আমার প্রিয় পোস্ট
- ত্রিশ লক্ষ শহীদ : মিথ নাকি বাস্তবতা ? - লাইটহাউজ
- কমেন্ট অব দি নাইট --- রাতের সেরা গালি - মন্তব্য
- শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালীবিদ্বেষী আবুল আলা মৌদুদী - অমি রহমান পিয়াল
- অধ্যাপক ড. নুরুল উল্লাহর সাক্ষাতকার - অমি রহমান পিয়াল
- ডক্টর মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেইন : যার কাছে বাঙালীর অসীম কৃতজ্ঞতা - অমি রহমান পিয়াল
- বদরুদ্দীন উমরের একটি লেখা - ছু-মন্তর
- একুশে বই মেলা ২০০৯: যেসব ব্লগার লেখকদের বই বেরুচ্ছে, তাদের তালিকা.. - মেঘবাজি
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই-১: একটা কমিশন গঠনের কাহিনী - শওকত হোসেন মাসুম
- মুক্তিযুদ্ধের কথ্য ইতিহাস তুলে আনতে চাই ব্লগে। সবাই লিখুন, আসুন ব্লগকে কাজে লাগাই ভিন্ন মাত্রায় - শওকত হোসেন মাসুম
- ছাগুরামকাব্য 08ঃ শাকাহারী জমায়েৎ - মুখফোড়
- আজ ১৯শে মে। ১৯৬১ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার জন্য শহীদ হয়েছিলেন ১১ জন ভাষাবিপ্লবী। - কুঙ্গ থাঙ
- ব্লগীয় ছড়া (অনেক ডিস্টার্বিং এলিমেন্টস আছে, নিজ দায়িত্বে পড়িবেন) - ঝরা পাতা
- অধিকার বিষয়ে ব্লগের বুদ্ধিজীবীরা কী বলেন? - ব্রাত্য রাইসু
- পলিটিক্যাল ইসলাম কয় কারে? - সাধক শঙ্কু
- নেটজগত থেকে জামায়াতমনস্কতা বিতাড়ন কতটা জরুরি? - মনসুর হিল্লাজ
- যুদ্ধাপরাধীদের সাথে সাথে রাজনীতিতে ধর্ম ব্যবসা বন্ধ হলে অসুবিধা কী? - মনসুর হিল্লাজ
- মুক্তিযুদ্ধের অবদান কী কেবলই বাংলার মাটিতে নাইট্রোজেন দান? ধূলার পাহাড়ে আরো কিছু অশ্রুপাত - ফারুক ওয়াসিফ
- নিরপেক্ষ বিজ্ঞানভিত্তিক প্রজন্ম (গালাগালিমুক্ত!!!!!!!!!!!) - সাধক শঙ্কু
- পুরোনো খাম্বা নতুন করে..... - রিকো
- লাল গাড়ি আর লাল বালিকার গল্প - নিধিরাম সর্দার
- হামপটি ডামপটি স্যাট অন এ ওয়াল এন্ড হামপটি ডামপিট হ্যাড এ গ্রেট ফল - নিধিরাম সর্দার
- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জটিল প্রশ্ন: উত্তরটা আমি দিতে চাই - শওকত হোসেন মাসুম
- বোলোগের এ-টিম - শমশেরআলম
- একটি মৃত্যু আর আমার যত আক্ষেপ - ডাক্তার আইজউদ্দিন
- মতাদর্শিক আধিপত্য এবং ইন্টেলেক্চুয়াল মকারি - সুমন চৌধুরী
কর্তৃত্বপরায়ণ মনোবৃত্তি নিয়ে মানুষের মুখ বন্ধ করা যাবে না । শেষ পর্যন্ত মানুষ তার বলাটা বলবেই ।

গণহত্যার ছবি : নূরুল উলা
৩১ শে অক্টোবর, ২০০৭ ভোর ৪:৫৩
