আমার প্রিয় পোস্ট

বাক বাকুম বাক স্বাধীনতা

২১ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:০০

শেয়ারঃ
0 4 0

বাক স্বাধীনতা জিনিসটা কি? অনেকের মতেই ইহা একখানা মৌলিক মানবাধিকার। এই অনেকের মাঝে কিন্তু আমাগো দেশের ৯০% লোক নাই, কারণ অপরাপর অধিকারগুলান অর্জনে বছরের ৩৬৫ দিন তাহাদিগকে এতটাই ব্যস্ত থাকিতে হয় যে এই হাওয়াই মিঠাই মার্কা জিনিস লইয়া ভাবিবার টাইম নাই। অতএব এইটা লইয়া তাহারা মাথাও ঘামায় না। অতটা ঘামও বোধ করি তাহাদের নাই। যাহারা ঘামায় মানে যাহাদের ঘাম অন্যান্য উপায়ে বাহির হইবার পথ পায় না তাহারা ইদানীং দেখিতেছি বেশ ক্ষ্যাপিয়া উঠিয়াছেন। শুনিতেছি তাহারা তথ্য অধিকার নামক একখানা আইন প্রণয়ন করিতে চাহিতেছেন। সুধী পাঠক, আপনেগো কাছে আসলে আমার লুকাইবার কিছু নাই। আমি নিজেও ঐ ৯০% এর দলে। এইটার পিছনের রাজনীতি লইয়া আমি অতখানি ওয়াকিবহাল ছিলাম না। ঘুরিতে ঘুরিতে একদিন প্যারেন্টি চাচার ( Michael Parenty ) Free speech - At a price নামে একখান লেখা পাইয়া যাই। পড়িয়া মনে হইলো ইহার বঙ্গানুবাদ করিয়া ফেলিলে কেমন হয়। তাহাই করিতে সচেষ্ট হইলাম ।

বাক স্বাধীনতা বলিতে আমরা কি বুঝি? আমরা অনেকেই ইহাকে ভাত, কাপড়, শিক্ষা, চিকিৎসা ইত্যাদির ন্যায় একখান অধিকার বলিয়া মনে করি। তাহা বেশ, কিন্তু ইহা শূন্যে তৈরী হয় না। সত্যি বলিতে, শূন্যে কিছুই তৈরী হয় না বরং বেবাক জিনিসপাতি ( যুগপৎ কঠিন এবং বায়বীয় ) এবং তদীয় স্বাধীনতা তৈরী হয় একটি নির্দিষ্ট আর্থ সামাজিক বাস্তবতায়। আমরা যখন কোন কিছু বলি তখন নিশ্চিতরূপেই তাহার লক্ষ্য থাকে অপর একজন/বহুজন। বসতবাটিতে, কর্মক্ষেত্রে, স্কুলে, তারে, বেতারে, টেলিভিশনে আমরা যখনই কোন কিছু বলি কিংবা প্রকাশ করি তখনই তাহার একটা সামাজিক মূল্য তৈরী হয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হইলে তো কথাই নাই । কথা আছে, কেননা আমজনতার সামনে পেশ করা রাজনৈতিক বক্তৃতামালার বেশ বড়সড় একটা অংশই মূলত একধরনের প্রোপাগান্ডা। অবশিষ্টগুলো কেউই শুনিতে/ দেখিতে পায় না, সেগুলো বাদ দেওয়া হয় সুকৌশলে, নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ।

