আমার প্রিয় পোস্ট

নাম যদিও ওর রূপালী, দেখতে ঠিক যেন মা-কালী

২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:০৪

শেয়ার করুন:                   Facebook

বাসায় কলিং বেল দিতেই ও এসে দরজা খুলল। ওর খোঁজ পাই আমাদের থানার টেলিফোন এক্সেঞ্জের অপারেটরের মাধ্যমে। সেই থেকে ও আমাদের বাসায় থাকত। বছর তিনেক ছিলও আমাদের সাথে। লেখা পড়া একটু আধটু জানত। বাসায় সকালে পেপার আসলে প্রথম ওই পড়ত। তবে বড় বড় অক্ষরে লেখা শুধু হেডলাইন টুকু। খালেদা জিয়া অথবা শেখ হাসিনার ছবি দেখে বুঝত তারা কিছু বলেছেন। ওর নাম রূপালী। দেখতে ঠিক যেন মা কালী। গায়ের রং কালো হওয়াতে ওকে আমি সব সময় হালকা রংয়ের ড্রেস কিনে দিতাম। এ নিয়ে ওর অভিযোগের শেষ ছিল না। ও আমার মায়ের বেশ যত্ন করত। এজন্য আমি ওর প্রতি বিশেষ নজর রাখতাম। এক রাতে আমি ওকে অন্য এক মানুষ হিসেবে আবিষ্কার করি। ওই রাতেই আমি সিদ্ধান্ত নেই রূপালী যত দিন আমাদের বাসায় থাকবে ততদিন আমি যে ড্রেস পরি সমমুল্যের ড্রেস আমি ওকেও কিনে দিব। কিন্তু ভাবাই যা। হঠাৎ হঠাৎ করে ওর প্রতি আমাদের সবার খবরদারীটা বেড়ে যেত। বুঝতে পারি, আসলে রূপালীকে আমরা কাজের বিনিময়ে ভালবাসি। যদিও অধিকাংশ সময় ভাবতাম ওতো আমার মতই একটা মানুষ, ওকে আলাদা করে দেখা ঠিক নয়। তবূও কোথায় যেন একটা গোঁজামিল দিয়ে যাচ্ছিলাম। মনে একটা ভাবা আর বাস্তবে অন্যটা করা এটিই মনে হয় আমাদের মত মধ্যবিত্ত শিক্ষিত শ্রেনীর একটা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।

সেই রূপালী ই এসেছে আমাদের বাসায় স্বামীকে নিয়ে। রূপালী পরেছে লাল চওড়া পাড়ের টাঙ্গাইলের শাড়ি- যা বিয়ের আগে আমরা দিয়েছিলাম। স্বামীর পাশে ওকে ভালই লাগছে। জানতে চাইলাম তোর স্বামীর নাম কি? রূপালি মুখ টিপে হাসে, দৌড় দিয়ে গিয়ে টেবিলের ড্রয়ার থেকে পেন্সিল আর একটুকরা কাগজ এনে লিখল সে, মুজাম্মেল। বললাম মুজাম্মেল কে? ও লজ্জায় মাথা নিচু করে হাত দিয়ে ইসারা করে দেখায়ে বলল, তার নাম।

বুঝলাম স্বামীর নাম মুখে নিতে মানা এরকম একটা নিয়ম চালু ছিল প্রায় গত দশক পর্যন্ত। আজকাল অবশ্য ওই নিময়টি কেউ আর মানে না। কিন্তু এটি বাস্তব যে কিছু দিন আগে এটিই ছিল নিয়ম। স্বামীর নাম এমন কি ভাশুরের নামের সামে মিল আছে এমন কোন শব্দই সরাসরি কেউ উচ্চারণ করত না। আমার বড় দাদার নাম চাঁন মিয়া হওয়ায় আমার দাদী কখনও চাঁদ বলত না, বলত শলক (আলো)। একবার দাদী ভোট কেন্দ্রে গিয়েছিলেন ভোট দিতে। পিজাইডিং অফিসার তার স্বামীর নাম জানতে চাইলে বলেছিলেন শহীদ জানে। শহীদ আমার বড় ভাই।

