আমার প্রিয় পোস্ট

কর্ণেল তাহের আজো প্রাসঙ্গিক ১: কর্ণেল তাহেরের পিপলস আর্মি

০৬ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ৯:৫৩

শেয়ারঃ
0 13 0

অ্যাডজুটেন্ট জেনারেলের পদ থেকে তাহেরকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের পুরো বিগ্রেডের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হলে- তাহের 'পিপলস আর্মি'র মডেল দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন। কুমিল্লা বিগ্রেডের দায়িত্বে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জিয়া- তাকে মেজর জেনারেল ও উপ সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দিয়ে বদলি করা হয় ঢাকায়। জিয়া চলে গেলে তাহের পুরো বিগ্রেডের দায়িত্ব নেন এবং খোল নালচে পালটে ফেলেন বিগ্রেডের।

পুরো বিগ্রেডকে ফল ইন করে তিনি বলেন: "ক্যান্টনমেন্টে বসে শুধু পিটি, প্যারেড আর ভলিবল, ফুটবল খেললে চলবে না, মানুষের ভেতরে গিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে হবে"।

তিনি দায়িত্ব ভাগ করে দেন। বিগ্রেডের এডুকেশন কোরকে নির্দেশ দেন গ্রামে গিয়ে প্রাইমারী স্কুল আর বয়স্ক শিক্ষার অনানুষ্ঠানিক স্কুল খুলতে। মেডিকেল কোরকে তিনি বলেন ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে গ্রামে ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য শিক্ষা, প্রাথমিক চিকিৎসা জ্ঞান দিতে। উৎসাহে সৈনিকরা মিলে সব নেমে পড়ে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের আশেপাশের গ্রামে।

অন্য সিপাইদের তাহের লাগিয়ে দেন ক্যান্টনমেন্টের আশেপাশের পতিত জমিগুলোতে চাষ করতে। কাছেই কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কুমিল্লা বোর্ড। সেখান থেকে চাষাবাদ বিষয়ে নানা বই জোগাড় করা হয়। তাহের সব অফিসারদেরও বাধ্য করেন সকালে ক্ষেতে কাজ করতে।তারা সবাই তখন কৃষক। লাঙ্গল কোদাল নিয়ে অন্যদের সঙ্গে মাঠে নেমে পড়েন এক পাহীন বিগ্রেড কমাণ্ডার তাহেরও। ক্যান্টনমেন্টের আশেপাশে লাগানো হয় প্রচুর আনারস, লেবু গাছ, সেই সংগে শাল আর সেগুন গাছ। সবার মধ্যেই বেশ একটা উদ্দীপনা দেখা দেয়। ময়নামতি পাহাড়ি ঢালুতে আড়াই লাখ আনারস আবাদ করেন বিগ্রেড সৈনিকরা, আনারস বিক্রি করে ক্যান্টনমেন্টের আয়ও হয় প্রচুর। তাহের তার বিগ্রেডের প্রতীক করেন লাঙ্গল।

তাহের বলেন, "যুদ্ধের সময় অফিসার, সিপাইরা কি দুর্দান্তভাবে মিশে গিয়েছিল সাধারণ মানুষের সঙ্গে। আর যুদ্ধের পর তারা যেন হয়ে গেছে দুই পৃথিবীর বাসিন্দা। আমি এই দূরত্বটা ঘুচিয়ে দিতে চাই"।

আশেপাশের গ্রামে যেসব মেয়েরা যুদ্ধের সময় ধর্ষিতা হয়েছেন, যাদের স্বামী মারা গেছেন তাদের জন্য ক্যান্টনমেন্টের বাইরে তাঁবু টেনে থাকার ব্যবস্হা করা হয়েছিল। তাদের সেলাই শেখানো হয়। শেখানো হয় নানা কুটির শিল্প। ঐ মেয়েদের বানানো কাপড় এবং অন্যান্য উপকরণ দিয়েই উদ্বোধন হয় কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের পাশের খাদি দোকানগুলো, যা আজো দাঁড়িয়ে আছে।

তাহের সিপাই আর অফিসারদের ব্যবধান ঘুচিয়ে দেবারও নানা উদ্যোগ নেন। অফিসারদের নিজস্ব ক্লাব থাকলেও সিপাইদের বিনোদনের কোন ব্যবস্থা ছিল না তখন। তাহের সিপাই আর অফিসারদের পরিবার মিলে যৌথ পিকনিকের ব্যবস্থা করেন। সেনাবাহিনীর ইতিহাসে এমনটি আর ঘটেনি কখনো। সিপাইদের স্ত্রীদের জন্য করা হয় ক্লাবের ব্যবস্থা। সেখানে সিপাইদের স্ত্রীদের পরিবার পরিকল্পনা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষা দেন তাহের ও অন্যান্য অফিসারদের স্ত্রীরা। সিপাই, অফিসার মিলে আয়োজন করেন বিচিত্রা অনুষ্ঠান।

অফিসারদের নিয়ে বসেন তাহের। তাদের বলেন, "আমাদের আর্মির হিস্ট্রিকে তোমাদের ক্রিটিক্যালি দেখতে হবে। পাকিস্তান আর্মি যাদের নিয়ে তৈরী হয়েছিল এরা তো সব ব্রিটিশ আর্মিরই লোকজন। ব্রিটিশদের চাকরি করতো পরে পাকিস্তান হওয়াতে তারাই হয়েছে পাকিস্তান আর্মি। ব্রিটিশ আর্মিতে যে ইণ্ডিয়ানরা চাকরি করত, হোয়াট ওয়াজ দেয়ার রোল? ওরা ছিল একটা ভাড়াটে বাহিনী। লোকাল আপরাইজিংগুলোকে ঠেকানোর জন্য এই আর্মিকে ব্যবহার করা হতো। ঐ বাহিনীকে তারা লেলিয়ে দিয়েছিল সিরাজদৌল্লার বিরুদ্ধে, টিপু সুলতান- বাহাদুর শাহ জাফরের বিরুদ্ধে। ইণ্ডিয়ার সোলজার, অফিসার দেশের মানুষের বিদ্রোহগুলোর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে। এরা ছিল স্রেফ ব্রিটিশদের তাবেদার, ঠেঙ্গার বাহিনী। পাকিস্তান আর্মি তো ঐ ধরণের ব্রিটিশ ভাড়াটে বাহিনীরই কন্টিনিউশন। তাদের মাইণ্ড সেটটাও তো তাই, শুধু কারো না কারো তাবেদারি করা আর ঠেঙ্গানো। কিন্তু আমরা বাংলাদেশ আর্মি তো গড়ে তুলেছি একটা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। আমরা কেন ঐ লেগাসি ক্যারি করব? আর্মি এদেশের মানুষ দিয়েই তৈরি কিন্তু এই অর্গানাইজেশনটাকে সমাজের সবরকম কাজকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা আছে সবসময়। আর্মির লোকের সাথে সাধারণ মানুষের মেলামেশার কোন সুযোগ নেই। এতে করে একটা এলিটিস্ট মানসিকতা তৈরি হয়। যেন আর্মির কাজ হচ্ছে দেশের মানুষের উপর খবরদারি করা। এটা একটা তাবেদার আর্মির এজেণ্ডা হতে পারে। বাংলাদেশ আর্মির মাইন্ড সেটটা এমন হবে কেন- যার জন্ম হয়েছে একটা জনযুদ্ধের মধ্যে। আমাদের আর্মিকে হতে হবে পিপলস আর্মি"।

