somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার বউয়ের আরেক দু:চিন্তা- আমার সাথে নাকি জিন-পরী আছে

০৮ ই জানুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাকে নিয়ে আমার বউয়ের দু:চিন্তার শেষ নেই। আমি ঢাকাতে থেকে নাকি সারাদিন আরেকটি বিয়ে করার ধান্ধা করি। আরেকটি বিয়ে করলে তার আপত্তি নেই। কিন্তু প্রতারিত হই কি না, এই ভয় তাকে তাড়ায়। ইদানীং আবার সে শুনেছে আমার সাথে নাকি পরী থাকে।
ঘটনাটা সামান্য খুলে বলি; আমার পিতা, মাতা, ভাই, বোন, খালা, মামা সকলেই ধারনা করে আমার সাথে নাকি জিন-পরী আছে। এ ধারনা কয়েকটি ঘটনার উপর ভিত্তি করে তৈরী। ঘটনাগুলো হল:
এক. ছোট সময় নাকি আমি রাতে হাসনাহেনা আর গন্ধরাজ ফুল গাছের নীচে যেয়ে বসে থাকতাম। আমার এ ধরনের ঘটনা ঠিক মনে নেই। তবে মনে পড়ে, আমার বোনেরা আমাকে ভয় দেখাতেন, ‘ফুল গাছের কাছে যাবি না। ফুল গাছের কাছে সাপ থাকে।‌’ আর এ ফুল দুটো আমার কাছে এখনো খুব প্রিয়। ছোট বয়সে ফুলের প্রতি আসক্তি নাকি জিন পরীর আছরের লক্ষণ।
দুই. ছোটবেলা থেকে আমি তাবীজ-কবচ দেখতে পারি না। আমাকে কোন তাবীজ পরিয়ে দিলে আমি তা ফেলে দিতাম। খুব অসস্তি লাগত।
তিন. ছোট সময় রাতে আমি ঘুম থেকে চিতকার দিয়ে উঠতাম। দেখতাম, আমার পাশে কে যেন শুয়ে আছে। যখন তাকে তাড়াতে চাইতাম, সে আমাকে জড়িয়ে ধরত। আর আমি চিতকার দিতাম। ঘরের সকলে সজাগ হয়ে যেত। এ কারণে আমাকে অনেক ওঝা-কবিরাজ দেখানো হয়েছে। তাদের তাবীজ-কবচ নাকি আমার সহ্য হতো না। এটা জিন-পরীর আছরের স্পষ্ট আলামত।
চার. বয়স তখন তের বা চৌদ্দ। নানা বাড়িতে যাবার কালে সন্ধ্যা বেলায় আমি সাঁকো পারাতে যেয়ে খালের মধ্যে পড়ে গেলাম। কোন লোকজন ছিল না। খালের পার খারা হওয়ার কারণে একা উঠতে পারছিলাম না। এমন সময় দেখলাম, আমার সমবয়সী মামাতো বোন সুরমা এসে আমার হাত ধরে তীরে উঠাল। নানাবাড়িতে পৌছার পর সকলে বলল, ‘কিরে তোর এ অবস্থা?’ আমি বললাম, ‘সাঁকো পারাবার সময় খালের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম।‌’ প্রশ্ন করল, ‘তাহলে উঠলি কিভাবে?’ আমি বললাম, ‘সুরমা ওখানে ছিল। সে হাত ধরে উঠিয়েছে।‌’ সবাই আশ্চর্য হয়ে গেল। কারণ সুরমা চল্লিশ মাইল দূরে তার খালার বাসায় বেড়াতে গেছে অনেকদনি আগে। সে তো এই এলাকাতেই নেই। সে তোকে সন্ধ্যা বেলা হাত ধরে কিভাবে উঠালো? সবাই দৃঢ় বিশ্বাস করে নিল, আমার সাথে থাকা পরীটা আমাকে খালের মধ্যে ফেলেছে, আবার উঠিয়েছে।
পাঁচ. নানাবাড়ীতে একদিন আম্মা নিয়ে গেলেন। তখন বয়স আমার সতের বা আঠার। ঐ এলাকায় এক মহিলা ছিল। সে জিন হাজির করে যে কোন রোগীর অবস্থা বলে দিত। আম্মা তাকে ডাকলেন। সে তার পদ্ধতিতে জিন হাজির করল। আমার সম্পর্কে জিনে তাকে বলল, ‘এগার বছর বয়স থেকে তার সাথে একজন পরী লেগে আছে। তার নাম ফুলপরী সাজিয়া। একদিন ফজরের সময় চুরি করে গন্ধরাজ ফুল তুলতে গেলে সে তার সাথে লেগে গেছে।‌’
