আমার প্রিয় পোস্ট
- পাহাড়ি নিপীড়িত জনগোষ্ঠির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বায়ত্তশাসন দাবীর প্রশ্নে শাসকশ্রেণীর বিভিন্ন অংশের রঙ বে রঙের জোড়াতালি তত্ত্বের বিপরীতে একটি বিশ্লেষণ। - মনজুরুল হক
- লাক্স এর চামড়া ব্যবসা , দর্শকের দেহ কামনা আর ব্লগে ধর্ষকামী ভূতের আছর - ১ম পর্ব - রাগ ইমন
- সমূদ্র বক্ষে তেল/গ্যাস অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার ব্যয় সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার কে স্বচ্ছ করার প্রয়াস। - ভিন্ন চিন্তা
- সভ্য বিশ্বের নতুন ডাম্পিং গ্রেভইয়ার্ড-চট্টগ্রামের ভাটিয়ারি > জাহাজভাঙ্গার ভাগাড়ে মানুষ আর প্রকৃতির নিদারুন বিপর্যয়!! - মনজুরুল হক
- সাগর বক্ষে গ্যাস ব্লক ইজারার উদ্দেশ্য গ্যাস সংকট মোকাবেল না রফতানি? - ভিন্ন চিন্তা
- বাংলাদেশে তেল/গ্যাস অনুসন্দ্ধানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং গ্যাস সংকটের প্রেক্ষিত। - মনোয়ার আহমদ
- বিদেশিদের কাছে বঙ্গোপসাগরে ব্লক ইজারার প্রতিবাদকারীদের উপর পুলিশি নির্যাতনের চিত্র - অণৃণ্য
- পার্বত্য চট্টগ্রাম পাকিস্থানে অন্তর্ভুক্ত হলো যেভাবে : ইতিহাসের পথ ধরে একটি বিশ্লেষণের চেষ্টা - পড়ুয়া_পড়ুয়া
- টিপাইবাঁধ নিয়ে বাদ-প্রতিবাদ ও ভারত রাষ্ট্রের চরিত্র বিচার - ৫/শেষ পর্ব - আবু নাঈম
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- বাংলাদেশের জনশক্তি ও আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার আইন - ফকির ইলিয়াস
- শিল্পী এস এম সুলতান ও ভিনসেন্ট ভ্যান গঘঃ জীবন কারিগর - নাস্তিকের ধর্মকথা
- সমাজতন্ত্রে মুক্তির উপায়/ প্রতি শ্রদ্ধেয় দিন মজুর - বিহংগ
- নতুন আমল পার করছি পুরনো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে - ৪ - অনিশ্চিত
- পুঁজিবাদের থাবা,সমাজতন্ত্রের বাঁধা আর ভাষা দিবসে পুতুলের ধাঁধাঁ! - পুতুল
- নতুন আমল পার করছি পুরনো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে - ১ - অনিশ্চিত
- দিনমজুরের পোস্ট ধরে সন্ধ্যাপ্রদীপের পোস্ট ,সেখানেই আমার উপলব্ধি,উপলক্ষ সমাজতন্ত্রে মুক্তির উপায়। - বিহংগ
- বিশ্ব মানবতার মুক্তির জন্য সমাজতন্ত্রই একমাত্র পথ ?? - সন্ধ্যাপ্রদীপ
- মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর মাল্টি ডাইমেনশনাল প্রফিট ও আমাদের হতভাগা দেশের লাভ (একটি সহজ-সরল হিসাব) - বহুরূপী মহাজন
- ছাত্ররাজনীতি বা লেজুরবৃত্তির রাজনীতি বন্ধ করিলে কি হইবে??? - অেমাঘ অনল
- টপরেটেড পোস্ট লেখার বুদ্ধি পাইছি-- গ্রামীণ আর সব মোবাইল কোম্পনীগো গালি দিমু - কেএসআমীন
গ্যাস উৎপাদন কে করবে?