তাহেরের আশা ছিল- তার এই মডেল পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিগ্রেডগুলোতেও অনুসরণ করা হবে। কিন্তু সেটা হয় না। তাকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। মানতে না পেরে শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগই করেন।

তথ্যসূত্রঃ
"ক্রাচের কর্ণেল"- শাহাদুজ্জামান

 

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:১৪
কালপুরুষ বলেছেন: অনেক তথ্য জানা হলো। ভাল লাগলো।
২. ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:২৭
আকাশনীল বলেছেন: অসাধারন সব তথ্য জানানোর জন্য ধন্যবাদ।
হ্যাটস অফ টু কর্নেল তাহের।
৪. ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:৪৯
কঁাকন বলেছেন: জানতাম না জানলাম কত কিছুই যে জানি না হয়তো জানার চেষ্টাও করিনা ধন্যবাদ
৫. ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:৪৯
লেখাজোকা শামীম বলেছেন: বাংলাদেশে ভালো কাজের কোন দাম নাই। আকাম যারা করে তারা বেঁচে থাকে, পুরস্কার পায়। আর ভালো লোকেরা কেবল স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকে। তাদের মৃতু্যও হয় নৃশংসভাবে। এই জন্য কেউ ভালো কাজ করতে চায় না।
এখন কি কর্নেল তাহেরের এই পদ্ধতি আর্মির মধ্যে চালু করা সম্ভব ?
৭. ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:০৩
কাজ করে খাই বলেছেন: কাজের পোষ্ট - ধন্যবাদ। +
৮. ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:০৮
শান্তির দেবদূত বলেছেন: আফসোস !! এমন মানুষকেও আমরা ধরে রাখতে পারিনি ........ কর্নেল তাহেরকেও ফাঁসির কাষ্ঠে জীবন দিতে হয় :( !!!!!!!
১১. ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:৫১
কায়েস মাহমুদ বলেছেন:


তাহের বলেন, "যুদ্ধের সময় অফিসার, সিপাইরা কি দুর্দান্তভাবে মিশে গিয়েছিল সাধারণ মানুষের সঙ্গে। আর যুদ্ধের পর তারা যেন হয়ে গেছে দুই পৃথিবীর বাসিন্দা। আমি এই দূরত্বটা ঘুচিয়ে দিতে চাই"।



আজ আমরা তার এই কথা থেকে কত দূরে?
১২. ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:১৯
রাকিব খান বলেছেন: লাল সালাম তাহেরকে! লাল সালাম বাংলাদেশের সব বিপ্লবীকে!
১৩. ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:২৪
রাকিব খান বলেছেন: তাহের সর্ম্পকে আরও জানতে দেখুন http://www.col-taher.com/
১৫. ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৯
ভন্ডপির বলেছেন: খুব ভাল লাগল। অসংখ্য ধন্যবাদ।
১৬. ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১২:৪১
তর্পন বলেছেন: ... কিন্তু আমরা বাংলাদেশ আর্মি তো গড়ে তুলেছি একটা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। আমরা কেন ঐ(ব্রিটিশ বা পাক) লেগাসি ক্যারি করব...

খুব যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন । কর্ণেল তাহেরের লেখা আবারও পড়তে হবে মনে হচ্ছে । সময়োপোযোগী লেখার জন্য +
১৭. ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:১৬
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: আমার জ্ঞান খুবই সীমিত। তার পরও দু’একটা কথা বলি। সহনশীলতার সাথে শোনার জন্য অনুরোধ

"ক্রাচের কর্ণেল"- বইটি পরা হয়নি, পরার ইচ্ছা রইলো। তবে আমার পড়া বইগুলোর থেকে জানি, তাহেরকে অবসরে পাঠানো হয়, পঙ্গুত্বের অজুহাতে। পরে তিনি জাসদের গোপন রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পরেন। ৭ই নভেম্বরের তথাকথিত সিপাহী-জনতা বিপ্লব এর অন্যতম স্থপতি তিনি, যে বিদ্রোহ প্রথমে অহিংস থাকলেও পরে রক্তাক্ত হয়ে পরে, সৈন্যদের হাতে মারা পরে ১৩ জন অফিসার (ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে বিডিআর এর ঘটনায়। ঘটনার মাত্র ৯ ঘন্টা আগে আমি এ সংক্রান্ত একটি বই পড়তে পড়তে ভাবছিলাম, এও সম্ভব!! হাতেকলমে প্রমান পেয়ে গেলাম!!)