আসলে এমন ঘটনা একদিন যে ঘটেছিল তা আম্মার মনে আছে। আমি ফুল তুলতে গেছিলাম চুপিসারে ফজরেরে আজানের পর। তখনো অনেকটা অন্ধকার। একটু ভয় ভয় লাগছিল। যখন ফুল গাছে হাত দিলাম, মনে হল কে যেন আমার উপর জাল মেরেছে। দৌড় দিয়ে ঘরে আসলাম। আম্মা টের পেলেন। আমি ঘটনাটা তাকে জানালাম। আম্মা আব্বাকে জানালেন। আজ যখন সেই মহিলা ফুলপরীর কথা বলল, আম্মা তখন এ ঘটনার সাথে তার কথাকে মিলিয়ে একেবারে দৃঢ় বিশ্বাস করে নিলেন যে, আমার সাথে পরী থাকে। এ জন্য মাঝে মাঝে আম্মা আমাকে বলতেন, ‘দেখিস তুই বিয়া করলে বউ তোর সাথে দুদিনের বেশী থাকবে না।‌’
ছয়. সেই মহিলা আম্মাকে আরো বলেছিল, ‘আমি যে তদবীর দেব, তা যদি আপনার ছেলে ব্যবহার করতে না চায়, তাহলে বুঝবেন এ পরী আর আপনার ছেলেকে ছেড়ে যাবে না কখনো। আর আপনি যখন তাকে বলবেন, ‘তোর সাথে পরী আছে’ তখন যদি সে ভীষণ রাগ করে তাহলে বুঝবেন অবশ্যই তার সাথে পরী আছে। ঘটনা এমনি হল, যখন ঐ মহিলার তদবীর আমাকে দেয়া হল, আমি তখন ভীষণ রেগে গেলাম আর সব ফেলে দিলাম। আর আমার খালাতো মামাতো বোনেরা যখন আমার সাথে পরী আছে বলে আমাকে যখন ক্ষ্যাপাতে চাইত, আমি রেগে-মেগে তাদের মারতে যেতাম। এ কারণে একদিন নানাবাড়ী যাওয়াই বন্ধ করে দিলাম। আমার এ সকল আচরণে তাদের বিশ্বাস আরো পাকাপোক্ত হয়ে গেছে।
এমনি আরো কিছু ঘটনা ছিল, তা উল্লেখ করলাম না। সর্বশেষ ঘটনা হল:
সাত: আমার বউ আমার ভাবির কাছে নালিশ দিল, আমি মাসে তিনদিনের জন্য ঢাকা থেকে বাড়িতে যাই। এ তিন রাতে তার সাথে ঘুমাই না। সে আরো বলল, ‘দশ বছরের মত হল বিয়ে হয়েছে। এর মধ্যে আমি তার সাথে খুব কম ঘুমিয়েছি। মাত্র হাতে গোনা যায় এমন কটি দিন বাদে। এতদিন বাচ্চারা ছোট ছিল, তাদের কান্নাকাটির অজুহাতে আমি তাকে সাথে ঘুমাতে দেইনি। এখন তারা বড় হয়ে গেছে এখন আমি স্বামীর সাথে কেন ঘুমাতে পারব না?’
ভাবি এ নালিশটা পৌছে দিল আম্মার কাছে। আম্মা তাকে ডাকলেন। সে আম্মার কাছে সব খুলে বলল। এতগুলো বছর গেছে যখনই তার কাছে ঘুমাতে গেছি অনেক আশা করে, তখন সে বলেছে ‘বাচ্চাদের সাথে যেয়ে ঘুমাও। ওরা রাতে উঠে কাঁদবে।‌’ এখনতো বাচ্চারা রাতে কাঁদে না। এখন আমাকে কেন কাছে ঘুমাতে দেবে না?
আম্মা তাকে বললেন, শোন, ‘আসলে ওর দোষ না। ওর সাথে একটি পরী থাকে। নাম তার ফুলপরী সাজিয়া . . . । ও তাকে তোমার সাথে ঘুমাতে দেয় না।‌’
আম্মা আস্তে করে তাকে একটি কথা জিজ্ঞেস করলেন। আমার বউটা উত্তর দিল, ‘‌না, হেই কাম ঠিক আছে। যখন তার কামডা অইয়া যায়, তহন কয়, তুমি এখন যাও। বাচ্চাদের খাটে যেয়ে ঘুমাও। আমার সাথে কেহ ঘুমালে আমার ঘুমাতে কষ্ট হয়।‌’
আসলে আমি যে কারো সাথে ঘুমাতে পারি না, ঘুমালে আমার ঘুম আসে না, আর আমার সাথে কোন পরীর সম্পর্ক নেই, একথা তাকে কিভাবে বুঝাই?
২৮টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×