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ১:২৮
আসুন, আজ আবার কিছু হিসাবপাতি করি- মানে কিছু যোগ বিয়োগ গুন ভাগ আর কি।
কুপের হিসাব
আমাদের দেশে এ পর্যন্ত দেশী বিদেশী কোম্পানি মিলে মোট ৭৫টি অনুসন্ধান কুপ খনন করা হয়েছে- তার মধ্য দিয়ে ২৫ টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে(১)। অর্থাৎ সাফল্যের হার ৭৫:২৫ বা ৩:১ (এই হিসাব ১৯১০ সাল থেকে এ পর্যন্ত যত অনুসন্ধানী কূপ খনন করা হয়েছে তার, পূর্বের চেয়ে এখন সাফল্যের হার অনেক ভালো)। যদিও এই হার বাপেক্স/পেট্রোবাংলার ক্ষেত্রে আরো ভালো, কেননা পেট্রোবাংলা/বাপেক্স ১৮ টি অনুসন্ধান কুপ খনন করে ৮টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে(২)। সেক্ষেত্রে সাফল্যের হার ২.২৫:১। ১৯৮৯ সালে বাপেক্স গঠনের পর থেকে যদি হিসাবটি দেখি - তবে দেখবো বাপেক্স ৪ টি অনুসন্ধানী কুপ খনন করে ৩ টি গ্যাসক্ষেত্র পেয়েছে (সাফল্যের হার ১.৩৩:১)। অবশ্য বাপেক্সের ওয়েবসাইটে এই হারকে ২:১ বলে উল্লেখ করা হয়েছে(৩)।
তারপরেও ধরে নিচ্ছি- গড়ে বাংলাদেশে ৩টি কুপ খনন করলে ১ টিতে গ্যাস পাওয়া যাবে। ---------------------------------- (ক)
ব্যয়ের হিসাব
বাপেক্স বা এর পূর্বতন পেট্রোবাংলা ও ওজিডিসি এ পর্যন্ত যে ১৮ টি অনুসন্ধান কুপ খনন করেছে সেগুলোর ব্যয়ের দিকে দেখলে যাবে সর্বনিম্ন ব্যয় ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা (জালদী, ১৯৬৪-৭০ সাল) এবং সর্বোচ্চ ব্যয় ১০৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা (গভীরতম কুপ ফেঞ্চুগঞ্জ১, ১৯৮৫-৮৮ সাল)। গভীরতম কুপ ৪৯৭৭ মিটার গভীর হলেও বাংলাদেশে খননকৃত কুপগুলোর গড় গভীরতা ৩০০০ থেকে ৪০০০ মিটার, এবং সর্বশেষ ২০০৪ সালে কুপটির জন্য ব্যয় হয়েছে ৫২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা (৪)। সময়ের সাথে টাকার মূল্যমান পরিবর্তনশীল হওয়ার কারণে আমরা বর্তমানের ৩টি প্রজেক্টের ব্যয়ের দিকে একটু দৃষ্টি দেই। মোবারকপুর (৫), কাপাসিয়া(৬) ও সুন্দলপুরের(৭) অনুসন্ধান কুপের জন্য প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে (একনেক কর্তৃক অনুমোদিত) যথাক্রমে ৫৬.০৪, ৫৮.৯৫ এবং ৭৩.৬৫ কোটি টাকা।
গড়ে ধরি প্রতিটি অনুসন্ধান কুপের জন্য খরচ ১০০ কোটি টাকা। ------------------ (খ)
একইসাথে শাহবাজপুরের ২য় কুপ খনন (মূল্যায়ন ও উন্নয়ন কুপ) এবং উৎপাদনের জন্য প্ল্যান্ট বসানো সহ অন্যান্য খরচের জন্য প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৩.৫৯ কোটি টাকা (৮)।
