(এ লেখাটার বেশ কিছু অংশ কাল্পনিক)
বাংলাদেশ এবার জিম্বাবুয়ে গেছে।
মাত্র মাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজরে বাংলা ওয়াশ করে এসেছে।বাংগালির বাংলা ওয়াশ -- ওয়েস্ট ইন্ডিজরে ০১ লা আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:১২ জিম্বাবুয়ের ক্যাপ্টেন বড়ই চিন্তিত। কোচ এসে বললো কোনো চিন্তা নাই-
: জিম্বাবুয়ে-A টিম এর সাথে ম্যাচেই বাংলাদেশের খেলার কারিকুরি বোঝা যাবে। তারপর আমরা অবস্হা বুঝে ব্যাবস্হা নেবো। আর তাছাড়া বাংলাদেশ টিম এর উন্নতি নিয়ে সন্দেহ আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজরে দুর্বল পাইয়া ঝড়ে "শুকনা" বক ফালায় দিছে।
কিন্তু বাংলাদেশের এখন নতুন ক্যাপ্টেন। নাম সাকিব। জিম্বাবুয়ে-A টিম এর সাথে সে টিমরে আইসা বললো:
: পেশার নিসনা কেউ। যা মাঠে যা-মাঠে যাইয়া বাতাস খাইয়া আয়।
কিন্তু টিমের লোকজন বললো-
: হায় হায়। জিম্বাবুয়ে-A টিম এর লগে হারলে আমাগো ইজ্ঝত কি থাকবো?
যাহোক সাকিব বুঝালো সবাইকে -
: আরে জিম্বাবুয়ের মেন টিম এর লোকজন আমাগো খেলার সব টেকনিক বোঝার জন্য ভিডিও ক্যামেরা নিয়া রেডি। তোরা যদি ভালো খেলস তাইলে দেখবি তোদের খবর কইরা ছাইড়া দিবো ফাস্ট ম্যাচে। আর আমরা যদি ফাস্ট ম্যাচেই অগোরে ফাসাইতে পারি তাইলে দেখবি ওরা আর উইঠা দাড়াইতে পারবো না
তো তখন টিমের লোকজনের চোখ খুললো। তারপর তারা যথারিতি মাঠে নেমে বাতাস খেলো আর জিম্বাবুয়ে-A টিম খেলা জিতলো।
মহা খুশি। জিম্বাবুয়ের মেন টিমের কোচ তো লাফালাফি শুরু করে দিলো-
: কি বলছিলাম না, বাংলাদেশএর আসলে কোনো উন্নতি করে নাই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ রে সোজা পাইয়া দিছে ঠ্যালা।
তো খুশি মনে কোচ সাহেব মেন টিমরে আর বেশি কস্ট দিলেন না প্র্যাকটিসের সময়। পেলেয়াররাও নাচতে নাচতে বাসায় গেলো প্র্যাকটিসের পর।
শুধু কি তাই। পেপারে টিভিতে বাংলাদেশরে আবার সমালোচনা। ব্লগের আকাশটা দুখি বাংলাদেশের ফ্যানদের রক্তে রন্জিত হয়ে উঠলো। ব্লগের মাঠগুলো ফ্যানদের বিরক্ত চোখের পানিতে ভিজে গেলো। সবার মুখেই একই কথা -- জিম্বাবুয়ে-A টিম এর সাথে যদি এরকম গো হারা হারে তাহলে মেনটিম এর সাথে কি হবে?
(আমি এইটা আমার কল্পনাশক্তি দিয়া আগেই টের পাইছিলাম । তাই এই ব্যাপারে একটা অভিমত দিছিলাম একজন দুখি ব্লগারের পুস্টে সৌরদীপ্ত এর পোস্ট -- হেরেই গেল বাংলাদেশ ০৭ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১০:১৮ আমার মন্তব্যটি ছিলো ৮ নাম্বারে)
তো যাইহোক। এবার শুরু হলো আসল ম্যাচ।
জিম্বাবুয়ের ক্যাম্পে হাসি ঠাট্টা চলছে। কিন্তু শুরুতেই ধাক্কা। টসে হেরে গেলো জিম্বাবুয়ে। কোচ বললেন-
: আরে সমচ্যা নাই। টসে হারি জিতি ব্যাপার না। গেমে আমরাই জিতবো।
তো এরপর বাংলাদেশের বলিং শুরু হলো। জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরে মুখে হাসি, বুকে আশা আর হোমগ্রাউন্ডের দর্শকের তালির মাঝে শুরু করলেন ব্যাটিং। সৈয়দ রাসেল বলিং এ। প্রথম ৫ টা বল ছুইতেই পারলেন না ব্যাটসম্যান মাসাকাদজা। বুকের আশা টা কেমন যেন মিইয়ে গেলো।
এরপর এলো ৬ষ্ঠ বল এবং বলটাকে কায়দা করতে যেয়েই ব্যাটের ছোয়া লেগে উইকেট কিপারের হাতে তুলে দিলেন। শুন্য রানে ১ উইকেট।
জিম্বাবুয়ের ক্যাম্পে যেন হঠাত করে অন্ধকার নেমে আসলো।
হঠাত করে জিম্বাবুয়ের কোচ বুঝতে পারলেন, কত বড় ফাদ পাতছে বাংলাদেশ। আর সেই ফাদের মধ্যে তিনি তার টিম নিয়ে পা ডুবিয়ে বসে আছেন
এরপর শুরু হলো ব্যাটসম্যানদের হালকা ডাইরিয়া। যেই ডাইরিয়া নাকি বাংলাদেশের টিমের হয় সেটাই যেনো জিম্বাবুয়ের হলো। ছোয়াচে রোগ নাকি বাবা
যাহোক কোনো মতে ২০৭ করলেন। খারাপ না স্কোর হিসাবে।
কিন্তু কিসের কি তামিম ইকবাল শুরু করলেন প্রথম ওভারে ২ টি চার পিটিয়ে। পরের ওভারে জুনায়েদ সিদ্দিকি অপর প্রান্ত থেকে মারলেন পরপর ৩ টা চার। তো তিনি বোধহয় একটু বেশিই জোশে ছিলেন, তো কয়েক ওভার পর পর পর ২ টি চার মেরে আউট হয়ে গেলেন ক্যাচ তুলে দিয়ে। এবার এলেন আশরাফুল। জিম্বাবুয়ের ক্যাম্প একটু হাফ ছেড়ে বাচলো। কোচ বললেন: আরে আশরাফুল আসলে সেরকম কোনো ব্যাটসম্যান না। সে এখনি আউট হয়ে যাবে।
কিন্তু কিসের কি - সেই আশরাফুল করলেন ১০৩ আর তামিম ইকবাল করলেন ৬৩। জিম্বাবুয়ের কোচ তো মড়া কান্না জুড়ে দিলেন ক্যাম্পে।
ক্যাপ্টেন ও ডুকরে কাদছেন।
যাহোক খেলার শেষ প্রান্তে এসে রকিবুল ও আশরাফুল মিলে ৮ উইকেটে জেতালন বাংলাদেশ রে।
তো এখন আবার আমার কেন যেন মনে হচ্ছে আরো একটা বাংলা ওয়াশের পথে আমরা আগাচ্ছি। পেপার পত্রিকায় অলরেডি বলা শুরু হয়েছে যে জিম্বাবুয়ের টিম টা দুর্বল।
বাংলাদেশ টিম এর কাছে আসলে যাহোক দুর্বল বা সবল ব্যাপার না। বিজয়-ই আসল।
ড
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১১:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


