আমার প্রিয় পোস্ট
- পাহাড়ি নিপীড়িত জনগোষ্ঠির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বায়ত্তশাসন দাবীর প্রশ্নে শাসকশ্রেণীর বিভিন্ন অংশের রঙ বে রঙের জোড়াতালি তত্ত্বের বিপরীতে একটি বিশ্লেষণ। - মনজুরুল হক
- লাক্স এর চামড়া ব্যবসা , দর্শকের দেহ কামনা আর ব্লগে ধর্ষকামী ভূতের আছর - ১ম পর্ব - রাগ ইমন
- সমূদ্র বক্ষে তেল/গ্যাস অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার ব্যয় সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার কে স্বচ্ছ করার প্রয়াস। - ভিন্ন চিন্তা
- সভ্য বিশ্বের নতুন ডাম্পিং গ্রেভইয়ার্ড-চট্টগ্রামের ভাটিয়ারি > জাহাজভাঙ্গার ভাগাড়ে মানুষ আর প্রকৃতির নিদারুন বিপর্যয়!! - মনজুরুল হক
- সাগর বক্ষে গ্যাস ব্লক ইজারার উদ্দেশ্য গ্যাস সংকট মোকাবেল না রফতানি? - ভিন্ন চিন্তা
- বাংলাদেশে তেল/গ্যাস অনুসন্দ্ধানের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং গ্যাস সংকটের প্রেক্ষিত। - মনোয়ার আহমদ
- বিদেশিদের কাছে বঙ্গোপসাগরে ব্লক ইজারার প্রতিবাদকারীদের উপর পুলিশি নির্যাতনের চিত্র - অণৃণ্য
- পার্বত্য চট্টগ্রাম পাকিস্থানে অন্তর্ভুক্ত হলো যেভাবে : ইতিহাসের পথ ধরে একটি বিশ্লেষণের চেষ্টা - পড়ুয়া_পড়ুয়া
- টিপাইবাঁধ নিয়ে বাদ-প্রতিবাদ ও ভারত রাষ্ট্রের চরিত্র বিচার - ৫/শেষ পর্ব - আবু নাঈম
- হাইব্রীড বীজ নিয়ে আশঙ্কা সত্যি হলো এবার 'সত্যিরা' ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ! - মনজুরুল হক
- বাংলাদেশের জনশক্তি ও আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার আইন - ফকির ইলিয়াস
- শিল্পী এস এম সুলতান ও ভিনসেন্ট ভ্যান গঘঃ জীবন কারিগর - নাস্তিকের ধর্মকথা
- সমাজতন্ত্রে মুক্তির উপায়/ প্রতি শ্রদ্ধেয় দিন মজুর - বিহংগ
- নতুন আমল পার করছি পুরনো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে - ৪ - অনিশ্চিত
- পুঁজিবাদের থাবা,সমাজতন্ত্রের বাঁধা আর ভাষা দিবসে পুতুলের ধাঁধাঁ! - পুতুল
- নতুন আমল পার করছি পুরনো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে - ১ - অনিশ্চিত
- দিনমজুরের পোস্ট ধরে সন্ধ্যাপ্রদীপের পোস্ট ,সেখানেই আমার উপলব্ধি,উপলক্ষ সমাজতন্ত্রে মুক্তির উপায়। - বিহংগ
- বিশ্ব মানবতার মুক্তির জন্য সমাজতন্ত্রই একমাত্র পথ ?? - সন্ধ্যাপ্রদীপ
- মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর মাল্টি ডাইমেনশনাল প্রফিট ও আমাদের হতভাগা দেশের লাভ (একটি সহজ-সরল হিসাব) - বহুরূপী মহাজন
- ছাত্ররাজনীতি বা লেজুরবৃত্তির রাজনীতি বন্ধ করিলে কি হইবে??? - অেমাঘ অনল
- টপরেটেড পোস্ট লেখার বুদ্ধি পাইছি-- গ্রামীণ আর সব মোবাইল কোম্পনীগো গালি দিমু - কেএসআমীন
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমাঃ "দিন বদল" না হলেও দিন কিন্তু বয়ে যায় ......
০৭ ই অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ১:৩২
বাংলাদেশের অফশোর গ্যাসব্লক ৫, ১০ ও ১১ আইরিশ কোম্পানি টাল্লো এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি কনোকো ফিলিপসকে ইজারা দেয়ার পায়তারা শুরু করার পর থেকেই একদিকে যেমন এদেশের সচেতন নাগরিক মাত্রই মডেল পিসএসসি বাতিলের দাবিতে, ৮০% রপ্তানির অপশন সহকারে ইজারা দেয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার; তেমনি উল্টোদিকে শাসক শ্রেণী, তার অনুগত বুদ্ধিজীবী, আমলা এবং পাঁড় অন্ধ দলীয় সমর্থকেরা বিভিন্নভাবে নানা প্রচারণা চালিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেস্টা করছে, তাদের এ প্রচারণার ধরণ এমনই যে দেখে মনে হবে এই মডেল পিএসসি-২০০৮ একটা অসাধারণ জিনিস- এটার উপরই নাকি দেশ ও দশের ভূত-ভবিষ্যৎ-উন্নতি সবকিছু নির্ভর করছে, এই গ্যাস ব্লকগুলো বিদেশীদের হাতে তুলে দিতে না পারলে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়বো...... ইত্যাদি।
এ সমস্ত প্রচারণা ও মিথ্যাচারের জবাব অনেকে অনেকবারই দিয়েছে। আমরা চারটি পোস্ট ও তার কমেন্টে আলোচনা করার চেস্টা করেছি। ভিন্ন চিন্তা, বাঙ্গাল, মনোয়ার আহমেদ সহ অনেক ব্লগারই পোস্ট লিখেছেন- সেগুলোর কমেন্টেও অনেক আলোচনা হয়েছে। সেগুলোর আর পুনরাবৃত্তি করছি না। কেবল একটা বিষয়ে দৃষ্টি দেয়ার উদ্দেশ্যেই এই পোস্ট লেখা। কিছুদিন ধরে একটা অদ্ভুদ প্রচারণা , অদ্ভুদ যুক্তি চোখে পড়ছে- সেটা নিয়েই আজ দুচারটি কথা বলবো। প্রসঙ্গটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিধায়, এই আলোচনাটি ঐ অদ্ভুতুড়ে যুক্তি তথা প্রচারণার জবাবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখবো না।
অদ্ভুতুড়ে প্রচারণাটির বক্তব্য মোটামুটি এরকম:
"ব্লকগুলান যদি বিরোধপূর্ন হয় সেইক্ষেত্রে আমরা তো ওইখানে যাইতে পারতাম না। ট্যাল্লো কনকো গ্যালে পর যদি মায়ানমার আর ইন্ডিয়া ঝামেলা করে সেইক্ষেত্রে হেরা সামলাইবো। এই ফাকতালে আমরাও কিছু পাইলাম। স্ক্রিপ্ট তো মন্দ না! "
বা,
"সমুদ্রের এই ব্লকগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে টেণ্ডার আহবানের মধ্য দিয়ে প্রকারান্তরে বাংলাদেশ সমুদ্রসীমা নিয়ে তার দাবিই উত্থাপন করলো, ভারত ও মিয়ানমার যেখানে তার সমুদ্রসীমায় অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে সেখানে বাংলাদেশ চুপ করে বসে থাকলে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়তাম"।
বা
"সমুদ্র ব্লকগুলো যদি আমাদের হাতে না-ই থাকে, তাহলে আমরা ৮০% মালিকানা তুলে দেয়ার পরেও যতটুকু পাই- এমনকি ৮০% রপ্তানির সূযোগ দেয়ার পরেও যতখানি আমাদের থাকে- ততটুকুও কি পাবো?"
নি:সন্দেহে এসব যুক্তি শুনলে বা পড়লে একটু থমকে দাঁড়াতে হয়, কেউ কেউ হোচটও খান। আসলেই তো। ভারত-মায়ানমারের চাপে আমরা আমাদের সমুদ্রের গ্যাসব্লকগুলো হারিয়ে ফেলার চাইতে বিদেশী কোম্পানির ঘাড়ে চড়ে যদি সেগুলোর মালিকানা নিতে পারি তবে মন্দ কি!! বাহ! বাহ! কি চমৎকার যুক্তি, বাংলাদেশ সরকারের - অর্থাৎ আমাদের শাসক গোষ্ঠীর কি দারুন দূরদৃষ্টি, কি চমৎকার তার ধী শক্তি!!!!
কিন্তু আমাদের যাদের ধী শক্তি নিতান্তই সাদামাটা, শাসক গোষ্ঠীর অসাধারণ ধী শক্তি ও দূরদৃষ্টি নিয়ে যারা কিছুটা অভিজ্ঞ এবং এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে আমরা যারা আর সেই চরমতম মেধাবী ও চতুর শাসকগোষ্ঠীর হাতে আমাদের মাথা-বুক-পশ্চাদ্দেশ কোনটাই তুলে দিতে চাই না; আমরা- সেইসব বোকাদের দল- সমস্তকিছুই আরেকটু বাজিয়ে দেখতে চাই। আর সেটা করতে গিয়েই, গত ৩০ সেপ্টম্বরে পত্রপত্রিকায় আসা কিছু খবরে চোখ আটকে যায়। ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখে ৫ নম্বর ব্লক নিয়ে চুক্তির উদ্দেশ্য টাল্লোর সাথে পেট্রোবাংলার প্রথম বৈঠক সম্পন্ন হয়, তারই খবর এসেছে ৩০ তারিখের পত্রিকায়। সেই খবরের ক'টি লাইনে ভারত-মায়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও এসেছে। প্রথম আলো (Click This Link) থেকে উদ্ধৃত করছি:
"বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পেট্রোবাংলার সূত্র জানায়, তাদের সাথে সঙ্গে যে ক্ষেত্রটির জন্য পিএসসি স্বাক্ষর হচ্ছে, সেই ক্ষেত্রভূক্ত এলাকা সম্পর্কে প্রতিবেশী মিয়ানমার কিংবা ভারতের আপত্তি রয়েছে, সীমানা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে টাল্লো কোন রকম কার্যক্রম চালাতে পারবে না।"
একই খবর নিউ এজেও (http://www.newagebd.com/2009/sep/30/front.html) এসেছে:
"Petrobangla officials, however, said that they were yet to know how much disputed area would be excluded from the PSCs. The original size of each block is around 6,765 square kilometres."