গড়ে ধরি, উৎপাদনের খরচসহ উন্নয়ন কুপ খনন বা ওয়ার্ক ওভারের খরচ সহকারে অনুসন্ধান কুপ খননের জন্য ব্যয় ২০০ কোটি টাকা --------------------------------------------(গ)
ক এ আমরা ধরেছি প্রতি তিনটা কুপ খনন করা হলে একটি কুপ থেকে গ্যাস পাওয়া যাবে। ফলে দুটি কুপ শুষ্ক ও একটি গ্যাস কুপ ধরে হিসাব করি।
সুতরাং, বাপেক্সের একটি সফল কুপ থেকে উৎপাদনের জন্য মোট ব্যয়ঘবে = খ *২ + গ = ১০০*২ + ২০০ = ৪০০ কোটি টাকা ------------------- (ঘ)
কুপ প্রতি গ্যাসের হিসাব
বাংলাদেশ গড়ে প্রতি গ্যাসক্ষেত্রে মজুদ ৬৮৪ বিসিএফ। কিন্তু আমরা হিসাবটি প্রতি কুপ অনুযায়ি করবো।
এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে গ্যাসের মজুদ কত এবং রিকভারেবল মজুদ কত সেটা দেখি (৯)। ঊৎপাদনে আছে এমন গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মোট মজুদ হলো ২৬,৮৬৭ বিসিএফ, রিকভারেবল মজুদ ১৯,৪১৩ বিসিএফ। এখনও উৎপাদন শুরু হয়নি এমন গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মোট মজুদ হলো ১০০৮ বিসিএফ, রিকভারেবল মজুদ ৬৯৪ বিসিএফ। উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছে এমন গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মোট মজুদ হলো ৭৪৮ বিসিএফ, রিকভারেবল মজুদ ৫২৪ বিসিএফ। সর্বমোট হিসাব করলে দাঁড়ায়, থ্রি পি মজুদ হলো ২৮৬১৯ বিসিএফ, টু পি রিকভারেবল মজুদ ২০৬৩২ বিসিএফ।
উৎপাদনে আছে এমন গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুদটিকেই (১৯৪১৩ বিসিএফ) আমরা নিচ্ছি। বর্তমানে দেশী-বিদেশী মিলে সর্বমোট ৭৯টি কুপ থেকে গ্যাস উত্তোলিত হচ্ছে (১০)।
সুতরাং গড়ে প্রতি কুপ থেকে গ্যাস পাওয়া যাবে = ১৯৪১৩ / ৭৯ = ২৪৫ বিসিএফ --------------------- (ঙ)
গ্যাসের দাম
মডেল পিএসসি-২০০৮ এ বর্ণিত সূত্র অনুসারে ১ মেট্রিকটন HSFO এর (তাপানুপাতিক হিসাবে) দাম সর্বোচ্চ ১৮০ ডলার, এবং আগের পিএসসি তে এটা ছিল ১৪০ ডলার।
এখন ১ মেট্রিক টন HSFO এর দাম= ৪১.৩৭ MSCF গ্যাসের দাম
সুতরাং আগের পিএসসি অনুসারে ১ MSCF গ্যাসের দাম = ১৪০/৪১.৩৭ ডলার = ৩.৩৮ ডলার = ২৩৬ টাকা
১ বিসিএফ গ্যাসের দাম হবে = ২৩৬* ১০০০*১০০০ টাকা
সুতরাং, ২৪৫ বিসিএফ গ্যাসের দাম = ২৩৬*২৪৫*১০০০০০০ টাকা = ৫৭৮২ কোটি টাকা --------------------------------------- (চ)
আর মডেল পিএসসি-২০০৮ অনুসারে, ১ MSCF গ্যাসের দাম = ১৮০/৪১.৩৭ ডলার = ৪.৩৫ ডলার = ২৩৬ টাকা = ৩০৪ টাকা
১বিসিএফ গ্যাসের দাম = ৩০৪ * ১০০০* ১০০০ টাকা
