আমাদের দেশটাকে যারা পরিচালনা করছেন তারা হলেন বৃটিশদের শিষ্য-সাগরেদ। রং ও বংশে দেশীয়, কিন্তু মন-মানসিকা আর পোশাকে তারা বিলেতী। তাদের সম্পর্কে একজন মনীষি সুন্দর সত্য কথা বলেছিলেন: সাদা চামড়ার ইংরেজরা বদমাইশ ঠিকই, কিন্তু তাদের মধ্যে শিক্ষা ছিল। যোগ্যতা ছিল। ছিল কিছুটা সভ্যতা। কিন্তু কালো চামড়ার ইংরেজগুলোর মধ্যে কোন সভ্যতা নেই। তারা তাদের সাম্রাজ্যবাদীদের রেখে যাওয়া খারাপ দিকগুলো বাস্তবায়ন করে আর ভাল দিকগুলো উপেক্ষা করে যায়।
আজ যখন ইউরোপীয়ানরা মৃত্যুদন্ডের বিধান রহিত করার কথা বলে তখন তাদের দেশীয় সাগরেদরা তা মানতে রাজী হয় না। এ যেন পোপের চেয়ে পাদ্রী বড় হওয়া।
যাক সে কথা। আমি যা বলতে চাই তা হল, ইসলাম মৃত্যুদন্ড অনুমোদন করে না। ইসলাম যেমন সমাজ থেকে দাসপ্রথা উচ্ছেদ করেছে, তেমনি মৃত্যুদন্ড রহিত করেছে। যখন মৃত্যুদন্ডের বিধান রহিত করার কথা বলা হয় তখন অনেক ইসলামিক স্কলার এর বিরোধিতা করেন। আমি বলব, তারা ভুল করেন।
কারণ:
এক. ইসলাম পূর্ব যুগে রাজা-বাদশাগণ কথায় কথায় মানুষের প্রাণ হরণ করত। ইসলাম এটাকে নিষিদ্ধ করল। ইসলাম ঘোষণা করল, তিনটি অপরাধ ছাড়া কাউকে মৃত্যুদন্ড দেয়া যাবে না। অপরাধ তিনটি হল: অন্যায় হত্যা, বিবাহিত ব্যক্তির ব্যভিচার, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তা ত্যাগ করা।
দুই. ইসলাম অনুমোদিত এ তিনটি মৃত্যুদন্ড তখনই কার্যকর করা যাবে যখন সমাজে কুরআন ও সুন্নাহর আইন কানুন পূর্ণভাবে চালু থাকবে। কারণ ইসলামের রয়েছে সতন্ত্র স্বাক্ষ্য প্রদান ও গ্রহণ নীতি, রায় প্রদান নীতি, ক্ষমা প্রদান নীতি, ফিদিয়া (রক্তপণ প্রদান) নীতি, বিকল্প শাস্তি নীতি। এগুলো অনুসরণ না করে কোন অপরাধে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা যেতে পারে না। ইসলামের দৃষ্টিতে এটা একটি মারাত্নক অপরাধ। এ অপরাধ যে করুক, যে কারণেই করুক, যত ভাল লোকেই, যত ক্ষমতাওয়ালা লোকেরাই করুক আর যত সংখ্যক মানুষ একত্র হয়েই করুক, তা অপরাধ হিসাবেই গণ্য হবে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলার কাছে। আমি ইসলাম চর্চা তা নিয়ে পড়া-শোনা করে এটাই বুঝেছি।
তিন. রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালিত হবে মানব রচিত আইনে আর মানুষকে মৃত্যুদন্ড দেবেন ইসলামের কথা বলে, এটা হতে পারে না। ইসলাম এসেছে মানুষকে বাচাঁতে, মারতে আসেনি। এমনকি কোন মানুষকে নিজের প্রাণ নিজে হরণ করার অধিকারও ইসলাম দেয়নি। আগে মানুষ বাচাঁনোর ইসলমী অনুশাসন ফলো করুন তারপর অপরাধীকে ইসলামী বিধানে শাস্তি দেয়ার কথা চিন্তা করুন। এটাই ইসলাম। নিজেদের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল বা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য ইসলামকে ব্যবহার করা নিকৃষ্টতম ফ্যাসিবাদ। সকল ক্ষেত্র্র্র্রে ইসলামকে উপেক্ষা করে শুধু নিজেদের স্বার্থের অনুকুল ইসলামী বিষয়গুলোকে সাপোর্ট করা মানে ইসলামকে খন্ডিতভাবে পালন করা। এটা একটি জালিয়াতি। আল্লাহর কাছে এটা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। (দেখুন, সুরা বাকারা, আয়াত নং ৮৫)
চার. মৃত্যুদন্ড রহিত করা বা মৃত্যুদন্ডের বিধান বাতিল করার দাবী ইসলাম বিরোধী নয়। যে সকল দেশ ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক পরিচালিত নয় সে সকল দেশের কারো অধিকার নেই কোন অপরাধে কাউকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা। ইসলামে সবচেয়ে পবিত্র ও মুল্যবান হল মানুষের প্রাণ। তাই ইসলামিষ্টদের মৃত্যুদন্ডের বিধান রহিত করার দাবী সমর্থন করা উচিত। যে সকল ইসলামিক স্কলার এ দাবীকে সমর্থন করেন না তারা শরীয়ত বুঝেছেন ঠিকই, কিন্তু ইসলামী শরীয়তের লক্ষ্য উদ্দেশ্য (মাকাসিদ আশ শরইয়্যাহ) বুঝেননি। আমাদের অনেক আলেম উলামা ইসলামের নামে অনেক এমন কিছু ধারণ ও লালন করেন, যেগুলো আসলে মোটেই ইসলামী নয়। সমাজে মৃত্যুদন্ডের বিধান থাকতেই হবে বলে তাদের ধারণা এমন একটি ভুল। এ ধরনের ভুল অনেকেই করেন। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, আমাদের জাতীয় মসজিদের খতীব মীলাদ পড়ে থাকেন। তিনি এটাকে ইসলামী আচার মনে করেন। এটা যে তার একটা ভ্রান্তি তা অনেকের কাছেই স্পষ্ট। কাজেই ইসলাম সেটাই, যা কুরআন ও বিশুদ্ধ হাদীসে এসেছে। এর বাহিরের কোন কিছু ইসলাম নয়।
তাই আসুন, সকলে মিলে বিশ্ব থেকে মৃত্যুদন্ড উচ্ছেদ করার আন্দোলন শক্তিশালী করি। মানুষকে মানুষের মালিকানা ও দাসত্ব থেকে উদ্ধার করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