মতাদর্শিক উপায়ে (সু)পরিবেশিত
এইখানকার রাজনৈতিক ধারায় আপনি যতই বামে যাইবেন ততই কঠিন হইয়া যাইবে আপনার পক্ষে আমজনতার কাছে পৌঁছানো। এমন নহে যে পাবলিকের কানগুলো এইক্ষেত্রে বন্ধ থাকে বরং কর্পোরেট মালিকেরা তাহাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ও তাহা দ্বারা ক্রীত শ্রমশক্তি দিয়া আপনার ও পাবলিকের মাঝে খাড়া করে একটার পর একটা দেয়াল। হিসাব সোজা, পানির লাহান। আপনি রক্ষনশীলতার সমালোচনা করেন, আপনি সমালোচনা করেন তথাকথিত উদারনীতিবাদের এবং বহুজাতিক পুঁজি দেশে বৈদেশে যে আকামগুলি করিয়া বেড়াইতেছে তাহার বিরুদ্ধে শিনা টান কইরা খাড়াইয়া যান। সোজা কথায় আপনি প্রগতিশীল। হের লাইগ্যাই আপনি বিশ্বাস করেন যে দরিদ্ররা ধনীদের কর্তৃক শোষিত এবং প্রচলিত রাষ্ট্রকাঠামো ধনীদের যে অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা দিয়া থাকে আপনি তাহার বিরুদ্ধে সর্বদা সরব থাকেন। এইখানেই আপনি থামিয়া যান না, আপনি মনে করেন (এবং সেইজন্যে কাজও করিয়া থাকেন) শ্রমিক আন্দোলন শক্তিশালী হওয়া জরুরী যাহাতে শ্রমিকের অধিকার রক্ষিত ও বিস্তৃত হয়। আপনি World Bank, IMF ওয়ালাদের উন্নয়ন তত্ত্ব মানেন না, আপনি চাহেন টেকসই/লাগসই উন্নয়ন। আপনি সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, বর্ণবাদিতা, লিঙ্গবৈষম্য এইগুলার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়িয়া তুলিতে চাহেন। এবং আপনি চাহেন সামাজিক খাতগুলোতে যেন অধিক অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রগতিশীলরা মানে আপনি ও আপনারা বৈপ্লবিক সরকারগুলোকে সমর্থন করেন কেননা তাহাদের মাধ্যমেই কেবল সত্যিকার পরিবর্তন সম্ভব। আপনি কোনভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপাইয়া দেয়া যুদ্ধ সমর্থন করেন না এবং কোন ভাবেই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এইসব সরকারগুলোকে উৎখাত করাকে ভুল মনে করেন না (যেমন করা হইয়াছে ভিয়েতনামে, এঙ্গোলায়, নিকারাগুয়ায়, ইরাকে, চিলিতে এবং আরো কয়েক ডজন দেশে), মনে করেন অপরাধ।
আপনি এইরূপ হইলে আপনার জন্যে বাঘা বাঘা মিডিয়াগুযলোর দরজা তো দূরের কথা, চৌকাঠ মাড়ানোও দায় হইয়া উঠিবে। আপনাকে বরং আমিই এককানা হাছা কথা কই। এই যে বাক স্বাধীনতা জিনিসটা এইডা আসলে তাহাদেরই সম্পত্তি যাহারা আপনার উল্টো পথে চলিয়া থাকেন অর্থাৎ যাহারা জনগণের বিপক্ষে, যাহারা রাজনৈতিক ময়দানে ডানপন্থী বলিয়া পরিচিত। এখন আপনাকে নিশ্চয়ই বুঝাইয়া বলিতে হইবে না যে কি কারণে তাহারা এত বিপুল পরিমাণে বাক স্বাধীনতা ভোগ করিয়া থাকেন। কারণ আপনি জানেন এবং তাহা বেশ ভালো করিয়াই যে তাহারা কর্পোরেটওয়ালাদের দালাল। তাহারা দারিদ্র্যের জন্যে সবসময়ই দরিদ্রকে এই বলিয়া দায়ী করিয়া থাকে যে তাহারা অলস, কর্মবিমুখ এবং সেইজন্যেই ভাগ্যবিধাতা তাহাদের বিপক্ষে। আপনি সব সময়ই খেয়াল করিয়া দেখিবেন যে দেশীয় শিল্প সংরক্ষণ করিতে গেলেই তাহারা ঘেউ ঘেউ করিয়া উঠে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আসিবার কিছুমাত্র সম্ভাবনা তৈরী হইলেই তাহাদের জিহ্বা লকলক করিতে থাকে। তাহারা মুক্তবাজার অর্থনীতি লইয়া ব্যাপক উল্লাসিত এবং উৎসাহিত। তাহারা মিডিয়া গুলোতে সব সময়ই এই বলিয়া বেড়ায় যে মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ দেশকে রাতারাতি উন্নত দেশে উন্নীত করিয়া ফেলিবে। কিন্তু আমি ও আপনি জানি যে ঐসব দালালগুলা কেন এইরকম ফাল পাড়ে। ইতিহাস আমাদেরকে শিক্ষা দিয়াছে বরাবর যে মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রথমেই দেশীয় শিল্প ধ্বংস করিয়া থাকে এবং সেইখানে তৈরী করে বৃহৎ পুঁজির আধিপত্য আর বৈদেশিক বিনিয়োগ তৈরী করে একটা সুবিধাভোগী এলিট (elite) শ্রেণী। বৈদেশিক বিনিয়োগে ইহাদের ভাগ্যের ব্যাপক রদবদল হইলেও আমজনতার তখনও সেই পুরোনো বলদই ঠেলিতে হয়। উদাহরণ চাইলে আমি শুধু আপনাকে জিজ্ঞাসা করিব - বাংলাদেশ মুক্তবাজার অর্থনীতি যুগে প্রবেশ করিবার পর থেকে আজ পর্যন্ত কতগুলো কল-কারখানা বন্ধ হইয়া গিয়াছে? গ্রামীন ফোনওয়ালারা আপনার দেশের কতটা সার্বিক উন্নয়ন ঘটাইয়াছে? আমাগো দেশের মানুষ এখন ভাত খাইতে না পারিলেও ফোনে কথা বলিতে পারে, এইটারে কি আপনি উন্নয়ন বলিবেন? প্রশ্নগুলো সহজ আর উত্তরও তো জানা।