গতকাল অমি রহমান পিয়াল যে ভিডিওটি পোস্ট করেছে ঢাবি ক্যাম্পাসে গণহত্যা বিষয়ে সেটা রেকর্ড করেছিলেন প্রফেসর ড. নূরুল উলা । তাঁর জীবদ্দশায় ভিডিওটির বর্ননা লিখে গেছেন তিনি ।শ্রদ্ধেয় এম এম আর জালাল
সে লেখাটি সচলায়তনে তুলে দিয়েছেন । লেখাটির ইউনিকোডিত ভার্সন সামহয়ারইনের পাঠকদের সাথে শেয়ার করা হলো ।
গণহত্যার ছবি : নূরুল উলা
একাত্তরের পঁচিশে মার্চ রাতে একটু তাড়াতাড়ি ঘুমাতে গিয়েছিলাম । সেদিন খবরের কাগজে পড়েছিলাম বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ইয়াহিয়া খানের সমঝোতা আসন্ন । তাই সবাই একটু নিশ্চিন্ত ছিলাম । মাঝরাতে প্রচন্ড এক বিস্ফোরণে ঘুম ভেঙ্গে গেল।
একটু বিরতির পরই শুরু হলো অবিরাম গোলাগুলি আর মর্টারের আওয়াজ । আমরা সবাই শোবার ঘর আর বাথরুমের মাঝামাঝি প্যাসেজে আশ্রয় নিলাম ছিটকে-আসা কোনো বুলেট থেকে রক্ষা পাবার আশায় । একটু পরে কৌতূহল সংবরণ করতে না পেরে হামাগুড়ি দিয়ে জানালার কাছে গিয়ে বাইরে কি হচ্ছে তার একটা আভাস নেবার চেষ্টা করলাম ।
আমি তখন থাকতাম ফুলার রোডে পুরাতন এ্যাসেম্বলি হলের উল্টোদিকে, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের তৈরী চারতলার ফ্লাটে । আমার জানালা থেকে জগন্নাথ হল ছাত্রাবাস আর তার বিরাট মাঠ সরাসরি চোখে পড়ে । সে রাত ছিলো নিশ্ছিদ্র অন্ধকার, কিন্তু তার মাঝেও বুঝলাম জগন্নাথ হল ছাত্রাবাস আর তার চারপাশের রাস্তাগুলো মিলিটারি ছেয়ে গেছে । কিছু পরে দেখলাম হলের কতকগুলো ঘরে আগুন ধরে গেল । সেই আলোয় আবার দেখলাম কিছুসংখ্যক সৈন্য টর্চ হাতে প্রতিটি ঘরে তল্লাশি চালাচ্ছে । বেশিক্ষণ তাকাবার ভরসা পেলাম না । করিডোরে ফিরে এসে গোলাগুলির শব্দের মধ্যেই জেগে সারারাত কাটিয়ে দিলাম ।
ভোর হতেই আবার উঁকি মেরে দেখলাম – - কোথাও কাউকে চোখে পড়লো না”; কেবল রাস্তায় পড়ে আছে অনেক ইটের টুকরো আর মাঠের ওপর বিছানো দুটো বড় বড় সাদা চাদর । কিছুটা আশ্বস্ত হলাম এই ভেবে যে তেমন বেশি খুন-জখম হয়তো হয়নি ।
কিন্তু এরপরই যে দৃশ্যের অবতারনা হলো - কোনদিন কল্পনা করিনি সে দৃশ্য আমাকে জীবনে কখনো দেখতে হবে; আর কামনা করি, এ-রকম ভয়াবহ ঘটনা যেন কাউকে স্বচক্ষে দেখতে না হয় ।
তখন বেশ সকাল হয়ে গেছে । মাঠের পশ্চিমদিকে অর্থাৎ যেদিকে জগন্নাথ হলের প্রধান ছাত্রাবাস, সেদিক থেকে হঠাৎ আবির্ভূত হলো জনাবিশেক পাকিস্তানী সৈন্য, সঙ্গে দু'জন আহত ছাত্র । ছেলে দুটোকে সৈন্যরা বেশ যত্ন করেই কাঁধে ভর দিয়ে এনে চাদর দুটোর পাশে বসাল –-মনে হলো হাসপাতালে নিয়ে যাবে । একটু পরই চাদর দুটো টেনে সরিয়ে ফেলল – দেখলাম চাদর দিয়ে ঢাকা ছিলো বেশ কয়েকটি মৃতদেহ ।