সুতরাং, ২৪৫ বিসিএফ গ্যাসের দাম = ৩০৪*২৪৫*১০০০০০০ = ৭৪৪৮ কোটি টাকা --------------------------------------- (ছ)
বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে, ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে মোট ১৮৩৪১.৫১ এমএমসিএম বা ৬৪৭.৭২ বিসিএফ গ্যাস ৭৬৯৪ কোটি টাকায় বিক্রয় করা হয়েছে (১১)। সে হিসাবে, ১ MSCF গ্যাসের দাম = ১১৯ টাকা
১ বিসিএফ গ্যাসের দাম = ১৯*১০০০*১০০০ টাকা
সুতরাং, ২৪৫ বিসিএফ গ্যাসের দাম = ২৪৫*১১৯*১০০০০০০ = ২৯১৫.৫ কোটি টাকা ----------------------------------------- (জ)
সিংগাপুর মার্কেটে প্রতি ব্যারেল HSFO এর দাম ছিল গত ১ এপ্রিল ২০০৯ এ ৪০ ডলার, ১ মে ২০০৯ এ ৪৭ ডলার, ১ জুন ২০০৯ এ ৬২ ডলার এবং ১ জুন ২০০৯ এ ৬৬ ডলার (২০০৮ সালে এটা সর্বোচ্চ ১৪০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল)। ১ জুন ২০০৯ এর দাম ধরলে, আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে, ১ MSCF গ্যাসের দাম = ১১.৬৯ ডলার = ৮১৮ টাকা
১বিসিএফ গ্যাসের দাম = ৮১৮ * ১০০০* ১০০০ টাকা
সুতরাং, ২৪৫ বিসিএফ গ্যাসের দাম = ৮১৮*২৪৫*১০০০০০০ = ২০,০৪১ কোটি টাকা-------------------------------------------- (ঝ)
অনুসিদ্ধান্তসমূহ
উপরের হিসাবকিতাব থেকে নীচের সিদ্ধান্তগুলো আমরা খুব সহজেই টানতে পারি:
১। তিনটি কুপ খননের বিপরীতে একটিতে সফলতা ধরলে- ২০০৪১ কোটি টাকার গ্যাস আমরা পেতে পারি, অর্থাৎ মাত্র ৪০০ কোটি টাকা খরচে ২০০৪১ কোটি টাকার গ্যাস পাওয়া সম্ভব। (২০০৪১ কোটি টাকার গ্যাস বলছি - কারণ এটাই গ্যাসের আন্তর্জাতিক বাজারদর- অর্থাৎ ঐ পরিমাণ গ্যাস রপ্তানি করলে বা একই পরিমাণ আমরা আমদানি করতে গেলে ২০০৪১ কোটি পাওয়া যাবে বা দিতে হবে।)
২। এই গ্যাস স্থানীয় বাজারদরে বিক্রি করলেও পাওয়া যাবে ২৯১৫.৫ কোটি টাকা। সেক্ষেত্রেও লাভ থাকে প্রায় (১৫৯২.৫ - ৪০০ ) ২৫১৫.৫ কোটি টাকা।
৩। ৮০%-২০% পিএসসির আওতায় বিদেশীদের হাতে তুলে দিলে এবং ৮০% গ্যাস ওদের কাছ থেকে সিলিং কৃত মূল্যে ক্রয় করলে দাঁড়ায়:
পুরাতন পিএসসি অনুসারে:
বিদেশীদের দিতে হবে (৫৭৮২*৮০%) ৪৬২৫.৬ কোটি টাকা। এই টাকায় অবশ্য আমরা পুরো ২৪৫ বিসিএফ গ্যাস পাবো। অর্থাৎ বাপেক্স নিজে উৎপাদন করলে যেখানে খরচ ৪০০ কোটি টাকা, সেখানে বিদেশীদের হাতে তুলে দিলে খরচ ৪৬২৫.৬ কোটি টাকা।
এই ২৪৫ বিসিএফ গ্যাস বর্তমান স্থানীয় বাজারদরেই যদি জনগণকে দেয়া হয়, তবে সরকারের লস বা ঘাটতি (৪৬২৫.৬ - ২৯১৫.৫) ১৭১০.১ কোটি টাকা।
যদিও ৪৬২৫.৬ কোটি টাকা খরচ করে আমরা শেষ পর্যন্ত ২০০৪১ কোটি টাকার গ্যাস পাচ্ছি।