এই বিদ্রোহের ফলে জিয়া বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেলেও প্রায় সাথে সাথে কার্যত বন্দী হন তাহেরের অনুসারীদের হাতে, তারা তাদের বেশকিছু দাবী অস্ত্রের মুখে আদায় করে নেয়, বাকী গুলোও আদায়ের জন্য দুজনের মধ্যে ক্ষমতার রশি টানাটানি চলতে থাকে। তাহের চাইছিলেন জিয়াকে ব্যাবহার করতে, আর জিয়া তাহেরকে ব্যবহার করে মুক্তি পেয়ে ক্ষমতা নিরংকুশ করতে চাইছিলেন। প্রথমে তাহেরের অবস্থান ভাল থাকলেও সময়ের সাথে জিয়া সেনাবাহিনীতে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। এরপর তিনি আর দেরী করেননি। কঠোর হস্তে সমস্ত বিরোধীদের নির্মূল করার পদক্ষেপ নেন।

কর্নেল তাহেরের প্রতি আমার শ্রদ্ধা, তার বেশীরভাগ দাবী বাস্তবসম্মত, এবং বিবেচনার দাবী রাখে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে উনার পদ্ধতি ভুল ছিল এবং তৎকালীন পরিস্থিতিতে তা জাতীয় জীবনে এক বিপর্যয় ডেকে আনে। ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় জিয়ার কাছে তার পরাজয় ছিল একরকম অবধারিত, এবং এর পরিনামে তাকে জীবন দিয়ে তার মূল্য পরিশোধ করতে হয়।

এ লেখার উদ্দেশ্য কর্নেল তাহের বা জিয়া কারো সন্মানহানী নয়। আমাদের জাতীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা তারা, তাদের আদর্শ ভিন্ন ছিল, আরো পৃথক ছিল সেটা বাস্তবায়নের পদ্ধতি। ভুল ভ্রান্তি সম্ভবত দুজনেরই ছিল, দুজনেই মানুষ। “দানব আর মহাপুরুষের বিচার তাই ইতিহাসের হাতে ছেড়ে দেয়াই ভাল”।

ঘটনার বেলায় আমি নিজস্ব মতবাদের চাইতে সমসাময়িক মানুষদের লেখার উপর বেশি নির্ভর করেছি। এ লেখার মূল তথ্য এ বইটি থেকে নেয়া – তিনটি সেনা অভ্যুত্থান ও কিছু না বলা কথা – লেঃ কর্ণেল(অব) এম এ হামিদ, পি এস সি।

সুন্দর একটি লেখার জন্য ধন্যবাদ এবং +।

০৬ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:৪০

লেখক বলেছেন:
তবে আমার পড়া বইগুলোর থেকে জানি, তাহেরকে অবসরে পাঠানো হয়, পঙ্গুত্বের অজুহাতে।
========>>>>>>>>>
ঘটনা ঠিক তার বিপরীত।
৭২ সালের এপ্রিলে পাহীন অবস্থায় দেশে ফিরেন। তাকে সর্বোচ্চ খেতাব "বীর উত্তম" এ ভূষিত করা হয়। পদোন্নতি দিয়ে করা হয় কর্ণেল। দেওয়া হয় আর্মির অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল।

একদিন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা এলেন তাহেরের কাছে, বললেন: স্যার আমরা যারা যুদ্ধে পঙ্গু হয়েছি, তারা সবাই মিলে একটা সংগঠন করতে চাচ্ছি, আপনি হবেন তার প্রধান।

শুনে ক্ষেপে যান তাহের: পঙ্গু? কে পঙ্গু? দুটো পা আছে যার, তার চেয়ে অনেক বেশি কাজ করতে পারব আমি। ওসব পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধার ভেতর আমি নাই।

এমনটাই ছিল তাহেরের স্পিরিট।

তাহের এর পায়ের চিকিৎসার জন্য স্বয়ং বঙ্গবন্ধু তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন- কিন্তু পঙ্গুত্বের অজুহাতে কখনোই তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়নি।

বরং কুমিল্লা বিগ্রেডের দায়িত্ব পেয়ে তিনি প্রবল উৎসাহের সাথে কাজে নেমে পড়েন। কিন্তু তার এ সমস্ত কাজ কারবার সকলের পছন্দ হবে কেন?

সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ ডেকে পাঠান তাহেরকে। জানান যে, তাকে কুমিল্লা থেকে বদলি করা হয়েছে ডিফেন্স পারচেজ হিসাবে। তাহের শেখ মুজিবের সাথে দেখা করেন, বলেন: আমি একটা অ্যাক্টিভ কমাণ্ডে আছি- আমাকে কেন বদলি করা হলো?

শেখ মুজিব জানান: ঐখানে একজন সৎ লোক দরকার। নানা চুরিচামারি হয়, তুমি গেলে ভালো হয়।

কিন্তু তাহের ঠিকই বুঝতে পারেন- এসব সৎ লোক লোক- আসলে কিছু না- তিনি কুমিল্লায় যা শুরু করছিলেন তা যাদের পছন্দ না- তারাই বঙ্গবন্ধুর কান ভারী করেছিলেন। তিনি ডিফেন্স পারচেজে যেতে রাজি হলেন না- কেনাবেচার কাজ তার উপযোগী কাজ নয় বলেই তার মনে হয়েছিল।

এর মধ্যে আরো কিছু ঘটনা ছিল। তাহের সেনাবাহিনীর মধ্যে থেকে কিছু ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়েছিলেন- বঙ্গবন্ধুকে সেটা তিনি জানাতে গিয়েছিলেন- কিন্তু বঙ্গবন্ধু তাতে কান না দিয়ে বলেন: "যাও তোমার জায়গায় কাজ করো, এসব তোমাকে ভাবতে হবে না"। এরপরে বঙ্গবন্ধু লণ্ডনে যান, সেখান থেকেই পায়ের চিকিৎসার জন্য তাহের লণ্ডনে যেতে বলেন। তাহের জবাব লিখে পাঠান: "ব্যক্তিগত কারণে আমি এখন লণ্ডনে যেতে পারছি না। আমার চিকিৎসার জন্য যে টাকা খরচ হবে সেটা ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে দিয়ে দিলে বাধিত হব"। এটাও অন্যতম কারণ হতে পারে- তাহেরকে কুমিল্লা বিগ্রেড থেকে বদলি করার কারণ।


