গাবতলীর ব্রীজের কাছে বসে আছি গত আধাঘন্টা ধরে, শালার শালা হরিদাস আবালটার কোন খবর নেই। কালকেই বলেছিলাম জরুরী দরকার আছে, যশোরের বর্ডার খোলা থাকতে থাকতেই যেন ক্রস করে। আজকে দুবার টেক্সট পিং করলাম, নেটওয়ার্কের বাইরে আছে বলে পিং-ব্যাক আসলো। এধরনের ছাগল রিক্রুট করে কেন কোম্পানী, বুঝি না।
প্রায় দেড়ঘন্টা পরে একটা ট্রাক এসে থামলো, লাইন দেখেই বুঝলাম কোম্পানীর ট্রাক। শালার শালা হরিদাস, কনফিডিন্শিয়ালটি বলে একটা যে জিনিস আছে, সেটাও জানে না। লজিস্টিকের ঝামেলা হলেই বা কি, কম্পানীর সবাইকে জানিয়ে দিয়ে ঢাকা আসতে হবে ওকে?
ট্রাক দিয়ে নেমে দেখলাম ব্যাটা এদিক ওদিক চাইছে। একটু ওয়েট করলাম,ট্রাকটা চলে যাক আগে। হটাৎ করে তিনটা পুলিশ এল হাটতে হাটতে, ধুস শালা, এগুলোর হাতে পড়লে আজকে কাজের বারোটা বাজবে। বস খুশি না হলে আজকে খবর আছে। ঠিক ট্রাকটা পার হতেই পরের ট্রাকটা ধরলো পুলিশগুলো, মালপানি হিসাব চাই। এই ফাকে আমিও ফট করে হরি'র পাশে চলে এলাম, এত দেরী কেন? চমকে উঠলো ব্যাটা যেন ভুত দেখেছে! "বস!বস! মাইরি বলছি, এপারের এজেন্টগুলো যে এত অকম্মা, বর্ডার পার হতেই দেরী হয়ে গেল, তারপর আরিচাতে জ্যামে পড়ে পুড়ো তেলেভাজা অবস্থা"।
-তো দমদম থেকে টেক্সট করলে না কেন? আর এই যে কোম্পানীর ট্রাক নিয়ে এসেছো, কে কে জানে?
-কেউ জানে না বস, মাইরি বলছি। লজিস্টিকে একটা ফেভার পাওনা ছিল, ওটাকেই নিয়ে এদিকওদিক করে যশোর থেকে ওটা ম্যানেজ করে চলে এলাম।
-হুমম, বুঝেছি, এখন একসেন্ট ঠিক কর, এটা গাবতলী, মেদিনিপুর না।
এটা বলেই চুপ করে গেলাম, হরিদাস একটা ছাগল, ও টাইপের যেগুলোই ফিল্ডে এসেছে, সবগুলোই লেজেগোবরে করে ছেড়েছে। এখন ওকে চুপচাপ রেখে আজকের কাজটা শেষ করে ফেলতে পারলেই হয়। গাড়ীতে উঠতে না উঠতেই টেক্সট এলো, স্ট্যাটাস চাচ্ছে। রিপ্লাই দিলাম, "অন দা হান্ট, সাইলেন্স ফর নেক্সট টোয়েন্টি ফোর হাওয়ারস"
