somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৃত্যুদন্ড কি ধর্মের বিষয়?

২৪ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের দেশটাকে যারা পরিচালনা করছেন তারা হলেন বৃটিশদের শিষ্য-সাগরেদ। রং ও বংশে দেশীয়, কিন্তু মন-মানসিকা আর পোশাকে তারা বিলেতী। তাদের সম্পর্কে একজন মনীষি সুন্দর সত্য কথা বলেছিলেন: সাদা চামড়ার ইংরেজরা বদমাইশ ঠিকই, কিন্তু তাদের মধ্যে শিক্ষা ছিল। যোগ্যতা ছিল। ছিল কিছুটা সভ্যতা। কিন্তু কালো চামড়ার ইংরেজগুলোর মধ্যে কোন সভ্যতা নেই। তারা তাদের সাম্রাজ্যবাদীদের রেখে যাওয়া খারাপ দিকগুলো বাস্তবায়ন করে আর ভাল দিকগুলো উপেক্ষা করে যায়।
আজ যখন ইউরোপীয়ানরা মৃত্যুদন্ডের বিধান রহিত করার কথা বলে তখন তাদের দেশীয় সাগরেদরা তা মানতে রাজী হয় না। এ যেন পোপের চেয়ে পাদ্রী বড় হওয়া।
যাক সে কথা। আমি যা বলতে চাই তা হল, ইসলাম মৃত্যুদন্ড অনুমোদন করে না। ইসলাম যেমন সমাজ থেকে দাসপ্রথা উচ্ছেদ করেছে, তেমনি মৃত্যুদন্ড রহিত করেছে। যখন মৃত্যুদন্ডের বিধান রহিত করার কথা বলা হয় তখন অনেক ইসলামিক স্কলার এর বিরোধিতা করেন। আমি বলব, তারা ভুল করেন।
কারণ:
এক. ইসলাম পূর্ব যুগে রাজা-বাদশাগণ কথায় কথায় মানুষের প্রাণ হরণ করত। ইসলাম এটাকে নিষিদ্ধ করল। ইসলাম ঘোষণা করল, তিনটি অপরাধ ছাড়া কাউকে মৃত্যুদন্ড দেয়া যাবে না। অপরাধ তিনটি হল: অন্যায় হত্যা, বিবাহিত ব্যক্তির ব্যভিচার, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তা ত্যাগ করা।
দুই. ইসলাম অনুমোদিত এ তিনটি মৃত্যুদন্ড তখনই কার্যকর করা যাবে যখন সমাজে কুরআন ও সুন্নাহর আইন কানুন পূর্ণভাবে চালু থাকবে। কারণ ইসলামের রয়েছে সতন্ত্র স্বাক্ষ্য প্রদান ও গ্রহণ নীতি, রায় প্রদান নীতি, ক্ষমা প্রদান নীতি, ফিদিয়া (রক্তপণ প্রদান) নীতি, বিকল্প শাস্তি নীতি। এগুলো অনুসরণ না করে কোন অপরাধে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা যেতে পারে না। ইসলামের দৃষ্টিতে এটা একটি মারাত্নক অপরাধ। এ অপরাধ যে করুক, যে কারণেই করুক, যত ভাল লোকেই, যত ক্ষমতাওয়ালা লোকেরাই করুক আর যত সংখ্যক মানুষ একত্র হয়েই করুক, তা অপরাধ হিসাবেই গণ্য হবে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলার কাছে। আমি ইসলাম চর্চা তা নিয়ে পড়া-শোনা করে এটাই বুঝেছি।
তিন. রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালিত হবে মানব রচিত আইনে আর মানুষকে মৃত্যুদন্ড দেবেন ইসলামের কথা বলে, এটা হতে পারে না। ইসলাম এসেছে মানুষকে বাচাঁতে, মারতে আসেনি। এমনকি কোন মানুষকে নিজের প্রাণ নিজে হরণ করার অধিকারও ইসলাম দেয়নি। আগে মানুষ বাচাঁনোর ইসলমী অনুশাসন ফলো করুন তারপর অপরাধীকে ইসলামী বিধানে শাস্তি দেয়ার কথা চিন্তা করুন। এটাই ইসলাম। নিজেদের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল বা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য ইসলামকে ব্যবহার করা নিকৃষ্টতম ফ্যাসিবাদ। সকল ক্ষেত্র্র্র্রে ইসলামকে উপেক্ষা করে শুধু নিজেদের স্বার্থের অনুকুল ইসলামী বিষয়গুলোকে সাপোর্ট করা মানে ইসলামকে খন্ডিতভাবে পালন করা। এটা একটি জালিয়াতি। আল্লাহর কাছে এটা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। (দেখুন, সুরা বাকারা, আয়াত নং ৮৫)
চার. মৃত্যুদন্ড রহিত করা বা মৃত্যুদন্ডের বিধান বাতিল করার দাবী ইসলাম বিরোধী নয়। যে সকল দেশ ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক পরিচালিত নয় সে সকল দেশের কারো অধিকার নেই কোন অপরাধে কাউকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা। ইসলামে সবচেয়ে পবিত্র ও মুল্যবান হল মানুষের প্রাণ। তাই ইসলামিষ্টদের মৃত্যুদন্ডের বিধান রহিত করার দাবী সমর্থন করা উচিত। যে সকল ইসলামিক স্কলার এ দাবীকে সমর্থন করেন না তারা শরীয়ত বুঝেছেন ঠিকই, কিন্তু ইসলামী শরীয়তের লক্ষ্য উদ্দেশ্য (মাকাসিদ আশ শরইয়্যাহ) বুঝেননি। আমাদের অনেক আলেম উলামা ইসলামের নামে অনেক এমন কিছু ধারণ ও লালন করেন, যেগুলো আসলে মোটেই ইসলামী নয়। সমাজে মৃত্যুদন্ডের বিধান থাকতেই হবে বলে তাদের ধারণা এমন একটি ভুল। এ ধরনের ভুল অনেকেই করেন। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, আমাদের জাতীয় মসজিদের খতীব মীলাদ পড়ে থাকেন। তিনি এটাকে ইসলামী আচার মনে করেন। এটা যে তার একটা ভ্রান্তি তা অনেকের কাছেই স্পষ্ট। কাজেই ইসলাম সেটাই, যা কুরআন ও বিশুদ্ধ হাদীসে এসেছে। এর বাহিরের কোন কিছু ইসলাম নয়।
তাই আসুন, সকলে মিলে বিশ্ব থেকে মৃত্যুদন্ড উচ্ছেদ করার আন্দোলন শক্তিশালী করি। মানুষকে মানুষের মালিকানা ও দাসত্ব থেকে উদ্ধার করি।
১৭টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×