ঢাকাতে থাকি ব্যাচেলর। প্রতিদিন হোটেলেই খাই। গতকাল রাতে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে হোটেলে গেলাম। ভাত আর রুই মাছ খেতে বসলাম। খাচ্ছি আর ভাবছি এখন যদি আমি বাড়ীতে থাকতাম, আমার বউ কত মাছ তরকারী যে হাজির করত। ভাত সামান্য খেয়ে মাছ তরকারী গোশ্ত বেশী খেতাম। বলতাম এটা এখন খাবো না। ওটা খাবো ইত্যাদি। আর এখন ছোট এক পিচ রুই মাছ দিয়ে ভাত খাচ্ছি। প্রতি লোকমা ভাতের সাথে কতটুকু মাছ নিলে ব্যালেন্স ঠিক থাকবে তার প্রতিও খেয়াল রাখছি। আর ভাতের সাথে মাছ ও ভাতের ব্যালেন্স রক্ষা করতে যেয়ে হিমশিম খাচ্ছি। আর নিজেকে কিছুটা অপদার্থ ভাবছি। পাক করতে জানি না, একজন কাজের বুয়া যোগার করতে পারি না, ম্যাচে থেকে খেতে পারি না ইত্যাদি কত যে ব্যর্থতা তা কার কাছে বলি।
খাওয়া প্রায় শেষ। আমি ছাড়া আর কোন খাদক নেই হোটেলে। দেখলাম ২৩-২৫ বয়সের একজন হুজুর হোটেলে ঢুকল। হোটেল বয়-কে ছোট করে কি যেন জিজ্ঞেস করল। সে উত্তর দিল, না হবে না। লোকটি লজ্জিত ভাব নিয়ে বের হতে যাচ্ছে। এমন সময় ম্যানেজার জিজ্ঞেস করল, কী হুজুর যাচ্ছেন কেন? দেখলাম লোকটি কোন উত্তর না দিয়ে আগের চেয়ে দ্রুত গতিতে বের হয়ে গেল। দেখলাম সে আরো বেশী লজ্জিত ম্যানেজারের প্রশ্নে। কিছুটা কৌতুহল জাগলো। ম্যানেজার বয়কে জিজ্ঞেস করল, কী ব্যাপার? লোকটি কি বলে চলে গেল? বয় বলল, সে এক প্লেট ভাত খেতে চায় শুধু ঝোল দিয়ে। মাছ তরকারীর টাকা নেই। আমি বলে দিলাম, সম্ভব নয়। ম্যানেজার বলল, ঠিক বলেছো।
আমি ইচ্ছা করলাম লোকটিকে ডাক দেই। আবার চিন্তা করলাম, না কি আবার লজ্জা পায়। তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করে তাকে খুজতে বের হলাম। বৃষ্টি ঝড়ছে তখনো অঝোর ধারায়। পেলাম না। এক প্লেট ভাত খাওয়ার আশায় এসে সে ব্যর্থ হলো, হলো লজ্জিত। আমি কিছু একটা করার ইচ্ছা করেও করতে পারলাম না। হয়ত সে না খেয়ে রাত কাটিয়েছে অথবা সাধ্যের মধ্যে ভাত ছাড়া কিছু একটা খেয়েছে। কিন্তু আমার করার যা ছিল তা করতে পারলাম কোথায়? আর এভাবে মেনে নিচ্ছে তারা জীবনের পরাজয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

