somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হজ মিনার? ধন্যবাদ দিতেই হয়

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি আ. লীগ, বি এন পি, জামাত বুঝি না। ওগুলো করিও না। রাজনীতির ধারে কাছে যাই না। তবে কেহ ভাল কাজ করলে তা সমর্থন করা আর খারাপ করলে তার নিন্দা করাকে একটি ভাল কাজ মনে করি। যে-ই করুক। বিশ্বাস করি এটাই সবচেয়ে ভাল রাজনীতি।
তত্ত্বাবধায়ক আমলে বিমান বন্দর গোল চক্করে লালন মূর্তি স্থাপন করা হয়েছিল। অধিকাংশ মানুষের মত আমিও এ ব্যাপারে টেনশনে ছিলাম। কারণ, ওটা বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার। বাহিরের মানুষগুলো দেশে ঢুকেই একটি মূর্তি দেখে কি ভাববে? হজ করতে যাওয়ার পথে ওখানে বসে তাওহীদের শ্লোগান দিয়েছি আমরা। ছি! এখন মূর্তির পদতলে বসে আমাদের লাব্বাইক বলতে হবে। তাবলীগ জামাতের আখেরি মুনাজাতে ওখানে বসে হাজার হাজার মানুষ মুনাজাত করে। এখন মূর্তির পায়ের কাছে বসে আল্লাহর কাছে মুনাজাত? হজ ও উমরা করে হাজার হাজার মানুষ ওপথেই মাতৃভূমিতে প্রবেশ করে। করেই মূর্তি দর্শন করবে? আরো অনেক ..... সমস্যা ছিল।
যাই হোক, কিছু এতিম মিসকীনের আন্দোলন সফল হল কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থন ছাড়াই। সরকার কাজ গুটিয়ে নিলেন।
এ বিষয় নিয়ে রাজপথে ও এই ব্লগে ঝড়-তুফান বয়ে গেছে অনেক। সে সকল ঝড়-তুফানের গতিবেগ বাড়াতে আমার যে ভূমিকা ছিল না সে দাবী করছি না।
আমি তখন আরো আশ্চর্য হয়েছিলাম, অনেক সুশীল সে দিন ওখানে মূর্তি স্থাপনের পক্ষে কথা বলেছেন। বিশাল বিশাল যুক্তি দিয়ে তাদের জ্ঞানের প্রকাশ করেছেন। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করার দিকটা একেবারে ভুলে গেছেন। এমনই কি হয় তাদের প্রভূদের শিখানো গণতন্ত্রের চর্চা? লালনের মূর্তি স্থাপন জরুরী হলে তা অন্য স্থানে দাড় করানো যায়। কিন্তু ওখানে? সে সকল সুশীল লোকদের দেখেছি তাদের সাথে কিছু মতলববাজ মিডিয়া ঐ স্থানকে বার বার লালন চত্বর বলে চেচিয়েছে। আসলে ওটা যে লালন চত্বর নয়, তা তারা ভাল করেই জানত। তবুও এটা করে তারা ধর্মপ্রাণ মানুষকে আহত করতে চেয়েছে। আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে বিকৃত মেসেজ দিতে চেয়েছ।
শেষ পর্যন্ত বর্তমান সরকারের আমলে ওখানে মিনারের মত একটা কিছু নির্মাণ করা হয়েছে। জানি না ওটা হজ মিনার কিনা। হজ মিনার বলতে কিছু আছে কি না, তাও বুঝি না। তবে ওটা যে মিনার, তা বলতে কোন সংকীর্ণতা বোধ করি না। আর ওটা যে হজ মিনারের চেয়ে অনেক বেশী অর্থবহ, তা দেখলেই বুঝা যায়। আরবীতে আল্লাহ শব্দটাকে মিনারের শীর্ষে এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে যা সব দিক দিয়েই দেখা যায়। মিনারের তাবু আকৃতির তিনটি পাখায় লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ লেখা হয়েছে আরবীতে।
সরকার ও শিল্পী মৃণাল হকসহ এ কাজটির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাতে হয়।
সাথে সাথে একটি প্রশ্ন আসে মনে। যদি চার দলীয় জোট ক্ষমতায় আসত, তাহলে তারা কি পারতো এমন একটি সাহসী ভূমিকা নিতে? আমার মন বলে, না।
তবে আমার অনেক মুসলমান বন্ধু, যারা অটোমেটিকালি মুসলিম হয়েছেন। মুসলিম হওয়ার জন্য তাদের তেমন পড়াশুনা করতে হয়নি, তারা এটাকে ভাল চোখে দেখবেন বলে মনে হয় না। আসলে তারা মুসলমান হওয়ার কারণে নিজেদের হতভাগ্য ভাবেন। মানসিক অশান্তিতে ভোগেন। ইসলামের কোন কথা শুনলে বিব্রত বোধ করেন। কত শব্দ প্র্রয়োগ করেন তখন। ইশারা ইঙ্গিতে অনেক কিছু বুঝাতে চান। তারা ঘোষণা দিয়ে ইসলামকে ছাড়তেও পারেন না। তাহলে যে অনেক পারিবারিক, সামাজিক সুবিধা ও ফ্রি সার্ভিস থেকে বঞ্চিত হতে হবে। আবার ইসলামকে ধরতেও পারেন না, তাহলে যে তাদের মানুষ প্রভূ ও বন্ধুরা নাখোশ হয়ে যাবে। তাদের থেকে পাওয়া সুবিধাগুলো কিনা আবার চলে যায়। আমার যে সকল সুবিধাই চাই। কোন সুবিধা যে মিস করতে চাই না। তারা এমন এক সঙ্কটে ভুগছেন সব সময়।
এ সকল বন্ধুদের অন্তর থেকে করুণা জানাই। তোমরা ভালো থেকো।
১১টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×