৪। বিদেশী কোম্পানী যদি আন্তর্জাতিক বাজারদরের লোভে আমাদেরকে গ্যাস না দিয়ে তাদের ৮০% রপ্তানী করে দেয়, তবে হিসাবটা দাঁড়ায়:
৪৬২৫.৬ কোটি টাকার জায়গায় তারা পাবে (২০০৪১*৮০%) ১৬০৩২ কোটি টাকা।
আমরা অবশ্য পাবো ৪০০০ কোটি টাকার গ্যাস, কিন্তু আমাদের হারাতে হচ্ছে ১৬০৩২ কোটি টাকার গ্যাস। এই ২০% গ্যাস স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে পাওয়া যাবে ৫৮৩.১ কোটি টাকা।
৫। কোন কারণে যদি আমাদের ভাগের ২০% ও আমরা ব্যবহার করতে ব্যর্থ হই এবং বিদেশীদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হই, তাহলে হিসাবটা দাঁড়ায়:
ওরা গ্যাস রপ্তানী করে পুরোটাই পাবে, মানে হাতিয়ে নিবে ২০০৪১ কোটি টাকা- বিনিময়ে আমাদের দিতে হবে (৫৭৮২*২০%) ১১৫৬.৪ কোটি টাকা।
অর্থাৎ যা দাঁড়ায়- আমাদের ২০০৪১ কোটি টাকার গ্যাসক্ষেত্রটি আমরা মাত্র ১১৫৬.৪ কোটি টাকায় বিদেশীদের হাতে তুলে দিচ্ছি।
আরো কিছু হিসাবপাতি
যারা কোনভাবেই উপরের হিসাবকিতাবে বিশ্বাস স্থাপন করতে পারছেন না, তাদের জন্য আরো কয়েকটি তথ্য হাজির করছি:
২০০২ সাল পর্যন্তও আমাদের গ্যাসের ৯০-৯৫% গ্যাস আমরা নিজেরাই উৎপাদন করতাম। সেটা এখন নেমে দাঁড়িয়েছে ৪৭%। এই ৪৭% গ্যাস সরকার রাষ্ট্রীয় গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তিনটির কাছ থেকে কেনে প্রতি হাজার কিউবিক ফুট ২৫ টাকায়। যেখানে উপরের হিসাব মোতাবেক বিদেশী কোম্পানির কাছ থেকে কিনতে খরচ হয় ২৩৬ টাকা (আবু আহমেদের হিসাব মোতাবেক ২৫০ টাকা)। মজার ব্যাপার হচ্ছে- প্রতি হাজার কিউবিক ফিট এই ২৫ টাকায় বিক্রি করেও এবং তার বাইরেও সরকারকে রাজস্ব যুগিয়েও বিজিএফসিএল ও সিজিএফএল প্রতিবছর মুনাফা করে (১২)।
চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত
আমাদের দ্রুত এবং খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার। আমাদের গ্যাস সম্পদ কারা তুলবে? আমরা, না বিদেশী বেনিয়ারা? ওদের সাথে নতুন করে পিএসসি করবো, না করবো না? আগের পিএসসি গুলো বাতিল করবো, না করোবো না?
এটাই কিন্তু সময়। এখনই অনেক দেরী করে ফেলেছি- পরে কিন্তু অনেক বেশী দেরী হয়ে যাবে, তখন আমাদের কিছুই করার থাকবে না।
কৈফিয়ৎ
১। হিসাবপাতির একটা বড় অংশই এজাম্পশন থেকে নেয়া হয়েছে, যদি এজাম্পশনগুলো বাস্তব তথ্য-উপাত্তের উপর ভিত্তি করেই নেয়া হয়েছে।
২। ৪০০ কোটি খরচের হিসাবটি অবশ্যই অনশোরের জন্য করা। অফশোরের ক্ষেত্রে এটি আরো বেশ বড়ই হবে।
৩। এই হিসাবপাতিতে আমাদের গ্যাসের প্রয়োজনের হিসাবটা আসেনি। আমরা কি আমাদের সামান্য গ্যাসও হারাতে পারি?