বিষয়টি তাহলে কি দাঁড়ালো?
টাল্লো আর কনোকো ফিলিপস আমাদের হয়ে ভারত-মায়ানমারের বিরুদ্ধে ভীষণ লড়াই করে আমাদের সমুদ্রসীমা আদায় করে দিবে বলে যে স্বপ্ন দেখছিলাম- তার কি হবে? তারা কি শুধু ভারত-মায়ানমারের আপত্তিহীন অংশেই অনুসন্ধান চালাবে? প্রথম আলো আর নিউ এজের খবরে তো তেমনটিই বলছে। সহব্লগার বাঙ্গালের (Click This Link) সহজ ভাষার যুক্তিটি মনে ধরে:
"আপ্নে কি মনে করেন টাল্লো আপনার হইয়া ইন্ডিয়া/ মিয়ান্মারের সাথে বসব মুসাবিদা করতে? সকল মামলা মোকদ্দমা কইরা আপনার ঘরে আইসা ২০% গ্যাস দিয়া যাইব? টাল্লোরে পাগলা কুত্তা কামড়াইলেও সেই আশা নাই।বিরোদের মীমাংসা রাষ্ট্র ভার্সেস রাষ্ট্রের হয়। ফরেন কম্পানি গুলান আপনার হয়ে মামলা মোকদ্দমা করতে আসবে না। করলেও তারা আমাদের স্বার্থ দেখবে না। "
আসলেই তো তাই। আমরা আমপাব্লিক কি সুন্দর আরেকবার বোকা হলাম। শাসকগোষ্ঠী ও তার চেলারা কি সুন্দর আমাদের কত কি বুঝালো- আমরা বুঝলাম, কি সুন্দর সব স্বপ্ন দেখালো- আমরা দেখলাম! আসলেই তো! ওদের কতই না বুদ্ধি- কত মেধা!!
যাক- বুদ্ধিমানদের গল্প বাদ দিয়ে এবার একটু সমুদ্রসীমা নিয়ে আমাদের অবস্থাটার দিকে দৃষ্টি দেয়া যাক।
বাংলাদেশ সমুদ্রসীমা বিষয়ক UN Conference on the Law of the Sea 1982 (UNCLOS III) ২০০১ সালে অনুস্বাক্ষর করেছে, কিন্তু এখনও দাবী পেশ করেনি। নিয়মানুসারে UNCLOS এ স্বাক্ষরের ১০ বছরের মধ্যে দাবি পেশ করতে হয়- সে অনুযায়ি এখনও দেড়-দুই বছরের মত সময় আছে, কিন্তু ভারত ও মায়ানমার বাংলাদেশের দুই প্রতিবেশী, এরই মধ্যে তাদের দাবি পেশ করায় এবং উভয়ের দাবিই বাংলাদেশের প্রত্যাশিত সমুদ্রসীমার মধ্যে অনুপ্রবেশ করায় বাংলাদেশের পক্ষে এনিয়ে কালক্ষেপন করার কোন সুযোগ নেই বলেই আমরা মনে করি। জানামতে ভারত বিগত ১১ মে, ২০০৯ জাতিসংঘের কাছে UNCLOS III এর ধারা ৭৬ এর ৮ উপধারা অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরে তার মহীসোপানের দাবী দাখিল করেছে। এবং মায়ানমার বিগত ৫ ডিসেম্বর, ২০০৮ জাতিসংঘের কাছে UNCLOS III এর ধারা ৭৬ এর ৮ উপধারা অনুযায়ী বঙ্গোপসাগরে তার মহীসোপানের দাবী দাখিল করেছে। ভারত ও মায়ানমার উভয়ই UNCLOS III এর ধারা ৭৬.৩, ৭৬.৪ (এ১, এ২ এবং বি), ৭৬.৫ ও ৭৬.৬ লঙ্ঘন করে অতল সমুদ্রের যথাক্রমে পূর্বদিকে এবং পশ্চিমে বাংলাদেশের পলি দ্বারা গঠিত মহীসোপানের উপর দাবী জানিয়েছে যা গ্রহণযোগ্য নয়। আর এ কারণেই প্রয়োজন, UNCLOS III অনুসারে বাংলাদেশের দাবি জাতিসংঘে পেশ করা এবং ভারত ও মায়ানমারের দাবি নিয়ে বাংলাদেশের সুস্পষ্ট আপত্তির কথা জানান দেয়া। কেবল গ্যাসব্লকের মানচিত্র উপস্থাপন করা কোনমতেই যথেস্ট নয়- UNCLOS III এর কোন কোন ধারা মতে বাংলাদেশ তার দাবিটুকু পেশ করছে এবং কোন কোন ধারা মতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহ বাংলাদেশের এ দাবিকৃত সমুদ্রে তাদের দাবি জানাতে পারে না- সেগুলো উল্লেখ না করলে, কোনদিনই তার দাবি প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে না; যতই টাল্লো বা কনোকো ফিলিপসকে পিএসসির আওতায় চুক্তি করুক- এমনকি সেটা ১০০% মালিকানায় ও ১০০% রপ্তানির সুযোগে ওদের হাতে তুলে দিলেও সম্ভব নয়।
নীচের মানচিত্রটির দিকে একটু দৃষ্টি দেয়া যাক:
![]()
ভারতের দাবি ও মায়ানমারের দাবিকৃত রেখা দুটোর মাঝে বাংলাদেশের ভাগে থাকে কতটুকু অংশ? মানচিত্রে উল্লেখিত লাল দাগ দেয়া অংশটুকু নিয়েই কি আমরা সন্তুষ্ট থাকবো?
নতুন করে করা বাংলাদেশের গ্যাস ব্লকের মানচিত্রটা দেখা যাক, অর্থাৎ এই অংশটুকু বাংলাদেশ তার নিজের বলে প্রত্যাশা করে:
![]()
আমরা আমাদের গ্যাসব্লকের মানচিত্র করেছি, খুব ভালো- কিন্তু আমাদের এই ব্লকগুলোর একটা বড় অংশই যে ভারত বা মায়ানমার বা ভারত ও মিয়ানমার দাবি করে আছে! টাল্লো ও কনোকো ফিলিপস এর সাথে পিএসসি চুক্তি করতে যাওয়া ব্লকগুলোর মধ্যে ৫ ও ১০ নং ব্লকের ভিতর দিয়ে ভারতের এবং ১১ নং ব্লকের ভেতর দিয়ে মায়ানমারের দাবিকৃত রেখাটি গিয়েছে। ১৫ নং ব্লকে উভয়ের দাবিকৃত রেখাদুটো ছেদ করেছে। আগেই বলেছি- ৫, ১০ এবং ১১ নং ব্লক তিনটির মধ্যে যে অংশে ভারত ও মিয়ানমারের সাথে বিরোধ নেই সেই অংশে কেবল টাল্লো ও কনোকো ফিলিপসকে গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম চালাতে বলা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কি বরং বাংলাদেশ তার দাবি থেকে পিছিয়ে আসলো না?
মজার ব্যাপার হলো, এই তিনটি ব্লকের কেবল আংশিক দাবিই ভারত ও মিয়ানমার করছে, অথচ গভীর সমুদ্রের ৯, ১২, ১৩, ১৪,১৫...... ২৮ - অর্থাৎ ২১ টি ব্লকই হয় ভারত নতুবা মায়ানমার বা উভয়েই নিজের বলে দাবি করছে (১৭ টি মায়ানমার, ১০ টি ভারত)! সেগুলো নিয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের সরকার বাহাদুরের কোন রা নেই! তেনারা ব্যস্ত- বিদেশী মোড়লদের কাছে আমাদের ভাগের নিশ্চিত অংশগুলোও যেনতেন প্রকারে তুলে দেয়ার কাজে!
বাংলাদেশের আগেই ভারত ও মায়ানমার তাদের দাবি পেশ করায় শুধু নয়, ভৌগলিক অবস্থানগত দিক দিয়েও বাংলাদেশ কিছুটা কোনঠাসা অবস্থানে আছে। ভারত ও মায়ানমারের ভূখণ্ড যথাক্রমে পশ্চিমে ও পূর্বে উভয়ই বাংলাদেশের উজানে অর্থাৎ দক্ষিণে হওয়ায়, বাংলাদেশ সরাসরি দক্ষিণ বরাবর সমুদ্রসীমা দাবি করতে গেলে- ভারতও তার দক্ষিণ-পূর্ব বরাবর এবং মায়ানমারও তার দক্ষিণ-পশ্চিম বরাবর দাবি করতে পারে এবং করেছেও সেরকমই।
নীচের মানচিত্রটি দেখা যাক:
![]()
এরকম জটিল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের এই ইস্যুতে বসে থাকার কোনরকম সুযোগই নেই। পানি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিয়ে UN Conference on the Law of the Sea 1982 এর ধারাগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ বিচার-বিশ্লেষণ করে, বাংলাদেশকে তার দাবি তৈরি করতে হবে এমনভাবে যাতে অন্যপক্ষ আপত্তি তুললেও সেই আপত্তি UNCLOS III এর ধারানুযায়িই ধোপে না টেকে।
অথচ, পানি বিশেষজ্ঞ ডঃ ম. ইনামুল হকের মতে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের করা দুটো গ্যাসব্লকের মানচিত্রই ত্রুটিপূর্ণ! এবং আমাদের মনে হয়েছে, এই ত্রুটিপূর্ণ মানচিত্র দুটোর কারণেই ভারত ও মায়ানমার তাদের দাবি এভাবে জানাতে পেরেছে। প্রথমেই পুরাতন মানচিত্রটি দেখা যাক:
![]()
এখানে ১৮ নং ব্লকের দক্ষিণের বা নীচের বাকা রেখাটির মাধ্যমে স্বীকার করেই কি নেয়া হলো না যে, এর দক্ষিণের অংশটুকুতে বাংলাদেশের দাবি নেই বা সেটা মায়ানমারের অংশ?