আপনি টক-শোগুলাতে নিয়মিতই ঘুরাইয়া ফিরাইয়া কিছু ডানপন্থী মুখ দেখিতে পাইবেন। আপনার মাঝে মাঝে নিশ্চয়ই মনে হইতে পারে যে একজন হয়তোবা একটু প্রগাতিশীল । তাহা নয়, বরং আমি আপনাকে বলছি যে ইহারা ঝগড়া করেন এইটা লইয়া যে কে কত বেশি মাত্রায় কর্পোরেট ওয়ালাদের দালাল। খুব ভালো করিয়া খেয়াল করিলে আপনিও দেখিবেন যে এই টকশো গুলো কিভাবে সাজানেরা হইয়াছে। এইসব টকশোগুলোতে কি লইয়া আলোচনা হইবে, কাহারা আলোচনা করিবে এবং যাহাদেরকে প্রশ্ন করিতে ডাকা হয় তাহা কিভাবে নির্ধারিত হয়? এই মূহুর্তে যাহাদেরকে টকশো গুলিতে গালাগালি করা হইতেছে কয়েকদিন আগেও তাহাদের লইয়া নানা রকম অনু্‌ষ্ঠান করিতে ইহারাই ব্যতিব্যস্ত ছিল। তাহারা কিভাবে খাওয়া-দাওয়া করে, কিভাবে ঘুমাইয়া থাকে, নাক ডাকে কিনা, ডাকিলে ইহাতে তাহার সঙ্গী/সঙ্গিনীর প্রতিক্রিয়া কিরূপ হয়, শীতের দিনে তাহারা কাঁথা-কম্বল ব্যবহার করেন কিনা এইসব নিয়া তাহাদের কত্তোরকম বাহারি অনুষ্ঠান। এমনকি এইসব মিডিয়া ইহাদের দিয়া গানও করাইয়াছে যেন আমজনতাকে বুঝাইতেছে যে দেখ ইহাদের হৃদয়েও রহিয়াছে ভালোবাসার ফল্গুধারা। আজ এইসব মিডিয়াগুলোর অনুষ্ঠানের প্রায় এক চতুর্থাংশ ব্যয় হয় ইহাদের মুন্ডুপাত করিতে। কারণ ইহারা সুনিশ্চিতভাবেই জানে এখন মনিব কাহারা এবং এখন কাহাদের পা চাটিতে হইবে। Live Show গুলা আরো সুপরিকল্পিত, আপনার ফোন কল এইক্ষেত্রে আগেই Tape করা হইয়া থাকে। তখনই উপস্থাপক/ উপস্থাপিকা বলিয়া উঠেন যে এইবার আমরা দর্শকদের কাছ থেকে একটা প্রশ্ন নিব যখন আপনার প্রশ্নে এইরকম কিছুই থাকে না যাহার উত্তর তো দূরের কথা প্রশ্ন শুনিলেই আলোচনাকারীদের গর্ত খুঁজিবার কথা। যদিও অতখানি লজ্জাবোধ তাহদের আছে বলিয়া আমাদের মনে হয় না কেননা দালালি করিবার পূর্বশর্তই হইলো নির্লজ্জ হওয়া।

