২০০৪ সালে যখন দেশে ফিরে আসব বলে সিদ্ধান্ত নিলাম, তখনই অনেকে ক্ষেপেছিলো। দেশে আসার পর অনেকের অনেক টিপ্পনী শুনতে হয়েছে। সর্বশেষ যখন গত আগষ্টে রেসিডেন্সি ধরে রাখার শেষ ব্যবস্থাটাও ছেড়ে দিলাম, তখন মনে হয় সবাই একেবারে হায় হায় করে উঠল।
আজকে দিনে দুজনের কথা শুনলাম, যারা অস্ট্রেলিয়ায় মাইগ্রেট করতে চায়। তাদের মধ্যে একজনতো কথা প্রসংগে আরেকবার আমার অবিবেচনা প্রসূত কাজের জন্য আরেক দফা গালাগাল করে নিল।
কখনো কখনো নিজেও হাফিঁয়ে উঠি। এত টেনসন, ঝামেলা, যন্ত্রনা, অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা, অভাব আর ভালো লাগে না। নিরব দুভিক্ষ হয়ে কত শত লোক মারা যাবে নিয়ে প্রতিদিন আলোচনা শুনি, গ্যাসের অভাবে সব শিল্প টিল্প বন্ধ হয়ে যাবে, আগামী বছর সব দুনীর্তিবাজ আর সন্ত্রাসীরা এক সংগে বেড়িয়ে সব সুদে আসলে উসুল করে নিবে, এখনো নাকি দুনীর্তি মূলত কমেনি, বরং সামগ্রিক ভাবে বেডেছে। সবকিছুর দাম নাকি সব দিনই বাডছে, আরো কত কি...
এবার ক্ষুদ্র পর্যায়ের কথা বলি। সিড়নীতে থাকলে এতদিনো আমার পাসপোর্ট হয়ে যেতো। একটি ফ্ল্যাট ও গাড়ীর মালিকও মনে হয় হয়ে যেতাম।
তারপরও সবশেষে আমার আসলেই মনে হয় দেশে থাকাই আমার জন্য সবচেযে ভালো। আমার ছেলে কোন দেশের সেকেন্ড জেনারেশন হয়ে বড হোক তা আমার কোন মতেই কাম্য না। নিজের দেশে আত্বীয়স্বজনের মাঝে বড হয়ে, সংস্কৃতি শিখে যদি একজন আদর্শ মানুষ হতে পারে, তবেই আমি সুখী হবো। বলছিনাযে দেশের বাইরে থেকে আদর্শ মানুষ হওয়া যেত না, বা দেশে থাকলেই হতে পারবে। তবু এই সমাজ দেশের মাঝে বড় হোক, একে ভালো করে চিনুক জানুক, এদেরই কেউ হোক এটাই সবসময় দেয়া করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