নতুন মানচিত্রটির দিকে দেখলে দেখা যাবে:
![]()
এবারে পুরান ১৮ নং ব্লকের মাঝ বরাবর এসে সোজা দক্ষিণ দিকে সরলরেখা টেনে বাংলাদেশ তার সমুদ্রসীমা দাবি করেছে। একইভাবে ভারত-বাংলাদেশ সীমায় অগভীর সমুদ্রের ১ নং ব্লকটির পশ্চিম দিকের রেখাটি সরাসরি দক্ষিণে না নেমে উত্তর থেকে দক্ষিণে কিছুটা পূর্ব দিকে সরে এসেছে, তারপরেই ১ ও ৫ নং ব্লকের সংযোগ পয়েন্ট থেকে পশ্চিমের রেখাটি সোজা দক্ষিণ বরাবর নেমে এসেছে। স্বভাবতই ভারত ও মায়ানমার প্রশ্ন তুলেছে: বাংলাদেশ পূর্বের ও পশ্চিমের সীমানা রেখা দুটো সোজাসুজি দক্ষিণে নামাবে কেন, কেন শুরুর মত পূর্ব থেকে পশ্চিম (মায়ানমার-বাংলাদেশ) এবং পশ্চিম থেকে পূর্বে (ভারত-বাংলাদেশ) একটু সরে দক্ষিণ বরাবর যাবে না? এর জবাব মিলবে UNCLOS III এর ধারাগুলোতে। আর সেকারণেই আমরা বলছি- যথাযথ ব্যাখ্যা সহকারেই সমুদ্রসীমা নিয়ে বাংলাদেশের দাবি পেশ করা উচিৎ, তা না করে এরকম ত্রুটিপূর্ণ মানচিত্র এবং কোনরকম ব্যাখ্যা ছাড়াই আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করা উল্টো হিতে বিপরীতই হবে।
এবারে তাহলে দেখা যাক, UNCLOS III এর ধারাগুলোতে কি আছে এবং সে অনুযায়ি বাংলাদেশের দাবি কেমন হতে পারে। প্রথমেই দেখি UNCLOS III অনুসারে সমুদ্রাঞ্চলের বিভিন্ন অংশগুলোর নামকরণ ও তার সংজ্ঞা কি?
১। সার্বভৌম সমুদ্র (Territorial Sea):
অনুচ্ছেদ ৩ অনুসারে:
Every State has the right to establish the breadth of its territorial sea up to a limit not exceeding 12 nautical miles, measured from baselines determined in accordance with this Convention.
অর্থাৎ প্রতিটি দেশের সমুদ্র তটরেখা (ভাটার রেখা) থেকে ১২ নটিকাল মাইল (১ নটিকাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার) ঐ দেশের সার্বভৌম সমুদ্র (Territorial Sea) বলা হয়েছে, যা দুই দেশের স্থল সীমা থেকে টানা সমদূরত্ব রেখার মাধ্যমে নীর্ণিত হবে। ১৫ নং ধারা থেকে পাই এই অংশের নিরাপত্তা স্ব স্ব দেশের দায়িত্ব হবে, তবে বিদেশী কোন জাহাজের নিরপরাধ অতিক্রমণের সুযোগ থাকবে। ধারা ৩৩ মোতাবেক আরও ১২ নটিকাল মাইল সন্নিহিত এলাকা হবে, যেখানে একই প্রকার অধিকার ও দায়িত্ব বর্তাবে।
২। একচ্ছত্র অর্থনৈতিক এলাকা (Exclusive Economic Zone):
৫৭ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে:
The exclusive economic zone shall not extend beyond 200 nautical miles from the baselines from which the breadth of the territorial sea is measured.
৫৫, ৫৬ এবং ৫৭ নং ধারা অনুযায়ী প্রতিটি দেশের সমুদ্র তটরেখা (ভাটার রেখা) থেকে ২০০ নটিকাল মাইল ঐ দেশের Exclusive Economic Zone হবে। এই অংশের সকল সম্পদের মালিকানা, ব্যবহার ও উন্নয়ন ঐ দেশের এক্তিয়ারভুক্ত হবে।
৩। মহীসোপান (Continental Shelf)
৭৬ নং অনুচ্ছেদে এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত আছে। সমুদ্রসীমা নির্ধারণে এই ৭৬ নং অনুচ্ছেদই হচ্ছে মূল, তাই অনুচ্ছেদটি পুরো তুলে দিচ্ছি:
1. The continental shelf of a coastal State comprises the seabed and subsoil of the submarine areas that extend beyond its territorial sea throughout the natural prolongation of its land territory to the outer edge of the continental margin, or to a distance of 200 nautical miles from the baselines from which the breadth of the territorial sea is measured where the outer edge of the continental margin does not extend up to that distance.
2. The continental shelf of a coastal State shall not extend beyond the limits provided for in paragraphs 4 to 6.
3. The continental margin comprises the submerged prolongation of the land mass of the coastal State, and consists of the seabed and subsoil of the shelf, the slope and the rise. It does not include the deep ocean floor with its oceanic ridges or the subsoil thereof.
4. (a) For the purposes of this Convention, the coastal State shall establish the outer edge of the continental margin wherever the margin extends beyond 200 nautical miles from the baselines from which the breadth of the territorial sea is measured, by either:
(i) a line delineated in accordance with paragraph 7 by reference to the outermost fixed points at each of which the thickness of sedimentary rocks is at least 1 per cent of the shortest distance from such point to the foot of the continental slope; or
(ii) a line delineated in accordance with paragraph 7 by reference to fixed points not more than 60 nautical miles from the foot of the continental slope.
(b) In the absence of evidence to the contrary, the foot of the continental slope shall be determined as the point of maximum change in the gradient at its base.
5. The fixed points comprising the line of the outer limits of the continental shelf on the seabed, drawn in accordance with paragraph 4 (a) (i) and (ii), either shall not exceed 350 nautical miles from the baselines from which the breadth of the territorial sea is measured or shall not exceed 100 nautical miles from the 2,500 metre isobath, which is a line connecting the depth of 2,500 metres.
6. Notwithstanding the provisions of paragraph 5, on submarine ridges, the outer limit of the continental shelf shall not exceed 350 nautical miles from the baselines from which the breadth of the territorial sea is measured. This paragraph does not apply to submarine elevations that are natural components of the continental margin, such as its plateaux, rises, caps, banks and spurs.
7. The coastal State shall delineate the outer limits of its continental shelf, where that shelf extends beyond 200 nautical miles from the baselines from which the breadth of the territorial sea is measured, by straight lines not exceeding 60 nautical miles in length, connecting fixed points, defined by coordinates of latitude and longitude.
8. Information on the limits of the continental shelf beyond 200 nautical miles from the baselines from which the breadth of the territorial sea is measured shall be submitted by the coastal State to the Commission on the Limits of the Continental Shelf set up under Annex II on the basis of equitable geographical representation. The Commission shall make recommendations to coastal States on matters related to the establishment of the outer limits of their continental shelf. The limits of the shelf established by a coastal State on the basis of these recommendations shall be final and binding.
9. The coastal State shall deposit with the Secretary-General of the United Nations charts and relevant information, including geodetic data, permanently describing the outer limits of its continental shelf. The Secretary-General shall give due publicity thereto.
10. The provisions of this article are without prejudice to the question of delimitation of the continental shelf between States with opposite or adjacent coasts.
৭৬ নং ধারা অনুযায়ী Exclusive Economic Zone বলতে তটরেখা থেকে Territorial Sea এবং সন্নিহিত এলাকা নিয়ে Continental Shelf এর ২০০ নটিকাল মাইল পর্যন্ত সমুদ্র এলাকা বুঝাবে, যখন প্রাকৃতিকভাবে প্রসারমান সমুদ্রতল ঐপর্যন্ত না পৌঁছায়। প্রাকৃতিকভাবে প্রসারমান সমুদ্রতল এই দূরত্ব ছাড়িয়ে গেলে Continental Shelf এর সীমা এই ধারার ৪ ও ৬ উপধারা অনুযায়ী হবে। উপধারা ৪ এর এ(১) অনুযায়ী এই সীমা যত দূরত্বে দূরত্বের ১% গভীর পলি জমা থাকবে সেই পর্যন্ত, যা ৪ এর এ(২) অনুযায়ী এই সীমা মহীসোপানের ঢাল থেকে অনুর্ধ ৬০ নটিকাল মাইলের রেখা দ্বারা চিহ্নিত করতে হবে। ৫ উপধারা অনুযায়ী Continental Shelf এর সীমা ২৫০০ গভীরতা থেকে ১০০ নটিকাল মাইলের বেশী হতে পারবে না। ৬ উপধারা অনুযায়ী Continental Shelf এর সীমা তটরেখা থেকে ৩৫০ নটিকাল মাইলের বেশী হতে পারবে না, তবে এই ধারা খাড়ির বেলায় প্রযোজ্য হবে না। ৭ উপধারা অনুযায়ী একটি দেশ তার সমুদ্রসীমা অনুর্ধ ৬০ নটিকাল মাইলের রেখা দ্বারা চিহ্নিত করবে।
পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ডঃ ম. ইনামুল হকের মতে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা
"বাংলাদেশের সার্বভৌম সমুদ্রসীমা UNCLOS III এর ৩, ১৫ ধারা অনুযায়ী পশ্চিমে হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মধ্যস্রোত ধরে ভারত ও বাংলাদেশের তটরেখা থেকে সমদূরত্বে হবে। এই রেখা ৩৩ ধারা অনুযায়ী সন্নিহিত অঞ্চলসহসহ ২৪ নটিকাল মাইল পর্যন্ত দীর্ঘ হবে, তবে Swatch of No Ground বা অতল সমুদ্রের খাড়ি পার হয়ে যাবে না। এরপর এই রেখা ৭৬.৩, ৭৬.৪ (এ১, এ২ এবং বি) ও ৭৬.৫ অনুযায়ী দুই দেশের নদীসমূহের বাহিত পলির বিভাজন রেখা Swatch of No Ground বা অতল সমুদ্রের খাড়ি ধরে গভীর সমুদ্রের দিকে যাবে।