আহত ছেলে দুটো বসেছিলো পূর্ব দিকে মুখ করে, লাশগুলো তাদের পেছনে । দুজন সৈন্য আরেকটু পূর্বে সরে গিয়ে তাদের মুখোমুখি দাড়িয়ে তাদের দিকে উচিয়ে ধরলো হাতের রাইফেল – কয়েক মুহূর্তের জন্য দেখলাম ছেলে দুটো হাত বাড়িয়ে কাকুতি-মিনতি করছে । তার পরই চললো গুলি ।
কোন সৈন্য দুটো কিংবা তিনটার বেশী গুলি খরচ করেনি । শেষের গুলিটা করলো শুয়ে-থাকা লাশের ওপর মৃত্যু সুনিশ্চিত করার জন্য । ওদের হাতে যে আগ্নেয়াস্ত্র ছিলো সেটা মাঝারি ধরনের আর তা থেকে যে গুলি বেরিয়েছে তার শব্দ তেমন প্রচন্ড নয় ।
ওদের হাতে যে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল সেটা মাঝারি ধরনের আর তা থেকে যে গুলি বেরিয়েছে তার শব্দ তেমন প্রচন্ড নয় ।
জীবনে এই প্রথম স্বচক্ষে মানুষ মারা দেখলাম, আর সেটাও আহত লোককে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে । মানসিক শক পূর্নভাবে উপলদ্ধি করার আগেই নিজের নিরাপত্তার কথা ভাবতে হলো - কারন তখন রাস্তা দিয়ে সামরিক গাড়ী মাইকে কারফিউ-এর ঘোষণা প্রচার করতে করতে গেল আর সেই সঙ্গে জানিয়েও গেল কেউ যেন জানালা দিয়ে বাইরে না তাকায় । কিন্তু তাকানো বন্ধ করলাম না, কারন আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো যে, যদি জানালার কাচ বন্ধ রাখি আর ঘরে কোন আলো জ্বালানো না থাকে তাহলে বাইরে থেকে কিছু দেখা যাবে না । কেবল আশা করছিলাম সবচাইতে খারাপ যা হবার তা হয়ে গেছে, আর কিছু ঘটবে না, আর কিছু দেখতে হবে না । তখনও জানতাম না এ কেবল আরম্ভ ।
অল্পক্ষণ পরে, কিছু সৈন্য আরো কয়েকজন আহত লোক নিয়ে এলো, এবারও পশ্চিম দিকের ছাত্রাবাস থেকে । তাদের ঠিক আগের মতন অর্থাৎ লোকগুলোর কাছে নিয়ে এসে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরল । তারপর শুরু হলো গুলি, অনেকটা এলোপাথাড়ি । কেউ বসে ছিল, কেউ দাঁড়িয়ে, তাদের ওপর সামনে, বেশ কাছাকাছি থেকে গুলি চালাচ্ছে । আর পেছন থেকে উঠছে ধূলি । বুঝলাম কিছু গুলি দেহ ভেদ করে মাটিতে ঠেকছে । মাঠের ওপর পড়ে থাকা লোকের সংখ্যা বাড়তে থাকল ।
পরবর্তীকালে বিদেশী টেশিভিশনের সাংবাদিকরা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, সেই সময় আমার মানসিক অবস্থা কেমন ছিল, আর কি করে আমার মাথায় এই হত্যাকান্ডের ছবি তোলার চিন্তা মাথায় এল । আসলে ছবি তোলার আইডিয়া আমার নয় । পর পর দু”বার এভাবে আহত আর নিরস্ত্র মানুষদের ঠান্ডা মাথায় খুন করা দেখে বুঝলাম আরো খুন হবে, আজ একটা সামগ্রিক গণহত্যা হবে । তখন বোকার মত বলে উঠলাম-আমাদের হাতেও যদি অস্ত্র থাকতো । তখন পাশ থেকে আমার চাচাতো ভাই নসীম বলে উঠলো - ভাইজান, ছবি তোলেন ।