অবশেষে ১৯৭২ সালের ২২ সেপ্টেম্বরে সেনাবাহিনী থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক চিঠি দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি জানিয়েছিলেন:
"............. (খ) প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক ভাবে চাইতেন চিকিৎসার জন্য যাতে আমি বিদেশে যাই। যখন আমি দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছিলাম তখন আমি জানতে পারি যে মন্ত্রীসভার জনৈক সদস্য সহ সেনাবাহিনীর কিছু অফিসার প্রধানমন্ত্রীর দেশে অনুপস্থিতির সুযোগে দেশের ক্ষমতা গ্রহণের চেষ্টা করছে (সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীকে ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবহিত করেন) আমি তখন ভাবলাম প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরা পর্যন্ত আমার বিদেশে গমন স্থগিত রাখা উচিত। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলোই না, উপরন্তু সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ আমাকে ৪৪নং ব্রিগেডের কমান্ড ত্যাগ করে ডি ডি পি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে বলেন। আমি অনুভব করছি ষড়যন্ত্র এখনো চলছে এবং আরো অনেকে এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এই ধরনের ক্ষমতা দখল হচ্ছে সামগ্রিকভাবে জনগণের আশা-আকাংক্ষার বিরুদ্ধে এবং এটাকে অবশ্যই রুখতে হবে। যুদি ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তাহলে সেনাবাহিনীর যে সুনাম রয়েছে তা নষ্ট হবে এবং সেনাবাহিনীতে আমার কাজ করা সম্ভব নয়। আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলাম একজন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অফিসার হিসেবে নয় বরং একজন মুক্তিযোদ্ধ হিসেবে, আমি এটাকে আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক বলে মনে করি। জনগণের স্বার্থই আমার কাছে সর্বোচ্চ। আমি সেনাবাহিনী ত্যাগ করে জনগণের কাছে ফিরে যেতে চাই; যারা মুক্তিযুদ্ধকালীন আমার চারদিকে জড়ো হয়েছিল। আমি তাদের বলবো কি ধরনের বিপদ তাদের দিকে আসছে। আমার পদত্যাগ পত্রগ্রহণ করা হলে আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ থাকবো। আপনার একান্ত বাধ্যগত তারিখঃ ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭২। লেঃ কর্নেল এম, এ, তাহের কমান্ডার, ৪৪ ব্রিগেড কুমিল্লা সেনানিবাস। "।
সূত্রঃ http://www.col-taher.com/resign.html

সুতরাং বুঝতেই পারছেন- তাহেরকে কেউ অবসরে পাঠায়নি- তিনি নিজে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছিলেন। এবং এখানে আরেকটি তথ্য জানা দরকার যে- সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পরেও কিন্তু তাহের অবসর জীবন যাপন করেন না। তিনি যোগ দেন নারায়নগঞ্জ ড্রেজিং সংস্থায়। ওসমানী তখন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন- ওসমানী তাহেরকে সেখানে ডিরেক্টর হিসাবে যোগ দিতে বললে- তাহের সেখানে যোগ দেন। তাহের নিজেকে পঙ্গু ভাবতেন না- আশেপাশের অন্যরাও সেরকম এপ্রোচ করেন নি।

ধন্যবাদ

০৭ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:৫৭

লেখক বলেছেন:
সিপাহী-জনতা বিপ্লবের বিষয়ে লিখেছি পরের পোস্টে:
Click This Link

১৮. ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৩:৪০
গাজী সালাহউদ্দিন বলেছেন:

.....আমার জানামতে কর্ণেল তাহের একজন খুব ভালো অফিসার ছিলেন ।

২০. ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৫:৫৩
সুমন বলেছেন: নিঃশঙ্ক চিত্তের চেয়ে জীবনে আর বড় কোন সম্পদ নেই - আমি তার অধিকারী। আমি তা আমার জাতিকে অর্জন করতে ডাক দিয়ে যাই। - কর্ণেল তাহের।
২১. ০৬ ই মার্চ, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২০
বাঙ্গাল বলেছেন: এইসব পড়লে খুব হতাশ লাগে...কি হবার কথা ছিল...আর কি হইলো...
২৩. ০৭ ই মার্চ, ২০০৯ রাত ১:৫৬
রোবোট বলেছেন: হুমম

অফিসার হত্যার ঘটনায় মনে হয় তাহেরের কারো ওপর কোন নিয়ন্ত্রণ ছিলো না।

ওনার ৭৫ এর ১৫ অগাস্টের ভুমিকাও প্রশ্নবোধক।
০৭ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ১১:৫২

লেখক বলেছেন:
৭৫ এর ১৫ আগস্টের ভূমিকা মানে???
কোন ভূমিকার কথা বলছেন????


জাসদের অবস্থান ছিল, সংগ্রাম ছিল বাকশালের বিরুদ্ধে- তাদের প্লানও ছিল একটা অভ্যুত্থানের বা বিপ্লবের; কিন্তু কোনভাবেই তারা ষড়যন্ত্রের ১৫ আগস্টের সাথে জড়িত ছিল না- ১৫ আগস্টকে সমর্থনও জানায়নি।


মোশতাক প্রথমে ভেবেছিল- যেহেতু জাসদ বাকশালের সরাসরি বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক শক্তি- সেহেতু ১৫ আগস্টকে তারা সমর্থন জানাবে, সে আশায় বেতার কেন্দ্রে তাহেরকে ডাকেন ও সহযোগিতার আহবান জানান- নতুন সরকারে যোগদান করতেও বলেন। মেজর রশীদ বলেন: " স্যার আপনি আমাদের সাথে থাকলে আর কোন প্রবলেমই থাকে না"। তাহের উদ্দীন ঠাকুর বলেন: "যা হবার হয়ে গেছে। এখন তুমি এসে কন্ট্রিবিউট করো টু টেক দি নেশন ফরোয়ার্ড"।

তাহের সেই আহবান প্রত্যাখ্যান করেন। তাহের বলেন: "নো ওয়ে। আমি আপনাদের সাথে থাকতে পারি না। দিস ইজ নট দ্য গভর্মেন্ট উই ওয়ান্টেড। নো কোশ্চেন। আপনারা শেখ মুজিবকে হত্যা করে উৎখাত করেছেন, কিন্তু আপনাদের সে রাইট নেই। জনগণ মুজিবকে নির্বাচিত করেছে, জনগনেরই অধিকার আছে তাকে উৎখাত করার। বাট ইট ইজ টু লেট নাউ। এখন অ্যাজ সুন অ্যাজ পসিবল একটা জেনারেল ইলেকশন দেন এবং সব পার্টির অংশগ্রহণ এনশিওর করেন। আর কোনো কন্সপিরেসি করবার চেষ্টা করবেন না"।