বাংলাদেশের সার্বভৌম সমুদ্রসীমা UNCLOS III এর ৩, ১৫ ধারা অনুযায়ী পূর্বে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের ছেড়া দ্বীপ ও ওয়েস্টার দ্বীপের মাঝামাঝি তটরেখা ধরে সমদূরত্বে হবে। এই রেখা ৩৩ ধারা অনুযায়ী সন্নিহিত অঞ্চলসহসহ ২৪ নটিকাল মাইল পর্যন্ত দীর্ঘ হবে, তবে নিকটবর্তী দক্ষিণমুখী খাড়ি পার হয়ে যাবে না। এরপর এই রেখা ৭৬.৩, ৭৬.৪ (এ১, এ২ এবং বি) ও ৭৬.৫ অনুযায়ী দুই দেশের নদীসমূহের বাহিত পলির বিভাজন রেখা বা ৯২ ডিগ্রী ১৫ মিনিট দ্রাঘিমা বরাবর বঙ্গোপসাগরে দক্ষিণমুখী যে খাড়ি আছে সেই খাড়ি ধরে গভীর সমুদ্রের দিকে যাবে।
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা পশ্চিম ও পূর্বদিকে উপরে বর্ণিত দুই রেখা বরাবর অগ্রসর হয়ে কুয়াকাটা অথবা কক্সবাজার তটরেখা থেকে সরাসরি ৩৫০ নটিকাল মাইল দূরত্ব পর্যন্ত হবে, অথবা দূর সমুদ্রে ২৫০০ মিটার গভীরতা থেকে বাহিরের দিকে ১০০ নটিকাল মাইল পর্যন্ত হবে। তবে এই রেখা কখোনোই পাশ্ববর্তী দেশের নদীসমূহের পলির দ্বারা গঠিত প্রাকৃতিকভাবে প্রসারমান সমুদ্রতলকে অন্তর্ভুক্ত করবে না, বা বিভাজন রেখা অতিক্রম করবে না।"
পানি বিশেষজ্ঞ ডঃ ম. ইনামুল হকের মতানুসারে বাংলাদেশের দাবিকৃত সমুদ্রসীমার মানচিত্রটি এখানে উল্লেখ করছি:
![]()
ন্যাচারাল প্রোলোঙ্গেশন এর পক্ষে প্রকৌশল ইনামুল হক গুগল আর্থের কিছু ছবি ব্যবহার করছেন। গুগল আর্থের সে ছবি থেকেও আমরা একটা ধারণা পেতে পারি:
ভারত ও মায়ানমারের দাবি:
শুরুতেই বলা হয়েছে, ভারত UNCLOS III এর ধারা ৭৬.৩, ৭৬.৪ (এ১, এ২ এবং বি), ৭৬.৫ ও ৭৬.৬ লঙ্ঘন করে Swatch of No Ground বা অতল সমুদ্রের পূর্বদিকে বাংলাদেশের পলি দ্বারা গঠিত Continental Shelf এর উপর দাবী জানিয়েছে যা গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে মায়ানমার UNCLOS III এর ধারা ৭৬.৩, ৭৬.৪ (এ১, এ২ এবং বি), ৭৬.৫ ও ৭৬.৬ লঙ্ঘন করে ৯২ ডিগ্রী ১৫মিনিট দ্রাঘিমা বরাবর বঙ্গোপসাগরে দক্ষিণমুখী খাড়ির পশ্চিমে বাংলাদেশের নদীর পলি দ্বারা গঠিত Continental Shelf এর উপর যে দাবী জানিয়েছে যা গ্রহণযোগ্য নয়। কেবলমাত্র Territorial Sea নির্ধারিত হবে স্থলভাগ থেকে সমদূরত্ব অনুযায়ি এবং এটা কোনমতেই ২৪ নটিকাল মাইলের বেশি হবে না। অথচ ভারত ও মায়ানমার উভয়েই তাদের সম্পূর্ণ সমুদ্রসীমা এই সমদূরত্বের ভিত্তিতে করেছে- যা Territorial Sea পার হয়ে একই সরলরেখা বর্ধিত করে Continental Shelf এও এসেছে- যা কোনমতেই UNCLOS III অনুসারে গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রতিবেশী দেশসমূহের মধ্যে সমুদ্রসীমা নিয়ে নিষ্পত্তির একটি উদাহরণ:
এই উদাহরণটি ডঃ ইনামুল হকের কাছ থেকে প্রাপ্ত। উত্তর সাগরে ইউকে, নরওয়ে, জার্মানি, ডেনমার্ক প্রভৃতি রাষ্ট্রের সমুদ্রসীমার উদাহরণটির দিকে আমরা দেখতে পারি:
![]()
সেখানে ভারত-মায়ানমারের মতো কেউ একাট (বা মাত্র দুটো) সরলরেখা দিয়ে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করেনি। কোথাও এই মহীসোপান অঞ্চলের সমুদ্রসীমা (CONTINENTAL SHELF BOUNDARY- CSB) সমদূরত্ব অনুযায়ি হয়নি। এখানে জার্মানি-ডেনমার্কের ভেতরকার CSB এর দিকে দৃষ্টি দিলে দেখবো এর মোট দৈর্ঘ্য ১৯৫ নটিকাল মাইল, যেখানে দুটি পাশাপাশি বাঁকের গড় দূরত্ব ২৮ নটিকাল মাইল, সর্বোচ্চ ৬৪ নটিকাল মাইল এবং সর্বনিম্ন ৯ নটিকাল মাইল।
এ উদাহরণ থেকেও আমরা বলতে পারি যে, ভারত ও মায়ানমারের একই সরলরেখা বরাবর সমুদ্রসীমার দাবি মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কিছু কথা, কিছু প্রশ্ন:
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা কিরূপ হতে পারে, সে ব্যাপারে ডঃ ইনামুল হকের কাজকেই এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ মনে হয়েছে, এবং মনে হয়েছে তাঁর নির্দেশিত পথেই বাংলাদেশের স্বার্থ সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত হতে পারে। তবে, এখনো কয়েকটি বিষয়ে আমাদের কিছু সংশয়, কিছু প্রশ্ন আছে।
ভারত ও মায়ানমারের দাবির পেছনকার যুক্তি বা UNCLOS III এর কোন কোন ধারা মোতাবেক তারা তাদের দাবি পেশ করেছে- সেটা এখনও আমরা জানি না। ডঃ ইনামুল হক জানাচ্ছেন- ভারত ও মায়ানমার UNCLOS III এর ৭৬ নং ধারার ৮ নং উপধারা মোতাবেক তাদের দাবি উপস্থাপন করেছে। অথচ ৮ নং উপধারায় আছে " Information on the limits of the continental shelf beyond 200 nautical miles from the baselines from which the breadth of the territorial sea is measured shall be submitted by the coastal State to the Commission on the Limits of the Continental Shelf set up under Annex II on the basis of equitable geographical representation. The Commission shall make recommendations to coastal States on matters related to the establishment of the outer limits of their continental shelf. The limits of the shelf established by a coastal State on the basis of these recommendations shall be final and binding."- অর্থাৎ, এই অনুযায়ি ভারত ও মায়ানমার তাদের স্ব স্ব দাবি কমিশনের কাছে পেশ করেছে। কিন্তু এই দাবি কোন ভিত্তির উপর বা কোন কোন ধারা/উপধারার উপর দাড়িয়ে তৈরি করেছে- তা এখনো আমরা জানি না (আমরা খুঁজছি- কেউ পেয়ে গেলে আমাদের দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন)। ফলে, ডঃ ইনামুল হক ভারত ও মায়ানমারের দাবিকে সম্পূর্ণই অগ্রহণযোগ্য বলতে পারলেও- আমরা এখনও নিশ্চিত নই বাংলাদেশ এটাকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবে কিনা।
এটা ঠিক যে- ভারতের বা মায়ানমারের যুক্তিগুলো না জেনেই, কেবল ওদের দাবির কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি সহজেই উত্থাপন করা যায়: যেমন- ওদের সি বাউণ্ডারি লাইন আমাদের কন্টিনেন্টাল সেলফ এ এসে পৌচেছে, উভয়েই টেরিটোরিয়াল সি এর পরেও (১২ + ১২ বা ২৪ নটিকাল মাইল) বাউণ্ডারি লাইন সমদূরত্ব অনুযায়ি সরলরেখায় প্রসারিত করেছে, এগুলো স্বভাবতই UNCLOS III এর বেশ কিছু ধারা মোতাবেক অগ্রহণযোগ্য। কিন্তু সেই সাথে এই প্রশ্নটাও গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের যে মূল জায়গা "natural prolongation of its land territory"- সেটা আমরা কি নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করার মত সুবিধাজনক অবস্থানে আছি?
ভারত ও মায়ানমারের দাবিকৃত সমুদ্রসীমারেখা সমদূরত্ব অনুযায়ি হলে- সেটাকে UNCLOS III এর বেশ কয়েকটি ধারা মোতাবেক অগ্রহণযোগ্য বলা যাবে ঠিকই, কিন্তু ভারত বা মায়ানমারও যদি দাবি করে তাদের দাবিকৃত সমুদ্র তাদের স্থলভাগের natural prolongation অনুযায়িই করা! অর্থাৎ কন্টিনেন্টাল সেলফ এর কোন অংশের সমুদ্র তলদেশ কোন দেশের পলি দিয়ে তৈরি (অর্থাৎ কোন দেশের স্থলভাগের natural prolongation এর মাধ্যমে তৈরি) সেটা তখন নিষ্পত্তি করতে হবে। ডঃ ইনামুল হকের মতে, এই অঞ্চলের নদ-নদীগুলোর অধিকাংশই দক্ষিণমুখী এবং natural prolongation এর অভিমুখটাও দক্ষিণমুখী। তাছাড়া মায়ানমারের বঙ্গোপসাগর লাগোয়া অংশ পশ্চিমমুখী নদীর সংখ্যা খুব কম। এখান থেকে বোঝা যায়, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের দক্ষিণ বরাবর সমুদ্র তলদেশ বাংলাদেশ থেকে আসা পলি দিয়ে গঠিত। কিন্তু এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সেরকম কোন সার্ভে কাজ আছে বলে আমাদের এখনও জানা নেই।
এখানে কমোডোর মোঃ খুরশীদ আলমের "বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানা নির্ধারণের সমস্যা ও তেল, গ্যাস অনুসন্ধান" শীর্ষক প্রবন্ধ থকে কটি লাইন উদ্ধৃত করা প্রয়োজন: ".... ভারতও অনেক সময় বলছে যে, বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কোনো কন্টিনেন্টাল সেলফ নেই। তাই উল্লেখিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের সার্ভে শেষ করে বিশেষ করে ফুট অব দ্য স্লোপ এবং ২৫০০ মিটার আইসোবাথ এর অবস্থান নির্ণয় করে আমাদের দাবির যথার্থতা প্রমাণ করতে হবে"। (নতুন দিগন্ত, সপ্তম বর্ষ, ২য় সংখ্যা)
আমরাও মনে করি, যেকোন দাবি উত্থাপনের আগে সেরকম প্রস্তুতি নিয়েই উত্থাপন করা দরকার।
বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান অবস্থান:
৮ অক্টোবর তারিখে পররাষ্ট্র মন্ত্রী দীপু মনি তাঁর মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য জাতিসংঘের সালিস আদালতে (আরবিট্রেশন ট্রাইবুনাল) যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। (নিউ এজ, ৯ অক্টোবর)
খুবই ভালো খবর, দীপু মনির ভাষায়- "বাংলাদেশের সম্পদ ও সমুদ্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এটিই যথাযথ পদক্ষেপ"। কিন্তু আমরা ঠিক এমন ভালো খবরেও ঠিক নি:শংসয় হতে পারছি না। আমরা আসলে কি দাবি জানাতে যাচ্ছি, তার ভিত্তি কি, ভারত ও মিয়ানমারের দাবির ব্যাপারে আমাদের আপত্তির ভিত্তি কি- এসব এখনো আমাদের জানা নেই। কেবল আমরা একজন আইনজীবী ব্রিটিশ ভন লুই এর নাম জানি- যিনি বাংলাদেশের পক্ষে আইনি লড়াই করবেন। স্বভাবতই এই আইনজীবী আমাদের সংশয় দূর করতে পারছেন না।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টম্বর তারিখের বিডি নিউজ ( http://www.bdnews24.com/details.php?id= 143115&cid=2 ) এও দেখেছি, বাংলাদেশ নাকি তার দাবি পেশ করার ব্যাপারে প্রস্তুত।
"Bangladesh is ready to submit its maritime boundary claims to the United Nations well ahead of the July 2011 deadline, foreign secretary Mijarul Quayes said on Saturday.
