গতকাল শনিবার থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ। শুধু লঞ্চ মালিক, বিআইডবিস্নউটিএ’র কর্মকর্তা ও সরকারি কিছু কর্মকর্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে দিবসটির তাৎপর্য। নৌপথ সুরক্ষায় গত কয়েক দশকে কোন কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। নদী বেষ্টিত দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষ মূলত লঞ্চ মালিকদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে। এ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য এ অঞ্চলের যাত্রীরা দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
বিগত জোট সরকারের মতো পুনরায় এ সরকারের আমলে ঢাকা-বরিশাল রুটে রোটেশন পদ্ধতিতে লঞ্চ চলাচল শুরূ হয়েছে। জোট সরকারের আমলে তৎকালীন লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের হস্তক্ষেপে এ রুটে রোটেশন পদ্ধতিতে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়। ঢাকা ও বরিশাল উভয় প্রান্ত থেকে বিআইডাব্লিউটিএ’র রুট পারমিট অনুযায়ী প্রতিদিন ৬টি করে লঞ্চ ছাড়ার কথা থাকলেও যাত্রীদের জিম্মি করে উভয় প্রান্ত থেকে ৩টি করে লঞ্চ পরিচালনা করা হয়। জোট সরকারের আমলে আন্দোলন সংগ্রাম করলেও সরকার কোন পদক্ষেপ নেয়নি। বরং যাত্রীদের জিম্মি করে লঞ্চ মালিকরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যৌথ বাহিনী ও রাব লঞ্চ মালিকদের নিয়ে বৈঠক করে। ঐ বৈঠকে যাত্রীদের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি দিতে বলা হয়। লঞ্চ মালিকরা লোকসানের অজুহাত তুলে তখন উভয় প্রান্ত থেকে ৪টি করে লঞ্চ পরিচালনায় সম্মত হয়; কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিদায় নেয়ার পর লঞ্চ মালিকরা পুরনো রোটেশন প্রথায় ফিরে যায়। এখন পুনরায় উভয় প্রান্ত থেকে ৩টি করে লঞ্চ পরিচালনা করা হচ্ছে।
রোটেশন অনুযায়ী গতকাল ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় সুন্দরবন-৮, পারাবত ও দ্বীপরাজ। বরিশাল থেকে আসে কীর্তনখোলা, সুরভী ও পারাবত। গতকাল সপ্তাহ শুরূতে ভিড় ছিল লঞ্চগুলোতে। ২/৩ দিন আগেই এসব লঞ্চের কেবিনের টিকেট শেষ হয়ে যায়। গতকাল ঢাকাগামী লঞ্চগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। যাত্রী ভোগান্তির পাশাপাশি দক্ষ মাস্টার, সুকানী ও ড্রাইভার ছাড়াই ঝুঁকি নিয়ে এ অঞ্চলের নৌপথে দীর্ঘদিন লঞ্চ চলাচল করছে।
এত সংকটের মাঝেই নিরাপত্তা নৌ সপ্তাহ দেশব্যাপী গতকাল শুরু হয়েছে। এখানকার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশ কমিশনার, বিশেষ অতিথি কয়েকজন লঞ্চ মালিক এবং সভাপতিত্ব করেন বিআইডাব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম। যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তেমন কোন আলোচনা হয়নি বললেই চলে। শুধুমাত্র লঞ্চ মালিক ও শ্রমিকদের দাবির মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল অনুষ্ঠানমালা।
দৈনিক ইত্তেফাকের সৌজন্যে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



