদের জন্য কিছু একটা করি, ইহা আমার স্বদেশের ধর্মনিরপেক্ষ মধ্যপন্থী ব্লগারদের চিন্তার খোরাক জুটাইবে।
নাস্তিকতার একটা উদাহরন দিয়াছিলাম গত দুইদিন আগে, সেটাই আবার জাবর কাটিয়া দিলাম, দেখুন বুঝিতে পারেন কিনা
"নারায়ণগন্জ বা যাত্রাবাড়ী যাইতে অনেক বাস লাইন আছে, একটা বলে গেইট লক, আরেকটা বলে সম্পূর্ন গেইট লক। দুটারই আসলে দরজাই নাই। কেউ কেউ ট্রেনেও যায়। পায়দল হাটিয়াও যায় কিছু ফকিরের পুত, আবার হেলিকপ্টার চরিয়া যায় খালেদা হাসিনা। কোন কোন মানুষ ইন্জিনের নৌকা নিয়া শীতলক্ষ্যার বক্ষ ফাড়িয়া ফট ফট করিতে করিতে যায়।
আপনি আমি একএকটা যাত্রী, উঠিয়া বসেছেন বাসে বা লন্চে, নারায়ণগন্জ গেলেই হল। কেউ কেউ বাস বুঝিয়া উঠেছেন, কেউ কেউ পিতা যেই বাসে যাইতেন সেই বাসেই চড়েছেন।
কন্ডাকটররা মুল্লা পাদ্রী, চেঁচায় ঠিকই নিজের বাসের নামে, কিন্তু রাত্রে বসে একসাথে ফেন্সী গেলে। এদের লাইনে উঠলেন তো ভাল, পৌছানোটা কিন্তু আপনার নিজের দায়িত্ব, পকেট সামলান, মলম পার্টি সামলান, নারায়ণগন্জ গেলেই হল।
নাস্তিকেরা অন্য টাইপ, এরা বাস-স্ট্যান্ডের সামনে চেচাচ্ছে,
"সব বাস ভুয়া, নারায়ণগন্জ বলে কোন যায়গা নাই" "
এখন আপনার করনীয় কি?
আপনরা করনীয় হইল নাস্তিকদের শান্তিতে থাকিতে দেওয়া, চেঁচাইয়া গলা ফাটাইলেও অসুবিধা কি? আপনার ধর্ম-বিশ্বাস তো আপনার কাছে, আপনি যানেন পুল-সেরাত আর যাত্রাবাড়ির জাম দুইটাই ঝামেলার ব্যাপার। এখন আপনি পীর-পাদ্রী-পুরোহিতের(বাস কন্ডাকটর) কথায় পাগল হয়ে নাস্তিক নিধনে নামেন, আপনার নারায়ণগন্জের বাস তো মিস হয়ে যাবে।
মানুষের মনে একটাই আকাঙ্ক্ষা থাকে, মরিলেও যেন আমি হারাইয়া না যাই। এই কারণেই আমরা সংগী খুজি, সংসার করি, পুংটা পোলা-মাইয়ার জন্ম দিয়া তাদের মাঝে অমরত্ব খুজি। এই অমরত্বের খোজের যে তাগাদা, সেটাই আল্লাহর প্রতি আমাদের আকর্ষনের কারন।
মইরা গিয়া কেচোর খোরাক হইলে আমার মন, মেধা, পয়সা, অংগ ভরা রূপ যৌবন এগুলার কি দাম থাকল? নাস্তিকতার যারা ফতোয়া দেন, তারাও ঐসব বড় বড় উত্তর দিতে সাহস পান নাই। তারা ধর্মের মাঝে ফ্যালাসি খোজায় ব্যস্ত, কিন্তু কালা মিয়ার গরীব দেহ এই দুনিয়া দিয়া বিদায়ের সময় কি নিয়া গেল, আর কি রাইখা গেল, সেটার হিসাব নাস্তিকদের কাছে নাই। তাই নাস্তিকতার নাস্তা নাই, খালি বাতাসের উপর তারা জায়নামায বিছাইয়াছেন।
আস্তিকদের আবার অগাধ বিশ্বাস, কিন্তু তারা সবাই মুমিন-মুসলমান না। তাদের মাঝেও আকাশ-পাতাল তফাৎ আছে। কিন্তু তাহাদের কমন জিনিষ হইল, তারা সবাই Deist(ঈশ্বরবাদী) । তাহাদের বিশ্বাসের মূল চালিকা শক্তি হইল সৃষ্টিকর্তা বলিয়া একজন আছেন। কিনতু আনকমন জিনিষও আছে, কারও একস্ট্রা বিশ্বাস বেশী, কারও কম। কেউ কেউ লাফাইয়া নেকী কামাইতে ওস্তাদ, তারা পারলে বিশ্বাসের জোস দেখাইতে গলায় ছুরি চালাইতেও মনে কিছু নেবে না। এদের গায়ে ধর্মের লেবাস থাকলেও তাহার দুর্গন্ধে টেকা দায়, যেন পুরিষত্যাগ করিয়া বদনা হারাইয়াছেন, তাই ইস্তেন্জা ছাড়াই ওয়াজ-মেহফিলে ঢুকিয়া বসেছেন
ধর্মনিরপেক্ষ মধ্যপন্থীদের জন্য কি করনীয়? আমরা সাধারান খেটে খাওয়া পাব্লিকের ধর্ম, ঈশ্বর, নবী-রাসুলের কথা শুনে শুনে বেহেস্তে যাইতে পারলেই হল, তারা নাস্তিকদের মত অত ক্যাচালে যাইতে চায় না, আবার মৌলবাদী জামাত বা বজ্রংবলিদের মত অন্য ধর্মের লোকদের গলা জবাই করতেও রাজি নয়। তারা অমরত্বের নাস্তা চায়, কিন্তু আল-কয়দার মত বদনা ছাড়া জিহাদে যাইতে রাজি নয়। নাস্তিকতা এবং মৌলবাদ একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ, সে মুদ্রার নাম হল চরমপন্থা। সাধারন মানুষ নরমপন্থী, তারা অত গুতাগুতির মাঝে যাইতে রাজি নয়। তারা সুফী-সন্ন্যসীদের মতে চলে, পায়দল হাটিয়া নারায়ণগন্জ যায় ফকিরের মত হইয়া, ইস্তেমাতে কাঁদা মাখিয়া কান্না-কাটি করে, রাধা-কৃষ্ণের লীলাখেলার গান শুনে বউ-বান্ধবীরে ফোন লাগায়। এই ধরনের লোকজন ব্লগে বেশি। সাধারন বাংগালী জীবনেও এদের সংখ্যা বেশি। বার-মাসে তের পার্বণ কথাটা কি এমনি এমনি এসেছে? ধর্ম ছাড়া পার্বণ আসে কোথা থেকে?