"Bangladesh ratified UNCLOS (UN Convention on the Law of the Sea) in 2001, although India and Myanmar had done so earlier and have consequently submitted their sea border claims already," Quayes told reporters at a regular ministry briefing at the Secretariat.
..............
He said all necessary preparations, including survey work in the Bay of Bengal, was ongoing for submission by the deadline.
................
Asked if Bangladesh has become isolated on the issue of maritime boundaries boundary issues, Quayes said all countries had to defend their own positions, but "Bangladesh is not without friends".
Pressed further, he said, "It's you who point out that China has good ties with Myanmar, but we too have good ties with China."
বাংলাদেশ কতখানি কি প্রস্তুত সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য আমাদের নেই, বরং আমরা সন্দিহান। বাংলাদেশ এই বিষয়টিতে এরই মধ্যে পিছিয়ে পড়েছে সত্য, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের আন্তর্জাতিকভাবে এনিয়ে আওয়াজ তুলতে হবে- এটাও সত্য, কিন্তু তাড়াহুড়া করে যেনতেন প্রকারে আওয়াজ তুললে যে হিতে বিপরীত হতে পারে সে কথা আগেই বলেছি। পররাষ্ট্র সচিব মহোদয়ের "Bangladesh is not without friends" এবং তার ব্যাখ্যায় চীনের সাথে বাংলাদেশেরও ভালো বন্ধুত্ব আছে- এমন কথাবার্তাকে দায়িত্বশীল মনে হয় না। বস্তুত, চীনের সাথে সাথে মায়ানমারের বা বাংলাদেশের কেমন বন্ধুত্ব- তা কোন গণনাতেই আসবে না এটা হলফ করে বলা যেতে পারে। মায়ানমারের যাবতীয় খনিজ- গ্যাস ও তেল সমস্তেরই চীন একচ্ছত্র ভোক্তা। ফলে- মায়ানমারের সমুদ্রাঞ্চল বৃদ্ধি পাওয়া মানে- চীনের সরাসরি সে বর্ধিত অংশের খনিজ পাওয়া। কোনভাবেই এদিকটা ভুললে চলবে না। তার চেয়েও বড় কথা, আগে তো আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের দাবির গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। সেকাজটিতে আমরা কোন অবস্থানে আছি?
বাংলাদেশ সমুদ্রবক্ষে উল্লেখযোগ্য কোন সার্ভে কাজ সম্পন্ন করেছে বলে আমাদের জানা নেই। সার্ভের মাধ্যমে বাংলাদেশ সমুদ্রবক্ষে ফুট অব দ্য স্লোপ এবং ২৫০০ মিটার আইসোবাথ এর অবস্থান নির্ণয় করেছে কিনা, বাংলাদেশের কন্টিনেন্টাল সেলফ এর তলদেশ আসলেই যে বাংলাদেশের পলি দিয়ে গঠিত তার স্বপক্ষে কোন স্টাডি করেছে কিনা- তাও আমাদের জানা নেই। আর এসব প্রাথমিক প্রস্তুতি ছাড়াই যদি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আদালতে যায়- বাংলাদেশের পক্ষে রায় আশা করি কি করে?
বরং, সংশয় আরো বাড়ছে যখন দেখি, গ্যাসব্লকের নতুন মানচিত্র সম্বলিত দাবিটিকেই বাংলাদেশ তার দাবি হিসাবে জানাচ্ছে (যেটি প্রকৌশলী এম ইনামুল হকের মতে ত্রুটিপূর্ণ) এবং সেটা ১৯৭৪ সালে প্রণীত নিজস্ব সমুদ্র আইন (Bangladesh Territorial Waters & Maritime Zones Act 1974) অনুযায়ি করা- যেখানে বাংলাদেশ ২০০১ সালে সমুদ্রসীমা বিষয়ক UN Conference on the Law of the Sea 1982 (UNCLOS III) স্বাক্ষর করার পরেও UNCLOS III এর ধারাগুলো অন্তর্ভূক্ত করে ১৯৭৪ সালের সমুদ্র আইনকে উন্নীত করা হয়নি।
আমাদের দাবিসমূহঃ
১। বাংলাদেশ যেহেতু সমুদ্রসীমা বিষয়ক UN Conference on the Law of the Sea 1982 (UNCLOS III) স্বাক্ষর করেছে, সেহেতু অবিলম্বে এর ধারাগুলি অন্তর্ভুক্ত করে Bangladesh Territorial Waters & Maritime Zones Act 1974 কে উন্নীত করতে হবে ।
২। অবিলম্বে বঙ্গোপসাগরে সমস্ত ধরণের সার্ভে কাজ সম্পন্ন করতে হবে, যাতে বাংলাদেশ তার দাবির স্বপক্ষে তার অবস্থানকে জোরালো করতে পারে।
৩। পানি বিশেষজ্ঞ ও আইন বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় সমস্ত দিক বিচার বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করতে হবে।
৪। ভারত ও মায়ানমারের সাথে এর বিরোধের জায়গাগুলো পরিষ্কারভাবে যুক্তি সহকারে (UNCLOS III এর ধারা মোতাবেক) দেখিয়ে আমাদের দাবিকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
৫। এটা আন্তর্জাতিকভাবে পেশ করার আগে দেশে সকলের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে, এবং সমুদ্রসীমা নির্ধারণের কাজে নিয়োজিত বিশেষজ্ঞদের বাইরের নানাস্তরের বিশেষজ্ঞ ও সচেতন নাগরিকের মতামত গ্রহণের সুযোগ রাখতে হবে।
৬। জাতিসংঘ কর্তৃক প্রদত্ত সময়ের অন্তত এক বছর পূর্বে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রাপ্ত সমুদ্র তলদেশের তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে এবং UNCLOS III কনভেনশন এর ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের দাবী প্রস্তুত করে ভারত ও মায়নমারকে জানিয়ে দিতে হবে।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ;
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০০৯ সকাল ১০:৩৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অপু ফিরোজ বলেছেন:
পোস্ট স্টিকি করা হোক। +
অপু ফিরোজ বলেছেন:
জাতিয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই পোস্ট স্টিকি করার জন্য কতৃপক্ষের কাছে দাবী জানাই।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
বিজয়ে কনভার্ট কইরা প্রিন্ট নিলাম।-----------
অ.ট. নাইল্যাকাডা'র তেল গ্যাস সংখ্যা ভালো লাগছে। কাজেও লাগছে।
নকীবুল বারী বলেছেন:
প্রিয়তে..........আস্তে আস্তে পড়বো........
অপু ফিরোজ বলেছেন:
@ আরজু ভাইয়া, সবিনয়ে বলি, ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে দেশের সব মানুষের স্বার্থ জড়িত যেখানে, সেটা জাতিয় স্বার্থ। উত্তর ভুল হলে নাম্বার কাটবেন?
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
@অপু ফিরোজআপনে আমারে মাস্টার কইতে চান? মাইন্ড কর্লাম কিন্তুক!
যাউকগা।
ঠিক-ই তো কইছেন। ''ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধ্বে দেশের সব মানুষের স্বার্থ জড়িত যেখানে, সেটা জাতিয় স্বার্থ। ''। ভালা কথা। এখন কথা হৈলো- আপনি আমি (দিনমজুররা তো বটেই) ত্যাল গ্যাস নিয়া যেসব দাবি জানাই, আন্দোলনে যাই, সেই ত্যাল গ্যাস যদি ধইরা লন দ্যাশেই থাকলো, তাতে 'সব মানুষ' এর স্বার্থ কি?
হুনার মন্দ বলেছেন:
ওনারা "বড় ভাইদের" সাথে কোন বেয়াদবি কবেবেন না! তাই না চাইতেই পারলে সব দিয়ে দেন। শুধু আঁচলটা জড়িয়ে চোখ মুখ ঢেকে বলেন...আমাকে তো কেউ দেখছে না।! সব নিয়া গেলেই তো দিন বদলের শুরু।! পোষ্টটা স্টিকি করা হবে না। নিশ্চিতভাবেই। তবে পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ। তথ্যবহুল পোষ্টটি প্রিয়তে রাখলাম।
অপু ফিরোজ বলেছেন:
@আরজু ভাইয়া, আপনার প্রশ্নের মধ্যেই তো উত্তর আছে। তার মানে হলো আন্দোলন হলে তেল গ্যাস দেশেই থাকবে।আমার তেল গ্যাস আমার দেশে থাকলেই তো লাভ। আমার সম্পদ আমি যদি না ব্যবহার করে ঘরেও রেখে দিই, আমার সন্তান এসে প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। আমার সম্পদ আমি আপনার ঘরে পাঠাবো কেন ? আমাদেরকে পরবর্তি প্রজন্মের কথাও ভাবতে হবে।
শিবপ্রিয়া বলেছেন:
৮০% ছাড় দিয়ে গ্যাস উত্তরনের প্রয়োজন কি? ভারত যদি এই গ্যাস তুলে থাকে তাতে অসুবিধা কিছু তো দেখিনা। প্রয়োজন শুধু বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে তাদের সাথে একটি সমঝোতা চুক্তি করা যাতে আমরা আমাদের ন্যায্য পরিমান বুঝে পাই। সে হিসেবে ইউরোপে রপ্তানি করার চেয়ে এটাই কি উত্তম না?
