সাইবার যুদ্ধ নিয়ে বাংলাদেশ ব্লাকহ্যাট হ্যাকার অবশেষে মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়েছে । বক্তব্য পড়ে একজন বাংলাদেশী হিসেবে গর্বে ভরে গেল । এমনইতো আশাকরি মেধাবীদের কাছ থেকে আমরা ।
আমরা বাংলাদেশ ব্লাকহ্যাট হ্যাকার। ভারতে সীমান্ত হত্যা বন্ধে আমরা সম্প্রতি ভারতীয় ওয়েবসাইটগুলোতে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করেছি। আমাদের খারাপ কোনো উদ্দেশ্য নেই, আমরা সীমান্তে বিএসএফ এর হাতে মরতে চাই না। চাই মানুষের মতো বাঁচতে, বিএসএফ-এর কাছে কুত্তার মতো গুলি খেয়ে মরতে চাই না। সীমান্তে যাতে নিরীহ মানুষকে আর মরতে না হয় সে দাবিতে আমরা সাইবার যুদ্ধ শুরু করেছি।
আমরা ভারত সরকারের উদ্দেশ্যে একটি ভিডিও অবমুক্ত করেছি। এটি http://bit.ly/zI2QNZ ঠিকানা থেকে দেখে নিতে পারেন।
ভিডিওর বাংলা অনুবাদ (সাবটাইটেল): হ্যালো বাংলাদেশের নাগরিকরা, আমরা বাংলাদেশ ব্লাকহ্যাট হ্যাকারস। এখন সময় আমাদের চোখ খুলবার। বিএসএফ ১ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে, তাদের গুলিতে আহত হয়েছে আরও ৯৮৭ বাংলাদেশি। অপহৃত হয়েছে হাজারো মানুষ। এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। তারা অবিচার করছে। সংকটময় এ মুহূর্তে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে আমাদের কিছু দায়িত্ববোধ রয়েছে, আমরা চাই ভারত সরকার নিরপরাধ বাংলাদেশিদের হত্যা করা বন্ধ করুক। নতুবা আমরা ভারতীয়দের বিরুদ্ধে সাইবার যুদ্ধ শুরু করবো। এটি চলতেই থাকবে।
আমাদের হ্যাকিংয়ের শুরু
সীমান্ত হত্যা বন্ধে আমাদের হ্যাকিং চলছে বেশ কয়েক মাস ধরেই। তবে বিএসএফ ওয়েবসাইটসহ একাধিক ওয়েবসাইট এ পর্যন্ত আমরা হ্যাকিং করেছি। এর আগে ভারতীয় ওয়েবসাইটগুলো হ্যাকিংয়ের পর সেখানে আমাদের বার্তা ছিল:
সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক ১৫ বছরের কিশোরী ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এটি আমরা কখনো ভুলবো না, কখনো ক্ষমা করবো না এবং তাদেরকে ছেড়ে দিবো না। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ কর অথবা আমরা তোমাদের সাইবার স্পেস ধ্বংস করে দিবো। কোথায় তোমাদের মানবিকতা, কোথায়? এটি বিএসএফ’র জন্য খুব লজ্জাজনক।
এখনও আমরা এ বার্তাটিই দিতে চাই। বিএসএফ এর মধ্যে কোনো মানবিকতা নেই, তারা অমানুষের মতো আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে নিরীহ বাংলাদেশিদের ওপর।
এ হ্যাকিংয়ের ঘটনা নিয়ে দুটি সংবাদ:
১.http://www.sangbad.com.bd/?view=details&type=gold&data=Software&pub_no=968&menu_id=28&news_type_id=1&val=91416
২. Click This Link
৩. Click This Link
আমাদের আক্রমণ থামবে না, আসছে# অপ ইন্ডিয়া ফেজ-২
আরোও একটি কথা আমরা বলতে চাই, সবার ব্যাপক সমর্থনে আমরা অভিভূত হয়েছি। আমরা চাই এ সাইবার যুদ্ধে সবাই অংশ নিক। এ কারণে নতুন এ অপারেশন পরিকল্পনা। এটি মূলত একটি অনলাইন ভিত্তিক সফটওয়্যার হবে যেখানে প্রত্যেক ব্যবহারকারীর জন্য কিছু নির্দিষ্ট ‘টাস্ক’ দেয়া থাকবে, এ টাস্কগুলোই ব্যবহারকারীদের সম্পন্ন করতে হবে। এরপর এ অনলাইন সফটওয়্যারটিই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইবার আক্রমণের মতো বিভিন্ন কাজ করবে। একসঙ্গে লাখ লাখ মেসেজ ছড়িয়ে দিবে। নতুন এ আক্রমণ পরিকল্পনাটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে, আগামীকাল এটির বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। আমরা একটি ভিডিও টিউটোরিয়ালও ছাড়বো কিভাবে সাইবার আক্রমণ করতে হয় সে বিষয়ে।
আমরা সবাই একসঙ্গে
