আমার স্কুলের সময়টা ছিল ইন্টারেস্টিং। খুব একটা মিশুক আমি কখনো ছিলাম না। অল্প কিছু সংখ্যক বন্ধু ছিল আমার। আর জানের দোস্ত ছিল খুবই হাতেগোনা। মোটামুটি মানের ছাত্র ছিলাম, তবে সে কারনে গর্ব ছিল অনেক বেশী। সুযোগ পেলেই কাউকে আমি কত ঘন্টা পড়াশুনা করতাম এইসব শুনিয়ে গর্ব করতাম।
একটি মেয়েকে আমার পছন্দ ছিল একেবারে ছোটবেলা থেকে। তার সংগে কথা বলতে, একটু চোখাচেখি করতে অনেক কিছুই করেছি। তাকে নিয়ে কত কবিতা কত গান লিখেছি - এখনো কয়েকটি মনে আছে।
আমার বন্ধু সহপাঠি সবাই জানত সেই মেয়েটির কথা। তাই অনেক মেয়েকে নিয়ে অনেকে অনেক স্বপ্ন দেখলেও, সেই মেয়েটির ব্যাপারে সবাই যেন আমার অধিকার মেনে নিয়েছিল। তবে ক্লাস ৯ বা ১০ এর সময় এক ছেলে (তার নাম ফকরুল, আমরা ডাকতাম ফকা বলে) আমার মুখোমুখি হলো এ ব্যাপারে।
আমার সেই স্কুলের বন্ধুদের অনেকের সাথে প্রায় ১৪ বছর পর এক সাথে দেখা হলো কয়েকদিন আগে। তারা বেশ ঘটা করে পুনর্মিলনী করল চট্রগ্রামের পারকী বিচে। ব্যবসায়ীক বেশ কিছু কম্প্রোমাইজ করেও আমি ছুটে গেলাম বউ বাচ্চা নিয়ে।
যাত্রা হলো শুরু...
পথে যেতে যেতে...
সে এক অসাধারন অনুভুতি। প্রায় ৪০ জন জড়ো হয়েছিল। একজন একজন করে দেখা হচ্ছে আর আমরা গালি দিয়ে বলে উঠছি, দোস্ত তোর নাম ভুলে গেছি। সে তার নাম বলে পাল্টা আমার নামও জানতে চাচ্ছে। সবারই সবাইকে মনে আছে, কিন্তু কারোরই কারোর নাম মনে নাই। কেমন যেন একটা অনুভুতি হচ্ছিল, বলে প্রকাশ করা যাবে না।
বন্ধু আরিফের সাথে
ভাবীর দল
কত কিছু পাল্টে গেছে ১৪ বছরে, কারো পেটে চর্বি জমেছে, কেউ ১-২ বাচ্চার বাপ হয়েছে, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ বড় মাল্টি ন্যাশনালে বড় পজিশনে আছে, আবার কেউবা হয়তো কোন মেয়ের কাছে সবকিছু হারিয়েছে: ক্যারিয়ার, মানসিক সুস্থতা সব... ঠিক যেন কফি হাউজের গল্পের মতো...
পারকী বিচে আমরা অনেক অনেক মজা করলাম। ফুটবল খেললাম, ক্রিকেট খেললাম, পানিতে চুবলাম, অনেক গল্প, অনেক আড্ডা, অনেক অনেক কিছু...
সবচেয়ে বেশী যেটা করলাম সেটা হলো স্মৃতি রোমন্থন। কতকিছু যে মনে পড়ছিল...
মুকুলকে অনেক ধন্যবাদ, অন্যতম উদ্যোক্তা হবার জন্য...
ফেরার পথে বাসে অনেকে গান গাইল। আমি গাইলাম...
নিখিলেশ প্যারিসে, মহিদুল ঢাকাতে, নেই তারা আজ কোন খবরে
গ্রান্ড এর গিটারিষ্ট ...
ঘুমিয়ে আছে যে আজ কবরে
কাকে যেন ভালবেসে আঘাত পেয়েযে শেষে
পাগলা গারদে আছে রমা রয়
অমলটা ধুকছে দুরন্ত ক্যান্সারে
জীবন করেনি তাকে ক্ষমা।
চোখ ভিজে আসছিল আমার। ভাগ্যিস সন্ধ্যার অন্ধকার ছিল... পরের সকালে আমার পরিবার সহ বান্দরবনে যাবার পরিকল্পনা। ২ দিনের জন্য। সেখান থেকে সোজা আবার ঢাকায়। আবার কবে হবে দেখা...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