এ নিয়ে একটা গল্প শুনেছিলাম, আমার এক কলেজ ম্যাডামের কাছে। 'সন্ধ্যায় বাড়ির বউ ধর্মীয় উপাসনা শেষে কীর্তন করছে। কীর্তনে কৃষ্ঞ এবং রামের নাম নিতে হয়। বলতে হয়, হরে কৃষ্ঞ হরে কৃষ্ঞ কৃষ্ঞ কৃষ্ঞ হরে হরে, হরে হরে রাম, রাম রাম হরে হরে। ওই বউটির স্বামীর নাম ছিল রামকৃষ্ঞ দাশ। ফলে কীর্তন করতে গেলে স্বামীর নাম নিতে হয় বলে বউটি কথাগুলো পাল্টে সুর করে গাইছিল, হরে উনি, হরে উনি, উনি উনি হরে হরে তিনি তিনি তিনি হরে হরে।' এটা নিছক একটা গল্প। কিন্তু গল্প হলেও এটা ঠিক যে কুসংস্কার আমাদের এতো চেপে বসত যে ধর্মী উপাসনার কথাগুলোও পাল্টে ফেলতে বাধ্য হত। কিন্তু আজ এ যুগে রুপালীকে কে বুঝাবে এটা একটা কুসংস্কার। স্বামীর নাম মুখে নেওয়া পাপ নয়।

 

 

  • ৩৫ টি মন্তব্য
  • ৩৪২ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১৪ জনের ভাল লেগেছে, ২ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:০৮
comment by: আবু সালেহ বলেছেন:

স্বামীর নাম মুখে আনতে নাই!!!!!
তাহলে কেমনে কি হইবো??
২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৮

লেখক বলেছেন: ক্যান? শুধু ভালবাসা দিয়ে হইবো না?

২. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:১৭
comment by: মুহিব বলেছেন: আমার নানী নানার ডাক্তারের সিরিয়ালের জন্য কল করেছে। ডাক্তারের এটেনডেন্ট জিজ্ঞেস করল রোগীর নাম কি। নানী নানার হাতে ফোন দিয়ে বলল নামটা বলেন।
২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৪

লেখক বলেছেন: নানীরাতো এমই ছিলেন। আর এখন?

৩. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:২০
comment by: মিলটন বলেছেন: এ কুসংস্কারগুলো ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে আমাদের সমাজ থেকে তবে অনেক সময় প্রয়োজন। ধন্যবাদ আপনার সুন্দর লিখার জন্য।
২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৫

লেখক বলেছেন: আপনাকেও।

৪. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:২৬
comment by: অভুক্ত বলেছেন: ভাল...
৫. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৩০
comment by: দুঃখবিলাস বলেছেন: স্বামীর সাথে ভালোবাসাটা সব ধর্মের সব জাতির সব সময়েই বৈধ, নাম নেওয়াটা কেন যা পাপ টাইপ মনে করা হয় বুঝি না। তবে, আশার বিষয় ধীরে ধীরে তা কেটে উঠছে।

আপনার লেখা পছন্দ হয়েছে।
২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৯

লেখক বলেছেন: যদিও ধীরে ধীরে এমন কুসংস্কার কেটে যাচ্ছে। তবে আমার কিন্তু ভাল লাগে। অমক, তমন, উনি, তিনি, অমোকের বাপ, তমোকের বাপ।

৬. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৪৮
comment by: কৌশিক বলেছেন: অসাধারণ - ট্যালেন্টেড! চুপা রুস্তম নিকলা। লম্বি রেস কি ঘোড়া। সোজা ফেভারিটে।
২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১:০৬

লেখক বলেছেন: ওওও কপাল আমার খুলিছে।

৭. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৮
comment by: নুশেরা বলেছেন: সুন্দর লেখা।
স্বামীকে নাম ধরে ডাকলে শ্বশুর-শ্বাশুড়ি মনঃক্ষুণ্ণ হবেন ভেবে সাবধানে থাকি... শেষে দেখি আমার ননদই ওই কাজ করছে বাবামায়ের সামনে :)

আমার বাসায় ছিল মদীনা নামের একটা মেয়ে। আমি অফিস থেকে ফিরে জানালা দিয়ে দেখতাম সে আমার জামাকাপড় পরে ফ্যাশন শোর স্টাইলে হাঁটছে। তখন তাকে "সময় দিয়ে" নক করতাম। এমন না যে তাকে অনাদরে রাখতাম। খুবই আদরযত্নে রাখতাম, আমার ফ্রিজে কখনোই তালা দেয়া থাকতনা; সোফায় বসে টিভি দেখত, সবাইকে পরিচয় দিত আমার ভাগ্নি। বলত, লেখাপড়া জানিনা, এদিকে লুকিয়ে লুকিয়ে পত্রিকার সিনেমার পাতা পড়ত। সুখে থাকলে ভূতে কিলায়। কার সঙ্গে পালিয়ে যাবার পর তার বোধদয় হয়...
৮. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১:১০
comment by: ইলা বলেছেন: হুম। ওদের বেশী আদর দিলে বাসার ম্যাডাম হতে চায়।
৯. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:১৩
comment by: একরামুল হক শামীম বলেছেন: হুমমমমম
২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৬

লেখক বলেছেন: হুমমমমম কোনটা?