তখন মনে পড়লো আমার বাসায় ভিডিও ক্যামেরাসহ এইটা ভিসিআর আছে । জাপানে তৈরী প্রাথমিক যুগের এই পোর্টেবল ভিসিআর ছিল বেশ ভারি আর আমার জানামতে দেশে প্রথম । যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ক্যামেরা সেট করে একটা কালো কাগজ ফুটো করে ক্যামেরার লেন্সটা তার মাঝে গলিয়ে দিয়ে জানালার কাচের ওপর রাখলাম । ঠিক যতটুকু ক্যামেরার লেন্স, বাদবাকী পর্দা দিয়ে ঢাকা থাকল আর জানালা সামান্য ফাঁক করে সরু মাইক্রোফোনটা একটু বের করে রাখলাম । ইতোমধ্যে আরো-দুটো ব্যাচকে ধরে এনে হত্যা করা হয়েছে । ছবির রেকর্ডিং-এ ধরা পড়েছে বাদবাকী তিনটি গণহত্যা । এর মধ্য সবচাইতে ভয়াবহ ছিল শেষেরটি ।
তখন বন্দী আনা শুরু হয়েছে মাঠের পূর্বদিক থেকে । যাদের নিয়ে আসা হচ্ছে তাদের পরনে লুংগী, গেঞ্জি অথবা খালি গা । বুঝলাম সব ঘুমন্ত অবস্থায় ধরা পড়েছে । আগের লাশগুলোর কাছে নিয়ে এসে ওদের ওপর গুলি করা হচ্ছে ।
এরপর মাঠ হঠাৎ করে ফাঁকা হয়ে গেল । ইতোমধ্যে মাঠে বেশ কিছু লাশ জমে উঠেছে । ভাবলাম এবার বুঝি এই হত্যাযজ্ঞের শেষ । কিন্তু না, একটু পরে দেখলাম প্রায় জনা চল্লিশেক অস্ত্রধারী সৈন্য মাঠের উত্তরদিকে লাইন করে দাঁড়াল । এরা ছিলো লম্বা আর ফরসা, মনে হলো পাঞ্জাবী সৈন্য । এরা কিন্তু কখনই প্রত্যক্ষভাবে হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণ করেনি । যারা গুলি চালিয়েছিলো তারা ছিল অপেক্ষাকৃত বেঁটে আর কালো । এবার এমনি ধরনের জনা-দশেক সৈন্য মাঠের পূর্বদিক থেকে আবির্ভূত হল, সঙ্গে প্রায় পঁচিশ-ছাব্বিশজন মানুষ । ভাবলাম বোধ হয় লাশ সরাবার জন্য এনেছে ।
কিন্তু মানুষগুলো পড়ে থাকা লাশগুলোর কাছে আসার সাথে সাথে ওদের সঙ্গের সৈন্যরা আবার একটু পূর্বদিকে সরে গিয়ে রাইফেল তাক করল । কিছুক্ষণের জন্য চারদিক স্তব্ধ । এর মধ্যে দেখলাম একজন লোক, মুখে তার দাড়ি, হাঁটু গেড়ে বসে করজোরে প্রাণভিক্ষা চাইছে । তারপরই শুরু হলো গুলি । গুলির পর গুলির বর্ষণ হচ্ছে আর মানুষগুলো মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে আর তাদের দেহ-ভেদ-করা গুলির আঘাতে মাঠ থেকে উঠছে ধূলা ।