বেতার কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসে তাহের ও ইনু। জাসদের মিটিং এও খন্দকার মোশতাকের এই টেক ওভার মেনে নেয়া হয় না। বরং একে আরো ক্ষতিকর হিসাবে চিহ্নিত হয়, কারণ: "এই ক্ষমতা পরিবর্তন রুশ-ভারত বলয় থেকে বেরিয়ে ঢুকেছে মার্কিন বলয়ে। যেটা আগের চেয়েও ক্ষতিকর এবং জাসদ বাকশালের বিরোধিতা করলেও তারা মনে করে না বাকশালের বিকল্প মার্শাল ল"।

এবং মজার ব্যাপার হলো, খন্দকার মোশতাকের সরকারে আওয়ামিলীগ-বাকশালের অনেককে পাওয়া গেলেও (ভয়ে বা সুযোগের অপেক্ষায় থাকার উদ্দেশ্যে বা আখের গোছানের উদ্দেশ্যে)- জাসদের কাউকে তিনি পাননি। আর সেকারণে- আওয়ামিলীগের ডেডিকেটেড নেতাদের (যারা মোশতাককে মানতে পারেনি- চার নেতা সহ) জেলে পুরে মোশতাক সম্পূর্ণ মনোযোগ দেন জাসদের দিকে। সারাদেশে জাসদের অসংখ্য নেতাকে জেলে পুরেন।

বস্তুত, বাকশাল সময়কাল থেকেই জাসদ নেতাদের উপর ধর-পাকড় শুরু হয়- মোশতাকও সেটা কন্টিনিউ করেন; ফলে ৭ নভেম্বরে সিপাহী-জনতা বিপ্লবের সময় জাসদের ফ্রন্ট লাইনের অনেক নেতাই ছিলেন কারারুদ্ধ। এটাও ঐ বিপ্লব ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ।



যাহোক, অনেক কথা বলে ফেলেছি- আশা করি, বুঝতে পারছেন- ৭৫ এর ১৫ আগস্টের সাথে কর্ণেল তাহের বা জাসদের কোনই সংশ্লিষ্টতা ছিল না।

২৪. ০৭ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৯
সহীদুল হক মাণইক বলেছেন: নিঃশঙ্ক চিত্তের চেয়ে জীবনে আর বড় কোন সম্পদ নেই - আমি তার অধিকারী। আমি তা আমার জাতিকে অর্জন করতে ডাক দিয়ে যাই। - কর্ণেল তাহের।তােহর লাল সালাম
২৫. ০৮ ই মার্চ, ২০০৯ সকাল ১০:৫০
রোবোট বলেছেন: আমি ১৫ই অগাস্ট নিয়ে যত লেখ পড়েছি তাতে এরকম কিছু পাইনি। (আমি সব বই পড়িনি)
কোন বিচিত্র কারণে খালেদ মোশাররফকে ভারতীয় দালাল প্রমাণ করার জন্য জাসদ ও "সিপাহী-জনতা" উঠে পড়ে লেগেছিলো। যদিও ৩৩ বছরেও প্রমানিত হয়নি।

৭২--৭৫এ জাসদ মুজিব সরকারের সাথে যত ফাইট করেছিলো, মোশতাকের সময় যদি তার অর্ধেকও করত, তাহলে মনে হয় দেশটা বেচে যেত।


অফিসার হত্যাকান্ড নিয়ে কিছু বলেন।
০৮ ই মার্চ, ২০০৯ বিকাল ৪:১৬

লেখক বলেছেন:
১৫ আগস্ট নিয়ে যত লেখা পড়েছেন তাতে কি পাননি? আমার উপরের আলোচনায় কোনটি পাননি, বা কোন জায়গাটি অগ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে?

আপনি নিজে আরেকটু খোঁজ করুন....। খন্দকার মোশতাকের কেবিনেট এ কারা ছিল? বাকশালের বা আওয়ামিলীগের কোন কোন নেতা মোশতাকের বিরোধিতা করেছেন? মোশতাকের কেবিনেট এ একটা জাসদ নেতার নাম বলেন? জাসদের এমন একজনের নাম বলেন যাকে মোশতাক জেল থেকে বের করেছে? রব-জলিল এনারা ঐ সময়টাতে কোথায় ছিলেন?

দেখুন- খুব সহজ হিসাব- আওয়ামিলীগ সরকারের এবং বাকশালের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংগ্রামে বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে জাসদ। ফলে- যখন মোশতাক গং ক্ষমতা দখল করলো- তখন জাসদকেই কিন্তু তাদের মিত্র মনে হওয়াটা স্বাভাবিক। অথচ- মোশতাকের কেবিনেট এ একজনও জাসদের লোক থাকবে না, কেন? একটাই কারণ হতে পারে না যে, জাসদ এই ষড়যন্ত্রের ক্যু কে মেনে নেয় নি ও বিরোধিতা করেছিল? এবং এটাও দেখুন- ১৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জাতীয় চার নেতা সহ কিছু আওয়ামি নেতার বাইরে সারাদেশে সমস্ত ধরপাকড়ই হয়েছে জাসদের উপর। কেন?

কারণ, হত বিহবল আওয়ামিলীগ সম্পূর্ণ নিশ্চুপ ছিল। ১৫ আগস্টের পর প্রথম আওয়ামিলীগের মিছিল অনুষ্ঠিত হয়- খালেদ মোশাররফের পাল্টা অভ্যুত্থানের পরে। অথচ- এই সংকট সময়ে একমাত্র জাসদই কিন্তু প্রতিবাদ করে গিয়েছে। ফলে- ধর পাকড় হয়েছে তারাই। এবং সেই সাথে মনে রাখুন- জাসদ কিন্তু ৯ নভেম্বর সারাদেশে হরতালও আহবান করেছিল। এবং সেটা সেই সামরিক শাসনামলেই (মোশতাকের সরকারের বিরুদ্ধেই ছিল হরতাল- কিন্তু এর মধ্যে পাল্টা অভ্যুত্থানে ২ নভেম্বরে খালেদ মোশাররফ সামনে আসেন)।