এখন প্রশ্ন আসিতে পারে যে তাহারা এতসব করিয়া থাকে কিভাবে। সোজা সাপ্টায় বলিতে গেলে বলা যায় যে কর্পোরেট মিডিয়াওয়ালারা এইগুলা করিয়া থাকে তাহাদের অর্থনৈতিক ক্ষামতা দিয়া। আপনি ডানপন্থীদের সুরত প্রতিদিন মিডিয়াগুলোতে এইজন্যে দেখিতে বাধ্য হোন না যে জনগণ তাহাদের কথা শুনিতে চায় বরং এই জন্যে যে তাহাদের রহিয়াছে কর্পোরেট স্পন্সর। UCB সংবাদ শিরোনাম, Grameen Phone খেলার খবর, Standard Chartered বাণিজ্য সংবাদ ইত্যাদি হরেক রকম জিনিসই আপনাকে হজম করিতে হয় খবর দেখিতে ও শুনিতে গিয়া। তাহাদের নাম আপনাকে হাজারবার শুনিতে হইতেছে এইজন্যে নয় যে তাহারা রাজনৈতিক আবেদনময়ী বরং এইজন্য যে তাহারা সস্তা। সস্তা হইয়া যাওয়াই হইলো ব্যাপকহারে ভোগের প্রথম এবং প্রয়োজনীয় শর্ত। এইখানে আসিয়া চিরায়ত অর্থনীতির Supply-Demand তত্ত্ব ভাঙ্গিয়া পড়েঃ যোগান তৈরী করে চাহিদা (Supply creates demand)অতিশ্রব এইখানে তাহারাই ভোগ করেন বাক স্বাধীনতা যাহারা আধিপত্যবাদীদের বিশেষত কর্পোরেট Uncle Samদের স্বার্থের জন্যে ডাস্টবিন এর ময়লা ঘাঁটিতে, এমনকি খাইতেও রাজী থাকেন।

বামপন্থীদেরও মাঝে মাঝে এইসব টক-শোগুলিতে দেখা যায়। সেমিনার, আলোচনা অনুষ্ঠান ইত্যাদিতেও তাহারা থাকেন। খটকা লাগে, স্বাভাবিকভাবেই। এইটা কি করিয়া সম্ভব? এইখানে এক ধরনের চালবাজি আছে। চ্যানেলগুলা মধ্যবিত্ত দর্শকদের (যাহারা নিজেদেরকে বেশ সংস্কৃতমনা ও রাজনীতিজ্ঞ ভাবেন) বুঝাইতে চাহে যে তাহারা বেশ নিরপেক্ষ এবং তাহারা কাহারো নিয়ন্ত্রণাধীন নহে। surface level এর দর্শক ইহাতে বেশ তৃপ্ত বোধ করিয়া থাকে। কাজে কাজেই চ্যানেলগুলার উদ্দেশ্যও সফল হইয়া থাকে। এখনও আমাদের দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হইলো দুই দলের রাজনীতিবিদদের ঝগড়া/গালাগালি সংক্রান্ত যে কোন কিছু।

আবার কাণ্ড দেখেন, বামপন্থীদের বইপত্রও বাজারে পাওয়া যায়। অবাক না হইয়া একটু খোঁজ খবর নিলেই দেখিতে পাইবেন যে ইহাদের প্রকাশকদের অবস্থা খুব একটা ভালো নহে। ইহারা অত্যন্ত সংগ্রাম করিয়া প্রকাশনা জগতে টিকিয়া আছে। বইয়ের কাটতিও নাই সেই রকম, পত্র-পত্রিকায় এইসব বই লইয়া আলোচনাও প্রায় হয় না বলিলেই চলে। ঐদিকে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ক্যামেরাগুলা তখন শেরাটন হোটেলে ক্যাটওয়াকরত মডেলের নিতম্বের ঝাকানাকাগুলো ফ্রেমে ধরতে চূড়ান্ত কসরতে রত। আমি, আপনি তো সারাদিন খাইটাখুইটা গিয়া বইপত্র নিয়া কোন আলোচনা অনুষ্ঠান দেখার লাইগা Television ছাড়িনা । তাহা হইলে সমীকরণ খানা কিরূপ দাঁড়ায়?

আমারা দেখিতে চাই বলিয়াই তাহারা ঐসব দেখায়?

নাকি তাহারা ঐসব দেখায় বলিয়াই আমরা দেখিতে প্রথমে বাধ্য, তারপর অভ্যস্ত এবং এক্কেবারে শেষে আসক্ত হইয়া পড়ি?