গুলি যখন থামলো দেখলাম একমাত্র দাড়িওলা লোকটা তখনো বেঁচে আছে । মনে হলো ওর দিকে সরাসরি কেউ গুলা চালায়নি । লোকটা আবার হাতজোড় করে প্রাণভিক্ষা চাইতে শুরু করল । একজন সৈন্য তার বুকে লাথি মেরে তাকে মাটিতে শুইয়ে দেবার চেষ্টা করল । কিন্তু লোকটা তবু হাঁটু গেড়ে রইল । তখন তার ওপর চালালো গুলি । তার মৃতদেহ আর সবার সাথে একাকার হয়ে গেল ।
মাঠের উত্তরদিকে যে সৈন্যরা এতক্ষণ লাইন দিয়ে দাঁড়িয়েছিল তারা এখন সংঘবদ্ধভাবে চলে গেল । আর হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণকারী সৈন্যদের কেউ কেউ পড়ে থাকা দেহগুলোর চারপাশে ঘুরে ঘুরে মনোযোগের সঙ্গে দেখল আর মাঝে মাঝে শেষবারের মতো গুলি করল মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ।
কিছুক্ষণ পর সব সৈন্য চলে গেল । চারদিক নিস্তব্ধ আর ফাঁকা, কেবল জগন্নাথ হলের মাঠের ওপর পগে আছে অসংখ্য লাশ । দেখলাম রাস্তার ওপর দিয়ে একটা ভ্যান চলে গেল, তার ওপরে একটা গোল এন্টেনা ঘুরছে । বুঝলাম মাইক্রোওয়েভ ডিটেক্টর, কেউ কোন কিছু ব্রডকাস্ট করছে কিনা ধরার জন্য । আমি জানি আমার ভিডিও ক্যামেরা থেকে সামান্য কিছু তরঙ্গ ছড়াতে পারে, তাই তাড়াতাড়ি সেটা অফ করলাম ।
ভিডিও টেপ রিওয়াইন্ড করে চেক করে যখন দেখলাম সব ছবি ঠিকমতো উঠেছে তখন সেটা খুলে ভিতর থেকে যন্ত্রাংশ সরিয়ে নিয়ে সেটাকে অকেজো করে দিলাম । বেলা তখন দশটার বেশী হবে না । যেকোনো সময় আমাদের ওপর হামলা হতে পারে আশঙ্কায় ওখানে বেশিক্ষণ থাকা সমীচীন মনে করলাম না । কারফিউ সত্ত্বেও আমরা আত্মীয়-স্বজন ও পরিবার নিয়ে এলাম পুরনো ঢাকায় । আসার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে অর্থাৎ বেলা একটার দিকে একটা বুলডজার দিয়ে মাটি খুড়তে দেখেছি । কিন্তু তারপর সেখানে কি হয়েছে বলতে পারব না । অনুমান করি, লাশগুলো পুঁতে ফেলার উদ্দেশ্যেই মাটি খোঁড়া হচ্ছে । স্বাধীনতা লাভের পর জেনেছি, আমার অনুমান ছিলো সত্যি ।
লেখক: প্রফেসর ড. নূরুল উলা, ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং, বাদশাহ সউদ ইউনিভার্সিটি, সৌদি আরব ।
কৃতজ্ঞতা: এমএমআর জালাল
বিষয়বস্তুর স্বত্ত্বাধীকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
রাশেদ বলেছেন:
শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। ভার্সিটি পড়ার সময়ে এক মারামারির পরে ওনার কথা শুনেছিলাম এক সাবেক ভিপির মুখে। শ্রদ্ধা রইল তাঁর প্রতি। পড়ে খুব খারাপ লেগেছিল, নীরিহ ছেলেগুলো কিভাবে মারা গেলো।
রাশেদ বলেছেন:
পিডিএফ লিঙ্কটা কি দিয়ে দিবেন?