---------------------------

খালেদ মোশাররফকে ভারতের চর বানানোর কোন রাজনৈতিক কর্মসূচিই তাহের বা জাসদের ছিল না। খালেদ মোশাররফ ২ নভেম্বর সামরিক অভ্যুত্থান ঘটান; সিপাহী বিপ্লব ঘটে ৭ নভেম্বরে। মাত্র ৫ দিন সময়, এ সময়ে কাউকে ভারতীয় চর বানানোর কোন ফুসরতই তাহেরদের ছিল না। তবে হ্যা- ২ নভেম্বরে মোশাররফের মায়ের নেতৃত্বে আওয়ামিলীগের মিছিল, ভারতের এই খবরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার, .... ইত্যাদির কারণে ঐ সময়েই অনেকেই এটাকে ভারতের সহযোগিতায় গুপ্ত ক্যু বলেছিলেন। বিশেষ করে- মোশতাকরা এমন চিন্তার জায়গা থেকেই জেল হত্যা সংঘটিত করে। তাদের ভয় ছিল- খালেদ মোশাররফ হয়তো সেই বাকশালকেই টেনে আনছেন, সে হয়তো রুশ-ভারতের চর; চার নেতার হাতে রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তর করলে তো আবার আগের মতোই বাকশাল কায়েম হয়ে যাবে- স্বপ্নের ইসলামী বাংলাদেশ কায়েম আর হবে না..... এসব ভয়ের জায়গাটাই ছিল প্রধান মোশতাকের- তাই তো তড়িঘড়ি ৩ নভেম্বরেই জেল হত্যা সংঘটন।

অথচ- খালেদ মোশাররফের এসব কোন উদ্দেশ্যই ছিল না। তিনি চেয়েছিলেন সামরিক বাহিনীতে চেইন অব কমাণ্ড প্রতিষ্ঠা করতে, মেজর র‌্যাংকের রশীদ-ফারুকদের বেয়াদবি সেসময়ে অনেক অফিসারদেরই গাত্রদাহ ছিল। এবং মজার ব্যাপার এই ক্যুটি করার পরে যেখানে মোশাররফ চাইলে দেশের ক্ষমতাটাই দখল করতে পারতেন- সেখানে তিনি ব্যস্ত ছিলেন- সেনাবাহিনীতে নিজের চিফ অব স্টাফ পদটি নিশ্চিত করার ব্যাপারে!!!! রাজনৈতিক সরকারের ব্যাপারে তার কোন চিন্তা ভাবনা- পরিকল্পনা কিছুই ছিল না। মোশতাককে উৎখাতের পরে বাস্তবে ঐ ৫ দিন কোন সরকার ছিল না দেশে। অথচ সেরকম পরিকল্পনা থাকলে- প্রথমেই তিনি চারনেতাকে উদ্ধারের উদ্যোগ নিতে পারতেন, অন্তত রশীদ-ফারুককে বিদেশে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করতেন না।

এসমস্তই তাহের ভালো জানতেন। জানতেন জন্যই- তাকে ভারতের চর বলার বা প্রচার করার কোন প্রয়োজন তিনি বা জাসদ দেখেননি।

-----------------------
খালেদ মোশাররফের বিরুদ্ধে আবার সিপাহী বিপ্লবে কেন তাহলে তাহের মনোযোগী হলেন?

এর জবাব- পরিস্থিতি বাধ্য করেছে। স্বশস্ত্র বিপ্লবের স্বপ্ন তাহের বা জাসদ দেখতো, সে অনুযায়ি তাদের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, বঙ্গবন্ধুর আমল থেকেই তাদের প্রস্তুতি ছিল (ভাবনায় মোটামুটি ৭৬ সালের মাঝামাঝিতে ব্যাপক জনগণের-কৃষক-শ্রমিকের অংশগ্রহণে একটা বিপ্লব ঘটিয়ে বাকশালকে উৎখাত করার পরিকল্পনাও হয়তো ছিল)। এরমধ্যে সেনাবাহিনীর কিছু সৈনিকের সাথে জাসদের যোগাযোগ তৈরি হয়- তাহেরের নেতৃত্বে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা গড়ে উঠে, এবং এই সংস্থার কাজ ৭৪-৭৫ সাল নাগাদ ব্যাপক বিস্তৃতও হয়। এর মধ্যে ১৫ আগস্টের ঘটনা, পুরো সেনাবাহিনীতেই একটা চরম অরাজক ব্যবস্থা, দম বন্ধ অবস্থা বিরাজ করছিল। এ প্রেক্ষাপটে- সৈনিকরা বিপ্লবী সৈনিক সংস্থায় যুক্ত হতে থাকে। এবং সর্বশেষ ২ নভেম্বরে অভ্যুত্থানের এক পর্যায়ে- রশীদ-ফারুক এর বিগ্রেড আর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কয়েকটি বিগ্রেড সম্পূর্ণ মুখোমুখি দাড়িয়ে যায়। মুখোমুখি দুই বিগ্রেডে এক সৈনিক আরেক সৈনিকের দিকে অস্ত্র তাক করা অবস্থায় ছিল। দুই বিগ্রেডেই সৈনিক সংস্থার কর্মী।

এই প্রেক্ষাপটে- সৈনিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। অফিসারদের ক্ষমতার কামড়াকামড়িতে সৈনিক ভাইয়েরা একে অপরের বুকে অস্ত্র কেন ধরবে- এটাই ছিল সৈনিকদের আপত্তির ও অসন্তোষের মূল জায়গা। এর সাথে তো আগের সমস্ত বৈষম্য-বঞ্ছনাগুলো তো ছিলই।

এ পরিস্থিতে তাহের এটা বুঝতে পারে যে- এ সময়েই যদি সৈনিক সংস্থার নেতৃত্বে বিপ্লব/অভ্যুত্থান না ঘটানো হয়- তারপরেও সৈনিকরা নিজেরাই একটা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ফেলবে। তার পরিণতি হবে ব্যাপক- এবং এতদিনের প্রস্তুতিটাও হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

জাসদের মিটিং এ যখন তাহের বিপ্লবের কথা বলেন- তখন প্রায় সকলেই প্রথমে আপত্তি করেন- কেননা কোনমতেই জাসদের প্রস্তুতি ছিল না। ফ্রন্ট লাইনের নেতারা সব জেলে। কিন্তু ঐ রকম পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত তারাও মত দিয়ে দেয়।

----------------------
৭২-৭৫ এ যেরকম ফাইট দিয়েছিল- মোশতাকের সময়েও জাসদ তা কমায়নি। কিন্তু বুঝতে হবে- ঐ সময়ে জাসদের অসংখ্য নেতা কর্মী তখন জেলে; আর ১৫ আগস্টের পর থেকে সামরিক শাসন চালু করে (বেসামরিক লোকের সামরিক শাসন ইতিহাসে ঐ একটিই)। এর মধ্যে যতখানি করা সম্ভব- তা করে গেছে। কিন্তু মোশতাক গং এর হাত থেকে দেশটাকে বাচানো মানে একটা অল আউট বিপ্লব করার মত সামর্থ বা প্রস্তুতি ঐ সময়ে জাসদের ছিল না।