আপনি বুদ্ধিমান পাঠক, আপনি সমীকরনটা জানেন, সেইসাথে সমাধানটাও ।

অতএব বামপন্থীদের মিছিল,জনসভার দর্শক এবং তাতে অংশগ্রহণকারীদের মতোই তাহাদের বইয়ের পাঠকদের সংখ্যাও হাতে গোনা যাইবে। আর যাহাদের লইয়া বামমপন্থীরা বই লিখিয়া থাকে তাহাদের অধিকাংশ তো পড়িতেই জানেনা! বুঝেন ঠ্যালা।
এতক্ষণ পর্যন্ত যাহা বলিলাম তাহার সারমর্ম মোটামুটি এই যে অন্যান্য সবকিছুর মতোই বাকস্বাধীনতা জিনিসটাও একটা পণ্য এবং ইহাকেও বাজারজাত করিতে হয়। সেইজন্যেই এই বাজারে তাহাদের গলাই আমরা শুনিতে পাই যাহাদের প্যান্টের পিছনের দিকটা স্বাস্থ্যবান। বামপন্থীদের গলা তো বাসের হর্নেই চাপা পইড়া যায়।

ক্ষ্যামতার যাহা তাহা করিবার ক্ষমতা
আমাদিগকে মানে আমজনতাকে সর্বদা বলা হইয়া থাকে যে ক্ষমতা আর স্বাধীনতা এক লগে যায় না,যাইবার পারে না। কতাডা এক্কেবারে ফ্যালনা না । জনগনের কষ্টার্জিত গণতান্ত্রিক অধিকারগুলা নিশ্চিতরূপেই শাসকশ্রেণীর যাহা তাহা করিবার ক্ষমতাকে বাধাপ্রাপ্ত করিয়া থাকে এবং সাথে সাথে ইহাও আপনাকে মনে রাখিতে হইবে যে এই অধিকারগুলো ধরিয়া রাখিবার জন্যেও আপনার ধারাবাহিক সংগ্রামের প্রয়োজন রহিয়াছে। আপনাকে সদা সতর্ক থাকিতে হইবে, প্রতিরোধ গড়িয়া তুলিতে হইবে এবং অতি অবশ্যই গণআন্দেলনগুলির সহিত সম্পৃক্ত হইতে হইবে। অন্যথায় অর্থাৎ গণআন্দোলনের অতুপস্থিতিতে ক্ষমতা আর স্বাধীনতার ঐ লাগালাগির সম্পর্কটাও অনুপস্থিত হইয়া যাইবে। সেইখানে বরং আপনি ইহাদের সহাবস্থাই দেখিবেন। দেখিবেন যে যাহার ক্ষ্যামতা নাই তাহার স্বাধীনতাও নাই। আমাদের স্বাধীনতা ততক্ষণই থাকবে যতক্ষন আমি আর আপনি একলগে পথে-ঘাটে সবরকম অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হইয়া উঠিব। একমাত্র এইডারেই শাসক শ্রেণী ডরায়।

আর বিশেষ কিছু বলিবার নাই। ইহার পরে প্যারেন্টি চাচা যাহা বলিয়াছেন তাহা একান্তভাবেই মার্কিন মুল্লুক লইয়া। ততদূর যাইবার সাহস বলেন আর শক্তি বলেন কোনটাই আমার নাই। অথচ এইখানে শেষ করিতেও মন চাহিতেছে না। কিন্তু আমি শেষ করিতেছি এই ভরসায় যে পাঠক এইখানেই থামিয়া যাইবেন না, এইখানেই শেষ হইবে না তাহার সমস্ত কৌতূহল...... এখনও যে ম্যালা প্রশ্নের উত্তর বাকী রহিয়া গেল !

Where have all the leftists gone?
কিছুদিন আগেও আমাদের এইখানে গণতান্ত্র্র্রিক বাম দলগুলিকে আমরা রাস্তায় দেখিতাম। দেখিতাম মিছিল করিতে, জনসভা করিতে, ছোটখাট ধর্মঘট করিতে। শাসক শ্রেণীর আধিপত্যের বিরুদ্ধে ইহারাই দুই-চার কথা বলিতেন। আমরাও বুকে বল পাইতাম, ভাবিতাম এ পোড়া বঙ্গদেশে আমাদের হইয়া কথা বলিবার লোকগুলি সব মরিয়া ভূত হইয়া যায় নাই। তবে তাহারা কোথায় গেল? বাহির হইয়া শুনিতে পাইলামঃ
Emergency picked them everyone.