মানবী বলেছেন:
সাক্ষাৎকারটি খুব সম্ভবত বিশিষ্ট লেখক ডঃ মোহাম্মদ হাননান গ্রহন করেছিলেন।আবারো ধন্যবাদ।
হাসিব বলেছেন:
মূল প্রবন্ধে উনি যেভাবে নিজের নাম লিখেছেন নামটি সেভাবেই রাখা হয়েছে । ফুটনোটে শুধু আমি ড. এবং প্রফেসর শব্দদুটি ব্যবহার করেছি ।
মানবী বলেছেন:
ডঃ নুরুল উলা এক জন প্রচার বিমুখ মানুষ ছিলেন। তিনি খুব বেশি সক্ষাৎকার দেননি। শুধু এই গনহত্যার ছবি তোলা নয়, শেখ মুজিবের ৭ ই মার্চের ভাষনের জন্য বুয়েটের পরিত্যক্ত ট্রান্সফরমাটি আরো কয়েকজন সহ তিনি মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করেন।
হাসিব বলেছেন:
ড: নূরুল উলা সম্পর্কে আরো কিছু জানা থাকলে সেটা দয়া করে শেয়ার করুন ।
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
ধন্যবাদ হাসিব ভাই ।
মানবী বলেছেন:
আমাদের জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের সাথে তিনি কাজ করেন। ভবনটির ইলেকট্রিকাল ডিজাইনিং এর সাথে তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন।পোস্ট পড়ে ভালো লাগার সাথে সাথে মন খারাপ হয়ে আছে। বিস্তারিত অন্য সময় লিখবো।
প্রিয় পোস্টে যোগ করেছি।
মানবী বলেছেন:
এমএম আর জালাল সাহেব যদি লেখাটির মূল সুত্র জানাতে পারেন, খুব ভালো হয়।
বিবণ বলেছেন:
ধন্যবাদ।
রাহা বলেছেন:
ছবিটি ইউটিউবে আপলোড করা আছে ।
মানবী বলেছেন:
রাহা, সম্ভব হলে ইউটিউবের লিংকটি এখানে শেয়ার করলে ভালো হয়।
লাল দরজা বলেছেন:
এই লেখাটি যত ভাবে পারা যায় বাংলাদেশের আধুনিক সেই সব তরুনদের পড়ানো দরকার, যারা ১৯৭১ সালের কথা শুনলে কপাল কুচকে বলে, হইছে হইছে পুরান কথা পেছনের কথা। যারা আজ বড়ো বেশী ভবিষ্যত মুখী হয়েছেন। এ কথাটি বলবার পেছনে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে যা এখানে এই মন্তব্যের খাতায় অবতারনা করতে চাচ্ছিনা। এ মুহুর্তে আমি আর কিছু লিখতে পারছিনা, শুধু অবাক হয়ে ভাবছি এই বাংলাদেশে কি করে স্বাধীনতার শত্রুরা আজ এ পর্য্যন্ত পৌছালো! কি করে এরা আজ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এমন আঙ্গুল তুলে কথা বলে?! আমি চিন্তা ভাবনার দিক দিয়ে কখনোই বিদ্ধেষি(যানি না এটা কি বানান লিখলাম) বা রূঢ়হ নই তবু এখন বলতে বাধ্য হচ্ছি বাংলাদেশে এমন একটা আইন করা উচিত আজ থেকে যাতে থাকবে, যে ব্যাক্তি ১৯৭১ তথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা তথা মুক্তিকামী বাংলাদেশের মানুষকে নিয়ে জ্ঞ্যাতে বা অজ্ঞ্যাতে বুঝে বা না বুঝে একটি কটু বাক্য উচ্চারন করে বা করার অভিপ্রায় রাখে সে বা তাদের কে জাহাজে করে বাংলাদেশের বাইরে বঙ্গোপ সাগরে সোজা ফেলে দেয়ার বিধান।
এমন একটি শাস্তি দেয়ার জন্য প্রথমেই জামায়াতের ঐ বেয়াদব গুলিকে প্রথমে ধরা হঊক, যারা আজ বাংলাদেশের জন্মনিয়ে কথা তোলার ধৃষ্টতা দেখিয়েছে।
লাল দরজা বলেছেন:
মানবী, ইউটিউবের লিংন্কএন বি সি সংবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ মার্চের নারকীয় হত্যাকান্ডে'র ভিডিও।
এস্কিমো বলেছেন:
ধন্যবাদ হাসিব!
মানবী বলেছেন:
লিংকের জন্য অনেক ধন্যবাদ লাল দরজা।
আমার মনে হচ্ছে বুয়েটের ইলেকট্রিকেল ডে তে তিনি তার মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেছিলেন।
পথহারা বলেছেন:
হ!!!!! স্যার এর কাহিনীটা পৈরা নিচের ভিডিওটা দেখি..............
http://www.youtube.com/watch?v=B7ykDzOF-EE
কে কেমন.....