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
না। আমার প্রশ্নের মইধ্যে উত্তর নাই। (দ্যাশ থাইকাই আমার লাভ হইলো না, আর দ্যাশত কি থাকলো না থাকলো তাতে আমার কি লাভ?)-------------
আপনার লাভ ঠিক আছে। কিন্তু আমার কি লাভ? মানে, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ গরিব-মিসকিন (নিম্নবিত্ত) আর প্রায় মিসকিন (নিম্ন মধ্যবিত্ত) মানুষের কি লাভ? ত্যাল গ্যাস থাকলে ভূমিদস্যু-নদী দখলদার-গাও গেরামের লুটেরা শিল্পপতি শ্রেনীর লাভ। বর্তমান যে ভয়াবহ জ্বালানী সংকটের মুখে তারা দাড়ায়া আছে, ত্যাল গ্যাস থাকলে সেইটাতে তারা আছান লাভ করবো। শিল্প ভালা হইবো। রপ্তানী আয় বাড়বো। কিন্তু আমরার কি লাভ?
একটা লাভ অবশ্য আছে। কলে কারখানায় শ্রমিকেরা একটু নিয়মিত বেতন পাইবো (আয় রোজগার নাই কয়া মালিকের টালবাহানার সুযোগ কম বইলা), ডেমরা আর জিঞ্জিরার খুপড়ির ভাড়া ঠিক ঠাক শোধ করন যাইবো, অকস্মাৎ রপ্তানিমুখি নারী মেশিন মানে গার্মেন্টস কন্যারাও কাজ হারাইবো না, শ্যাষ হয়া যাওয়া গ্রামীন অর্থনীতির কাদা ডুবতে থাকা বাপটার দুইবেলা খাবারের জোগাড় বন্ধ হয়া যাইবো না।
এইসব ছাড়া আর কি লাভ আছে?
------------
ঘটনা কিরাম দাড়াইছে দ্যাখছেন?
সাইফুর আর মুহিতের দল, শিল্পপতি-ব্যাবসায়ীদের দল নিজেগো স্বার্থ নিজেরাই রক্ষা করতে পারতাছেনা। দাড়াইতে হয় আনু মুহাম্মদ স্যারদের।
লেখক বলেছেন:
দেশের গ্যাসের মালিকানা দেশে থাকলে বেশিরভাগ গরীব-মিসকিনদের লাভ আছে বৈকি।
৮০%-২০% মালিকানায় বিদেশীদের হাতে দিয়ে দিলে ঐ গ্যাস আমাদেরই আবার উচ্চমূল্যে কিনতে হচ্ছে, সেটা আরো কম মূল্যে দেশীয় বাজারে বেচতে গিয়ে সরকারকে দিতে হচ্ছে ভর্তুকি- যার ফলাফল বাজেট ঘাটতি ও ঋণের দায়। এই বাজেট ঘাটতি ও ঋণের দায় এর সরাসরি ফল ভোগ করে নিম্নবিত্ত- নিম্নমধ্যবিত্তরাই। নিম্নবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্য থাকা ও বিভিন্ন পাবলিক খাতে বরাদ্দ কমার বড় অজুহাত হচ্ছে বাজেট ঘাটতি নিরসন।
রপ্তানি করে ফেললেও- বিদ্যুৎ সার এসব নিয়ে সমস্যা হবে। বড় বড় এন্টারপ্রেনারেরা নিজেদের বিদ্যুতের ব্যবস্থা হয়তো করে ফেলবে- কিন্তু সবকিছুর প্রোডাকশন কস্ট বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে তারা শ্রমিকদের পেটে লাথি মারতে চাবে। লোকাল মার্কেটের বিভিন্ন প্রোডাক্টের দামও বাড়বে, বিশেষ করে সারের দাম চড়া হলে- তার ডাইরেক্ট ইফেক্টটা আমজনতা সেই নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তদের ঘাড়েই এসে পড়বে।
এটা ঠিক যে- দেশের আজকের অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণেই- আজ দেশীয় সম্পদের ভোক্তা মুষ্টিমেয় ধনিক শ্রেণী, কিন্তু- আজ যদি আমরা সেই সম্পদটুকু বিদেশীদের হাতে তুলে দেই, এবং আমাদের মজুদ বারোভূতে লুটেপুটে নিঃশেষ করে দেয়- তবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের জবাব কি থাকবে? আজ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ধনিকদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী- কিন্তু ভবিষ্যতে যে এই ব্যবস্থা পাল্টাবে না তা কি বলতে পারি? সেরকম পরিবর্তন যদি হয়- তখনকার আমজনতার ভোগের জন্য আমরা কি কোন সম্পদ রক্ষা করবো না?
নিরীহ মানুষ বলেছেন:
জাতিয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই পোস্ট স্টিকি করার জন্য কতৃপক্ষের কাছে দাবী জানাই।ডিজিটাল সরকারের কোনো কামলা বা আমলা যদি ব্লগে থাকে তাহলে তাকে বলছি পোষ্টটির একটা কপি জাতির কন্যাকে দিবেন।
ফটোকপির টাকা আমি দিব।
ডিজিটাল কলম বলেছেন:
জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই পোস্ট স্টিকি করার জন্য কতৃপক্ষের কাছে দাবী জানাই।++++++++++++++
নুভান বলেছেন:
জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই পোস্ট স্টিকি করার জন্য কতৃপক্ষের কাছে দাবী জানাই।
দিনমজুর বলেছেন:
২০ সেপ্টেম্বর তারিখের বিডি নিউজ খবর (Click This Link) মারফত জানা যাচ্ছে: বাংলাদেশ নাকি জাতি সংঘে সমুদ্রসীমা বিষয়ক তার দাবি পেশ করতে প্রস্তুত।
"Dhaka 'ready' to submit sea border map"
Sun, Sep 20th, 2009 1:02 am BdST Dial 2324 from your mobile for latest news Dhaka, Sep 19 (bdnews24.com)—Bangladesh is ready to submit its maritime boundary claims to the United Nations well ahead of the July 2011 deadline, foreign secretary Mijarul Quayes said on Saturday. "Bangladesh ratified UNCLOS (UN Convention on the Law of the Sea) in 2001, although India and Myanmar had done so earlier and have consequently submitted their sea border claims already," Quayes told reporters at a regular ministry briefing at the Secretariat. Quayes said to meet the terms of the convention, a report must be submitted to the UN Commission on Limits of the Continental Shelf within 10 years of ratification. He said all necessary preparations, including survey work in the Bay of Bengal, was ongoing for submission by the deadline. The foreign secretary also mentioned that Bangladesh had lodged diplomatic protests with the UN against the claims submitted by India and Myanmar in the Bay. "However, the issues will remain unresolved until Bangladesh submits its claim and a decision is made after considering positions of all sides," he said Asked if Bangladesh has become isolated on the issue of maritime boundaries boundary issues, Quayes said all countries had to defend their own positions, but "Bangladesh is not without friends". Pressed further, he said, "It's you who point out that China has good ties with Myanmar, but we too have good ties with China." Myanmar and India, both with 2009 deadlines, have already submitted their maritime boundary maps to the UN without resolving long-standing disputes with Bangladesh, which prevent crucial oil-gas exploration in the Bay for all three countries. Dhaka resumed negotiations on the issue with both countries last year after a hiatus of almost three decades, but the talks were less than fruitful with each side sticking to its position. However, according to UNCLOS, claims submitted by any country cannot be taken for final consideration before settling the objection raised by a neighbouring country that might have overlapping claims. India and Myanmar are making sea border claims in such ways that entry of vessels to Bangladesh's Chittagong and Mongla ports would be blocked and exploration in the Bay permanently hampered. India, in particular, has claimed a baseline for its sea boundary in such a way that would make Bangladesh into a completely sea locked nation. Dhaka objected during border talks in Delhi in March this year, but India submitted its map to the UN in May making no effective change in its claims, say Bangladesh foreign ministry officials. Foreign Minister Dipu Moni in July this year termed India's claim baseline for delineating its sea border with Bangladesh "aggressive" and urged New Delhi to change it. She said the two countries must resolve the issue as they were both in need of resources at sea
=============>>>>>>>>>>>>>>>>>
আসলেই কতখানি প্রস্তুত?
জাতিসংঘে দাবি পেশ করার আগে সেটা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক।
মোহাম্মদ আরজু বলেছেন:
'' এটা ঠিক যে- দেশের আজকের অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণেই- আজ দেশীয় সম্পদের ভোক্তা মুষ্টিমেয় ধনিক শ্রেণী, কিন্তু- আজ যদি আমরা সেই সম্পদটুকু বিদেশীদের হাতে তুলে দেই, এবং আমাদের মজুদ বারোভূতে লুটেপুটে নিঃশেষ করে দেয়- তবে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদের জবাব কি থাকবে? আজ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ধনিকদের স্বার্থ সংরক্ষণকারী- কিন্তু ভবিষ্যতে যে এই ব্যবস্থা পাল্টাবে না তা কি বলতে পারি? সেরকম পরিবর্তন যদি হয়- তখনকার আমজনতার ভোগের জন্য আমরা কি কোন সম্পদ রক্ষা করবো না? ''সেইটাই। এইপ্রশ্নগুলান দেখতে মন চাইলো বইলাই এতো কথা কইলাম। এহন যেই জাতীয় সম্পদের কথা কওয়া সেই জাতি'র মালিকেরা জাতির মইধ্যে আমগোরে রাখেনাই বা আমরা নিজেগো রাখতে পারি নাই।
সুতরাং তেল গ্যাসের আন্দোলনের সাথে এই কারনেই সংখ্যাগরিষ্ঠ নিপীড়িত মানুষের হিস্যা আছে এমন অর্থনৈতিক কাঠামো কায়েমের চিন্ত তৎপরতা থাকা জরুরি।
লেখক বলেছেন:
আপনার সাথে অবশ্যই একমত, ...