তথ্যসূত্র:
১। Click This Link
২। Click This Link
৩। http://www.bapex.com.bd/achievement.html
৪। মাসিক অগ্রগতির প্রতিবেদন জুন ২০০৯, বাপেক্স ; পৃষ্ঠা: ৩৪
৫। ঐ; পৃষ্ঠা: ০৪
৬। ঐ; পৃষ্ঠা: ০৬
৭। ঐ; পৃষ্ঠা: ০৭
৮। ঐ; পৃষ্ঠা: ০২
৯। পেট্রোবাংলার বার্ষিক প্রতিবেদন ২০০৭ (Click This Link)
১০। Click This Link
১১। Click This Link
১২। Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৫ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
সালাহউদ্দীন আহমদ বলেছেন:
এ মুহূর্তে লগ আউট করতে হচ্ছে। প্রিয়তে রাখলাম, পরে পড়বো।
আতিক একটেল বলেছেন:
আমাদের মত সাধারণ মানুষের বেশী দাম দিয়ে গ্যাস কিনতে হবে। শালার বাইনচোত হইলাম আমরা।
লেখক বলেছেন: প্রযুক্তি ও দক্ষতার প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহ নাই। কিন্তু শাসক শ্রেণীর চাওয়া-পাওয়া ধান্দা-পাতি ইত্যাদি বোধ হয় তার চেয়ে ও গুরুত্বপূর্ণ নইলে স্থলভাগে গ্যাস উত্তোলণ করার সমস্ত প্রযুক্তি ও দক্ষতা থাকা স্বত্ত্বেও কেন ক্রমশ গ্যাস ক্ষেত্র বিদেশী কোম্পানীগুলোকে ইজারা দেয়া হচ্ছে?
অফশোরে গ্যাস তোলার প্রযুক্তি ও দক্ষতা তো শুরু থেকেই কারো থাকে না, এটা অর্জন করতে হয়। অনশোরে বা স্থলভাগে আজকে বাপেক্সের যে দক্ষতা সেটাও তো অর্জন-ই করতে হয়েছে তাই না? মালয়শিয়ার পেট্রনাস, ভেনিজুয়েলার পিডিভিএসএ এদের কারোরই কোন অফশোরে দক্ষতা ছিল না কিন্তু রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় উপযু্ক্ত প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি আমদানী ও ট্রেনিং এর মাধ্যমে তারা সেটা অর্জন করেছে। তাহলে আমাদের না পারার তো কোন কারণ নেই!
যদি বলেন প্রযুক্তি ও দক্ষতা ভালোভাবে অর্জন করতে তো ৫/৭ বছর সময় লাগবে, তাহলে ততদিন চলবে কি করে? প্রথমত, স্থলভাগের গ্যাস দিয়ে বর্তমানের যে ঘাটতি আছে তা মেটানো সম্ভব যদি বিদেশী কোম্পানীর লাভ-লোকসানের বিবেচনা থেকে বের হওয়া যায় এবং যদি যে সব কুপ স্রেফ কয়েকশো কোটি টাকার অভাবে অনুসণ্ধান ও উত্তোলন করা যাচ্ছে না, গেলেও পাইপ লাইনের জন্য বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে না, সেগুলোর জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়। তারপরও যদি ঘাটতি থাকে তাহলে খুব সহজেই, দক্ষতা অর্জনের মধ্যবর্তী সময়টুকু পেট্রবাংলা সাবকন্ট্রাকটর দিয়ে সম্পূর্ণ দেশীয় মালিকানায় সমুদ্রের গ্যাস উত্তোলন করতে পারে। যেসব বিদেশী কোম্পানীকে দিয়ে গ্যাস তোলানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে তারাও কিন্তু একই ভাবে কাজ করে। পেট্রবাংলার অনশোরে যে দক্ষতা সেটা ব্যাবহার করে আর কিছু না হোক কন্ট্রাক্টের সুপারভিশন তো করতে পারবে।
জুবায়েরস্বপন বলেছেন:
খুব সুন্দর পোস্ট।
মামুনুর রহমান খাঁন বলেছেন:
একটা তথ্য আমার জানা দরকার, অফশোর থেকে গ্যাস উত্তোলন করার মত প্রযুক্তি ও দক্ষতা কি পেট্রোবাংলা/বাপেক্সের আছে?
