somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সূফীবাদ+বাউলবাদ+ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ= বিকল্প ইসলাম

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসছে এমন একটি ইসলাম যা গঠিত হয়েছে সুফীজম, বাউলিজম সেকুলারিজমের সমন্বয়ে। পরিকল্পনায় আছে ইহুদীবাদ। আর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পৃষ্ঠপোষকতায় আছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার সেবকবৃন্দ। আমরা সে ইসলামকে বলতে পারি বিকল্প ইসলাম। সেই ইসলামের পবিত্র গ্রন্থের নাম আল ফুরকানুল হক।
না এটা কোন রম্য রচনা নয়। বাস্তব। ইসলামটাকে ভাল মত বুঝে একটু চোখ কান খোলা রাখলেই স্পষ্ট দেখা যায় এই নতুন ইসলামকে।
একটু ভুমিকা নিয়েই বলি।
ইসলামের দাওয়াতের সুচনা হয়েছিল সেই ৬০৯ ইংরেজী সালে। সে থেকে আজ ২০১০ পর্যন্ত চৌদ্দশত বছরে ইসলাম ও তার অনুসারীদের উপর যে হামলা, জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা, চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ, নির্মুল অভিযান আর বহু জাতিক সম্মিলিত আক্রমণ যত হয়েছে তা যদি অন্য কোন জাতি বা ধর্মের উপর হত, তাহলে সে জাতি বা ধর্ম পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত অনেক অনেক আগে। যখন ইতিহাস পড়ি তখন আশ্চর্য হই, কিভাবে আজ পর্যন্ত টিকে থাকল ইসলাম ও মুসলিমরা।
আরো প্রশ্ন জাগে, কেন বিশ্বের অন্যসব জাতিগুলো মুসলিমদের হিংসা করে? তাদের অস্তিত্ব কেন মেনে নিতে পারে না? আমি কি অবাস্তব কিছু বললাম? সমকালীন ইতিহাস ও ঘটনাবলী হিসাব করে দেখুন বিশ্বে প্রতিদিন কত জন মানুষ সহিংসতায় মারা গেছে আর মারা যাচ্ছে। আর তার মধ্যে কত জন মুসলিম? বেশী দূর যাওয়া দরকার নেই। গত দু বছরের হিসাব করুন। তা না পারলে পিছনের দু মাসের হিসাব করুন। সেটাও কষ্ট হলে গত দু সপ্তাহের হিসাব করুন। তা সম্ভব না হলে গত দুদিনের হিসাব করুন।
এটা আমার একার অনুভভ নয়। ১৯৯০ এর পরে বিশ্ব থেকে কমুনিজম যখন বিদায় হচ্ছিল তখনই বলা হয়েছে বিশ্বের পরবর্তি হুমিক হল ইসলাম। সরাসরি অস্ত্র ও শক্তি দিয়ে মুকাবেলা করে ভাল ফল পাওয়া যায় না। তাই তারা নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার নামে পরিকল্পনা নিল, উদার, মধ্যম ও চরম -তাদের ভাষায়- এ তিন ধরনের মুসলিমদেরই মোকাবেলা করতে হবে। সহজ পথ হল, প্রথম দুটোকে ক্ষেপিয়ে দেয়া হবে তৃতীয়টির বিরুদ্ধে। তারাই তাদের দমন করবে। এমনি করে সবগুলো ষাড়কে শেষ করা যাবে। তারপর লুটে পুটে খাওয়া যাবে সাড়া বিশ্বটাকে।
তাদের এ পরিকল্পনা সফল হয়নি। হবারও ছিল না। কারণ, তারা চায় তাদের মুখের ফুতকারে আল্লাহর জ্যোতিকে নিভিয়ে দেবে কিন্তু আল্লাহ চান তার জ্যোতিকে উদ্ভাষিত করতে। যদিও কাফেরগণ তা ঘৃণা করে। (৬১:৮)