--------------------------
অফিসার হত্যাকাণ্ড নিয়ে আপনি নিজেই তো জবাবটা দিয়েছিলেন।

একটা বিষয়, দুনিয়ার কোন বিপ্লবই রক্তপাতহীন নয়। ফরাসী বিপ্লব বলেন, আমাদের বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন বলেন, মুক্তিসংগ্রাম বলেন- কোনটিই রক্তপাতহীন নয়। ক্ষুদিরাম বোমা মেরে যে বেসামরিক-নিরস্ত্র বৃটিশ পরিবারকে মেরেছিল- সেই পরিবারেরর আত্মীয় স্বজনেরা নিশ্চয়ই অনেক কষ্ট পেয়েছিল- মেলা কান্নাকাটি করেছে, চার্লস ডিকেন্সের টেল অব টু সিটিজ পড়লে মনে হয়- সম্ভ্রান্ত ভদ্রলোকগুলোকে কিভাবে বেয়াদব বিপ্লবী হেনস্তা করে যাচ্ছে- সম্রান্ত-অভিজাত জমিদার শ্রেণীর লোকদের কান্না আমরা দেখি, এভাবে আলো ফেললে- ক্ষুদরামকে সন্ত্রাসী বলা যায়, ফ্রেন্স বিপ্লবীদের ঘৃণ্য মনে হতেই পারে- কিন্তু তার সাথে দীর্ঘদিনের লাঞ্ছনা-বঞ্চনার ইতিহাসকে, বৃটিশদের- জমিদার শ্রেণীর অন্যায়-নির্যাতন-নিপীড়নকে আনলে সিদ্ধান্ত কি একই রকম থাকে?

দীর্ঘদিনের লাঞ্ছনা-বঞ্চনা থেকে যখন মানুষ ঘুরে দাঁড়ায়- এবং সেখানে যদি কোন টার্গেট না থাকে- কোন আদর্শ না থাকে- শুধু ক্ষোভ মেটানোই যখন উদ্দেশ্য থাকে, তখন মব সাইকোলজি নৈরাজ্যের দিকের ধাবিত হয়। মব সাইকোলজি খুব ভয়ঙ্কর জিনিস- এটাকে যদি নিয়ন্ত্রণে রাখা না যায়- তখন সেটা অনেক ধ্বংসাত্মক হতে পারে। তবে- ৭ নভেম্বরের সিপাহী বিপ্লব কোন অসংগঠিত মুভমেন্ট নয়- ফলে এটাকে পুরো নৈরাজ্যও বলা যাবে না। যতখানি নিয়ন্ত্রণ ছিল- ততটুকু এটা নিয়মতান্ত্রিক, যতটুকু নিয়ন্ত্রণ করা যায় নি- ততটুকু নৈরাজ্য হয়েছে। অফিসার হত্যাকাণ্ড সেরকমই নিয়ন্ত্রণের ফাক গলে হওয়া কিছু নৈরাজ্যের নমুনা। ৫ নভেম্বরে এলিফেন্ট রোডের বাসায় সৈনিক সংস্থার বৈঠকে তাহের বিপ্লবের যে রূপরেখা-কর্মসূচি দাঁড় করান- সেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেন : একেবারে প্রাণ বাচানোর তাগিদ ভিন্ন কোনরকম খুন-খারাবি করা যাবে না এবং কোন লুটপাট করা যাবে না। এমনকি- খালেদ মোশাররফকে বন্দী করা ও বন্দী জিয়াকে মুক্ত করে নিয়ে আসার কর্মসূচীর কথা বলা হলে- কোন কোন সৈনিক জিয়া-মোশাররফ কে মেরে ফেলার প্রস্তাবও করেন। জোর গলায় তাহের জানিয়ে দেন: দেশকে কোন প্রকার অনিশ্চয়তার দিকে নেয়া যাবে না- সৈনিক দের দাবিদাওয়াই হবে মূল সেন্টার- কোন প্রকার খুন খারাবি করা চলবে না।

এটা ঠিক যে- এরপরেও অফিসার খুন হয়েছে, এটা খুব অস্বাভাবিক নয়- কেননা বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সমস্ত সৈনিকই সৈনিক সংস্থার কর্মী নয়। বরং এতটুকু বলা যেতে পারে- সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার কারণেই রক্তগঙ্গা না বয়ে অল্প কয়েকজন অফিসার মাত্র খুন হয়েছেন। যে সংখ্যাটি বলা হয়- তার মধ্যেও আবার দুজন মরেছে অফিসারের হাতেই এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বাইরে।

যাহোক- সৈনিকের হাতে অফিসারের হতয়া হওয়ার কিছু ঘটনার কথা যা জানা যায়:
একজন মহিলা সামরিক ডাক্তারকে মারা হয়। যে সৈনিক মেরেছে- সেই সৈনিকের ব্যক্তিগত রাগ ছিল ঐ ডাক্তারের প্রতি- কিছুদিন আগে ঐ সৈনিক তার গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে গেলে মহিলা ডাক্তার খুব খারাপ ব্যবহার করে বের করে দেয়। আরেকজন অফিসার তাকে ঘিরে ধরা সৈনিকদের গালিগালাজ শুরু করে দিলে- এক সৈনিক গুলি করে ফেল।
এমন বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে আরো ভয়ংকর ঘটনা ঘটতে পারতো। রাতে একসময় " সৈনিক সৈনিক ভাই ভাই- অফিসারদের রক্ত চাই"- এই শ্লোগানও শুরু হয়েছিল- কোন এক দুজন হয়তো শুরু করেছিল- মবও শুরু করে দেয়- এই শ্লোগানের সাথে সাথে অফিসারদের বাড়ি বাড়ি যাওয়াও শুরু করেছিল- কিন্তু বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার কর্মীরা গিয়ে ত্বরিত পরিস্থিতি সামাল দেয়।