লেখক বলেছেন: ৫ নম্বর মন্ত্যব্যের বিপরীতে দেয়া জবাবটি দেখুন।
ছু-মন্তর বলেছেন:
চমৎকার তথ্য। আর একটা তথ্য বাদ গেছে যা আমাদের হিসাবের খাতায় যোগ করা উচিত। তা হলো আমাদের দালাল মন্ত্রী-আমলা-বুদ্ধিজীবী-রাজনীতিবিদদের প্রাপ্ত কমিশন। এটা যোগ করলেই হিসাবটা পুরো হবে।
হা...হা...হা... বলেছেন:
এত টাকার অংক মাথায় ঢুকেনা। পুরাটা পড়িনি। তবে এটা বুঝলাম এটা একটি ভালো পোষ্ট। গ্যাস নিয়ে অনেক কথা শুনি। বিদেশে বিক্রি করে দিলে নাকি অনেক লাভ। কিন্তু আমার গ্রামে থাকা বৃদ্ধ মায়ের কি লাভ। আমার মা কি এই জীবনে গ্যাসের চুলায় রান্না করে যেতে পারবে না? এই দেশের গ্যাসের উপর কি আমার মায়ের কোন অধীকার নাই?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর কোথাও পেলাম না।
জাতি জানতে চায় বলেছেন:
ভাই জটিলল জায়গায় হাত দিছেন! বাপেক্সের সাকসেস রেটও যেমন বেশি, তেমনি কুপ খনন বা গ্যাস উত্তোলন জনিত দূর্ঘটনারও রেকর্ড নাই! অথচ কমরেট আনু মোহাম্মদরা তেল-গ্যাস বাচাও নিয়া এত আন্দোলন করতে পারেন, কিন্তু বাপেক্সকে সাবলম্বি ও টেকনিক্যালি সাউন্ড করা নিয়া তেমন কোন আন্দোলন করতে দেখি না। কান টানলে মাথা এমনিতেই চলে আসার কথা! প্রয়োজনে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দিয়ে বিদেশ থেকে সেরকম টেকনিক্যাল লোক নিয়ে আসা উচিৎ। যতদূর শুনছিলাম এধরনের বাঙ্গালী লোকও আছে। এই খরচ লাভের তুলনায় কিছুই না, আর যাই হোক ৮০% গ্যাসের মালিকানা বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে হবে না!