তারা দেখল, মুসলিমদের সারি সারি লাশ, কাতারে কাতারে গণ কবর, জনপদে জনপদে খুন দরিয়া, গাজায় শিশুদের রক্তাক্ত মৃত দেহের স্তুপ, গোয়ন্তানামোবে আর আবু গরীবের নির্যাতন দেখে মুসলিমরা সচেতন হতে যাচ্ছে। তারা প্রতিবাদী হয়ে উঠছে। তখন তারা সিদ্ধান্ত নিল, না এ সবে কাজ হবে না। আমাদের বাপ-দাদারা এসব করে ফল পায়নি। তাই ইসলাম ধর্মটাকে পাল্টে দিতে হবে। তাকে দন্তবিহীন বাঘে পরিণত করতে হবে। তখন ইসলাম থাকবে। তবে তা হবে না সাম্রাজ্যবাদের জন্য কোন হুমকি। এমন একটি ইসলাম হবে, যার অনুসারীরা আমাদের চোখ চোখ রেখে কথা বলবে না। যদি পাশ থেকে কেহ বলতে চায় তাহলে তাদেরই একটি দল ওদের চোখ উপড়ে ফেলবে। এই ইসলামটির তিনটি মৌলিক উপাদান হবে সুফীবাদ, বাউলবাদ আর ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ।
যত ডলার লাগে আমরা তাদের দেব। যত মিডিয়ার দরকার আমরা ব্যবস্থা করব। যত রাজনৈতিক আর কুটনৈতিক সমর্থন আর ষড়যন্ত্র দরকার আমরা তা করবই। তবুও উপহার দেব বিকল্প ইসলাম। সেই ইসলামে নামাজ রোযা হজ যাকাত তাবলীগ মীলাদ জানাযা সবই থাকবে। সাথে থাকবে এক তারা দোতারা, ঢোল-তবলা, মাজার পুজা, পীর পূজা, কবর ব্যবসা, মহা-পবিত্র ওরস আরো যত দরকার সবই রাখা হবে। রাজপথে তোরণ নির্মাণের জন্য যত কোটি টাকা লাগে কোন অভাব হবে না।
সেই ইসলামে জিহাদ বলে কিছু থাকবে না। সেই ইসলামে ইসলামের বই পত্রগুলোকে জিহাদী বই বলে আখ্যায়িত করা হবে। ফলে মানুষ ইসলাম সম্পর্কে পড়াশুনা করতে ভয় পাবে। সেই ইসলামে বলা যাবে না বেহেশ্তের লোভের কথা। সেই ইসলামে ভয় দেখানো যাবে না দোযখের। সেই ইসলামে বাতিল ধর্মকে বাতিল বলা অন্যায় গণ্য করা হবে। সেই ইসলামে বন্ধুত্ব ও শত্রুতার কোন নীতি থাকবে না। সেই ইসলামে অন্য ধর্মগুলোকে শ্রদ্ধা করতে শেখাবে। সেই ইসলামে বলা যাবে না অমুসলিমরা মরার পরে জাহান্নামে যাবে। সেই ইসলামে অন্য ধর্মের কোন সমালোচনা করা যাবে না। সেই ইসলামের অনুসারীরা ইসলামকে ভাল বলবে কিন্তু ইসলামী ব্যক্তিত্ব, প্রতিষ্ঠানকে খারাপ বলবে।
সেই ইসলামে বলা হবে ইসলাম যেমন ভাল ধর্ম অন্যান্য ধর্মগুলোও ভালো। এটা বিশ্বাস করে যদি মুসলমানদের ঈমান চলে যায় তাতে ক্ষতি কি? দুনিয়ার প্রভূরা তো খুশী হবে। খুশী হবে বন্ধুরাও। এভাবেই ইসলামটা পাশ্চাত্য ধাচের ধর্মে পরিণত করা হবে।
তারা কামনা করে যদি তোমরা কুফরী করতে যেমন তারা কুফরী করেছে। অত:পর তোমরা তাদের সমান হয়ে যেতে। সুতরাং তোমরা তাদের বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না। (৪: ৮৯)
আসুন, ভেবে দেখি এমন একটি ইসলামকে স্বাগত জানান যায় কি না। আপনাদের মতামতের অপেক্ষায় রইলাম। বিস্তারিত পরে বলব।
২১টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×