গাড়ীতে মিরপুর পার হতেই দেখলাম চেকপোস্ট বসিয়েছে গাড়ী চেক করার জন্য, থামতেই হল, অন্য সময় হলে এদের প্রত্যেকটাকে উড়িয়ে দেয়ার মত গোলাবারুদ গাড়িতেই আছে, কিন্তু আজকে সে সময় না। সার্জেন্ট আসতেই সাথে রাখা আইডিটা দেখালাম, ঠক করে স্যালুট ঠুকে বললো, আপনি যেতে পারেন স্যার। পাশে থাকা পিচ্চি ম্যাজিস্ট্রেটকে ইংগিত করে বললো, মিলিটারী, ও ব্যাটাও কি বুঝলো, মাথা নাড়িয়ে হাসি দিলো একটা।
ঘুরতে ঘুরতে ১৪ নম্বরের কাছে এসে টার্গেটের বাসার কাছে এসে গাড়ি থামালাম। একটু দূরেই থামালাম যাতে লোকজন বেশি সন্দেহ না করে। হরিদাসের দিকে তাকিয়ে দেখলাম সে একটু কাঁপছে। "কি হে হরিদাস, নার্ভ ঠিক আছে তো"
হরিদাস মাথা নাড়লো, এমনিতেই এটা ওর সেকেন্ড অপারেশন, কেন পাঠিয়েছে ওকে শুধু বস আর আমিই জানি। কিছু বললাম না আর, শুধু রেডী হয়ে ম্যাগাজিনগুলো জ্যাকেটে ভরে নিয়ে গাড়ী থেকে নামলাম দুজনে।
একটু হাটতে হাটতে পেলাম সেই পাচতলা বাড়িটা, উপরে ছাদের দিকে অসম্পূর্ন। শুধু দু-রুম করে রেখে গেছে। আশেপাশের লোক জানে এটা ওয়ার্ড চেয়ারম্যানের বাড়ি, কিন্তু আসলে বাড়িটির মালিক হল খালেক ওরফে প্রশান্ত ভুটিয়া, গ্রুপটার ফাইনান্স গুরুর ভাই।আজকের মিশন - ভুটিয়া এক্সটার্মিনেশন।
কলাপসিবল গেট লাগানো পাচতালা বাসাটায় লোকজন প্রায়ই আসা যাওয়া করে। সিকিউরিটি দেখে হাসিই পেল। এরা করবে স্বাধীনতা যুদ্ধ, এমেচার সব। দারোয়ানকে বললাম "উপরে যাইউম, বুতামত টিপা মাৰক", বেটা থতমত খেয়ে গেল, বলে "উপরে কেউ নাইকা, আপুনি ইয়ালৈ ভুলতে আহিছেন"। জানি মিথ্যা বলছে, একমাত্র বউ আর বাচ্চারা ছাড়াও ভুটুও আছে, কালকে সারা রাত মিটিং করেছে শালা, আজকে বউয়ের সাথে রস করতে এসেছে
কিছু না বলে ঘুরে দাড়িয়ে হরি'র দিকে তাকালাম, তারপর ফট করে ছোড়াটা বসিয়ে দিলাম দারোয়ানের কন্ঠনালীতে। টু শব্দ করার আগেই মরে গেল ব্যাটা। হতভম্ব হরির কাপুনি দেখে বুঝলাম এদৃশ্য দেখে অভ্যস্ত নয়। কলাপসিবল গেটে সাধারণ একটা তালা লাগানো, চাবি দাড়োয়ানের কাছেই ছিল, চাবি খুলে ওর খাটের নিচে লুকিয়ে রাখলাম লাশটা চুপেচাপে।
হরির দিকে তাকালাম, "তোমার আর উপরে ওঠার কাজ নেই, ওয়েট কর নীচে, কেউ আসলে সামাল দিও"।
-কিন্তু বস আমার কাছে তো মোটে একটা অস্ত্র, যদি ওরা দলবল ধরে আসে?