ডাক্তাড়' বলেছেন:
হাসিব পারলে পথহারার মত জারজ গুলানরে ব্যান করে রাখবেন। এদের নিজেদের জন্মের ঠিক নাই আওয়ামী লীগ জামাতের মারামারির সাথে দেশের স্বাধিনতা শহীদদের তুলনা করে
পথহারা বলেছেন:
ডাক্তাড়'কেনো.....? একটা অন্যায় কাজের প্রতিশোধ অরেকটা অন্যায় কাজের মাধ্যমে নেয়া ..কতটা যুক্তিযুক্ত.......? পুড়ান লোমখাড়া কড়া ইতিহাস গুলি বারংবার রিপিট করে ফলাফল কি হয়.......? ২৮ অক্টোবর বৈ কিছুই না.........অথচ ২৮ অক্টোবর আমরা স্বীকার করতে চাইনা........নিজেদের অবচেতন কাজ করমে আমরা আমদের পশুত্ব স্বভাব কে জাগিয়ে তুলি..কিন্তু পরিণতি দেখলে...মুখ লুকাই..............
অলৌকিক হাসান বলেছেন:
পথহারা @ এইডি তুমি কি কও। ২৮ অক্টোবর তুমার আমার মতো কেউই কিন্তু চায় নাই। ওই রাজনৈতিক দলাদলির লগে তুমি স্বাধীনতার শহিদগো তুলনা করলা? তুমার কি মাথার ঠিক আছে? তুমার মতোন শিক্ষিত পুলা এমন নোংরা প্যাচ খেলব কেন?আমি বুঝতে পারতাচি তুমি আম্লিক শুচিবাই। জাস্ট খালি ওইটার থেকে বাইরাও। দেখে সব ফকফকা। মুক্তিযুদ্ধ আম্লিকের না, জনগণের।
মানবী বলেছেন:
উম্মু আবদুল্লাহ, জ্বি ড: নুরুল উলা বুয়েটে ছিলেন।তিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি। তাঁর মতো যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের সময় বড় বড় অবদান রেখেছেন, তাঁরা অনেকেই তাই। আমাদের দেশের জন্মের, অস্তিত্বের ইতিহাসের সাথে বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর সাম্প্রতিক নোংরা ও বর্বর কর্মকান্ডের তুলনা অত্যন্ত অপ্রাসঙ্গিক এবং দৃষ্টিকটু মনে হলো।
গনডার বলেছেন:
*****
মানবী বলেছেন:
চারণ কবি, "মন-ব্যের" শব্দের অর্থ কি?আমার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আপনার মন্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা বুঝতে পারছিনা, দুঃখিত। আমার লেখায় কি এমন কিছু আছে যা পড়ে আপনার মনে এধরনের প্রশ্ন জেগেছে? বিস্তারিত জানালে ভালো হয়।
হাসিব বলেছেন:
রাজাকারি মন্তব্যের জন্য পথহারাকে ব্যান করা হলো
বিহংগ বলেছেন:
শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
ইরতেজা বলেছেন:
ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করতে চাই না হাসিব ভাই।
মানবী বলেছেন:
ধন্যবাদ চারণ কবি। জননী তো জননীই, শহীদ জননী অথবা রাজাকার জননী, সন্তান হারানোর কষ্ট সবার জন্যই হয়তো সমান। তবে, জননীর প্রতি সব সন্তানের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা সমান নয়। দেশ তো জননীই, দেশের জন্য আমাদের মতো সাধারন মানুষেরা তীব্র ভালোবাসা থেকেই এমন অনুভব করেন, শুধুমাত্র কুলাঙ্গার সন্তানরা ছাড়া!
স্বাধীন বাংলা বলেছেন:
৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫
আবারো ধন্যবাদ
রাশেদ বলেছেন:
এই রকম একটা পোস্ট এতো কম মানুষ পড়লো!
তানভীর বলেছেন:
হাসিব, অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। প্রিয় পোস্টে যোগ করলাম।
ব্রেইনিয়াক বলেছেন:
৫
প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব বলেছেন:
৫ +প্রিয়তে
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















যদি কিছু মনে না করেন, ওনার নামের সামনে অধ্যাপক অথবা ডঃ সম্বোধনটি ব্যবহার করার অনুরোধ রইলো।
সম্ভব হলে রেটিং ৫ বিলিয়ন দিতাম।