সর্দারজী ৫০
১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ দুপুর ১:০০
অনেক ঘাটের পানি খাওনের পরে সর্দারজী ভোলা সিং আইছে ঢালকা নগরে । সে যে একটা হাবাগোবা-বলদ সেই ব্যাপারে নিজের মনে আর কোনো ডাউট নাই তার ।
ঢালকানগরে আইসাই সে শুনলো এইখানে স্বনামধন্য সাধক ঢালীবাবা বাস করেন । ঢালীবাবা, তাঁর অন্তরদৃষ্টির জন্য বিখ্যাত । ভোলা ভাবে যাই, খানিকটা ভিতরের নজর হাসিল কইরা আসি ।
গেলো ভোলা, ঢালীবাবার আস্তানায় । ভিতর থিকা বলা হইলো বাবা বাইরের মাঠে আছেন । বাবাজী একটা বাঁশের উপর বইসা আছেন, তাঁর কান্ধের কাছে একটা কাউয়া ঘোরাফিরা করতেছে, পায়ের নীচে একটা বান্দর । ভিজিটর দেইখা বাবাজী সুরুত কইরা বাঁশের আগা থিকা নাইমা আসলেন ।
'স্বামী ঢালানন্দ, আপনার সেবায় নিয়োজিত হে ব্যোম ভোলানাথ!'
ভোলা সোজা ডাইভ দিছে বাবাজীর শ্রীচরণযুগলে । বাবাজী তার নাম জানেন, এতো বড় অলৌকিকত্ব সে আশা করে নাই ।
'বাবাজী আমি দিব্য দৃষ্টি হাসিল করতে আপনের এইখানে আইলাম । আশা করি নিরাশ করবেন না ।'
''দিব্য-দৃষ্টি? সেইটা খায় না মাথা মাখে?'
'চউখে দেয় । দিলেই দুনিয়ার সব গিট্টু যায় খুইলা । জেমস বন্ডের এরম একটা চশমা আছিলো । চউখে দিলে মহিলাদের আন্ডারগার্মেন্ট দেখা যাইতো ।'
'ও এই জিনিস! শোন বাপ ভোলা, তোর মনের ভিতরেই তো বহুত প্যাঁচ..এগুলা আগে কাটন দরকার । আমি এখন এফ টিভি দেখুম । তুই এখন বাঁশের আগায়..না, বাঁশের আগায় উঠিস না, বান্দরটা তোরে খামচি দিবো । তুই জাস্ট এই খানে..শুন্যে দুই হাত তুইলা খাড়ায়া থাক । আমি আধঘন্টার মধ্যেই আইতাছি ।'
ভোলা তো আলাভোলার মতন খাড়ায়া আছে । ভাদ্র মাসের দুপুর, রোদে ব্রম্মতালু জ্বইলা যাইতেছে । বাঁশের আগায় বান্দর আর কাউয়া ক্যাঁওম্যাও করতেছে । মাঝে মাঝে বান্দরটা কলার খোসা ফিক্যা মারতেছে ভোলার দিকে । মাথার উপর কাউয়াও চক্কর দিলো কয়বার । একটু পরে নামলো বৃষ্টি ।
আধ্ঘন্টা পার হইয়া গেল কিন্তু বাবাজীর দেখা নাই । পঁয়তাল্লিশ মিনিট..তবু নাই..শেষ একঘন্টা পরে ভোলা হাত নামায়া ঢুকলো বাবার আখড়ায় । বাবা তো মেঝেতে শীতল পাটি পাইতা ভোঁস ভোঁস শব্দে নিদ্রা যাইতেছেন ।
'বাবা! এই সব কী মশকরা?'
ভোলার ত্রাহি চিৎকারে বাবার ঘুম ভাংলো । উইঠা বিরাট একটা হাই তুইলা তুড়ি মাইরা বললেন ।
'কয় ডিগ্রি দিব্য দৃষ্টি হাসিল হইলো রে ভোলা?'
'কিচ্ছু হয় নাই । রোদে পুইড়া গেছি, বৃষ্টিতে ভিজছি । এমন কী আপনের বান্দর কলার চোকলা ফেলছে, আর কাউয়া মাথার উপর চুনকাম করছে !'
'আর নিজেরে তোর কী মনে হইছে?'
'একেবারে টোটাল বুকাচুদা-হাবাগোবা-বলদ ।'
'পেরথম দিনেই তোর যথেষ্ট বোধশক্তি বাড়ছেরে ভোলা ! অনেকে সারাজীবন আমার কাছে থাইকাও এতোটা শেখে না । ভাবিস না, কাউয়া নিতাই তোরে পেরসাদ দিছে । তোর নজর খুলবোই খুলবো!!!"
প্রকাশ করা হয়েছে: সর্দারজী-সমগ্র বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সকাল ৯:৩০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
জোনাকি বলেছেন:
বুকাচুদা এর মানে কি?
বাউণ্ডুলে বলেছেন:
স্যার, স্প্রাইটের স্বাদ পাইতেছি।
জোনাকি বলেছেন:
ঢালী আমি যেটা বুঝিনা সেই টাই কোশ্চেন করি!আপনি এমন লিখেন কেন যেটার ব্যাখা করতে পারেন না

উলটা আমারে ঝাড়ি দেয়
ঢালী! বলেছেন:
জোনাকি, তুমি ইকটু বাইরে পায়চারী কইরা আসো...কেমুন?
নীলআকাশ বলেছেন:
বেচে থাক
অন্যরকম বলেছেন:
পুরানা মাল, দরিয়ামে ঢাল।
ইলা বলেছেন:
জোনাকী, বোকাচুদা হল বি, সি (বি ইজ ফর বোকা, সি ইজ ফর চুদা।
রকি ভাই বলেছেন:
ঢালী একটা বিসি
এন্থনীবাংলা বলেছেন:
ঢালী ভাল ছেলে ( বি সি )
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
কুল্লু খালাশ
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...


