-সব চালান নিয়ে ব্যস্ত, আর আসবে না, ও পাশে লুকিয়ে থাকো, কেউ আসলে সোজা গুলি করবে
-ওকে বস
হরিকে রেখে তড়তড় করে উঠে গেলাম পাচতালায়। কে বলবে এটা একটা মেইন অফিস, মেয়েছেলে রান্না করছে, শাড়ী শুকাচ্ছে, কেউ কেউ হেড়ে গলায় হিন্দি গান গাচ্ছে কাচ্চাবাচ্চার সাথে। তিনতলায় আমাকে দেখার জন্য কেবল একটা বাচ্চা সিড়িঘরের দরজা দিয়ে উকি দিল, আমি দেখেও না দেখার ভান করে উপরে চলা গেলাম।
ঘড়িতে তখন ২:৩০ মিনিট দিল্লী টাইম, পাচতলার রুমটার সামনে এসে দাড়াতেই নাক ডাকার শব্দ পেলাম। দড়জা আটকানো ছিলো ভেতর থেকে। এসব এ্যামেচারগুলো কখনোই ভাবে না, দরজা ছিটকিনী আটকে রাখলেও শমনকেও কখনই আটকে রাখা যাবে না।
মাইক্রো উজিটা বের করলাম, এটা সাক্ষাৎ ব্রক্ষ্মাস্ত্র। কোম্পানী থেকে অল্প কয়েকজন এটা বাগাতে পেরেছে, আমার কাছে এসেছে গত বছর। বেশ কাজে লেগেছে এখন পর্যন্ত। ম্যাগাজিন লাগিয়ে ছিটকিনী আর কব্জার দিকে একটা ব্রাশ করলাম, যে শব্দ হল তাতে কুম্ভকর্ণের ঘুম ভেঙে যাবার কথা, পাড়া প্রতিবেশীদেরতো বটেই। ১০ সেকেন্ডে ৫০ টা গুলি বেড়িয়ে ঝাঝড়া করে দিল দরজাটাকে। লাথি মেরে ভিতরে ঢুকে দেখলাম ভুটিয়া আর তার বউ নেংটা হয়ে পরে আছে বিছানার ওপারে, বউটা মরে গেছে, শালার ব্যাটা কাপুরুষ ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছিলো ওর শরীর। ৯ মিমিটা দিয়ে মগজ বের করে দিলাম, যাঃ শালা, ভারত মাতা কি জয়!
নেমে আসতে আসতে তিনটা মহিলা আর সেই বাচ্চাটার সাথে দেখা হলো, অকারণ বডি কাউন্ট কোম্পানীর অপছন্দ, তবুও সাপের বাচ্চা রাখতে নেই, এই হিসাবে তাদেরও যমের দরজায় পাঠিয়ে দিলাম। বসের ডিরেক্টিভ ছিল, ক্লিন এন্ড কুইক। পুরো অপারেশন সাত মিনিট বত্রিশ সেকেন্ডে শেষ।
নামতে নামতেই হরিদাসের সাথে দেখা, বলে, বস, খবর হয়ে গেছে, বাইরে লোকজন জমে গেছে! তাকালাম ওর দিকে, আমার চেহারা দেখে বুঝে নিলো যা বোঝার, বলে দোতলার জানালার পাশে ডোবাটা আছে। বললাম, চলো গিয়ে দেখি।
দারোয়ানের ঘরের পাশেই উচু দেয়াল, চড়ে বসলাম সেখানে। দেখি, আশে পাশের জানালা দিয়ে লোকজন উকি দিচ্ছে, দিলে দিক, আমার চেহারা দেখে সনাক্ত করার মতো উল্লুক নেই এই এরিয়াতে, পুলিশ আসলেও নিশ্চিত যে বলবে কাউকে দেখেনি।
কলাপসিবল গেট আটকানোই আছে, উপর তলায় চিৎকার চেচামেচিও শুনছি একটু একটু, লোকজন জড়ো হচ্ছে, পুলিশও আসবে একটু পরে, সাংবাদিকগুলোও আসবে মনে হচ্ছে। ইদানীং ডেড বডি দেখলে পুলিশের আগে সাংবাদিকরাই আগে আসে দেখছি
আস্তে করে পাশের খালি জমিটাতে নেমে গেলাম, দু'একটা লোক দেখলো, উচ্চবাচ্য করলো না। গাড়িতে উঠতে গিয়ে দেখি চারজনের একটা দল সিএনজিতে এসে থামলো, চেহারা দেখেই বোঝা যায় একই দলের, খাটো নাক বোচা চেহারা, বাড়ির সামনে হৈচৈ দেখে একটু ধীরে ধীরেই ওদিকে এগোচ্ছে।
গাড়িতে ওঠার পরে হরিদাসকে জিগ্যেস করলেম, কি মশাই, নার্ভ এরকম হলে কি চলে?