আপনাকে ধন্যবাদ।


২৬. ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:১৪
শুভ রহমান বলেছেন: ক্রাচের কর্ণেল একটি অসাধারণ ঐতিহাসিক উপন্যাস। ২০০৯ সালে বইটি একুশে বইমেলায় বের হয়েছিল। বর্তমানে আগাছা পরগাছা সাহিত্য উপন্যাসের ভীড়ে ব্যাতিক্রমী একটি সৃষ্টি। চমৎকার একটি কাজ।
২৭. ১৬ ই অক্টোবর, ২০০৯ রাত ১১:০৪
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: ১৭ নং মন্তব্যে লেখকের জবাবের জন্য ধন্যবাদ। আমার জানায় কিছু অসম্পূর্নতা ছিল, তা ধরিয়ে দিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের মাত্র কয়েকবছর পরেই এতগুলো দেশপ্রেমিক মানুষকে একসাথে হারালাম আমরা, এ ক্ষতি কোনদিন মিটবার নয়।
২৮. ১৯ শে অক্টোবর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:০০
সুবিদ্ বলেছেন: হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেনমুক্তিযুদ্ধের মাত্র কয়েকবছর পরেই এতগুলো দেশপ্রেমিক মানুষকে একসাথে হারালাম আমরা, এ ক্ষতি কোনদিন মিটবার নয়।

সহমত.......
২৯. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩০
প্রদীপ কুমার রায় বলেছেন: তাহেরকে নিয়ে আলোচনা করার মতো যুবকের খুবই অভাব। সেখানে আপনার প্রচেষ্টা আমাদের আশার আলো দেখাচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে তাহের রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা ও কর্মকান্ডকে বাঁচিয়ে রাখা খুবই প্রয়োজন। হয়তো সময়টা আপাততঃ পক্ষে নয়, কিন্তু এ অর্থ এই নয় যে, সময় একই রকম থাকবে। সেই পর্যন্ত যাদের যা ক্ষমতা আছে (যেমন আপনার লিখে ভাব প্রকাশের ক্ষমতা আছে), সেই ক্ষমতা দিয়ে দিয়ে তাহের আদর্শকে উজ্জবিত রাখুন।

অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে!
৩০. ১২ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৫০
সৌম্য বলেছেন: ৩৩ পদাতিকের এখন প্রতিক মুষ্ঠিবদ্ধ হাত। তাহেরের চিন্তা গুলো ব্যাতিক্রমী এবং প্রগতিশীল ছিল। কিন্তু পাশ্চাত্য বিশ্বের চোখে পুরাই কমুনিষ্ট। এরকম একজন সমরনায়ক যে চক্ষুশূল হবে সেটাই স্বাভাবিক।
আরেকখানে পড়ছিলাম কর্নেল তাহেরকে যেদিন কোর্টমার্শালের জন্যে নেয়া হয় উনার জ্যাগ (জাজ এডভোকেট জেনারেল) ছিলেন এমন একজন অফিসার যিনি পাকিস্তান আর্মি থেকে ডিফেক্ট করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে জরাননি, বরং সিনিয়র অফিসার হিসাবে যেসব লেফটেন্যান্ট/ সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট তার কাছে পরামর্শের জন্যে গেছিলো তাদেরকে ধরে ধরে পাকিস্তান আর্মি ইন্টালিজেন্সের হাতে তুলে দেন। বিচারের সময় সামরিক রীতিতে তাকে ডাকা হয়, স্থায়ী ঠিকানা অমুক, পিতা অমুক, অমুক পদাতিক ব্রিগেডের আবু তাহের উপস্থিত? উনি উত্তর দেন না। ৩/৪ বার ডাকার পরেও যখন উনি নিশ্চুপ বসে আছেন, তখন সেই বিচারক অফিসার জিজ্ঞেস করলেন, কর্নেল তাহের আপনি উত্তর দেন না কেন? উনি বলছিলেন। আমাকে শুধু 'আবু তাহের" বলে ডাকা হচ্ছে। কিন্তু আমি শুধু আবু তাহের না। আমার নাম কর্নেল আবু তাহার বীর উত্তম। বীর উত্তম খেতাবটা আমাকে কেউ উপহার দেয়নি। আমি যুদ্ধ করে অর্জন করেছি। আমার নামের সাথে বীর-উত্তম যোগ করে না ডাকলে আমি উত্তর দেব না।
পরে মার্শাল কোর্ট বাধ্য হয়ে 'কর্নেল তাহের, বীর উত্তম' বলে ডাকে এবং অবশেষে উনি উত্তর দেন আমি উপস্থিত।
৩২. ১১ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১:৩৭
দাসত্ব বলেছেন: ৩০ নং কমেন্ট পড়ে ভালো লাগলো ।
পোস্টের জন্য ধন্যবাদ
৩৩. ১১ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১:৪১
নস্টালজিক বলেছেন: প্রিয় তে নিলাম।।

পোস্ট টার জন্য অনেক ধন্যবাদ।।
৩৪. ১৯ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ২:৩৯
মনুমনু বলেছেন: নস্টালজিক বলেছেন: প্রিয় তে নিলাম।।

পোস্ট টার জন্য অনেক ধন্যবাদ।।

তাহের ছিলেন দেশের শেষ শিশির বিন্দু, যাকে দেখে বলা যেত ইনি আমাকে দেশ দিয়েছেন।
৩৫. ২০ শে মে, ২০১০ রাত ১১:৪২
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: "'৭৫ এর ক্ষুদি রাম, কর্ণেল তাহের লাল সালাম!!"
৩৬. ০৩ রা অক্টোবর, ২০১০ রাত ৮:০৩
""ফয়সল অভি "" বলেছেন: কর্ণেল তাহের আজো প্রাসঙ্গিক ১ ও ২ লেখাটি "দ্রোহ" চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশ করার অনুমতি চাইছি । আশা তথ্যগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াসে অনুমতি পাবো । আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ রইল ।

দ্রোহ এর দ্বিতীয় সংখ্যা পড়তে চাইলে>> http://www.droho.net/current-issue/

 

মোট সময় লেগেছে ১.০০৫১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
নাইল্যাকাডা ১ম বর্ষ, ২য় সংখ্যার প্রাপ্তিস্থানঃ
আজিজ সুপার মার্কেট
১। বইপত্র/ ২। জনান্তিক/ ৩। শ্রাবণ/ ৪। প্রথমা (একুশে)/ ৫। তক্ষশীলা/ ৬। লিটল...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই