একঃ
হাতের কাছেতে বই
ঘরময় থৈ থৈ
লেখার কাগজ, কালি ও কলম
ছাইদানিখানি; চোখের মলম,
যখনি যা কিছু প্রয়োজন আসে,
প্রতিটি জিনিসই গোছানো।
গোছানো নেই যা,
তা রয়েছে এই চোখের তারায়,
পলকে পলকে আনমনে চায়,
নিজেকে হারায়;
পাছে ধরা পড়ে,
সেই ভয়ে চোখ
অনুক্ষন মুখ-লুকানো,
এই ঘরটিতে
দুটি চোখ ছাড়া;
আর সবই আছে গোছানো
দুইঃ
যা তুমি চাও সবই আমি দেব
প্রতিদানে একটি চুমু চাই-
সোনা কিংবা সন্মান যাই নাও-
নায্যমতো ওজন করে নেবে
চাই না আমি, যে-সব চুমু
টুমটুমিকে দাও,
এলেবেলে ছেলেভোলা খেলায়;
চুমু, সে চাই ভালোবাসার চুমু-
জড়িয়ে ধরে জমজমিয়ে খাবে।
মান-সন্মান আমার তরে নয়,
মুদির ছেলে হিসেব করুক সে সব;
তোমার ঠোঁটে আমার কবরখানা
সার জেনেছি অনেক ভেবে-টেবে।
তিনঃ
কাছে এসো, খুব কাছে, এসো;
কবুতরী দুটি স্তনে
আঁতিপাঁতি করে খুঁজি
যে মুকুল ঝরিয়েছে গন্ধ না চিনে।
ওগো মোর প্রথম প্রেয়সী
দেহে তব স্বর্গর সাধ
বাদল-ঘন জঘন-বনে
আমৃতের আনিন্দ্য আস্বাদ।
পিসীমা সান্ত্বনা দিন
তুমি দিও দাহ
স্ত্রী-অঙ্গ স্ফুলিঙ্গ হলে
আমি হব ফুলের জল্লাদ
চারঃ
যতবার আঁকলাম
মুছলাম তার চেয়ে বেশি।
কল্পনার রঙ স্মৃতির তুলিতে বুলিয়ে
বুলিয়ে ফুরিয়ে এলো,
তবু আঁকা হলোনা তোমাকে
তোমার মতন করে
মনে মনে আঁকি যতবার
চোখ, চিবুক, চুল
সবই মেলে,
শুধু মেলেনা, সেই ভাবনাটুকু;
কবে যেন চুরি হয়ে গেছে।
পাঁচঃ
নাইবা চড়লাম মার্সিডিজ গাড়ী
নাইবা কুড়ালাম অগন্য সুন্দরীর
স্নিগ্ধ চোখের স্তূতি-ভেজা নিমন্ত্রন!
শুধু এই আমি, আমার সুস্থ দেহ,
আষাঢ়ের এই কুমারী দুপুরে,
জানালার পাশের শিরীষ গাছটির দিকে চেয়ে
এক পরিপূর্ণ স্বেচ্ছাচারী আত্মবিস্মৃতি,
মুহুর্তের পর মুহুর্তের মালা গেঁথে
গেঁথে গেঁথে এক চমৎকার জীবন,
এক অভাবনীয় বেঁচে থাকা
তোমারই জন্যে, শুধু তোমারই জন্যে;
প্রতিটি নিঃশ্বাস নেওয়া;
কোপাই!
তুমি কি তা জানো?
ছয়ঃ
মনে পড়ে, কখনও আমাকে?
চান ঘরে, কল খুলে,
বাধ্য আয়নায় তোমার ঐ
নগ্ন শরীরে ব্যথার ছায়া ফেলে
সিক্তশরীরী, কখনও ভাবো কি আমাকে?
দেহটাতো
নিলামে বিকোলে, দেহটা কি
নিলামে বিকোলে?
শুধু হাতুড়ি ছোয়নি বুঝি মনটাকে
ছোয়নি এখনও?
কখনও কখনও তাই মনে পড়ে,
মনে পড়ে; এখনও আমাকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

