আমি আ. লীগ, বি এন পি, জামাত বুঝি না। ওগুলো করিও না। রাজনীতির ধারে কাছে যাই না। তবে কেহ ভাল কাজ করলে তা সমর্থন করা আর খারাপ করলে তার নিন্দা করাকে একটি ভাল কাজ মনে করি। যে-ই করুক। বিশ্বাস করি এটাই সবচেয়ে ভাল রাজনীতি।
তত্ত্বাবধায়ক আমলে বিমান বন্দর গোল চক্করে লালন মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল। অধিকাংশ মানুষের মত আমিও এ ব্যাপারে টেনশনে ছিলাম। কারণ, ওটা বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার। বাহিরের মানুষগুলো দেশে ঢুকেই একটি মূর্তি দেখে কি ভাববে? হজ করতে যাওয়ার পথে ওখানে বসে তাওহীদের শ্লোগান দিয়েছি আমরা। ছি! এখন মূর্তির পদতলে বসে আমাদের লাব্বাইক বলতে হবে। তাবলীগ জামাতের আখেরি মুনাজাতে ওখানে বসে হাজার হাজার মানুষ মুনাজাত করে। এখন মূর্তির পায়ের কাছে বসে আল্লাহর কাছে মুনাজাত? হজ ও উমরা করে হাজার হাজার মানুষ ওপথেই মাতৃভূমিতে প্রবেশ করে। করেই মূর্তি দর্শন করবে? আরো অনেক ..... সমস্যা ছিল।
যাই হোক, কিছু এতিম মিসকীনের আন্দোলন সফল হল কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থন ছাড়াই। সরকার কাজ গুটিয়ে নিলেন।
এ বিষয় নিয়ে রাজপথে ও এই ব্লগে ঝড়-তুফান বয়ে গেছে অনেক। সে সকল ঝড়-তুফানের গতিবেগ বাড়াতে আমার যে ভূমিকা ছিল না সে দাবী করছি না।
আমি তখন আরো আশ্চর্য হয়েছিলাম, অনেক সুশীল সে দিন ওখানে মূর্তি স্থাপনের পক্ষে কথা বলেছেন। বিশাল বিশাল যুক্তি দিয়ে তাদের জ্ঞানের প্রকাশ করেছেন। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করার দিকটা একেবারে ভুলে গেছেন। এমনই কি হয় তাদের প্রভূদের শিখানো গণতন্ত্রের চর্চা? লালনের মূর্তি স্থাপন জরুরী হলে তা অন্য স্থানে দাড় করানো যায়। কিন্তু ওখানে? সে সকল সুশীল লোকদের দেখেছি তাদের সাথে কিছু মতলববাজ মিডিয়া ঐ স্থানকে বার বার লালন চত্বর বলে চেচিয়েছে। আসলে ওটা যে লালন চত্বর নয়, তা তারা ভাল করেই জানত। তবুও এটা করে তারা ধর্মপ্রাণ মানুষকে আহত করতে চেয়েছে। আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে বিকৃত মেসেজ দিতে চেয়েছ।
শেষ পর্যন্ত বর্তমান সরকারের আমলে ওখানে মিনারের মত একটা কিছু নির্মাণ করা হয়েছে। জানি না ওটা হজ মিনার কিনা। হজ মিনার বলতে কিছু আছে কি না, তাও বুঝি না। তবে ওটা যে মিনার, তা বলতে কোন সংকীর্ণতা বোধ করি না। আর ওটা যে হজ মিনারের চেয়ে অনেক বেশী অর্থবহ, তা দেখলেই বুঝা যায়। আরবীতে আল্লাহ শব্দটাকে মিনারের শীর্ষে এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যা সব দিক দিয়েই দেখা যায়। মিনারের তাবু আকৃতির তিনটি পাখায় লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ লেখা হয়েছে আরবীতে।
সরকার ও শিল্পী মৃণাল হকসহ এ কাজটির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাতে হয়।
সাথে সাথে একটি প্রশ্ন আসে মনে। যদি চার দলীয় জোট ক্ষমতায় আসত, তাহলে তারা কি পারতো এমন একটি সাহসী ভূমিকা নিতে? আমার মন বলে, না।
তবে আমার অনেক মুসলমান বন্ধু, যারা অটোমেটিকালি মুসলিম হয়েছেন। মুসলিম হওয়ার জন্য তাদের তেমন পড়াশুনা করতে হয়নি, তারা এটাকে ভাল চোখে দেখবেন বলে মনে হয় না। আসলে তারা মুসলমান হওয়ার কারণে নিজেদের হতভাগ্য ভাবেন। মানসিক অশান্তিতে ভোগেন। ইসলামের কোন কথা শুনলে বিব্রত বোধ করেন। কত শব্দ প্র্রয়োগ করেন তখন। ইশারা ইঙ্গিতে অনেক কিছু বুঝাতে চান। তারা ঘোষণা দিয়ে ইসলামকে ছাড়তেও পারেন না। তাহলে যে অনেক পারিবারিক, সামাজিক সুবিধা ও ফ্রি সার্ভিস থেকে বঞ্চিত হতে হবে। আবার ইসলামকে ধরতেও পারেন না, তাহলে যে তাদের মানুষ প্রভূ ও বন্ধুরা নাখোশ হয়ে যাবে। তাদের থেকে পাওয়া সুবিধাগুলো কিনা আবার চলে যায়। আমার যে সকল সুবিধাই চাই। কোন সুবিধা যে মিস করতে চাই না। তারা এমন এক সঙ্কটে ভুগছেন সব সময়।
এ সকল বন্ধুদের অন্তর থেকে করুণা জানাই। তোমরা ভালো থেকো।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