ধর্মনিরপেক্ষ মধ্যপন্থীদের জন্য তাই অনুরোধ, নাস্তিকতা আর মৌলবাদের প্রচারকদের উপেক্ষা করুন, এরা কিছুদিন গ্যান্জাম বাজাইয়া এমনিতেই চুপ হয়ে যাবে। খালি খালি ইসলাম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান নিয়া তর্ক করলে তর্ক বাড়বে, সৃষ্টিকর্তা বলে একজন আছেন - সেটা এন্টনী ফ্লিউ(en.wikipedia.org/wiki/Antony_Flew) এর মত বাঘা বাঘা নাস্তিকও স্বীকার করেছে। সৃষ্টিকর্তার আকার, প্রকার-নিরাকার-মানবতা নিয়া বহুত পড়াশুনা করা মানুষও গন্ডা গন্ডা লিখিয়াছেন। এখানকার পাতি-নাস্তিকেরা দুই-পাতা পড়িয়া বিদ্যাসাগর হইয়া সবক দিতে আসিলে অসুবিধা হইবে না, কারন তিন দিন পরে সবাই মরিয়া ভূত হইবে, থাকিবেন শুধে এক ও অদ্বিতীয় সৃষ্টিকর্তা, তাকে আমরা আল্লাহ , গড, ঈশ্বর, আব্বা-আম্মা যাই ডাকি না কেন, তিনিই যানেন আমরা কেন এখানে হাদুম-পাদুম করিতেছি। নাস্তিক ও মৌলবাদীদের গ্যান্জামেও তাহার অসুবিধা নাই, কারন, চাই বা না চাই, সবাইকেই যাত্রাবাড়ি যাইতে হইবে, মৃত্যুর স্বাদ সকলেই পাইবে। তখন কোথায় যাইবে নাস্তিকতার সবক আর মৌলবাদীদের ইস্তেন্জা করার নিয়মাবলী?
যুধিস্ঠিরকে যম জিগাইছিল, জগতের সবচাইতে আশ্চর্য্যজনক বিষয় কি?
যুধিস্ঠিরের উত্তর ছিল, জগতের সবচাইতে আশ্চর্য্যের বিষয় হল, মানুষ জানে যে সে মরনশীল কিন্তু সকলে এমন আচরন করে যেন তাহারা কখনই মরিবে না। আর এত্তকিছু নিয়া মাথা ঘামাইলে তো মাথার বারটা বাজিবে!
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণার ক্ষমতা নাই অট্টালিকা বানাইবার, প্রয়োজনীয়তাও নাই। কিন্তু মানুষ বালুকণার সমষ্টিকে একগাথায় গাথিয়া সভ্যতা তৈরি করিয়াছে, তুমি আমি সেই রকম বালুকণা, আমাদের সৃষ্টি কেন করা হইয়াছে, এইটা আমাদের জানার উপায় নাই, দরকারও নাই। একমাত্র স্রষ্টা জানেন, তাই আমরা তার করা নিয়ম নীতি মতই চলি, খাই-পড়ি, প্রেম-ভালবাসার ভাব ধরি, স্রষ্টা জানেন কেন বা কি কারণে তুমি আমি এইখানে হাদুমপাদুম করি।
নাস্তিকেরা যতই চেঁচাক, সকলের মরিতে হইবেই, স্রষ্টার কাছে ফেরৎ যাইতে হইবে। তাহার পরে কি হইবে তা নিয়া মতভেদ থাকিতে পারে, কিন্তু সেটার উত্তর মরনের পরে স্রষ্টা দিয়া দিবে, আমরা জানি না। নাস্তিকদের মত, "আমরা জানি সবকিছু" বলিয়া গলা ফুলাইয়া কহিতেও পারি না।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১৫ সকাল ৯:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