এবং আপনাকে ধন্যবাদ।
ম্যাকানিক বলেছেন:
দিনমজুর ভাই ঢাকার রাজপথে মারামারি ধরাধরি না করে আর বাংলাদেশের গাড়ী না ভেংগে
আপনাদের লেখা গুলি ইংরেজীতে করলে এবং সেটা লিখে ইউটিউবে বা ইংরেজী ব্লগে আপলোড করতে পারলে আরো বেশী ফল পেতেন।
কারন বাংলাদেশ সরকার সব দিতে চাইলেও বিদেশী কম্পানী গুলি নেটিভদের সাথে গেঞ্জাম দেখলে বা তাদের ব্যাবসায়িক ফেইস ভ্যালু ধরে রাখার জন্য ও একটু চিন্তা ভাবনা করবে।
লেখক বলেছেন: বাংলাদেশ সরকার সব দিতে চাইলেও বিদেশী কম্পানী গুলি নেটিভদের সাথে গেঞ্জাম দেখলে বা তাদের ব্যাবসায়িক ফেইস ভ্যালু ধরে রাখার জন্য ও একটু চিন্তা ভাবনা করবে।
===============>>>>>
আপনি কি মনে করেন, বিদেশী কোম্পানিগুলো ভারত ও মায়ানমারের দাবি জানে না বা বাংলাদেশের গ্যাসব্লকগুলোর ব্যাপারে ভারত-মায়ানমারের আপত্তির কথা জানে না?
আমাদের লেখা থেকে তাদের নতুন জানার কিছুই নেই। পেট্রোবাংলা-জ্বালানি-বিদ্যুত-খনিজ মন্ত্রণালয় তো সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে ভারত-মায়ানমারের আপত্তি করা সমুদ্রে অনুসন্ধান করা যাবে না। তাছাড়া গতদিনের নিউ এইজ পত্রিকায় এসেছে যে- মায়ানমার কনোকো ফিলিপসকে মায়ানমারের দাবিকৃত সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাতে নিষেধ করে দিয়েছে।
ঢাকার রাজপথে মারামারি ধরাধরি না করে আর বাংলাদেশের গাড়ী না ভেংগে .....
============>>>>>>>>
এটা মানে কি? ঢাকার রাজপথে মারামারি -ধরাধরি - গাড়ী ভাঙ্গা মানে কি বুঝাতে চেয়েছেন? কবে আমাদের এসব কাজ করতে দেখলেন?
আপনি কি জাতীয় কমিটি আহুত হরতালের কথা বলছেন? তাহলে আপনার অজ্ঞতার কথা বলতেই হচ্ছে- জাতীয় কমিটির হরতাল আর সকল ট্রাডিশনাল (বড় বড় দলগুলোর ক্ষমতা দখলের জন্য আহুত) হরতাল থেকে ভিন্ন। মারামারি-ধরাধরি-ভাঙ্গাভাঙ্গি সেখানে অপ্রয়োজনীয়।
এবং এই লেখালেখির পাশাপাশি মনে করি- কেবল এসব করে কখনোই কোন দাবি আদায় সম্ভব নয়- এর সাথে সবচেয়ে জরুরি দরকার হচ্ছে লড়াই সংগ্রাম- এবং সেটা রাজপথের আন্দোলন। এর কোন বিকল্পই নেই। লেখালেখির উদ্দেশ্য হলো কিছু মানুষকে জানানো এবং একই সাথে তাদেরকে রাজপথের সংগ্রামে নামতে উদ্বুদ্ধ করা। কেননা, সরকারের তথা শাসক গোষ্ঠীর কানে আমাদের আওয়াজ পৌছানোর জন্য সম্মিলিত চিৎকারটাই দরকার বেশী, এই সব লেখালেখির মাধ্যমে দেশের ও দুনিয়ার সমস্ত লোককে এসব দাবি জানিয়ে কোন লাভ নেই যতক্ষণ পর্যন্ত সকলে মিলে সমস্বরে চিৎকার করে তার দাবি শাসক গোষ্ঠীর কানে না তুলেছে।
শয়তান বলেছেন:
জন জরুরী পোস্ট ।
সবাক বলেছেন:
+
কর্তৃপক্ষ জাগুন।...
আউটসাইডার_আউটসাইডার বলেছেন:
পোস্ট স্টিকি করা হোক। +পোস্ট স্টিকি করা হোক। +পোস্ট স্টিকি করা হোক। +পোস্ট স্টিকি করা হোক। +পোস্ট স্টিকি করা হোক। +পোস্ট স্টিকি করা হোক। +পোস্ট স্টিকি করা হোক। +পোস্ট স্টিকি করা হোক। +পোস্ট স্টিকি করা হোক। +পোস্ট স্টিকি করা হোক। +পোস্ট স্টিকি করা হোক। +পোস্ট স্টিকি করা হোক। +পোস্ট স্টিকি করা হোক। +পোস্ট স্টিকি করা হোক। +পোস্ট স্টিকি করা হোক। +পোস্ট স্টিকি করা হোক। +পোস্ট স্টিকি করা হোক। +পোস্ট স্টিকি করা হোক। +পোস্ট স্টিকি করা হোক। +পোস্ট স্টিকি করা হোক। +পোস্ট স্টিকি করা হোক।
বাঙ্গাল বলেছেন:
খুবি গুরুত্ত্বপূর্ণ তথ্যবহুল লেখা। কিন্তু আপ্নারা খুব কম্পলেক্স করে লেখেন। লোকে মাথা নাড়ে কিন্তু, মাথায় নেয় না। সব কিসিমের রিডারদের জন্যই লেখা উচিত।পড়ুয়াদের সামান্য একটা অংশ আপনার লেখাটা পুরোটা পড়বে। বাকিরা খুলেই প্লাস মাইনাস কিছু একটা দিয়ে পালাবে। সুতরাং জনসমর্থনের উদ্দেশ্যে যদি জনসচেতনতা তৈরি করতে হয় তাহলে
১। আম জনতার জন্য লিখতে হবে। সহজ সংক্ষিপ্ত ও চুম্বক অংশ নিয়ে।
২। লেখা ছাড়াও অন্যান্য মিডিয়াম, যেমন পাওয়ার পয়েন্ট, ফ্ল্যাশে ছাড়া যেতে পারে।ইমেইলে যেন ছড়ানো যায়। বাংলা অনেকেই পড়তে পারে না কম্পিঊটারে।
কাজটা কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয়।
জনাব, আপনার মানসিক ভারসাম্য কোন দিকে হালিয়া আছে?
আবারো ধন্যবাদ
আহমেদ রাকিব বলেছেন:
বাঙ্গাল ভাইয়ের সাথে একমত। এত গুরুত্বপূর্ণ একটা পোষ্ট সবাই পড়ুক এতাই চাই। তাই আম জনতার জন্য লিখতে হবে। আর স্টিকি করা হোক। স্টিকি করা হোক।
মিয়ানমারের ক্লেইমটা দেখে বিষম খাইলাম ... এইটার যৌক্তিকতা কি? নাকু হাঁটুরেদের যৌক্তিকতা লাগেনা?
লেখক বলেছেন:
সম্ভবত তারা পুরোটাই সমদূরত্ব (equidistance) অনুযায়ী সরলরেখা টেনে গিয়েছে। মায়ানমারকে UNCLOS অনুযায়ী ধরা তুলনামূলক সহজ, কারণ এই সমদূরত্ব সর্বোচ্চ ২৪ নটিকাল মাইল পর্যন্ত প্রযোজ্য। তার উপর, এর কন্টিনেন্টাল স্লোপের আগ পর্যন্ত সিবেডের বিস্তারও বেশ কম, সে আইসোবাথ (২৫০০মিটার গভীর সমুদ্র) বা ফুট অব দ্য কন্টিনেন্টাল স্লোপ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ নটিকাল মাইল দাবি করতে পারবে (আমরা এখনও নিশ্চিত নই যে এই ১০০ নটিকাল মাইল দাবি করলে তা কতখানি বাংলাদেশের দাবিকৃত মহীসোপানের সাথে ওভারল্যাপ করবে)।
এগুলো হচ্ছে- ইউএনক্লস অনুযায়ী দাবীগুলোর সাম্ভাব্যতা যাচাই, কিন্তু বাংলাদেশকে তো আগে তার দাবী জানাতে হবে। আর দাবী জানালেই যে বাংলাদেশ সেটা আদায় করতে পারবে সেটাও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ভারতের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র এবং মায়ানমারের পেছনে চীনের ব্যাকিং আছে- মায়ানমারের সমস্ত খনিজ সম্পদ (তেল-গ্যাস) তো সরাসরি লুটেপুটে খাচ্ছে, ফলে- বঙ্গোপসাগরের যত বেশী মায়ানমার আদায় করতে পারে- চীনের তত লাভ।
ফলে- দাবী পেশ করার পরেও বাংলাদেশকে একটা ভালোরকম প্রচারণা, যুক্তি-তর্ক, কুটনৈতিক তৎপরতার ভেতর দইয়ে যেতে হবে, অনেক শক্তভাবে শক্ত হাতে বিষয়টা মোকাবেলা করতে হবে। এ প্রসঙ্গে জাপান-চীন সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধটি খতিয়ে দেখা যায়। চীন ইউএনক্লস অনুযায়ী সুবিধাজনক জায়গায় থাকার পরেও জাপান সমদূরত্ব অনুযায়ী দাবী করতে থাকে এবং এক পর্যায়ে সে ইউএনক্লসকেই অস্বীকার করে এই যুক্তিতে যে এই ইউএনক্লস প্রশান্ত মহাসাগরের জন্য প্রযোজ্য- চীন সাগরের জন্য নয়।
ফলে- বিষয়টা বাংলাদেশের জন্য খুব সহজ হবে বলে মনে হয় না। কিন্তু বাংলাদেশ তো এখন পর্যন্ত মাঠেই নামলো না, তার উল্লেখযোগ্য কোন প্রস্তুতিই দেখা যাচ্ছে না। শক্ত হওয়ার মত কোন মানসিকতাও বাংলাদেশ সরকারের দেখা যাচ্ছে না। টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে তো উল্টো বাংলাদেশ ভারত সরকারের গলায় কথা বলছে! সমুদ্রসীমা নিয়ে যে কি করবে কে জানে!!!!!