বাংলাদেশ ব্লাকহ্যাট হ্যাকার [বিবিএইচএইচ] এর ঘোষণার পর আরও কয়েকটি বাংলাদেশি হ্যাকার গ্রুপ একাত্বতা প্রকাশ করে ভারতীয় ওয়েবসাইটগুলোতে আক্রমণ শুরু করেছি আমরা। আমাদের সঙ্গে আছে `এক্সপায়ার সাইবার আর্মি`, `বাংলাদেশ সাইবার আর্মি`। আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপ জেডএইচসি এবং দ্যা হ্যাকার আর্মি ইতিমধ্যে আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। আমাদের প্রতি সমর্থণ রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হ্যাকার গ্রুপ অ্যানোনিমাসেরও। তাছাড়া বাংলাদেশি হ্যাকাররাও বেশ দক্ষ। ভারত তাদের সীমান্ত হত্যাকাণ্ড না থামালে আমরা পুরো ভারতের সাইবার স্পেস কে ‘হেল’ বানিয়ে দিবো।
ভারতীয় হ্যাকারদের সম্পর্কে আমাদের একজন সদস্যের মন্তব্য:
আমরা তাদের যতটা দুর্বল ভেবেছি INDIAN রা এর থেকেও বেশি বোকা ! তাদের কার্যক্রম এখন একেবারেই বন্ধ। আমরা ভাবছি কখন আমাদের আসল আক্রমণ শুরু করব
আমরা হ্যাক করেছি ১০ হাজারেরও বেশি ভারতীয় ওয়েবসাইট। এখনও আক্রমণ চলছেই।
আমাদের দেশের ওয়েবামাস্টার ভারতীয় হ্যাকারদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে যা করবেন:
To Our Webmasters :
প্রতিরোধ :
সিস্টেম ও নেটওয়ার্ক :
১. প্রথমেই ওয়েব সাইটটি যে ওয়েব সার্ভারে আছে, তাতে কোনো ভালনারেবিলিটি আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে তা ফিক্স করতে হবে ।
২. যত দ্রুত পারা যায় লেটেস্ট ওয়েব সার্ভারে আপগ্রেড করা। সম্ভব হলে আপারেটিং সিস্টেমেরও লেটেস্ট ভার্সনে আপগ্রেড করা ।
৩. সিস্টেমের জন্য কোনো সিকিউরিটি প্যাচ থাকলে তা ইন্সটল করা ।
৪. সার্ভারের ফায়ারওয়ারটি চেক করা ও শক্তিশালী করা ।
৫. সার্ভারের অব্যবহৃত পোর্টগুলো বন্ধ করে রাখা ।
৬. ভালো মানের IDS/IPS (Intrusion Detection System/ Intrusion Prevention System) ইন্সটল করা ।
ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন :
৭. যে ওয়েব সাইটটি বা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনটি আছে তার ভালনারেবিলিটি চেক করা । বিশেষ করে, SQL Injection, Cross Site Scripting, Cross Site Forgery, Buffer Over flow এই ধরনের ভালনারেবিলিটি চেক করা ও ফিক্স করা ।
৮. অ্যাডমিন ও সিপনেলের (সার্ভার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) পাসওয়ার্ড পরিবর্তন ও শক্তিশালী করা ।
৯. ওয়েব সাইটটি যদি কোনো ফ্রেমওয়ার্কের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় (যেমন: বাংলেদেশের অনেক সরকারি ওয়েব সাইট জুমলায় করা) তবে তা দ্রুত লেটেস্ট ভার্সনে আপগ্রেড করা ও কোনো সিকিউরিটি প্যাচ থাকলে তা ইন্সটল করা ।
১০. সকল ধরনের ফাইলের বিশেষ করে কনফিগারেশন ফাইলের রাইট (write) অ্যাকসেস না দেয়া। কোনো ড্রাইভেও রাইট (write) অ্যাকসেস না দেয়া। কাজের প্রয়োজনে দিতে হলেও কাজ শেষ হলে সেই অ্যাকসেস রিভোক করা।
প্রতিকার:
১. নিয়মিত সাইটের ব্যাকআপ রাখা। ব্যাকআপ ফাইল সিকিউরড প্লেসে ও সিকিউরডভাবে রাখা। যাতে ডিরেক্টরি ব্রাউজিংয়ের মাধ্যমে তা পাওয়া সম্ভব না হয়।
২. দুর্ভাগ্যবশত সাইটটি হ্যাক হলে, সাইটের সব কনটেন্ট ডিলিট করে দিতে হবে। তারপর ব্যাকআপ থেকে পুরো সাইটটি আবার চালাতে হবে। কোনোভাবেই শুধু ডিফেসমেন্ট করা পেজটি রিপ্লেস করে সন্তুষ্ট থাকা যাবে না। কারণ হ্যাকাররা অন্য ডিরেক্টরিতে কোনো ম্যালেশিয়াস(খারাপ) কোড রেখে দিতে পারে।
৩. সঙ্গে সঙ্গে অ্যাডমিন ও সিপ্যানেলের পাসওয়ার্ড চেন্জ করতে হবে ।
সোজন্যে বাংলানিউজ ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

