৪/৫ দিন আগের ঘটনা। আমার প্রতিবেশী জনাব রফিক সাহেব উনারই পোষা কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ৩ বছর আগে উনি আমাদের মহল্লায় আসেন। সদাহাসি খুশি উনার চমতকার ব্যবহারে আমরা অনেকেই উনাকে পছন্দ করতাম। এলাকার মানুষের সাথে সাথে পাড়ার নেড়ি কুকুরগুলোও উনার ভক্ত হয়ে যায়। প্রতিদিন সকালে মর্নিং ওয়াকে উনার সাথে ২/৩টাকে দেখা যেতোই। আমি উনার কুকুরগুলোকে মোটেও পছন্দ করতাম না কারন ওগুলো উনার প্রতি এতই ভক্তি ছিলো যে উনার বন্ধু বা শত্রু সবাইকে দেখে ঘেউঘেউ করতো এবং কামড়াতে যেতো। যার কারনে উনার শুভাকাঙ্খিরা প্রায়ই বিরক্ত হতো। উনার পাশের বাসার এক ভদ্রলোককেও উনি ভয় দেখিয়েছিলেন এই কুকুরগুলোর মাধ্যমে যার পর থেকে আমিও উনার থেকে দুরত্ব বজায় রেখে চলতাম। এই কুকুরগুলিকে উনি প্রয়োজনের চেয়েও বেশী আদর যত্ন করতেন, ভালো ভালো খাওয়াতেন। হয়তোবা এজন্যই ওরা উনাকে এতো পছন্দ করতো। গত ১ বছর আগে থেকে কুকুরগুলির প্রতি উনার ভালোবাসা কমতে থাকে বিভিন্ন জনের অভিযোগের কারনে। তারপর উনি এলাকায় কিছু নতুন বন্ধু পান এবং রোজ সকালে কুকুরগুলিকে বাদ দিয়ে ওই বন্ধুগুলির সাথেই মর্নিং ওয়াকে যেতেন যেটা উনার কুকুরগুলির মোটেও পছন্দ হতো না। যেই কারনে রফিক সাহেবের সাথে উনার কুকুরগুলির দুরত্ত্ব ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং গত সপ্তাহে উনি ও উনার দু'জন বন্ধু মর্নিংওয়াকে হটাত দুটি কুকুরের আক্রমনের শিকার হন। যার ফলশ্রুতিতে উনি বর্তমানে হাসপাতালে। উনার ভাগ্য ভালো পায়ে কামড় দিয়েছে গলায় দেয়নি।
২দিন আগে দেখতে গিয়েছিলাম উনাকে, অনেক আফসুস করে বল্লেন, "কুকুরগুলিকে সন্তানের মতো ভালোবাসতাম কিন্তু ওরা যে আমাকেই কামড়ে দিবে কল্পনাও করতে পারিনী।" আমি আর কি বলবো?? স্বান্তনা দেয়ার জন্য শুধু বল্লাম যে, "ওদের প্রতি আপনার অত্যাধিক ভালোবাসা ওদেরকে অন্ধ করে দিয়েছিলো, ওরা ভাবতো ওদের ছাড়া আপনি চলতে পারবেন না, যাই হোক অবলা জানোয়ার মাফ করে দেন। শীতকালে কুকুর একটু পাগল হয়ই।" ডাক্তারের সাথে কথা বল্লাম উনাকে এই সপ্তাহের শেষে রিলিজ করবে।
আর উনার আদরের কুকুরগুলি বর্তমানে পৌরসভা কর্তৃক দৌড়ের উপরে আছে। কুকুর নিধন অভিযানে এখন পর্যন্ত দুইটি কুকুর মারা গিয়েছে জানি, বাকিগুলো লাপাত্তা। এলাকাবাসীও হাফ ছেড়ে বেচেছে। কারন পরবর্তী অনেক দিন উনার আশেপাশে গেলে কুকুরগুলি কোন জ্বালাতন করবে না। উনার কামড় খাওয়ার ঘটনায় আমিও কিছুটা খুশী হয়েছি কারন পরেরবার রাস্তার কোন কিছুকে লাই দিতে উনি ১০ বার ভাববেন আমি জানি।
ব্লগে হয়তোবা আমার পরিচয় থার্ড ক্লাশ ক্যাচালবাজ হিসেবে কিন্তু দয়া করে কেউ এই গল্পে ক্যাচাল খুজবেন না এবং করবেনও না। এটি একটি সত্য ও বাস্তব ঘটনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