উত্তর দিলো, ছা-পোষা মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে বস, আপনাদের মতো জেমস বন্ড হবার মতো যোগ্যতা কি আছে? দেশপ্রেমের নামে কাজে ঢুকেছিলাম, এখন দেখি জল্লাদগীরি করতে হচ্ছে।
হরিদাস পাল! কঠিন গলায় বল্লেম, আমাদের কাজ মিশন সাকসেসফুল করা, টার্গেট কে বা কি, সেটা দেখার বিচার আমাদের না, ডিরেক্টিভ তুমি যান, দরকার পড়লে নিজের বাবা মা এমনকি দেশের প্রধানকেও খতম করে দিতে হয়। সবই ডিরেক্টিভ।
হরিদাস বলে, অতশত বুঝিনা বাপু, কায়স্থ ঘরের ছেলে, এখন মানুষ খুন করে ভাত খাই, আর কত।
চুপ করে থাকলাম, গাড়ী তখন ছুটে চলছে আরিচার দিকে।
তুরাগের পাশে একটা হাউজীং সোসাইটি গড়েছে, সেখানে গাড়ী ঢুকালাম, এদিকে কোম্পানীর একটা কাজ আছে, এটাই বল্লাম হরিদাসকে। তিন-চারমিনিট পরেই জায়গাটার কাছে এসে গেলাম, একটা আধানির্মীত বাসা, মালিক মরে গেছে ফিনিস করার আগেই, এখন মালিকের ছেলে আর ভাইয়েরা এটা নিয়ে কামড়াকামড়ি করে, বাসার ফাউন্ডেশন আর দেয়াল দাড়িয়ে আছে, ছাদ নেই।
গাড়ি থামিয়ে বের হতে বল্লাম হরিদাসকে , ছাগলটা বলে, এখানে কি হবে দাদা?
-কাজ আছে একটা, ড্রপঅফ প্যাকেজ, নামো গাড়ি থেকে
গাড়ি থেকে একটা ছোট প্যাকেট নিয়ে নামলাম, হরিদাসও নামলো পিছু পিছু। বাড়ীটার মাঝে ঢুকে যেখানে বাথরুম হওয়ার কথা, সেখানে গিয়ে হরিদাসকে বললাম, একটা জিপিএস কোঅর্ডিনেট নাও, ও ওর ব্ল্যাকবেরী বের করতে পকেটে হাত ঢুকালো। ৯ মিমি এর একটা বুলেট ঢুকিয়ে দিলাম ওর মাথার পিছে
হরিদাসের লাশটা থপ করে পরে গেল, যেন কেউ কাটা কলাগাছ ফেলেছে। চট করে ওর অস্ত্র, কমিউনিকেটর, ট্যাগ আর ওয়ালেট বের করে নিলাম, হাতের বোতল থেকে এসিড ঢেলে মুখ আর হাতের আঙুলগুলো পুড়িয়ে দিলাম। লাশ পেলেও এখন এটা আন্জুমানের মফিদুল ইসলামে যাবে। মনে মনে হাসলাম, হরিদাসকে চাকরীর প্রথম তিনমাসের মাথায় খৎনা করতে বলা হলেও বেটা ধর্ম যাবে বলে প্রথমে করতে চায়নি। এখন শেষমেষ খৎনা করে কায়স্থঘরের বামুন বেটা জিন্জিরার গোরস্থানে ঠাই নেবে। কলিকাল এলো বলে।
গাড়িতে এসে টেক্সট পাঠালাম, "ভুটিয়া মিশন একম্প্লিশড উইথ ফাইভ কনফার্মড কিলস", উত্তর এলো, "আউর দুসরা মিশন?"
মেসেজ পাঠালাম "হরিদাস পাল হ্যাজ বিন টার্মিনেটেড উইথ এক্সট্রিম প্রেজুডিস"
জব ওয়েল ডান।
ডিস্ক্লেইমার: এ গপ্পের সব চরিত্র ও ঘটনা কাল্পনিক
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মার্চ, ২০১৫ সকাল ১১:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