প্রশ্নোত্তর বলেছেন:
সময়োপযোগী লেখা - তথ্যপূর্ণ ও গবেষণা সমৃদ্ধ। আপনাদেরকে প্রচেষ্টাকে আন্তরিক সাধুবাদ জানাই। তবে লেখাটা মনে হচ্ছে ঠিক ব্লগের উপযোগী হয়নি - কথাটা অন্যভাবে নেবেন না। ব্লগের পাঠকরা ছোট আকারের লেখা মন দিয়ে পড়েন বা বলা যায় এখানকার পরিবেশটাই এমন যে বড়লেখা সেভাবে পাঠককে নাড়া দেয় না। তার উপর এ লেখাটা গবেষণাধর্মী হওয়ায় এমনিতেই বেশি পাঠক পড়বে না, প্লাস বা মাইনাস দিয়ে চলে যাবে। এটার চুম্বক অংশ নিয়ে একটি ব্লগীয় ভার্সন করা গেলে ভালো হতো।
একটি মহল জাতীয় কমিটির আন্দোলনের প্রথম থেকেই এই প্রসঙ্গটি ব্যবহার করে ধোঁয়াশা সৃষ্টির চেষ্টা করে আসছে। সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অনিচ্ছা তাদের চোখে পড়ছে না; কেন আনু মোহাম্মদরা এ নিয়ে আন্দোলন করছে না তাতে তারা গোস্বা! তাদের আচরণে আমরা অবাক হইনি, এটাই তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত।
এখন এটাই কাম্য যে সরকার আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ ব্যাপারে সক্রিয় হবে এবং ভারত ও বার্মায় অনায্য দাবী নাকচ করে দিয়ে সমুদ্রবক্ষে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে।
মেটালিফেরাস বলেছেন:
৮ অক্টোবর সংসদে শেখ হাসিনার "দীপ্তকণ্ঠ" শুনে মনে হচ্ছে তিনি ব্যাপারটাকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী যদি এভাবে বলেন তাহলে আর কি করার থাকে আমাদের?আপনার পোস্টটিকে আরো ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে দেওয়া দরকার। দুর্দান্ত বিশ্লেষণ।
দিনমজুর বলেছেন:
কিছুটা এডিট করা হলো:
বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান অবস্থান:
৮ অক্টোবর তারিখে পররাষ্ট্র মন্ত্রী দীপু মনি তাঁর মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সমুদ্রসীমা নিয়ে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য জাতিসংঘের সালিস আদালতে (আরবিট্রেশন ট্রাইবুনাল) যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। (নিউ এজ, ৯ অক্টোবর)
খুবই ভালো খবর, দীপু মনির ভাষায়- "বাংলাদেশের সম্পদ ও সমুদ্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এটিই যথাযথ পদক্ষেপ"। কিন্তু আমরা ঠিক এমন ভালো খবরেও ঠিক নি:শংসয় হতে পারছি না। আমরা আসলে কি দাবি জানাতে যাচ্ছি, তার ভিত্তি কি, ভারত ও মিয়ানমারের দাবির ব্যাপারে আমাদের আপত্তির ভিত্তি কি- এসব এখনো আমাদের জানা নেই। কেবল আমরা একজন আইনজীবী ব্রিটিশ ভন লুই এর নাম জানি- যিনি বাংলাদেশের পক্ষে আইনি লড়াই করবেন। স্বভাবতই এই আইনজীবী আমাদের সংশয় দূর করতে পারছেন না।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টম্বর তারিখের বিডি নিউজ ( http://www.bdnews24.com/details.php?id= 143115&cid=2 ) এও দেখেছি, বাংলাদেশ নাকি তার দাবি পেশ করার ব্যাপারে প্রস্তুত।
"Bangladesh is ready to submit its maritime boundary claims to the United Nations well ahead of the July 2011 deadline, foreign secretary Mijarul Quayes said on Saturday.
"Bangladesh ratified UNCLOS (UN Convention on the Law of the Sea) in 2001, although India and Myanmar had done so earlier and have consequently submitted their sea border claims already," Quayes told reporters at a regular ministry briefing at the Secretariat.
..............
He said all necessary preparations, including survey work in the Bay of Bengal, was ongoing for submission by the deadline.
................
Asked if Bangladesh has become isolated on the issue of maritime boundaries boundary issues, Quayes said all countries had to defend their own positions, but "Bangladesh is not without friends".
Pressed further, he said, "It's you who point out that China has good ties with Myanmar, but we too have good ties with China."
বাংলাদেশ কতখানি কি প্রস্তুত সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য আমাদের নেই, বরং আমরা সন্দিহান। বাংলাদেশ এই বিষয়টিতে এরই মধ্যে পিছিয়ে পড়েছে সত্য, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের আন্তর্জাতিকভাবে এনিয়ে আওয়াজ তুলতে হবে- এটাও সত্য, কিন্তু তাড়াহুড়া করে যেনতেন প্রকারে আওয়াজ তুললে যে হিতে বিপরীত হতে পারে সে কথা আগেই বলেছি। পররাষ্ট্র সচিব মহোদয়ের "Bangladesh is not without friends" এবং তার ব্যাখ্যায় চীনের সাথে বাংলাদেশেরও ভালো বন্ধুত্ব আছে- এমন কথাবার্তাকে দায়িত্বশীল মনে হয় না। বস্তুত, চীনের সাথে সাথে মায়ানমারের বা বাংলাদেশের কেমন বন্ধুত্ব- তা কোন গণনাতেই আসবে না এটা হলফ করে বলা যেতে পারে। মায়ানমারের যাবতীয় খনিজ- গ্যাস ও তেল সমস্তেরই চীন একচ্ছত্র ভোক্তা। ফলে- মায়ানমারের সমুদ্রাঞ্চল বৃদ্ধি পাওয়া মানে- চীনের সরাসরি সে বর্ধিত অংশের খনিজ পাওয়া। কোনভাবেই এদিকটা ভুললে চলবে না। তার চেয়েও বড় কথা, আগে তো আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের দাবির গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। সেকাজটিতে আমরা কোন অবস্থানে আছি?
বাংলাদেশ সমুদ্রবক্ষে উল্লেখযোগ্য কোন সার্ভে কাজ সম্পন্ন করেছে বলে আমাদের জানা নেই। সার্ভের মাধ্যমে বাংলাদেশ সমুদ্রবক্ষে ফুট অব দ্য স্লোপ এবং ২৫০০ মিটার আইসোবাথ এর অবস্থান নির্ণয় করেছে কিনা, বাংলাদেশের কন্টিনেন্টাল সেলফ এর তলদেশ আসলেই যে বাংলাদেশের পলি দিয়ে গঠিত তার স্বপক্ষে কোন স্টাডি করেছে কিনা- তাও আমাদের জানা নেই। আর এসব প্রাথমিক প্রস্তুতি ছাড়াই যদি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আদালতে যায়- বাংলাদেশের পক্ষে রায় আশা করি কি করে?
বরং, সংশয় আরো বাড়ছে যখন দেখি, গ্যাসব্লকের নতুন মানচিত্র সম্বলিত দাবিটিকেই বাংলাদেশ তার দাবি হিসাবে জানাচ্ছে (যেটি প্রকৌশলী এম ইনামুল হকের মতে ত্রুটিপূর্ণ) এবং সেটা ১৯৭৪ সালে প্রণীত নিজস্ব সমুদ্র আইন (Bangladesh Territorial Waters & Maritime Zones Act 1974) অনুযায়ি করা- যেখানে বাংলাদেশ ২০০১ সালে সমুদ্রসীমা বিষয়ক UN Conference on the Law of the Sea 1982 (UNCLOS III) স্বাক্ষর করার পরেও UNCLOS III এর ধারাগুলো অন্তর্ভূক্ত করে ১৯৭৪ সালের সমুদ্র আইনকে উন্নীত করা হয়নি।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছেন:
+++++++++++পরিশ্রম করে গুরুত্বপূর্ণ লেখার জন্য দিনমজুর ভাইকে অনেক ধন্যবাদ। দেশের সমুদ্র সীমাই যদি ভারত ও মায়ানমার দ্বারা বন্ধ হয়ে যায় তো আমরা কি অবরুদ্ধ হয়ে যাব না? আপনার সাথে একমত বর্তমান সরকার কতটুকু বা বাংলাদেশের ন্যায্য সমুদ্রসীমা দাবী করবে কিনা। ভাই কে অনুরোধ এ বিষয়ে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য আমাদের কে জানান।
সত্যান্বেষী বলেছেন:
+
ফুয়াদ০দিনহীন বলেছেন:
Priyo te ........+++++++++++++++++++++
রাগ ইমন বলেছেন:
রুবাইয়াত এইখানে মন্তব্য করেন নাই দেখা যাচ্ছে । ----------------------
রুবাইয়াত ,
হতেই পারে আপনারা লেখাটা ভালো বলে কপি করেছেন । হতেই পারে সূত্র উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন বা জরুরী মনে করেন নাই । আবার হইতেও পারে আপনি দিন মজুরের বন্ধু । ভুল হলে স্বীকার করে নেওয়াটাই ভালো , তাই না?
এমন তো নয় যে সূত্র উল্লেখ করেন নাই বলে আপনার জাগরীকে সমর্থন দেব না !
কিন্তু জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে নামলে নিজেদের কাজ কর্মের জবাবদিহিতা পরিষ্কার হওয়াটা খুবই জরুরী , তাই না?
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ ।
-----------------------
দিনমজুর, আপনার পোস্টটি শেয়ার করা হয়েছে এইখানে।
বাঙ্গাল বলেছেন:
লাস্ট খবর কি ...কদ্দুর কি হইলো .. পেপার প্ত্রিকেত কিছুই পাই না
বাঙ্গাল বলেছেন:
লাস্ট খবর কি ...কদ্দুর কি হইলো .. পেপার প্ত্রিকেত কিছুই পাই না
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