লেখক বলেছেন: তেল-গ্যাস-কমিটি কিংবা আনু মুহাম্মদেরা বাপেক্সকে সাবলম্বী ও ট্যাকনিক্যালী সাউন্ড করার ব্যাপারে কোন আন্দোলন করছে না এ বিষয়ে আপনি নিশ্চিত? আমাদের কাছে কিন্তু বিপরীত তথ্য আছে। তেল-গ্যাস কমিটির সমস্ত আন্দোলন –লংমার্চ-মিছিল-সমাবেশ ইত্যাদিতে বার বার বলছে বাপেক্স সহ দেশীয় কোম্পনীকে শক্তিশালী করে দেশীয় কোম্পনীর শতভাগ মালিকানায় তেল-গ্যাস-কয়লা ইত্যাদি উত্তোলন করতে হবে। যেমন: জাতীয় সম্পদ নামের বুলেটিনের মার্চ ২০০৮ সংখ্যায় দেখুন দাবী জানানো হচ্ছে:
“দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স এবং পেট্রবাংলাকে জনবল ও কারিগরি দিক দিয়ে সমৃদ্ধ করতে হবে এবং সুদৃঢ় ভিত্তির উপরে দাড় করাতে হবে এবং ভবিষ্যৎ সকল অনুসন্ধান ও উৎপাদন তাদের মাধ্যমে করতে হবে----।”
বিজ্ঞান চেতনা পরিষদ “বাংলাদেশের গ্যাস সম্পদ কি হচ্ছে কি হবে” নামে আনুমুহাম্মদের একটা লেখা প্রকাশ করেছে সেখানে আনু মুহাম্মদ বলছেন:
“চিত্রটা যা ছিল তাতে গ্যাস উৎপাদনের সেই চাহিদাটা পূরণ করার জন্যে দক্ষ জনশক্তি বাংলাদেশের মধ্যেই ছিল। এবং যেটাকে আরও বৃদ্ধি করার সুযোগও বাঙলাদেশের আছে।এবং যেটাকে ১০% হারে যদি বাড়াতে হয় তাহলে কি ধরণের ট্রেনিং, ট্রেইন্ড পারসন বাড়াতে হবে এবং তাদের ট্রেনিংয়টা কিভাবে দিতে হবে সেটা একটা পরিকল্পিত উদ্দোগ্যের ব্যাপার। সেটার জন্য দরকার ছিল বাপেক্সকে, বাপেক্সর এক্সপানসন কিংবা বাপেক্স এর মত সাপোর্টিং ট্রেনিং ইন্সটিটিউট কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যে জিওলজি ডিপার্টমেন্ট আছে এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ডিপার্টমেন্ট আছে সেগুলোকে ধরে প্ল্যান্ড ওয়েতে অগ্রসর হওয়া।"(পৃষ্ঠা-১১)
কিউরিয়াস বলেছেন:
ছোট্ট একটা টাইপো: "অর্থাৎ বাপেক্স নিজে উৎপাদন করলে যেখানে খরচ ৪০০ কোটি টাকা, সেখানে বিদেশীদের হাতে তুলে দিলে খরচ ৪৬২৫.৬ টাকা। "
৪৬২৫.৬ টাকার বদলে ৪৬২৫.৬ "কোটি" টাকা হবে।
এই কমেন্ট মুছে দিয়েন।
জাতি জানতে চায় বলেছেন:
হয়ত আমার কমেন্টে বিষয়টা পরিস্কার ছিলো না, আমি বলি নাই যে তেল-গ্যাস রক্ষা কমিটি বাপেক্স নিয়ে কিছু করে নাই। যেটা বলতে চাইছিলাম, তা হলো চুক্তির বিরোধিতা ছাড়াও উনাদের শুধু বাপেক্স নিয়েই অনেক আগেই আরো বড় আন্দোলনে যাওয়া উচিৎ ছিলো। কারন পার্শ্ববর্তী বন্ধু (!!) রাষ্ট্রগুলোর ও আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস ব্যবসায়ীদের কর্মকান্ডে স্থল ও জলভাগের ব্লক গুলো খুব বেশিদিন ধরে রাখা কঠিন ব্যাপার।
সাগরে ড্রিলিংয়ের জন্য যদি কোন কোম্পানীর টেকনোলজী ভাড়া করা হয় (যেমন হতে পারে শ্লুমবার্জে) পেট্রোবাংলা বা বাপেক্সের মাধ্যমে, তাহলে কিরকম খরচ হতে পারে সে ব্যাপারে একটা ইনভেস্টিগেশন থাকলে আরো পরিস্কার হবে বিষয়টা
আর সমুদ্রে পাওয়া কূপে গ্যাস পাবার কথাও অনেক বেশী, যেটা সার্বিক লাভ বা লস কে আরো বাড়াবে
বাঙ্গাল বলেছেন:
দূর্দান্ত
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...

