১০. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:২১
comment by: মীতু বলেছেন: খুব ভাল লাগল ।
২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:৪৭

লেখক বলেছেন: খুব ধন্যবাদ

১১. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:১১
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: এখনো এই রীতি অনেক পরিবারে প্রচলিত আছে। আমার পরিবারে আমার বউ বাদে আমার ছোট ভাইয়ের বউয়েরা অনায়াসে তাদের স্বামীর নাম মুখে নিচ্ছে। আমার কাছেই মাঝেমাঝে ছোট খাট অভিযোগ নিয়ে আসে তাদের স্বামীদের নামে। তবে তাদের ভাশুর অর্থাৎ আমার নাম কারো মুখে শুনিনি।
২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:০১

লেখক বলেছেন: ওনারা সবাই খুব লক্ষি মেয়ে তাইতো ভাশুরের নাম মুখে নেয় না।

১২. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:০৯
comment by: মেসবাহ য়াযাদ বলেছেন: ছোট বেলার গল্পো মনে পড়লো:

আমার ২ মামা। আমিন আর শফিক। মামাতো বোন ছোট বেলায় সুরা আলহামদুলিল্লাহ পড়ার শেষে সব সময় বলতো "...আমিন, শফিক ।"

এই নিয়ে ওস্তাদজী ওকে বেদম মারতেন। বেচারীর এক কথা, শুধু বড় চাচার নাম (আমিন)পড়বে কেন? তার বাবার নামও (শফিক) পড়বে...
১৩. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:১৩
comment by: আনিসুজ্জামান উজ্জল বলেছেন: ভালো । পেলাচ
১৪. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:২২
comment by: েজবীন বলেছেন: ভালো লেখেন আপনি..... :)

১৫. ২৩ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ৯:০৪
comment by: চিকনমিয়া বলেছেন: এতদিন পরে পুষ্ট? আফসুস
২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৩০

লেখক বলেছেন: হায় হায় আফসুস।

১৬. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:৪৬
comment by: কিংশুক০০৭ বলেছেন: আজকাল এসব কুসংস্কার অনেক বদলেছে । তবে মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেনীতে এখনও রয়ে গেছে ।

আসলে নিয়ম এবং কুসংস্কার দুটোই বদলাতে সময় লাগে । কুসংস্কার বদলাতে বড় ভূমিকা রাখে লেখক, কবি, সাহিত্যিক ও প্রচারমাধ্যমগুলো ।

ধন্যবাদ সুন্দর লেখার জন্য ।
১৭. ২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৫৩
comment by: চিকনমিয়া বলেছেন: আগের পুষ্টডি কুনাই?
২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:২৪

লেখক বলেছেন: এবারের সিডরে আমার বড় সর্বনাস হয়ে গেছে। সব ভেঙ্গেচুরে চুরে ভেঙ্গে নছতছ করে দিয়েছে । এখন আমি নিঃস্ব! এক খানা কম্বল এটাই আমার শেষ সম্বল।

২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৪:২৯

লেখক বলেছেন: চিকনা, মাইনাস দিছেন? কেন? কেন? মাইনাস দিলেন? কি অপরাধ? জবাব চাই, জবাব চাই জবাব চাাাাাাাাই।

১৮. ২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:১৮
comment by: চিকনমিয়া বলেছেন: আমি মাইনাচ দিনাইতো:(
পেলাচ দিচিলাম:)
১৯. ২৮ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:০৭
comment by: বোকামাষ্টার বলেছেন: ভালো লাগলো লেখার ষ্টাইল। ধন্যবাদ।
২০. ২৮ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:২১
comment by: প্রচেত্য বলেছেন: খুবই ভাল লেখা
২১. ৩১ শে আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১০:২৯
comment by: গানের ফেরিওয়ালা বলেছেন: Sometimes somewhere in blog is being enriched for such type of creative writtings like yours.thanks.
২২. ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:২৪
comment by: ইউনুস খান বলেছেন: খুবই সুন্দর একটা পোস্ট
২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:০১

লেখক বলেছেন: খুব সুন্দর একটা ধন্যবাদ

২৩. ২৭ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:০৮
comment by: বুলবুল আহমেদ পান্না বলেছেন: ভালো পুস্টাইছেন............

পিলাচ..........;)

 



 


পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই

সর্বমোট হিট

 ৮৬৬৩