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২১ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:১৯
মাহবুব সুমন বলেছেন: বস পড়লাম, পড়ার মতো লেখা। পরে আবার পড়ার জন্য শোকেসে রেখে দিলাম।
২. ২১ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:২৭
সামী মিয়াদাদ বলেছেন: কালকে এসে পড়াবো ঠান্ডা মাথায়....আপাতত শোকেইজ্ড
৩. ২১ শে এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৬
বহুরূপী মহাজন বলেছেন: যেখানে মানুষ দু'বেলা ঠিকমত খেতে পায় না সেখানে বাক স্বাধীনতা কোথায় থেকে আসবে? ক্ষুধার্ত মানুষ রাখতে হয়, নয়তো খাবার নিয়ে বানিজ্য হবে কিভাবে? এবং যখন আমার পেটে ক্ষুধা থাকে, তখন দুনিয়ার অন্যকিছু নিয়ে ভাবনার প্রশ্নই আসে না। যে কোন মূল্যে পেটের আগুন শান্ত করার উপায় খুজি। কিসের অধিকার আর কিসের কি?
৪. ২১ শে এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩২
রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: বেশকিছু রূঢ় সত্য কথা আছে এখানে, সত্য কথা সবসময় ভালো লাগে আমার। সুতরাং প্রিয় পোস্টে চলে গেলো।
৫. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ২:৩৮
নিহন বলেছেন: রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: বেশকিছু রূঢ় সত্য কথা আছে এখানে, সত্য কথা সবসময় ভালো লাগে আমার। সুতরাং প্রিয় পোস্টে চলে গেলো।

আমারো ।
৬. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ১০:৪৩
দিনমজুর বলেছেন:
আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে এখানে যে, ক্ষুদা পেটের যে চিৎকার, সেটিরো অধিকার এরা কেড়ে নেয় যারা বাক স্বাধীনতার বড় বড় কথা বলে। ..... @বহুরূপী মহাজন
৭. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৭
সামী মিয়াদাদ বলেছেন: + দেয়া ছাড়া গতি নাই

আর আজীবন শোকেইজ্ড থাকার মতো লেখা

আপনার কাছ থেকে প্রতিনিয়ত লেখা চাই
৮. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৪
নিয়ান্দার্থাল বলেছেন: লিখার সাইজ দেখেই শোকেইজ্ড করেছি। সময় করে পড়ব। আপাতত যেটুকু পড়েছি সেটার জন্য +
১০. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪২
সিহাব চৌধুরী বলেছেন:
শ্রদ্ধেয় দিনমজুর ভাই,
অসাধারন লিখেছেন । টিভির বিজ্ঞাপনে মুক্ত বাজার, আমাদের এনে দিয়েছে অর্ণবের কন্ঠে প্যাকেট রবীন্দ্রসংগীত । আমাদের বেনিয়া টেলিকমউনিকেশানের ভিতরে ভাতগুলো ঢুকে গেছে । আর দুঃখ দুর্দশার কফিনে শেষ পেরেক - Emergency picked them everyone.

অফটপিকঃ
গতকাল রাতে লেনিন এর জন্মদিন উপলক্ষ্যে একটি পোষ্ট দিয়েছিলাম । সেখানে পূজিবাদ ও সাম্যবাদের তূলনামূলক কিছু আলোচনা হয়েছে । অনেকের মতে সাম্যবাদ নাকী বইতেই ভালো দেখায় । অনেকে লেনিনের সোভিয়েতের ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন, বিপ্লবের ভুল সিদ্ধান্ত হিসাবে । এসব বিষয়ে আমি আপনার কাছ থেকে ঋদ্ধ মন্তব্য আশা করছি ।
Click This Link
১১. ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১:০৬
|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন:
দৃষ্টিভঙ্গি এবং দৃষ্টিকোন , দুটোই জটিল।
কিন্তু সমাধান কি? আর সব সমীকরণেরে বামে নিয়া যাওন কি একধরনের সরলীকরণ না?

প্রিয় পোস্টে যোগ হইল।
২৭ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১:৪৪

লেখক বলেছেন:
সরলীকরণ বললে আপনার প্রশ্নটিকেই বলা যেতে পারে.....

সব সমীকরণের সমাধান বাদ দিয়ে যদি স্পেসিফিকালি বর্তমান পুঁজিবাদী দুনিয়ার সমস্যা সংকট থেকে উত্তরণের পথ খোঁজেন তবে বামে যাওয়া ভিন্ন কোন পথের কথা আমার জানা নেই....


ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৯৯৯ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
নাইল্যাকাডা ১ম বর্ষ, ২য় সংখ্যার প্রাপ্তিস্থানঃ
আজিজ সুপার মার্কেট
১। বইপত্র/ ২। জনান্তিক/ ৩। শ্রাবণ/ ৪। প্রথমা (একুশে)/ ৫। তক্ষশীলা/ ৬। লিটল...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই